Ajker Patrika

শেষ হলো সাক্ষ্য গ্রহণ

সিলেট সংবাদদাতা
আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০২২, ১৪: ৪৭
Thumbnail image

বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক, ব্লগার ও গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক অনন্ত বিজয় দাশ হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আরমান আলীর অবশিষ্ট সাক্ষ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে শেষ হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমীন বিপ্লব ২৬ জানুয়ারি আসামি পরীক্ষার জন্য তারিখ ধার্য করেছেন। এই পর্যন্ত ২৯ জনের মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার তদন্ত কর্মকর্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সিলেট সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক আরমান আলী, পরিদর্শক (আইটি ফরেনসিক) মাসুদ সিদ্দিকী ও উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানার সাক্ষ্য নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে মাসুদ সিদ্দিকী ও সোহেল রানার সাক্ষ্য গ্রহণের পর জেরা সম্পন্ন হলেও আরমান আলীর জেরা অসম্পূর্ণ থাকায় সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক নুরুল আমীন বিপ্লব গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার তারিখ নির্ধারণ করে জেরা সম্পন্ন করেন।

বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন ও মোহাম্মদ মনির উদ্দিন। আসামি পক্ষে ছিলেন আব্দুল আহাদ ও ইমরান আহমদ।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন জানান, মামলার আসামি ও সাক্ষীদের অনুপস্থিতিতে কয়েক দফা সাক্ষ্যগ্রহণ পেছানোর ফলে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়েছে। ইতিমধ্যে এই মামলায় ২৯ জনের মধ্যে ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। বাকি সাক্ষীদের মধ্যে দুজন দেশের বাইরে রয়েছেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এই হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (সিআইডির পরিদর্শক) আরমান আলী সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে অবশিষ্ট সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছেন। ২৬ জানুয়ারি আসামি পরীক্ষার জন্য তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত হলো।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১২ মে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে নগরীর সুবিদবাজারের নুরানি আবাসিক এলাকার বাসা থেকে কয়েক শ গজ দূরে অনন্ত বিজয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় দায় স্বীকার করেছিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার বাংলা টিম। নিহতের বড় ভাই রত্নেশ্বর দাশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। ২০১৭ সালের ৯ মে সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী ছয়জনকে আসামি করে আদালতে সম্পূরক অভিযোগ দেন।

আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, শফিউর রহমান ফারাবী, মান্নান ইয়াহইয়া ওরফে মান্নান রাহী, আবুল খায়ের রশীদ আহমেদ, আবুল হোসেন ওরফে আবুল হুসাইন, হারুনুর রশীদ ও ফয়সল আহমদ। আসামিদের মধ্যে ফারাবী ও আবুল খায়ের বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এক আসামি মান্নান রাহী কারাবন্দী অবস্থায় মারা গেছেন।

অপর তিন আসামি প্রথম থেকেই পলাতক রয়েছেন। ২০১৭ সালের ২৩ মে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু হয়েছিল। ২০২০ সালে মামলাটি বিচারের জন্য সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত