আহমেদ শমসের
দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন ইস্যুতে ঐকমত্যের অভাব রয়েছে। মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘নির্বাচনের ব্যাপারে আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি, এ বছর (২০২৪) ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।’
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য ‘অস্পষ্ট’। তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাস। এখনো কোনো রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি। আমরা বারবার স্পষ্ট রোডম্যাপ এবং দ্রুত নির্বাচনের কথা বলে আসছি। তা না হলে যেসব সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, সেগুলো কাটবে না।’
অন্যদিকে নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংস্কার ও বিচার ছাড়া নির্বাচন দিলে মেনে নেওয়া হবে না।
বিএনপি নেতাদের কথা থেকে মনে হয়, দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ নির্বাচন করার রোডম্যাপ না দিলে মাঠের আন্দোলন শুরু করতে পারে দলটি। আবার এনসিপিও শুরু করতে পারে আন্দোলন। তবে তারা আন্দোলন করবে সংস্কার, শেখ হাসিনাসহ ‘আওয়ামী দুর্বৃত্তদের’ বিচারের দাবিতে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, কাদের দাবি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বেশি মান্যতা পাবে? নিশ্চয়ই বিএনপির চেয়ে এনসিপির দাবি সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পাবে। কারণ, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের যে আন্দোলন তাতে বড় ভূমিকা বিএনপির ছিল না, সেটা ছিল যাঁরা এনসিপি গঠন করেছেন, তাঁদের।
আবার বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান এখন বিএনপির চেয়ে এনসিপির বেশি কাছাকাছি। তারা বলছে, নির্বাচন এবং সংস্কার সমান গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের অন্তিম লগ্নে নিষিদ্ধ হওয়া এবং এখনো নিবন্ধন না হওয়া দলটি মনে করে, আগামী বছরের জুনের মধ্যেই নির্বাচন ও সংস্কার সম্ভব।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নানা ধরনের জল্পনাকল্পনা চলছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে অন্তত ২০২৯ সাল পর্যন্ত রাখার প্রস্তাব উঠছে। কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব, তা কারও কাছেই খুব স্পষ্ট নয়। আবার এমন প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অভিজ্ঞতার ভান্ডার আরও সমৃদ্ধ করার জন্য তাঁকে উপপ্রধান উপদেষ্টার পদে বসিয়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হোক।
এগুলো সব অবাস্তব ও আজগুবি প্রস্তাব বলে উড়িয়ে দিতে চাওয়ার আগে এটা ভাবতে হবে যে বাংলাদেশকে তো সব সম্ভবের দেশ বলেও অভিহিত করা হয়। জুলাই মাসে যখন কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়, তখন কেউ কি এটা ভেবেছিলেন যে ওই আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হবে? কিন্তু হয়েছে এবং অত্যন্ত স্বল্পতম সময়েই।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে এনসিপিসহ আরও কিছু দল। ড. ইউনূস যদিও বলেছেন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা তাঁর সরকারের নেই। কিন্তু যাঁদের কারণে এই সরকার গঠিত হয়েছে, তাঁরা চাইলে সেটা শেষ পর্যন্ত না মেনে উপায় থাকবে কি? আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দায় বিএনপিও নিতে চায় না। আবার ‘ফ্যাসিবাদ’ ফিরে আসারও বিরুদ্ধে তারা।
এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে মাঠের রাজনীতি নিয়ে চলছে এখন নানান হিসাব-নিকাশ। আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল এবং আছে। এই বছরের মধ্যে নির্বাচন হলে হয়তো বিএনপির স্বপ্ন পূরণ হওয়া কঠিন হতো না। আওয়ামী লীগের পর ক্ষমতার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তো অবশ্যই বিএনপি। কিন্তু বিএনপির সহজ হিসাব গরমিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপির সামনে নতুন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর আভাস মিলছে। এর একদিকে ক্ষমতাপ্রত্যাশী হয়ে ওঠা জামায়াতে ইসলামী, অন্যদিকে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি। রাজনীতির মাঠের এই নতুন বাস্তবতা বিএনপি নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে বলেই মনে হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, একটি শক্তি ক্ষমতায় থাকার জন্য নতুন নতুন পন্থা বের করছে; কিন্তু ফ্যাসিস্টরা দাঁড়াতে পারেনি। এই শক্তিও যাতে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য বাংলাদেশের মানুষ প্রস্তুত রয়েছে। চট্টগ্রামে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের কুশল বিনিময়ের সময় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্টের পতনের পর এখন দেশে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। আজ সবার মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। সবার মধ্যে নির্বাচনের উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সবার মনে হচ্ছে, দেশ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। এখানে যেভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হয়, আজ মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ সেভাবে বহু বছর পর নির্বাচনের সে আনন্দঘন পরিবেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খান রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন না হলে ‘জনগণের মধ্যে জোরালো অসন্তোষ’ এবং দেশে অস্থিরতা তৈরি হবে বলে সতর্ক করেছেন। নির্বাচন পিছিয়ে ২০২৬ সালে যেতে পারে—বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
ঈদের আগের দিন বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উচিত সেইসব উপদেষ্টার অপসারণ করা, যাঁরা তাঁর সরকারের নিরপেক্ষতা নষ্ট করছেন এবং সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনের আগে সরকার নিরপেক্ষতা হারালে বিএনপি তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আমরা সরকারের পূর্ণ নিরপেক্ষতা প্রত্যাশা করি, বিশেষ করে অধ্যাপক ইউনূসের কাছ থেকে। যদি তিনি অনুভব করেন যে তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের কেউ নিরপেক্ষতা নষ্ট করছেন, তবে তাঁদের অপসারণ করা উচিত। তাঁকে (ড. ইউনূস) সম্পূর্ণ স্বচ্ছ থাকতে হবে।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যদি প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেন, তাহলে জনগণের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হবে যে এ সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমাদের হতাশ করেছে। কিছু উপদেষ্টার কার্যক্রম দেখে আমরা সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করছি।
‘সরকারের কিছু উপদেষ্টা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে সরকারি সম্পদ অপব্যবহার করছেন, যা নিরপেক্ষতার পরিপন্থী এবং এটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করছে। সরকারি সম্পদ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে নিরপেক্ষতার নীতির লঙ্ঘন।’ দেখা যাক, কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়।
লেখক: সাংবাদিক
দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন ইস্যুতে ঐকমত্যের অভাব রয়েছে। মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘নির্বাচনের ব্যাপারে আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি, এ বছর (২০২৪) ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।’
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য ‘অস্পষ্ট’। তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাস। এখনো কোনো রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি। আমরা বারবার স্পষ্ট রোডম্যাপ এবং দ্রুত নির্বাচনের কথা বলে আসছি। তা না হলে যেসব সংকট সৃষ্টি হচ্ছে, সেগুলো কাটবে না।’
অন্যদিকে নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সংস্কার ও বিচার ছাড়া নির্বাচন দিলে মেনে নেওয়া হবে না।
বিএনপি নেতাদের কথা থেকে মনে হয়, দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার করে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ নির্বাচন করার রোডম্যাপ না দিলে মাঠের আন্দোলন শুরু করতে পারে দলটি। আবার এনসিপিও শুরু করতে পারে আন্দোলন। তবে তারা আন্দোলন করবে সংস্কার, শেখ হাসিনাসহ ‘আওয়ামী দুর্বৃত্তদের’ বিচারের দাবিতে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, কাদের দাবি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বেশি মান্যতা পাবে? নিশ্চয়ই বিএনপির চেয়ে এনসিপির দাবি সরকারের কাছে অগ্রাধিকার পাবে। কারণ, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের যে আন্দোলন তাতে বড় ভূমিকা বিএনপির ছিল না, সেটা ছিল যাঁরা এনসিপি গঠন করেছেন, তাঁদের।
আবার বিএনপির দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান এখন বিএনপির চেয়ে এনসিপির বেশি কাছাকাছি। তারা বলছে, নির্বাচন এবং সংস্কার সমান গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের অন্তিম লগ্নে নিষিদ্ধ হওয়া এবং এখনো নিবন্ধন না হওয়া দলটি মনে করে, আগামী বছরের জুনের মধ্যেই নির্বাচন ও সংস্কার সম্ভব।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নানা ধরনের জল্পনাকল্পনা চলছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে অন্তত ২০২৯ সাল পর্যন্ত রাখার প্রস্তাব উঠছে। কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব, তা কারও কাছেই খুব স্পষ্ট নয়। আবার এমন প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অভিজ্ঞতার ভান্ডার আরও সমৃদ্ধ করার জন্য তাঁকে উপপ্রধান উপদেষ্টার পদে বসিয়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হোক।
এগুলো সব অবাস্তব ও আজগুবি প্রস্তাব বলে উড়িয়ে দিতে চাওয়ার আগে এটা ভাবতে হবে যে বাংলাদেশকে তো সব সম্ভবের দেশ বলেও অভিহিত করা হয়। জুলাই মাসে যখন কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়, তখন কেউ কি এটা ভেবেছিলেন যে ওই আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হবে? কিন্তু হয়েছে এবং অত্যন্ত স্বল্পতম সময়েই।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে এনসিপিসহ আরও কিছু দল। ড. ইউনূস যদিও বলেছেন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা তাঁর সরকারের নেই। কিন্তু যাঁদের কারণে এই সরকার গঠিত হয়েছে, তাঁরা চাইলে সেটা শেষ পর্যন্ত না মেনে উপায় থাকবে কি? আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দায় বিএনপিও নিতে চায় না। আবার ‘ফ্যাসিবাদ’ ফিরে আসারও বিরুদ্ধে তারা।
এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে মাঠের রাজনীতি নিয়ে চলছে এখন নানান হিসাব-নিকাশ। আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নে বিভোর ছিল এবং আছে। এই বছরের মধ্যে নির্বাচন হলে হয়তো বিএনপির স্বপ্ন পূরণ হওয়া কঠিন হতো না। আওয়ামী লীগের পর ক্ষমতার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তো অবশ্যই বিএনপি। কিন্তু বিএনপির সহজ হিসাব গরমিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপির সামনে নতুন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীর আভাস মিলছে। এর একদিকে ক্ষমতাপ্রত্যাশী হয়ে ওঠা জামায়াতে ইসলামী, অন্যদিকে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি। রাজনীতির মাঠের এই নতুন বাস্তবতা বিএনপি নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে বলেই মনে হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, একটি শক্তি ক্ষমতায় থাকার জন্য নতুন নতুন পন্থা বের করছে; কিন্তু ফ্যাসিস্টরা দাঁড়াতে পারেনি। এই শক্তিও যাতে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য বাংলাদেশের মানুষ প্রস্তুত রয়েছে। চট্টগ্রামে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের কুশল বিনিময়ের সময় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিস্টের পতনের পর এখন দেশে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। আজ সবার মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যাচ্ছে। সবার মধ্যে নির্বাচনের উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সবার মনে হচ্ছে, দেশ নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। এখানে যেভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হয়, আজ মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ সেভাবে বহু বছর পর নির্বাচনের সে আনন্দঘন পরিবেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আবদুল মঈন খান রয়টার্সের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন না হলে ‘জনগণের মধ্যে জোরালো অসন্তোষ’ এবং দেশে অস্থিরতা তৈরি হবে বলে সতর্ক করেছেন। নির্বাচন পিছিয়ে ২০২৬ সালে যেতে পারে—বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
ঈদের আগের দিন বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উচিত সেইসব উপদেষ্টার অপসারণ করা, যাঁরা তাঁর সরকারের নিরপেক্ষতা নষ্ট করছেন এবং সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনের আগে সরকার নিরপেক্ষতা হারালে বিএনপি তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আমরা সরকারের পূর্ণ নিরপেক্ষতা প্রত্যাশা করি, বিশেষ করে অধ্যাপক ইউনূসের কাছ থেকে। যদি তিনি অনুভব করেন যে তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের কেউ নিরপেক্ষতা নষ্ট করছেন, তবে তাঁদের অপসারণ করা উচিত। তাঁকে (ড. ইউনূস) সম্পূর্ণ স্বচ্ছ থাকতে হবে।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যদি প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেন, তাহলে জনগণের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হবে যে এ সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমাদের হতাশ করেছে। কিছু উপদেষ্টার কার্যক্রম দেখে আমরা সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করছি।
‘সরকারের কিছু উপদেষ্টা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে সরকারি সম্পদ অপব্যবহার করছেন, যা নিরপেক্ষতার পরিপন্থী এবং এটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করছে। সরকারি সম্পদ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে নিরপেক্ষতার নীতির লঙ্ঘন।’ দেখা যাক, কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়।
লেখক: সাংবাদিক
কথা বলি কেন? না, বড় বড় তাত্ত্বিক বা পণ্ডিতি ব্যাখ্যায় যাচ্ছি না। আমি কথা বলি, কারণ কথা না বলে আমার চলে না। এই যাপিত জীবনে আমার বলার নানান বিষয় আছে, আবার জানারও নানান বিষয় আছে। অতএব, কথা আমাকে বলতেই হয়।
১৯ ঘণ্টা আগেবাংলা ভাষায় অতিপরিচিত একটি শব্দবন্ধ হলো ‘কলকে পাওয়া’। যাপিত জীবনে কমবেশি আমরা সবাই বাগধারা হিসেবে শব্দবন্ধটির প্রয়োগ করে থাকি। বাংলা অভিধানে কলকে শব্দের একাধিক অর্থ রয়েছে।
১৯ ঘণ্টা আগেব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্রমবর্ধমান চাহিদা দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে, যার বাজারমূল্য ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে সিসার বিষাক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় নীরবে গ্রাস করছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে।
১৯ ঘণ্টা আগেচীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা পাওয়া গেলে তিস্তা নদীর ড্রেজিং, নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব। চীনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের কৃষি, জ্বালানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
২ দিন আগে