Ajker Patrika

রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিপাকে নরসিংদীর লেবুচাষিরা

প্রতিনিধি, রায়পুরা (নরসিংদী) 
আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২১, ১২: ১৬
রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিপাকে নরসিংদীর লেবুচাষিরা

নরসিংদী জেলার মাটি লেবু চাষের জন্য উপযোগী বলে অনেক বছর ধরে এখানে উৎপাদিত হচ্ছে রসাল ও সুগন্ধিযুক্ত ঘ্রাণের ভরপুর কলম্বো জাতের লেবু। আবাদ করে ভালো ফলন ও দেশ-বিদেশের বাজারে আশানুরূপ দাম পাওয়ায় প্রতিবছরই লেবু চাষে আগ্রহ বাড়ছে এখানকার কৃষকদের। এখানকার কলম্বো জাতের লেবু দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশের বাজারেও রপ্তানি হচ্ছিল। এতে অনেকেরই ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে।

রায়পুরা উপজেলার গুকলনগর গ্রামের সৈয়দ হুসেনের (দুলু মিয়ার) ছেলে বাবুল চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে কলম্বো জাতের লেবুর আবাদ করে আসছেন। তিনি দিনমজুরদের সঙ্গে থেকে সারা বছরই বাগানে মাটি তোলা, চারা তৈরি, সার দেওয়া, লেবু তুলে বাজারে বিক্রি করাসহ বাগানের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন। সুগন্ধি ও প্রচুর রসযুক্ত হওয়ায় এই লেবুর কদর অনেক বেশি। দেশ ছেড়ে বিশ্ববাজারেও স্থান করে নিয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে ভালোই লাভবান হচ্ছিলেন তিনি। এখানকার লেবু বিক্রি হয় রাজধানী ঢাকার কারওয়ান বাজার, শ্যামবাজার, গাজীপুরের টঙ্গী বাজারসহ সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু করোনার কারণে রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন তিনি।
 
স্থানীয় কয়েকজন জানান, সৈয়দ হুসেনের সফলতা দেখে গ্রামের অনেকে লেবুর চাষ শুরু করেন। সারা দেশসহ স্থানীয় বাজারেও এই লেবুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে তাঁরা বাড়তি আয় করছেন। তা ছাড়া এ গ্রামের চাষিদের দারিদ্র্য বিমোচনেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছে এটি।
 
বাবুল চৌধুরী বলেন, ‘২০ বছর আগে নিজ উদ্যোগে ভারত থেকে ৩৫ হাজার টাকায় কলম্বো জাতের ১ হাজার চারা ২৪০ শতক জমিতে রোপণ করি। প্রতিবছর কলম করে ১ হাজার ৪০০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু করি। রোগমুক্ত উৎপাদনের কারণে এখানকার লেবুর বাগানে পরিদর্শনে এসে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ইউরোপীয় প্রতিনিধিদল। তারা আমদানিতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। সারা বছর ধরেই এখানকার উৎপাদিত লেবু রপ্তানি হতো ইতালি, ফ্রান্স, লন্ডনসহ ইউরোপের দেশগুলোয়। প্রতিবছর ২০-২৫ লাখ টাকা আয় হতো। কিন্তু ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে রপ্তানি বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিকভাবে মন্দা যাচ্ছে। সেখানে গত দুই বছর ৫ লাখে চলে এসেছে। পাশাপাশি কলম করে ২৫ থেকে ৩০ হাজার চারা ২০ থেকে ২৫ টাকা পিছ বিক্রি করতে পারতাম। এমন পরিস্থিতিতে তাতেও ক্রেতাদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। স্থানীয় বাজারে লেবুর দাম কম হওয়ায় সস্তায় বিক্রি করতে হচ্ছে।’
 
রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খুরশেদ আলম তপন জানান, লেবুবাগানে কাজ করে এখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন। এতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। পাশাপাশি এ জাতের লেবু বৈদেশিক রপ্তানি আয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

রায়পুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বনি আমিন খান বলেন, উপজেলায় উৎপাদিত লেবুর বড় অংশ বহির্বিশ্বে রপ্তানি হচ্ছে। আমার বাগানের সুগন্ধিযুক্ত কলম্বো লেবু ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হতো। কিন্তু করোনার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। আশা করছি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে আগের মতো আবারও রপ্তানি শুরু হবে।’

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, রোগমুক্ত লেবুর উৎপাদন বৃদ্ধিতে উপজেলা কৃষি বিভাগ লেবুচাষিদের নিয়মিত প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

চিকিৎসক প্রকাশ্যে জানালেন, ধূমপান করতে চাচ্ছেন তামিম

তামিমের ধূমপানের তথ্য প্রকাশ চিকিৎসকের ‘পেশাগত নৈতিকতা’ লঙ্ঘন

ভাষাশহীদ ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রাষ্ট্রীয় সালাম দিলেন না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এসপি এহতেশামুল

এআই যে তিন পেশাকে হুমকিতে ফেলবে না, জানালেন বিল গেটস

৪টি জাহাজ কিনতে বাংলাদেশকে ঋণ দেবে চীন: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত