Ajker Patrika

তিনজনের বিনিময়ে ৩৬৯ ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিল ইসরায়েল

মুক্তিপ্রাপ্ত তিন ইসরায়েলি নাগরিক। ছবি: সংগৃহীত
মুক্তিপ্রাপ্ত তিন ইসরায়েলি নাগরিক। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় আটক তিন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। এর বিনিময়ে ৩৬৯ ফিলিস্তিনি বন্দী ও আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। এর ফলে, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আপাতত দূর হলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, আজ শনিবার হামাসের সদস্যরা ইসরায়েলি নাগরিক ইয়ার হর্ন, সাগুই ডেকেল চেন ও আলেক্সান্ডার (সাশা) ট্রুফানোভকে খান ইউনিসের একটি মঞ্চে নিয়ে আসেন। যেখানে সশস্ত্র হামাস যোদ্ধারা তাঁদের ঘিরে রেখেছিলেন। পরে ইসরায়েলি বাহিনী তাঁদের গাজা থেকে ইসরায়েলে নিয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই প্রথম বাসে করে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি বন্দীকে ইসরায়েলের ওফার কারাগার থেকে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় পাঠানো হয়। সেখানে বন্দীদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত জনতা ফিলিস্তিনি পতাকা নেড়ে উল্লাস প্রকাশ করে।

৭০ বছর বয়সী মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দী মুসা নাওয়ারওয়া বলেন, ‘আমরা মুক্তি পাব কখনো আশা করিনি, কিন্তু আল্লাহ মহান। তিনিই আমাদের মুক্ত করেছেন।’ তিনি পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের বাসিন্দা। এক ইসরায়েলি সেনা হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন।

আর্জেন্টিনায় জন্ম নেওয়া ইয়ার হর্ন ও তাঁর ছোট ভাই এইতান হামাসের হাতে আটক হয়েছিলেন। মুক্তির পর পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এখন আমরা একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারি। আমাদের ইয়ার গাজার নরক থেকে ফিরে এসেছে। এখন আমাদের এইতানকেও ফিরিয়ে আনতে হবে, তবেই আমরা সত্যিকার অর্থে স্বস্তি পাব।’

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই বন্দী বিনিময়ের ফলে ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া ৪২ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের স্থিতিশীলতা বজায় থাকল।

এদিকে তেল আবিবের ‘হোস্টেজ স্কয়ারে’ তিন বন্দীর মুক্তির খবর শুনে ইসরায়েলের মানুষ আনন্দে কেঁদে ফেলেন। গত সপ্তাহে মুক্তি পাওয়া তিন ইসরায়েলির দুর্বল ও কাহিল অবস্থা দেখে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে এবার মুক্তিপ্রাপ্তদের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক ভালো দেখে স্বস্তি পেয়েছে দেশটি।

অন্যদিকে, গাজার সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি কিবুতজ এলাকায় মানুষ পতাকা হাতে জিম্মিদের ফেরার পথে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে উল্লাস করে।

ইসরায়েলের মুক্তিপ্রাপ্তদের কাছে একটি ঘড়ি ও একজন বন্দীর ছবি দেয় হামাস সদস্যরা। ছবিতে লেখা ছিল, ‘গাজায় যাঁরা এখনো আটক, তাঁদের জন্য সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

হামাস গত মাসে এক যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। এর বিনিময়ে শত শত ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে ইসরায়েল। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আশঙ্কা রয়ে গেছে। হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করছে। ইসরায়েলও পাল্টা হুমকি দিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গ হলে আবার সামরিক অভিযান শুরু হবে।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং এই ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পুনর্নির্মাণের কথা বলেছেন। কিন্তু ফিলিস্তিন, আরব রাষ্ট্র এবং পশ্চিমা মিত্ররা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ইসরায়েল গাজায় অভিযান শুরু করে। ইসরায়েলি হিসাব অনুযায়ী, হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত হয় এবং ২৫১ জনকে বন্দী করা হয়। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে গাজায় এখন পর্যন্ত ৪৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং ২৩ লাখ মানুষের মধ্যে বেশির ভাগই গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১০০ বছর পর জানা গেল, ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রত্যঙ্গটি নারীর প্রজননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

‘এই টাকা দিয়ে কী হয়, আমি এত চাপ নিচ্ছি, লাখ পাঁচেক দিতে বলো’, ওসির অডিও ফাঁস

কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের এপিএস মোয়াজ্জেমকে অব্যাহতি

পারভেজ হত্যায় অংশ নেয় ছাত্র, অছাত্র ও কিশোর গ্যাং সদস্য

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত