Ajker Patrika

সতর্ক শহরে বিজয়ের উল্লাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮: ৫৩
সতর্ক শহরে বিজয়ের উল্লাস

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে প্রতীকী স্মৃতিসৌধ স্থাপন করা হয়েছে। এর সামনে রং-তুলি দিয়ে দর্শনার্থীদের গালে জাতীয় পতাকা আঁকছিলেন রণজিৎ সাহা। বেলুন বিক্রেতা শিশু ফারিয়া দূর থেকে দেখে কাছে গিয়ে বলল, ‘আমাকে পতাকা আঁইকা একটা ছবি তুইলা দেবেন? আমি আপনেরে একটা বেলুন দিমু।’ রণজিৎ সম্মতি জানিয়ে পতাকা এঁকে দিল। পরে এক হাতে বেলুন আর অন্য হাতে বিজয় চিহ্ন নির্দেশ করে ছবি তোলে ফারিয়া।

বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছে বাংলাদেশ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ ভবন সেজেছে লাল-সবুজের প্রতীকী নানা স্থাপনায়। ভেতরে আমন্ত্রিত দেশি-বিদেশি অতিথি। এ জন্য ঢাকা শহরজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাবলয়। অনেক সড়কে যান চলাচলও নিয়ন্ত্রিত ছিল। বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে সতর্ক অবস্থায় ছিলেন  আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অনেক স্থানেই জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়েছে সাধারণকে। এর মধ্যেও বাঁধ ভাঙা উচ্ছ্বাস নিয়ে সড়কে নেমেছিলেন সর্বস্তরের মানুষ। জাতীয় সংসদসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। 
নারায়ণগঞ্জ থেকে সংসদ এলাকায় আসা রবিউল ইসলাম জানান, স্ত্রী ও নাতনিকে নিয়ে এসেছেন। একাত্তরে যুদ্ধ না করলেও যুদ্ধ দেখেছেন। আজ সেই বিজয়ের পঞ্চাশটা বছর পার হয়ে গেল। দেশ আরও এগিয়ে যাক এই প্রত্যাশা তাঁর মুখে।

সবজি বিক্রেতা শাহজাহান যাচ্ছিলেন কারওয়ান বাজারের দিকে। খামারবাড়ির রাস্তায় একজন পতাকা বিক্রেতার কাছ থেকে ছোট দুটি পতাকা নিয়ে রওনা দেন গন্তব্যে। দিনজুড়ে হাতিরঝিলেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। সেখানে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। খিলগাঁও থেকে হাতিরঝিলে আসা স্কুলশিক্ষক ফারজানা ইসলামের ইচ্ছে ছিল বিজয়ের ৫০ বছর উপলক্ষে ‘লাল-সবুজের মহোৎসব’ কনসার্টে যাওয়ার। কিন্তু হঠাৎ জানতে পারেন অনিবার্য কারণে জেমস-হাসানসহ অনেকেই কনসার্টে আসছেন না। তাই পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন।  

হাতিরঝিলে আনন্দ নৌভ্রমণ প্যাকেজের টিকিট কাউন্টারেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই টিকিট কেটে ঘণ্টা দেড়েক অপেক্ষা করেও নৌকায় উঠতে পারেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বন্ধু-সহপাঠীর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের নিয়েও ক্যাম্পাসে ঘুরতে এসেছিলেন অনেকে। বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন পুলিশ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। র‍্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) এএসপি ফারজানা হক বলেন, বঙ্গভবন, সোনারগাঁও হোটেল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরে র‍্যাব-৩-এর ১২টি টহল দল প্যাট্রলিং করছে।

র‍্যাব-৪-এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) এএসপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, প্যারেড স্কয়ার, সংসদ ভবন ঘিরে র‍্যাব-৪-এর ২০টি টহল দল প্যাট্রলিং করছে। এ ছাড়া সাদাপোশাকে গোয়েন্দারা কাজ করছে। বিজিবির মুখপাত্র লে. কর্নেল ফয়জুর রহমান বলেন, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য  একটি বিশেষ ফোর্স মাঠে রয়েছে বিজিবির। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকেও বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। এ ছাড়া যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে পুলিশের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। 

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত