অনলাইন ডেস্ক
ভোটারের ন্যূনতম বয়স নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের সংস্কার প্রস্তাবে ভোটারের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর করার প্রস্তাব করেছে। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৭ বছরের প্রস্তাব করেছেন। যদিও রাজনৈতিক দলগুলো এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছে। অনেক বিশ্লেষকও ন্যূনতম বয়স কমানোর বিপক্ষেই কথা বলছেন।
বাংলাদেশে কি এটি একেবারের অনন্য কোনো প্রস্তাব? খুঁজে দেখা যাক পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ভোটারের ন্যূনতম বয়স কেমন:
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভোটারের ন্যূনতম বয়স বিভিন্ন রকম। কিছু দেশে ১৬ বছর বয়সীরাও ভোট দিতে পারে, আবার কিছু দেশে ২১ বছর বয়সের আগে ভোট দেওয়া যায় না। তবে, বেশির ভাগ দেশেই ভোটারের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। তবে ১৮ বছরের নিচে ভোট দেওয়ার বিধান থাকলেও অনেক দেশে সীমিত ভোটাধিকার দেওয়া হয়েছে। যেমন: স্লোভেনিয়ায় ১৬ বছর বয়সী কেউ চাকরিজীবী হলে, ভোট দিতে দেওয়া হয়। আর এস্তোনিয়ায় ১৬ বছর বয়সীদের শুধু স্থানীয় সরকার নির্বাচন ভোট দিতে দেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ায় বিয়ের বয়স ১৭। এ বয়সে ভোটও দেওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা যেহেতু ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন, এ কারণে ১৬–তেই তাঁরা প্রাপ্তবয়স্ক ও রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠছেন বলেও অনেকে যুক্তি দিচ্ছেন।
বিভিন্ন দেশে ভোটারের ন্যূনতম বয়স:
১৬ বছর: ব্রাজিল, অস্ট্রিয়া, কিউবা, স্কটল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, নিকারাগুয়া।
১৭ বছর: পূর্ব তিমুর, ইন্দোনেশিয়া, উত্তর কোরিয়া, সুদান।
১৮ বছর: বাংলাদেশ, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, মিশর, তুরস্ক, রাশিয়া, ইউক্রেন, পোল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, পর্তুগাল, গ্রিস, হাঙ্গেরি, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, আলবেনিয়া, মেসেডোনিয়া, সার্বিয়া, মন্টেনেগ্রো, কসোভো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া, বেলারুশ, মলদোভা, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, মঙ্গোলিয়া, ভুটান, মালদ্বীপ, পালাউ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, সোলোমন দ্বীপপুঞ্জ, ভানুয়াতু, টুভালু, কিরিবাতি, নাউরু, সামোয়া, টোঙ্গা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, পেরু, চিলি, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, বেলিজ, জ্যামাইকা, কিউবা, হাইতি, ডোমিনিকান রিপাবলিক, পুয়ের্তো রিকো, বাহামা, বার্বাডোজ, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, গ্রেনাডা, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা, ডোমিনিকা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, গায়ানা, সুরিনাম, ফরাসি গায়ানা, ইত্যাদি।
২০ বছর: জাপান, সিঙ্গাপুর।
২১ বছর: বাহরাইন, ক্যামেরুন, মিশর, কুয়েত, লেবানন, মালয়েশিয়া, নাউরু, ওমান, সামোয়া, টোঙ্গা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্য।
ভোটারের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের যৌক্তিকতা:
ভোটারের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
শারীরিক ও মানসিক পরিপক্বতা: ভোট দেওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপক্ব হওয়া প্রয়োজন। কারণ, ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
শিক্ষা ও সচেতনতা: ভোট দেওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির শিক্ষিত ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কারণ, একজন শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত থাকে।
দায়িত্ববোধ: ভোট দেওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির মধ্যে দায়িত্ববোধ থাকা প্রয়োজন। কারণ, ভোট একটি নাগরিক অধিকারের পাশাপাশি একটি নাগরিক দায়িত্বও।
ভোটারের ন্যূনতম বয়স একটি বিতর্কিত বিষয়। বিভিন্ন দেশে এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি রয়েছে।
ভোটারের ন্যূনতম বয়স কমানোর পক্ষে যেসব কিছু যুক্তি দেখানো হয়, সেগুলো হলো:
তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: ভোটারের বয়স কমালে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। তাদের মতামত জাতীয় নীতি নির্ধারণে প্রতিফলিত হতে পারে।
রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: কম বয়স থেকে ভোটাধিকার পেলে তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়তে পারে। তারা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে আরও বেশি অবগত হতে পারে।
তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া: তরুণদের মতামতকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য ভোটাধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তাদের চাহিদা ও প্রত্যাশাগুলো রাজনৈতিক আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে।
গণতান্ত্রিক অধিকার: কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, নির্দিষ্ট বয়সের পর নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী। কম বয়সীদের ভোটাধিকার প্রদান গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রসার ঘটায়।
ভোটারের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর করার পক্ষে এনসিপির ভাষ্য, শেখ হাসিনার পতন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ঘটিয়েছে জেন-জি। তাদের এত বড় অংশীদারত্বের পরও শুধু বয়সের কারণে মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে না পারাটা হবে অযৌক্তিক। গত ২৩ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন চায় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২১ বছর। এনসিপি মনে করে, এটা ২৩ বছর হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার বয়স ১৬ বছর হতে পারে। লাতিন আমেরিকা, অস্ট্রিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ১৬ বছর বয়সে ভোট দেওয়ার নজির রয়েছে।’
এর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘তরুণেরা সংখ্যায় বেশি। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা আগ্রহী ৷ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার মতামত নেওয়ার জন্য আমি মনে করি ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর নির্ধারিত হওয়া উচিত।’
অবশ্য যে কোনো সংস্কারের ব্যাপারে তিনি জাতীয় ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের কথা বলেন ৷ তার এ বক্তব্যের পরই আলোচনার সূত্রপাত।
জামায়াতে ইসলামীও ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৭ করার পক্ষে কথা বলেছে।
ভোটারের ন্যূনতম বয়স কমানোর বিপক্ষে যেসব যুক্তি দেখানো হয় এর মধ্যে রয়েছে:
পরিপক্বতার অভাব: কম বয়সীরা রাজনৈতিক বিষয়ে যথেষ্ট পরিপক্ব নাও হতে পারে। তারা আবেগপ্রবণ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
সহজে প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা: কম বয়সীরা সহজেই অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ভোট পাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতে পারে।
জ্ঞানের অভাব: কম বয়সীদের রাজনৈতিক বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান নাও থাকতে পারে। তারা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত নাও থাকতে পারে।
দায়িত্ববোধের অভাব: কম বয়সীদের মধ্যে দায়িত্ববোধের অভাব থাকতে পারে। তারা ভোট দেওয়াকে গুরুত্ব নাও দিতে পারে।
শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা: অনেক দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক শিক্ষার অভাব রয়েছে। এর ফলে কম বয়সীরা রাজনৈতিক বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করতে পারে না।
ন্যূনতম বয়স বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এখনো জোরালো কোনো যুক্তি দেখায়নি। এর জন্য সংবিধান সংশোধন, নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন ইত্যাদি জটিলতার বিষয়গুলো সামনে আনছেন তাঁরা।
ভোটারের ন্যূনতম বয়স কমানোর প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন দেশের অনেক বিশ্লেষক। ১৮ বছরের নিচে অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভোটার ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি বাধা এবং শিশু অধিকার লঙ্ঘনের কথা তুলে ধরেছেন আইনজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞরা।
ভোটারের ন্যূনতম বয়স নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। নবগঠিত রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের সংস্কার প্রস্তাবে ভোটারের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর করার প্রস্তাব করেছে। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৭ বছরের প্রস্তাব করেছেন। যদিও রাজনৈতিক দলগুলো এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছে। অনেক বিশ্লেষকও ন্যূনতম বয়স কমানোর বিপক্ষেই কথা বলছেন।
বাংলাদেশে কি এটি একেবারের অনন্য কোনো প্রস্তাব? খুঁজে দেখা যাক পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ভোটারের ন্যূনতম বয়স কেমন:
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভোটারের ন্যূনতম বয়স বিভিন্ন রকম। কিছু দেশে ১৬ বছর বয়সীরাও ভোট দিতে পারে, আবার কিছু দেশে ২১ বছর বয়সের আগে ভোট দেওয়া যায় না। তবে, বেশির ভাগ দেশেই ভোটারের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর। তবে ১৮ বছরের নিচে ভোট দেওয়ার বিধান থাকলেও অনেক দেশে সীমিত ভোটাধিকার দেওয়া হয়েছে। যেমন: স্লোভেনিয়ায় ১৬ বছর বয়সী কেউ চাকরিজীবী হলে, ভোট দিতে দেওয়া হয়। আর এস্তোনিয়ায় ১৬ বছর বয়সীদের শুধু স্থানীয় সরকার নির্বাচন ভোট দিতে দেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ায় বিয়ের বয়স ১৭। এ বয়সে ভোটও দেওয়া যায়। শিক্ষার্থীরা যেহেতু ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন, এ কারণে ১৬–তেই তাঁরা প্রাপ্তবয়স্ক ও রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠছেন বলেও অনেকে যুক্তি দিচ্ছেন।
বিভিন্ন দেশে ভোটারের ন্যূনতম বয়স:
১৬ বছর: ব্রাজিল, অস্ট্রিয়া, কিউবা, স্কটল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, নিকারাগুয়া।
১৭ বছর: পূর্ব তিমুর, ইন্দোনেশিয়া, উত্তর কোরিয়া, সুদান।
১৮ বছর: বাংলাদেশ, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, মিশর, তুরস্ক, রাশিয়া, ইউক্রেন, পোল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, পর্তুগাল, গ্রিস, হাঙ্গেরি, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, রোমানিয়া, বুলগেরিয়া, আলবেনিয়া, মেসেডোনিয়া, সার্বিয়া, মন্টেনেগ্রো, কসোভো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া, বেলারুশ, মলদোভা, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, মঙ্গোলিয়া, ভুটান, মালদ্বীপ, পালাউ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, সোলোমন দ্বীপপুঞ্জ, ভানুয়াতু, টুভালু, কিরিবাতি, নাউরু, সামোয়া, টোঙ্গা, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, পেরু, চিলি, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, বেলিজ, জ্যামাইকা, কিউবা, হাইতি, ডোমিনিকান রিপাবলিক, পুয়ের্তো রিকো, বাহামা, বার্বাডোজ, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, গ্রেনাডা, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা, ডোমিনিকা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, গায়ানা, সুরিনাম, ফরাসি গায়ানা, ইত্যাদি।
২০ বছর: জাপান, সিঙ্গাপুর।
২১ বছর: বাহরাইন, ক্যামেরুন, মিশর, কুয়েত, লেবানন, মালয়েশিয়া, নাউরু, ওমান, সামোয়া, টোঙ্গা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্য।
ভোটারের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের যৌক্তিকতা:
ভোটারের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
শারীরিক ও মানসিক পরিপক্বতা: ভোট দেওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিকভাবে পরিপক্ব হওয়া প্রয়োজন। কারণ, ভোট একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
শিক্ষা ও সচেতনতা: ভোট দেওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির শিক্ষিত ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। কারণ, একজন শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত থাকে।
দায়িত্ববোধ: ভোট দেওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির মধ্যে দায়িত্ববোধ থাকা প্রয়োজন। কারণ, ভোট একটি নাগরিক অধিকারের পাশাপাশি একটি নাগরিক দায়িত্বও।
ভোটারের ন্যূনতম বয়স একটি বিতর্কিত বিষয়। বিভিন্ন দেশে এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি রয়েছে।
ভোটারের ন্যূনতম বয়স কমানোর পক্ষে যেসব কিছু যুক্তি দেখানো হয়, সেগুলো হলো:
তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ: ভোটারের বয়স কমালে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি পায়। তাদের মতামত জাতীয় নীতি নির্ধারণে প্রতিফলিত হতে পারে।
রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি: কম বয়স থেকে ভোটাধিকার পেলে তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়তে পারে। তারা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে আরও বেশি অবগত হতে পারে।
তরুণদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া: তরুণদের মতামতকে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য ভোটাধিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তাদের চাহিদা ও প্রত্যাশাগুলো রাজনৈতিক আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে।
গণতান্ত্রিক অধিকার: কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, নির্দিষ্ট বয়সের পর নাগরিকদের রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী। কম বয়সীদের ভোটাধিকার প্রদান গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রসার ঘটায়।
ভোটারের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর করার পক্ষে এনসিপির ভাষ্য, শেখ হাসিনার পতন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ঘটিয়েছে জেন-জি। তাদের এত বড় অংশীদারত্বের পরও শুধু বয়সের কারণে মতামতের প্রতিফলন ঘটাতে না পারাটা হবে অযৌক্তিক। গত ২৩ মার্চ সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সংস্কার সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন চায় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স ২১ বছর। এনসিপি মনে করে, এটা ২৩ বছর হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার বয়স ১৬ বছর হতে পারে। লাতিন আমেরিকা, অস্ট্রিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ১৬ বছর বয়সে ভোট দেওয়ার নজির রয়েছে।’
এর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘তরুণেরা সংখ্যায় বেশি। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা আগ্রহী ৷ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার মতামত নেওয়ার জন্য আমি মনে করি ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর নির্ধারিত হওয়া উচিত।’
অবশ্য যে কোনো সংস্কারের ব্যাপারে তিনি জাতীয় ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের কথা বলেন ৷ তার এ বক্তব্যের পরই আলোচনার সূত্রপাত।
জামায়াতে ইসলামীও ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৭ করার পক্ষে কথা বলেছে।
ভোটারের ন্যূনতম বয়স কমানোর বিপক্ষে যেসব যুক্তি দেখানো হয় এর মধ্যে রয়েছে:
পরিপক্বতার অভাব: কম বয়সীরা রাজনৈতিক বিষয়ে যথেষ্ট পরিপক্ব নাও হতে পারে। তারা আবেগপ্রবণ হয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
সহজে প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা: কম বয়সীরা সহজেই অন্যদের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ভোট পাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রলোভন দেখাতে পারে।
জ্ঞানের অভাব: কম বয়সীদের রাজনৈতিক বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান নাও থাকতে পারে। তারা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত নাও থাকতে পারে।
দায়িত্ববোধের অভাব: কম বয়সীদের মধ্যে দায়িত্ববোধের অভাব থাকতে পারে। তারা ভোট দেওয়াকে গুরুত্ব নাও দিতে পারে।
শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা: অনেক দেশে শিক্ষাব্যবস্থায় রাজনৈতিক শিক্ষার অভাব রয়েছে। এর ফলে কম বয়সীরা রাজনৈতিক বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করতে পারে না।
ন্যূনতম বয়স বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এখনো জোরালো কোনো যুক্তি দেখায়নি। এর জন্য সংবিধান সংশোধন, নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়ন ইত্যাদি জটিলতার বিষয়গুলো সামনে আনছেন তাঁরা।
ভোটারের ন্যূনতম বয়স কমানোর প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন দেশের অনেক বিশ্লেষক। ১৮ বছরের নিচে অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্কদের ভোটার ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি বাধা এবং শিশু অধিকার লঙ্ঘনের কথা তুলে ধরেছেন আইনজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ যদি সঠিকভাবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, তবে দেশটি কেবল পরিবর্তিত বাণিজ্য কাঠামোর সুবিধাভোগী হিসেবেই নয়, তৈরি পোশাক শিল্পের একটি প্রভাবশালী অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে পারবে।
৬ ঘণ্টা আগেনেপালে রাজতন্ত্র পুনর্বহাল ও হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণার দাবিতে বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। কাঠমান্ডুতে রাজতন্ত্রপন্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করা হয়েছে। ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হলেও, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্নীতির কারণে জনগণের একাংশ রাজতন্ত্র ফি
২ দিন আগেভারতের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, ভারত অত্যধিক কঠোরহস্ত হয়ে উঠেছে, চীন যেভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে বা সাধারণ মূল্যবোধ ও পরিচয়ের অনুভূতি প্রচারে সফল হয়নি, ভারতের
২ দিন আগেআগামী ২৮ এপ্রিল আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। সংক্ষিপ্ত এই সময়ের মধ্যেই দেশটিতে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী প্রচারণা। এবারের নির্বাচন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছে তার বৃহত্তম অর্থনৈতিক অংশীদার ও প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্র।
৭ দিন আগে