রাসেল মাহমুদ, ঢাকা
আগে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো অনেক আবেদনকারীকে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ ভেরিফিকেশন বা তথ্যের ঘাটতিসহ নানা অজুহাতে পাসপোর্ট দিতে দেরি করা হতো। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ব্যবস্থা তুলে দেওয়ায় ভোগান্তির একটা বড় অংশ কমেছে। তবে এখনো রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে অন্যান্য কাগজপত্র যাচাইয়ে দীর্ঘ সময় লাগার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা উঠে যাওয়ায় অপরাধী বা বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞজনেরা এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে আবেদন করে নির্ধারিত তারিখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আঙুলের ছাপ দিতে হতো। আবেদনকারীর কাগজপত্র ভেরিফিকেশনের (যাচাই) জন্য পুলিশের এসবি অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। পুলিশ আবেদনকারীর এলাকায় গিয়ে কাগজপত্র যাচাই করে রিপোর্ট দিত। এভাবে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীকে পাসপোর্ট দেওয়া হতো। সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, অতিজরুরি পাসপোর্টের জন্য দুই, জরুরি পাসপোর্টের জন্য সাত ও সাধারণ পাসপোর্টের জন্য ১৫ কর্মদিবস সময় লাগত।
অভিযোগ ছিল, অতীতে পুলিশ আবেদনে তথ্যের ঘাটতিসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে কালক্ষেপণ করত। আবেদনকারীর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে ঘোরা দালালেরা এর অন্যতম মধ্যস্বত্বভোগী। কর্তৃপক্ষের নানা কড়াকড়িতে সাম্প্রতিককালে দালালের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমে আসে। সর্বশেষ পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তি কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণায় জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের ভিত্তিতে পাসপোর্ট দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পাসপোর্টের নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাই করা জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট দেওয়া হবে। পাসপোর্ট পুনঃ ইস্যুর ক্ষেত্রে বিদ্যমান পাসপোর্টে থাকা মৌলিক তথ্যের পরিবর্তন হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশের ১ কোটিরও বেশি নাগরিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। প্রতি মাসে গড়ে ৩০ হাজার মানুষ বিদেশে যান। অর্থাৎ এই নতুন ঘোষণা বিপুলসংখ্যক নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বর্তমানে দেশে ও বিদেশের পাসপোর্ট অফিসগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ২৮-৩০ হাজার মানুষ আবেদন করেন। এর মধ্যে মাসে ২৫-২৮ হাজার পাসপোর্ট প্রিন্ট করা হয়।
২৫ মার্চ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বক্তব্যে জানান, পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা বাতিলের পর তখন পর্যন্ত আবেদনকারীর হাতে ৭০ হাজার নতুন পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
স্বস্তির পরও যে অভিযোগ
সম্প্রতি কয়েকবার রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আবেদনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের স্বস্তির কথা জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, দিনজুড়ে পাসপোর্ট নিতে আসেন কয়েক শ ব্যক্তি। তাঁদের কাগজপত্র যাচাই করার পর কর্মকর্তারা আঙুলের ছাপ দেওয়ার কক্ষে পাঠান। কয়েকজন আবেদনকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশ ভেরিফিকেশনের শর্ত তুলে দেওয়ায় এখন আর তাঁদেরকে ঘুষ দিতে বা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না। কথা বলে জানা গেল, আঙুলের ছাপ দেওয়ায় প্রক্রিয়া শেষে যাঁরা পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে এসেছেন, তাঁরাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা হাতে পেয়েছেন। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের ওপর ভিত্তি করে যাঁরা পাসপোর্ট পেয়েছেন, তাঁদের কেউ অপরাধী বা অন্য দেশের নাগরিক কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ কেউ উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আবেদনকারী অপরাধী বা অন্য কোনো দেশের নাগরিক কি না তা যাচাই করার জন্য অধিদপ্তরে আলাদা কোনো কর্তৃপক্ষ বা জনবল নেই। জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের ভিত্তিতে কাগজপত্র যাচাই করে আবেদনকারীদের আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। এরপর আর কোনো ধাপ নেই। পাসপোর্ট প্রিন্ট হলেই তা আবেদনকারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
গত ৯ মার্চ মিরপুর থেকে পাসপোর্ট নিতে আসা আল-আমিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অনলাইনে আবেদন করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও কাগজপত্র জমা দেই। এরপর পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়ার মেসেজ পাই। ১৫ কার্যদিবসের আগেই হাতে পেলাম। বাড়তি কোনো ঝামেলা হয়নি।’
রাজধানীর টিকাটুলি থেকে আসা মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো ভোগান্তি ছাড়া যথাসময়েই পাসপোর্ট পেয়েছি। পাসপোর্ট প্রিন্ট হয়ে যাওয়ার পর তাঁরাই নিয়ে যাওয়ার জন্য মেসেজ দেন। সেই মেসেজ পেয়েই নিতে এসেছি।’
আবেদনকারীরা অবশ্য আঙুলের ছাপ দেওয়ার আগে কাগজপত্র যাচাই করতে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন। নির্ধারিত অফিস সময়ের মধ্যে শতাধিক আবেদনকারীর কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি কাউন্টার। সিরিয়াল অনুযায়ী সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও মাঝেমধ্যেই দালাল চক্রের সদস্য ও পাসপোর্ট অফিসের লোকজন লাইনের বাইরের কারও কাজ করিয়ে নেন।
৯ মার্চ রাজধানীর মাটিকাটা থেকে আবেদনপত্রসহ কাগজপত্র জমা দিতে আসা এক ব্যক্তি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর দেখি সামনে আরও ৩০ জন। এর মধ্যে আবার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য বা অফিসের লোকজন অন্যদের নিয়ে আসেন। তাই কতক্ষণ লাগবে জানি না।’
পাসপোর্ট নিতে আসা মো. নাজমুল হাসান সাহাবী বলেন, ‘কাগজ ভেরিফিকেশনের জন্য ৩ ঘণ্টা লাইনে থাকতে হয়েছিল। অথচ ফিঙ্গারপ্রিন্টের ওখানে লোকজনের চাপ কম।’
ভেরিফিকেশন না থাকায় শঙ্কা
আবেদনকারীদের কাগজ যাচাইয়ের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধী বা বিদেশি নাগরিকদেরও পাসপোর্ট পাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। বিশেষ করে প্রতিবেশী মিয়ানমারের লাখ লাখ রোহিঙ্গা এ দেশে বাস করা এবং তাদের অনেকের বাংলাদেশের পাসপোর্টে বিদেশে যাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে পাসপোর্টের আবেদনকারীদের নানাভাবে হয়রানি করা হতো। তবে পাসপোর্ট অফিসগুলোতে যাচাই করার জন্য কোনো আলাদা সংস্থা বা ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে। অপরাধ করে বিদেশে পালানো এবং ভুল তথ্য দিয়ে বিদেশি কারও পাসপোর্ট করার ঝুঁকি থাকে। অপরাধ করে কেউ যেন বিদেশে পালানোর জন্য পাসপোর্ট না পায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’
দুর্নীতি বা হয়রানির কারণে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ভেরিফিকেশনের পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল দুর্নীতি নজরদারি সংস্থা টিআইবি। ভেরিফিকেশন বাতিলের কারণে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়ে জানতে চাইলে এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ভেরিফিকেশন তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিরাপত্তার দিক থেকে বিবেচনা করা যুক্তিসংগত নয়। কারণ, অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং পাসপোর্ট না করার জন্য অন্য আইন আছে। এ ব্যবস্থা আসলে ছিল সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার জন্য। সরকার আমাদের দাবির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।’
আগে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো অনেক আবেদনকারীকে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ ভেরিফিকেশন বা তথ্যের ঘাটতিসহ নানা অজুহাতে পাসপোর্ট দিতে দেরি করা হতো। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ব্যবস্থা তুলে দেওয়ায় ভোগান্তির একটা বড় অংশ কমেছে। তবে এখনো রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে অন্যান্য কাগজপত্র যাচাইয়ে দীর্ঘ সময় লাগার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা উঠে যাওয়ায় অপরাধী বা বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞজনেরা এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, পাসপোর্টের জন্য অনলাইনে আবেদন করে নির্ধারিত তারিখে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আঙুলের ছাপ দিতে হতো। আবেদনকারীর কাগজপত্র ভেরিফিকেশনের (যাচাই) জন্য পুলিশের এসবি অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। পুলিশ আবেদনকারীর এলাকায় গিয়ে কাগজপত্র যাচাই করে রিপোর্ট দিত। এভাবে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পর আবেদনকারীকে পাসপোর্ট দেওয়া হতো। সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, অতিজরুরি পাসপোর্টের জন্য দুই, জরুরি পাসপোর্টের জন্য সাত ও সাধারণ পাসপোর্টের জন্য ১৫ কর্মদিবস সময় লাগত।
অভিযোগ ছিল, অতীতে পুলিশ আবেদনে তথ্যের ঘাটতিসহ নানা অজুহাত দেখিয়ে কালক্ষেপণ করত। আবেদনকারীর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়া নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে ঘোরা দালালেরা এর অন্যতম মধ্যস্বত্বভোগী। কর্তৃপক্ষের নানা কড়াকড়িতে সাম্প্রতিককালে দালালের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমে আসে। সর্বশেষ পাসপোর্ট পেতে ভোগান্তি কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঘোষণায় জানানো হয়, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের ভিত্তিতে পাসপোর্ট দেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পাসপোর্টের নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাই করা জন্মনিবন্ধন সনদের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই পাসপোর্ট দেওয়া হবে। পাসপোর্ট পুনঃ ইস্যুর ক্ষেত্রে বিদ্যমান পাসপোর্টে থাকা মৌলিক তথ্যের পরিবর্তন হলে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশের ১ কোটিরও বেশি নাগরিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। প্রতি মাসে গড়ে ৩০ হাজার মানুষ বিদেশে যান। অর্থাৎ এই নতুন ঘোষণা বিপুলসংখ্যক নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বর্তমানে দেশে ও বিদেশের পাসপোর্ট অফিসগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ২৮-৩০ হাজার মানুষ আবেদন করেন। এর মধ্যে মাসে ২৫-২৮ হাজার পাসপোর্ট প্রিন্ট করা হয়।
২৫ মার্চ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক বক্তব্যে জানান, পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা বাতিলের পর তখন পর্যন্ত আবেদনকারীর হাতে ৭০ হাজার নতুন পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
স্বস্তির পরও যে অভিযোগ
সম্প্রতি কয়েকবার রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আবেদনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের স্বস্তির কথা জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, দিনজুড়ে পাসপোর্ট নিতে আসেন কয়েক শ ব্যক্তি। তাঁদের কাগজপত্র যাচাই করার পর কর্মকর্তারা আঙুলের ছাপ দেওয়ার কক্ষে পাঠান। কয়েকজন আবেদনকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পুলিশ ভেরিফিকেশনের শর্ত তুলে দেওয়ায় এখন আর তাঁদেরকে ঘুষ দিতে বা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না। কথা বলে জানা গেল, আঙুলের ছাপ দেওয়ায় প্রক্রিয়া শেষে যাঁরা পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে এসেছেন, তাঁরাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা হাতে পেয়েছেন। শুধু জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের ওপর ভিত্তি করে যাঁরা পাসপোর্ট পেয়েছেন, তাঁদের কেউ অপরাধী বা অন্য দেশের নাগরিক কি না, তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ কেউ উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আবেদনকারী অপরাধী বা অন্য কোনো দেশের নাগরিক কি না তা যাচাই করার জন্য অধিদপ্তরে আলাদা কোনো কর্তৃপক্ষ বা জনবল নেই। জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের ভিত্তিতে কাগজপত্র যাচাই করে আবেদনকারীদের আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। এরপর আর কোনো ধাপ নেই। পাসপোর্ট প্রিন্ট হলেই তা আবেদনকারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়।
গত ৯ মার্চ মিরপুর থেকে পাসপোর্ট নিতে আসা আল-আমিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘অনলাইনে আবেদন করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও কাগজপত্র জমা দেই। এরপর পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়ার মেসেজ পাই। ১৫ কার্যদিবসের আগেই হাতে পেলাম। বাড়তি কোনো ঝামেলা হয়নি।’
রাজধানীর টিকাটুলি থেকে আসা মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো ভোগান্তি ছাড়া যথাসময়েই পাসপোর্ট পেয়েছি। পাসপোর্ট প্রিন্ট হয়ে যাওয়ার পর তাঁরাই নিয়ে যাওয়ার জন্য মেসেজ দেন। সেই মেসেজ পেয়েই নিতে এসেছি।’
আবেদনকারীরা অবশ্য আঙুলের ছাপ দেওয়ার আগে কাগজপত্র যাচাই করতে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন। নির্ধারিত অফিস সময়ের মধ্যে শতাধিক আবেদনকারীর কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি কাউন্টার। সিরিয়াল অনুযায়ী সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও মাঝেমধ্যেই দালাল চক্রের সদস্য ও পাসপোর্ট অফিসের লোকজন লাইনের বাইরের কারও কাজ করিয়ে নেন।
৯ মার্চ রাজধানীর মাটিকাটা থেকে আবেদনপত্রসহ কাগজপত্র জমা দিতে আসা এক ব্যক্তি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর দেখি সামনে আরও ৩০ জন। এর মধ্যে আবার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য বা অফিসের লোকজন অন্যদের নিয়ে আসেন। তাই কতক্ষণ লাগবে জানি না।’
পাসপোর্ট নিতে আসা মো. নাজমুল হাসান সাহাবী বলেন, ‘কাগজ ভেরিফিকেশনের জন্য ৩ ঘণ্টা লাইনে থাকতে হয়েছিল। অথচ ফিঙ্গারপ্রিন্টের ওখানে লোকজনের চাপ কম।’
ভেরিফিকেশন না থাকায় শঙ্কা
আবেদনকারীদের কাগজ যাচাইয়ের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার ভোগান্তি এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধী বা বিদেশি নাগরিকদেরও পাসপোর্ট পাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে। বিশেষ করে প্রতিবেশী মিয়ানমারের লাখ লাখ রোহিঙ্গা এ দেশে বাস করা এবং তাদের অনেকের বাংলাদেশের পাসপোর্টে বিদেশে যাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নূরুল আনোয়ারের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে পাসপোর্টের আবেদনকারীদের নানাভাবে হয়রানি করা হতো। তবে পাসপোর্ট অফিসগুলোতে যাচাই করার জন্য কোনো আলাদা সংস্থা বা ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধীরা সুযোগ নিতে পারে। অপরাধ করে বিদেশে পালানো এবং ভুল তথ্য দিয়ে বিদেশি কারও পাসপোর্ট করার ঝুঁকি থাকে। অপরাধ করে কেউ যেন বিদেশে পালানোর জন্য পাসপোর্ট না পায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’
দুর্নীতি বা হয়রানির কারণে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ ভেরিফিকেশনের পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল দুর্নীতি নজরদারি সংস্থা টিআইবি। ভেরিফিকেশন বাতিলের কারণে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়ে জানতে চাইলে এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ভেরিফিকেশন তুলে নেওয়ার বিষয়টি নিরাপত্তার দিক থেকে বিবেচনা করা যুক্তিসংগত নয়। কারণ, অপরাধীদের চিহ্নিত করা এবং পাসপোর্ট না করার জন্য অন্য আইন আছে। এ ব্যবস্থা আসলে ছিল সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার জন্য। সরকার আমাদের দাবির প্রতিফলন ঘটিয়েছে।’
বাংলাদেশের পণ্যের ওপরও বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন এ সমস্যার সমাধান খুঁজতে তৎপরতা শুরু হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে।
৪ মিনিট আগেত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশীয় পর্যবেক্ষক নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত নীতিমালায় পর্যবেক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাসের সুপারিশ করা হচ্ছে। নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিবন্ধন পাওয়া সব দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন
৮ মিনিট আগেথাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশে ফিরেছেন। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে আজ শুক্রবার রাতে তিনি ঢাকায় ফেরেন।
৯ ঘণ্টা আগেবাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় নেতা বাণিজ্য ও যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারো
১১ ঘণ্টা আগে