Ajker Patrika

করাচিতে আরও হামলার হুমকি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক
করাচিতে আরও হামলার হুমকি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি)। দেশটির করাচির পুলিশ অফিসে (কেপিও) আত্মঘাতী হামলায় তিন হামলাকারীসহ সাতজন নিহতের পরদিন গতকাল শনিবার টিটিপি বা পাকিস্তানি তালেবান এই হুঁশিয়ারি দিল। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্য, একজন রেঞ্জার্স ও একজন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আহত হন ১৯ জন। পুলিশ ও হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই পুলিশ ও রেঞ্জার্স কর্মকর্তা। তাঁরা জঙ্গিদের সঙ্গে গোলাগুলির সময় আহত হয়েছেন।

পেশোয়ার পুলিশ লাইনস মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় ৮০ জনের বেশি পুলিশ কর্মকর্তা নিহতের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই হামলার ঘটনা ঘটল। জিও নিউজের খবরে বলা হয়, পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা যেখানে থাকেন, সেই পুলিশ লাইনস সদরে কোনো নিরাপত্তা ফটক নেই। করাচিতে শুক্রবারের হামলার পর নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি এবং তা ঢেলে সাজানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একমত পোষণ করেছেন।

ইংরেজি ভাষায় পাঠানো এক বিবৃতিতে টিটিপি বলেছে, ‘ভৃত্য সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই থেকে পুলিশ সদস্যদের দূরে থাকা উচিত। অন্যথায় পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে হামলা হতেই থাকবে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী করাচির পুলিশ অফিসে আত্মঘাতী হামলা চালায় তালেবান সদস্যরা। এ সময় ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ হয়। একপর্যায়ে দুজন হামলাকারী নিহত হন। তৃতীয়জন আত্মঘাতী হন বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ বলেন, হামলাকারীরা মূল ফটকে একটি গ্রেনেড ছোড়ে। এরপর ভেতরে প্রবেশ করে।

এক বিবৃতিতে পুলিশের মুখপাত্র বলেছেন, এটি একটি বড় অপারেশন ছিল। অপারেশনে ডিআইজি, রেঞ্জার্স ও সেনাসদস্যরা অংশ নিয়েছিলেন। রাত ১০টা ৪৬ মিনিটের দিকে অপারেশন শেষ হয়।

সিটিজেন-পুলিশ লিয়াজোঁ কমিটির (সিপিএলসি) সাবেক প্রধান সারফুদ্দিন মেনন বলেন, করাচি পুলিশ অফিস হামলার সহজ কোনো লক্ষ্যবস্তু না। এটি সশস্ত্র গোষ্ঠীটির থেকে একটি কড়া সতর্কবার্তা। এটিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। পুলিশ কার্যালয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো থেকে শুরু আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সন্ত্রাসবিরোধী প্রশিক্ষণ—সবকিছুই পর্যালোচনা করতে হবে।

পাকিস্তানে টিটিপির উত্থান ২০০৭ সালে। এই গোষ্ঠী আফগান তালেবান থেকে আলাদা। তবে ২০২১ সালে প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে আসার পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে টিটিপির হামলা বেড়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত