Ajker Patrika

তামাক কোম্পানিতে সরকারি শেয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনস্বাস্থ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আপডেট : ৩১ মে ২০২২, ১৪: ৫৮
তামাক কোম্পানিতে সরকারি শেয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনস্বাস্থ্য

তামাক কোম্পানিগুলোতে সরকারি শেয়ার থাকায় জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পৃথিবীর অনেক দেশেই তামাক কোম্পানিগুলো এমন কৌশলে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল করছে। বাংলাদেশেও তামাক কোম্পানিগুলোর অনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর নেপথ্যে কাজ করছে তামাক কোম্পানিতে সরকারি শেয়ার।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধে এসব বলা হয়। রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মানসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক অরূপ রতন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক অরূপ রতন চৌধুরী।

প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে (বিএটি) সরকার ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার প্রায় ১০ শতাংশ। এর ফলে সরকারের উচ্চপদস্থ একাধিক কর্মকর্তা বিএটির পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এমনকি বিএটিবিতে শেয়ার নেই এমন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকেও তাঁদের পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যাচ্ছে, যা তামাক কোম্পানিটির একটি সূক্ষ্ম কৌশল। তা ছাড়া জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ বিধ্বংসী পণ্যের ব্যবসায় সরকারের অংশীদারত্বের বিষয়টিকে অনেক মহলে সরকারের দ্বৈতনীতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টাকে জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। 

তামাকের ক্ষতি তুলে ধরে প্রবন্ধে বলা হয়, তামাক চাষে প্রচুর সার ও কীটনাশক ব্যবহৃত হয়, যা মাটি ও পানি দূষণ করে এবং মাছসহ জলাশয়ের উদ্ভিদ চক্রের মারাত্মক ক্ষতি করে। এ ছাড়া দেশে ৩১ ভাগ বন নিধনের ক্ষেত্রে তামাক চাষ দায়ী। 

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, তামাক পাতা প্রক্রিয়াজাত করতে চুল্লিতে প্রচুর পরিমাণে কাঠ পোড়ানো হয়। এ সময় ৩০০ সিগারেট তৈরি করতে প্রায় একটি সম্পূর্ণ গাছের প্রয়োজন হয়। একটি সিগারেট তৈরি করতে ১৪ গ্রাম কার্বন-ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়। তামাক উৎপাদনে বছরে প্রায় ৮৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন হয়, যা মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা ২ লাখ ৮০ হাজার রকেটের সমতুল্য।

তামাককে অর্থকরী ফসলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া জরুরি উল্লেখ করে প্রবন্ধে বলা হয়, কৃষি বিপণন আইন, ২০১৮তে অর্থকরী ফসলের মধ্যে ‘তামাকের’ উল্লেখ রয়েছে। এ কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তকেও তামাককে অর্থকরী ফসল হিসেবে পড়ানো হচ্ছে, যা পক্ষান্তরে তামাক চাষকে উৎসাহিত করছে।

করোনার চাইতে তামাকের কারণে মৃত্যুহার বেশি উল্লেখ করে প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে তামাকজনিত কারণে বিভিন্ন মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বছরে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করে। অন্যদিকে, করোনা সংক্রমণে বাংলাদেশে প্রাণহানি ঘটেছে ২৯ হাজার ১২৭ জনের।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কে আজাদ খান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এদিকে বিশ্বের শীর্ষ ১০টির মধ্যে ১টি অধিক তামাক ব্যবহারকারী জনগণের দেশও ‘বাংলাদেশ’। সুতরাং জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর তামাক নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। তামাক কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার সময় এসেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত