
বয়স ‘৫৯’ যেন তাঁর কাছে শুধুই সংখ্যা! তারুণ্যের আভা চোখেমুখে, ভারী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে নায়কোচিত চলনবলন। এই এশিয়া কাপেও তিনি ছিলেন ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায়। দুবাইয়ের হোটেল তাজে ওয়াসিম আকরাম সময় দিলেন ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের সকালে। আজকের পত্রিকা'র হেড অব স্পোর্টস রানা আব্বাস'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার আকরামের আলাপচারিতা শুধু ভারত-পাকিস্তানের দ্বৈরথে সীমাবদ্ধ থাকেনি, সেখানে এল বাংলাদেশও।
রানা আব্বাস, দুবাই থেকে

প্রশ্ন: নব্বইয়ের দশকে ভারত-পাকিস্তানের লড়াইটা ছিল অন্য রকম। এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ কমে গেছে। আপনি নিজেই বলছিলেন, ফাইনালে পাকিস্তান আন্ডারডগ। একজন পাকিস্তানি কিংবদন্তি হয়ে নিজের দলকে আন্ডারডগ হিসেবে ভাবতে কতটা খারাপ লাগে?
ওয়াসিম আকরাম: ফ্যাক্ট লুকাতে পারবেন না। ভারত দারুণ খেলছে। টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ ফাইনালে তারা হেরেছে। আমি বলতে চাচ্ছি, তারা বেশ ধারাবাহিক। ক্রিকেটার তৈরি করছে। এমনকি তাদের ‘এ’ দল দারুণ। ‘সি’ দলও দারুণ। বিসিসিআইকে কৃতিত্ব দিতে হবে, যেভাবে তারা আইপিএল থেকে টাকা আয় করছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কাঠামো ভালো। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তরুণ ক্রিকেটাররা ভালোমতো গড়ে ওঠার সুযোগ পায়। টি-টোয়েন্টিতে টেকনিক ভালো না থাকলে ভালো ক্রিকেটার পাবেন না। তাই লাল বল থেকে সাদা বলের ক্রিকেটে এলে খেলার ধরন পরিবর্তন করতে হবে। তবে সাদা বল থেকে লাল বলের ভালো ক্রিকেটার হওয়াটা প্রায় অসম্ভব।
প্রশ্ন: এখানেই কি ভারতের সঙ্গে উপমহাদেশের বাকিদের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে?
আকরাম: সম্ভবত এটাই। তারা ক্রিকেটারের ওপর ফোকাস করে। (শুবমান) গিলের কথাই কল্পনা করুন। সে টি-টোয়েন্টি দারুণ খেলে। সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজে দেখুন তার টেকনিক। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তার খেলার ধরন বদলে যায়। কোচ তাকে বলে দেয় না। সে (গিল) নিজের কাজ নিজে করে। আমাদের ক্রিকেটারদের এগুলো শিখতে হবে। তাদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস করতে হবে। আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। বড় মঞ্চে ঘাবড়ানো যাবে না।
প্রশ্ন: বড় মঞ্চে বাংলাদেশে বড় কোনো সাফল্য নেই। বড় মঞ্চে কেন খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ?
আকরাম: এখানে ক্রিকেট বোর্ডের করার কিছু নেই। বাংলাদেশের মানুষেরও এখানে কিছু করার নেই। এটা করতে হবে ক্রিকেটারদের। তাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী সচেতন থাকতে হবে। সেটা তো কোচ আপনাকে শেখাতে পারবে না। আপনার নিজেকেই শিখতে হবে। এই অবস্থায় আমি এভাবে ব্যাটিং করব। এই অবস্থায় আমাকে এভাবে বোলিং করতে হবে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে একটা ইতিবাচক ব্যাপার খুঁজে পাওয়া গেছে এবং সেটা হলো তাদের অসাধারণ ফিল্ডিং। দুই-তিনটা ক্যাচ মিস বাদ দিলে সব ঠিক আছে। এমনটা হতেই পারে। নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যদি প্রস্তাব দেয়, কাজ করতে আগ্রহী হবেন?
আকরাম: আমি কিছুদিনের জন্য কাজ করতে পারি। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করব কি না সেটা এখন বলা কঠিন। বাংলাদেশ দলে মুশতাক আহমেদের (স্পিন পরামর্শক) মতো একজন খুব ভালো কোচ আছেন। ফিল সিমন্স, শন টেইট আছেন। তাঁরা ভালো কাজ করছেন। তাসকিন আহমেদের কথা যদি বলি; চার-পাঁচ বছর ধরে তার বোলিং দেখে আমি খুবই মুগ্ধ। আমি ভেবেছিলাম সে সম্ভবত পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে (লিটন দাস ছিটকে যাওয়ায়) অধিনায়ক হবে। আমাকে বলা হয়েছে যে তাসকিন খুব একটা সুশৃঙ্খল নয়। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, ফাস্ট বোলাররা সুশৃঙ্খল হয় না। কারণ, তারা ফাস্ট বোলার। তাদের ভেতরে আগুন আছে। তারা ভালো নেতা হতে পারে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের অধিনায়কের মধ্যে কাকে আপনার বেশি ভালো লেগেছে?
আকরাম: অবশ্যই মাশরাফি। আরেকজন উইকেটরক্ষক—মুশফিকুর রহিম। মাশরাফি রাজনীতিতে জড়িয়ে গেল। সাকিব (আল হাসান) কিছুদিনের জন্য ছিল। এখন লিটন দাস। আমি গত এক বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট সেভাবে দেখিনি। লিটন দাসের অধীনে দল খুব ভালো খেলছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে রান তাড়ার সময় বাংলাদেশ তাকে মিস করেছে। যখন আপনি ১৩৩ (১৩৬) রানের মতো অল্প লক্ষ্য তাড়া করবেন ভালো আক্রমণের বিপক্ষে, তখন ২০ ওভার খেলতে হবে। প্রথম ৬ ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে আক্রমণ করতে পারবেন না। আগে তার বোলিংটা দেখুন। তারপর ৪০ রানের একটা জুটি গড়লেই পাকিস্তানকে চাপে ফেলা যেত। কিন্তু সেটা তো হয়নি। তারা বাজে শট খেলেছে। কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এমনটা করেছে। তবে আমি আবারও বলছি, ছন্দে থাকা অধিনায়ককে তারা হারিয়েছে। আশা করি সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।
প্রশ্ন: আপনি নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে খেলেছেন। সেখানে আপনার সবচেয়ে ভালো স্মৃতি কোনটা?
আকরাম: বাংলাদেশে আমার অনেক অসাধারণ স্মৃতি আছে। সেখানকার মানুষ, খাবার—সবই দারুণ। সেখানে আমার অনেক বন্ধু আছে। আমি গত ১০-১২ বছর বাংলাদেশে যাইনি। তবে আগামী জানুয়ারিতে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। আমার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যাব। আমি খুব খুশি যে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো। ঢাকা-করাচি অথবা করাচি থেকে ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এটা একটা ভালো লক্ষণ। আমি বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট, বগুড়া; প্রতিটি শহরের কথা আমার মনে আছে। সেখানকার মানুষ এখনো আমাকে ভালোবাসে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সব সময় আমার ভালোবাসা।
প্রশ্ন: পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে অনেক পাকিস্তানি কিংবদন্তিই কাজ করেছেন। কিন্তু আপনাকে খুব একটা দেখা যায়নি কখনো। কারণটা কী?
উত্তর: দেখুন আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এই কাজটা অনেক কঠিন। আমি শুধু লাহোরভিত্তিক কাজ করতে পারব না। কারণ, কোচিং অনেক কঠিন কাজ। আপনাকে সব সময় সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। পরিবার থেকে দূরে থাকা অনেক কঠিন। কিন্তু পাকিস্তানের জন্য আমি আছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা জিনিস প্রায়ই দেখা যায়, গিল ও অভিষেককে প্রস্তুত করেছে যুবরাজ সিং। এই দুই ছেলে (গিল-অভিষেক) যুবরাজ সিংয়ের কাছে যেত। কেউ আমার কাছে আসেনি। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের কেউ এলে আমি তাকে টিপস, সহায়তা করতে প্রস্তুত। তাদের সময় দিতেও রাজি। কিন্তু এটা হচ্ছে না। আমি এটা বিনা মূল্যে করতে পারব। আমার টাকা নিয়ে অহংকার নেই। তবে কোনো তরুণ ক্রিকেটার এলে আমি তাকে সময় দিতে রাজি। কিন্তু এখনো কেউ আমাকে ডাকেনি।
প্রশ্ন: আপনার আত্মজীবনী ‘সুলতান অব সুইং’ বইয়ে খেলোয়াড়ি জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক, মাদকাসক্ত হয়ে পড়া নিয়ে অনেক স্পর্শকাতর কথা খোলামেলা তুলে ধরেছেন। আপনার প্রয়াত স্ত্রীর শেষ মুহূর্তগুলো এত হৃদয়স্পর্শী, চোখে পানি এসে যায়। আপনার খেলোয়াড়ি জীবন এত বর্ণাঢ্য, চাইলে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় এড়িয়েও যেতে পারতেন। কিন্তু কীভাবে তুলে ধরা?
আকরাম: এটা লেখা আমার জন্য কঠিন ছিল। আমার স্ত্রী শানিরা (শানিয়ারা থম্পসন) আমাকে এই বই লিখতে রাজি করিয়েছিল। আমি বিরক্ত হইনি। এটা নিয়ে পাকিস্তানের অনেক ক্রিকেটার চিন্তিত ছিল। কারণ, তারা ভেবেছিল যে আমি তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলব। কিন্তু সেই বইটি পুরোপুরি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লেখা। আমার সংগ্রাম, ট্র্যাজেডি, জয়, সুখ-দুঃখ—এসব নিয়ে লেখা। এই বইটি লেখা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। এটা লেখার জন্য প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছে। বই নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান লেখক গিডিয়ন হেইগ দুর্দান্ত কাজ করেছেন। আমার সন্তানেরাও আমাকে সমর্থন করেছে। এই বইটি আসলে তাদের জন্য। যখন তারা বড় হবে, তখন তারা বুঝতে পারবে মাঠে এবং মাঠের বাইরে তারা কী কী অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। আমার জীবনে একটা ট্র্যাজেডি আছে। আমার প্রথম স্ত্রী হুমাকে আমি এখনো মিস করি। সে মারা যাওয়ার পর শানিরাকে বিয়ে করেছি। আমার ভাগ্য ভালো ছিল বলে আমি এমন দুজন জীবনসঙ্গী পেয়েছি। আয়লা নামে আমাদের ১১ বছরের একটি মেয়ে আছে। সে আমাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। জীবন চলতেই থাকবে। এটা বলা সহজ। এরপরও জীবনকে চলতেই হবে।
প্রশ্ন: ধারাভাষ্য ও ক্রিকেটীয় কার্যক্রমের বাইরে সময় কাটে কীভাবে?
উত্তর: অনেক ব্যস্ত। আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। পাকিস্তানে অনেক টেলিভিশনে কাজ করতে হয়। পরিবার থাকে মেলবোর্নে। পাকিস্তান-মেলবোর্নে তাই অহরহ যাতায়াত করতে হয়। অনেক লম্বা যাত্রা। কিন্তু কাজ তো করতে হবে। এটা কঠিন। ১১ বছর বয়সী মেয়ে আছে। ছেলেরাও বড় হয়েছে। তৈমুরের বয়স ২৭ বছর, আকবরের বয়স ২৪ বছর ও ইসার বয়স ১১ হয়েছে। আমার সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারকে মিস করি। অনেক কঠিন। কিন্তু এভাবেই হচ্ছে।
আকরামের চোখে সময়ের সেরা ব্যাটার
বর্তমান সময়ে সেটা বলা কঠিন। আমি যদি টেস্ট ক্রিকেটের কথা বলি তাহলে জো রুট শীর্ষে থাকবে। স্টিভ স্মিথ, বিরাট কোহলিও আছে। আমার মনে হয় বর্তমানে এরা বড় নাম। তারপর কেন উইলিয়ামসন এবং অবশ্যই পাকিস্তানের বাবর আজমের নাম নিতে হয়। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে আমার মনে হয় ইদানীং অভিষেক শর্মা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার ব্যাটিংয়ে আসলে সবাই মুগ্ধ। এবারের এশিয়া কাপে সে যেভাবে ব্যাটিং করছে। লাল বলের ক্রিকেটেও সে সমান ভালো খেলোয়াড়। তার টেকনিক ভালো। সে শট খেলতে পারে। সে ব্লক করতে পারে। তার হাতে সব শটই আছে। সে দারুণ একটি প্রতিভা।
প্রশ্ন: নব্বইয়ের দশকে ভারত-পাকিস্তানের লড়াইটা ছিল অন্য রকম। এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ কমে গেছে। আপনি নিজেই বলছিলেন, ফাইনালে পাকিস্তান আন্ডারডগ। একজন পাকিস্তানি কিংবদন্তি হয়ে নিজের দলকে আন্ডারডগ হিসেবে ভাবতে কতটা খারাপ লাগে?
ওয়াসিম আকরাম: ফ্যাক্ট লুকাতে পারবেন না। ভারত দারুণ খেলছে। টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ ফাইনালে তারা হেরেছে। আমি বলতে চাচ্ছি, তারা বেশ ধারাবাহিক। ক্রিকেটার তৈরি করছে। এমনকি তাদের ‘এ’ দল দারুণ। ‘সি’ দলও দারুণ। বিসিসিআইকে কৃতিত্ব দিতে হবে, যেভাবে তারা আইপিএল থেকে টাকা আয় করছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কাঠামো ভালো। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তরুণ ক্রিকেটাররা ভালোমতো গড়ে ওঠার সুযোগ পায়। টি-টোয়েন্টিতে টেকনিক ভালো না থাকলে ভালো ক্রিকেটার পাবেন না। তাই লাল বল থেকে সাদা বলের ক্রিকেটে এলে খেলার ধরন পরিবর্তন করতে হবে। তবে সাদা বল থেকে লাল বলের ভালো ক্রিকেটার হওয়াটা প্রায় অসম্ভব।
প্রশ্ন: এখানেই কি ভারতের সঙ্গে উপমহাদেশের বাকিদের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে?
আকরাম: সম্ভবত এটাই। তারা ক্রিকেটারের ওপর ফোকাস করে। (শুবমান) গিলের কথাই কল্পনা করুন। সে টি-টোয়েন্টি দারুণ খেলে। সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজে দেখুন তার টেকনিক। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তার খেলার ধরন বদলে যায়। কোচ তাকে বলে দেয় না। সে (গিল) নিজের কাজ নিজে করে। আমাদের ক্রিকেটারদের এগুলো শিখতে হবে। তাদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস করতে হবে। আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। বড় মঞ্চে ঘাবড়ানো যাবে না।
প্রশ্ন: বড় মঞ্চে বাংলাদেশে বড় কোনো সাফল্য নেই। বড় মঞ্চে কেন খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ?
আকরাম: এখানে ক্রিকেট বোর্ডের করার কিছু নেই। বাংলাদেশের মানুষেরও এখানে কিছু করার নেই। এটা করতে হবে ক্রিকেটারদের। তাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী সচেতন থাকতে হবে। সেটা তো কোচ আপনাকে শেখাতে পারবে না। আপনার নিজেকেই শিখতে হবে। এই অবস্থায় আমি এভাবে ব্যাটিং করব। এই অবস্থায় আমাকে এভাবে বোলিং করতে হবে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে একটা ইতিবাচক ব্যাপার খুঁজে পাওয়া গেছে এবং সেটা হলো তাদের অসাধারণ ফিল্ডিং। দুই-তিনটা ক্যাচ মিস বাদ দিলে সব ঠিক আছে। এমনটা হতেই পারে। নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যদি প্রস্তাব দেয়, কাজ করতে আগ্রহী হবেন?
আকরাম: আমি কিছুদিনের জন্য কাজ করতে পারি। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করব কি না সেটা এখন বলা কঠিন। বাংলাদেশ দলে মুশতাক আহমেদের (স্পিন পরামর্শক) মতো একজন খুব ভালো কোচ আছেন। ফিল সিমন্স, শন টেইট আছেন। তাঁরা ভালো কাজ করছেন। তাসকিন আহমেদের কথা যদি বলি; চার-পাঁচ বছর ধরে তার বোলিং দেখে আমি খুবই মুগ্ধ। আমি ভেবেছিলাম সে সম্ভবত পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে (লিটন দাস ছিটকে যাওয়ায়) অধিনায়ক হবে। আমাকে বলা হয়েছে যে তাসকিন খুব একটা সুশৃঙ্খল নয়। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, ফাস্ট বোলাররা সুশৃঙ্খল হয় না। কারণ, তারা ফাস্ট বোলার। তাদের ভেতরে আগুন আছে। তারা ভালো নেতা হতে পারে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের অধিনায়কের মধ্যে কাকে আপনার বেশি ভালো লেগেছে?
আকরাম: অবশ্যই মাশরাফি। আরেকজন উইকেটরক্ষক—মুশফিকুর রহিম। মাশরাফি রাজনীতিতে জড়িয়ে গেল। সাকিব (আল হাসান) কিছুদিনের জন্য ছিল। এখন লিটন দাস। আমি গত এক বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট সেভাবে দেখিনি। লিটন দাসের অধীনে দল খুব ভালো খেলছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে রান তাড়ার সময় বাংলাদেশ তাকে মিস করেছে। যখন আপনি ১৩৩ (১৩৬) রানের মতো অল্প লক্ষ্য তাড়া করবেন ভালো আক্রমণের বিপক্ষে, তখন ২০ ওভার খেলতে হবে। প্রথম ৬ ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে আক্রমণ করতে পারবেন না। আগে তার বোলিংটা দেখুন। তারপর ৪০ রানের একটা জুটি গড়লেই পাকিস্তানকে চাপে ফেলা যেত। কিন্তু সেটা তো হয়নি। তারা বাজে শট খেলেছে। কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এমনটা করেছে। তবে আমি আবারও বলছি, ছন্দে থাকা অধিনায়ককে তারা হারিয়েছে। আশা করি সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।
প্রশ্ন: আপনি নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে খেলেছেন। সেখানে আপনার সবচেয়ে ভালো স্মৃতি কোনটা?
আকরাম: বাংলাদেশে আমার অনেক অসাধারণ স্মৃতি আছে। সেখানকার মানুষ, খাবার—সবই দারুণ। সেখানে আমার অনেক বন্ধু আছে। আমি গত ১০-১২ বছর বাংলাদেশে যাইনি। তবে আগামী জানুয়ারিতে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। আমার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যাব। আমি খুব খুশি যে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো। ঢাকা-করাচি অথবা করাচি থেকে ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এটা একটা ভালো লক্ষণ। আমি বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট, বগুড়া; প্রতিটি শহরের কথা আমার মনে আছে। সেখানকার মানুষ এখনো আমাকে ভালোবাসে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সব সময় আমার ভালোবাসা।
প্রশ্ন: পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে অনেক পাকিস্তানি কিংবদন্তিই কাজ করেছেন। কিন্তু আপনাকে খুব একটা দেখা যায়নি কখনো। কারণটা কী?
উত্তর: দেখুন আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এই কাজটা অনেক কঠিন। আমি শুধু লাহোরভিত্তিক কাজ করতে পারব না। কারণ, কোচিং অনেক কঠিন কাজ। আপনাকে সব সময় সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। পরিবার থেকে দূরে থাকা অনেক কঠিন। কিন্তু পাকিস্তানের জন্য আমি আছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা জিনিস প্রায়ই দেখা যায়, গিল ও অভিষেককে প্রস্তুত করেছে যুবরাজ সিং। এই দুই ছেলে (গিল-অভিষেক) যুবরাজ সিংয়ের কাছে যেত। কেউ আমার কাছে আসেনি। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের কেউ এলে আমি তাকে টিপস, সহায়তা করতে প্রস্তুত। তাদের সময় দিতেও রাজি। কিন্তু এটা হচ্ছে না। আমি এটা বিনা মূল্যে করতে পারব। আমার টাকা নিয়ে অহংকার নেই। তবে কোনো তরুণ ক্রিকেটার এলে আমি তাকে সময় দিতে রাজি। কিন্তু এখনো কেউ আমাকে ডাকেনি।
প্রশ্ন: আপনার আত্মজীবনী ‘সুলতান অব সুইং’ বইয়ে খেলোয়াড়ি জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক, মাদকাসক্ত হয়ে পড়া নিয়ে অনেক স্পর্শকাতর কথা খোলামেলা তুলে ধরেছেন। আপনার প্রয়াত স্ত্রীর শেষ মুহূর্তগুলো এত হৃদয়স্পর্শী, চোখে পানি এসে যায়। আপনার খেলোয়াড়ি জীবন এত বর্ণাঢ্য, চাইলে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় এড়িয়েও যেতে পারতেন। কিন্তু কীভাবে তুলে ধরা?
আকরাম: এটা লেখা আমার জন্য কঠিন ছিল। আমার স্ত্রী শানিরা (শানিয়ারা থম্পসন) আমাকে এই বই লিখতে রাজি করিয়েছিল। আমি বিরক্ত হইনি। এটা নিয়ে পাকিস্তানের অনেক ক্রিকেটার চিন্তিত ছিল। কারণ, তারা ভেবেছিল যে আমি তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলব। কিন্তু সেই বইটি পুরোপুরি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লেখা। আমার সংগ্রাম, ট্র্যাজেডি, জয়, সুখ-দুঃখ—এসব নিয়ে লেখা। এই বইটি লেখা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। এটা লেখার জন্য প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছে। বই নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান লেখক গিডিয়ন হেইগ দুর্দান্ত কাজ করেছেন। আমার সন্তানেরাও আমাকে সমর্থন করেছে। এই বইটি আসলে তাদের জন্য। যখন তারা বড় হবে, তখন তারা বুঝতে পারবে মাঠে এবং মাঠের বাইরে তারা কী কী অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। আমার জীবনে একটা ট্র্যাজেডি আছে। আমার প্রথম স্ত্রী হুমাকে আমি এখনো মিস করি। সে মারা যাওয়ার পর শানিরাকে বিয়ে করেছি। আমার ভাগ্য ভালো ছিল বলে আমি এমন দুজন জীবনসঙ্গী পেয়েছি। আয়লা নামে আমাদের ১১ বছরের একটি মেয়ে আছে। সে আমাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। জীবন চলতেই থাকবে। এটা বলা সহজ। এরপরও জীবনকে চলতেই হবে।
প্রশ্ন: ধারাভাষ্য ও ক্রিকেটীয় কার্যক্রমের বাইরে সময় কাটে কীভাবে?
উত্তর: অনেক ব্যস্ত। আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। পাকিস্তানে অনেক টেলিভিশনে কাজ করতে হয়। পরিবার থাকে মেলবোর্নে। পাকিস্তান-মেলবোর্নে তাই অহরহ যাতায়াত করতে হয়। অনেক লম্বা যাত্রা। কিন্তু কাজ তো করতে হবে। এটা কঠিন। ১১ বছর বয়সী মেয়ে আছে। ছেলেরাও বড় হয়েছে। তৈমুরের বয়স ২৭ বছর, আকবরের বয়স ২৪ বছর ও ইসার বয়স ১১ হয়েছে। আমার সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারকে মিস করি। অনেক কঠিন। কিন্তু এভাবেই হচ্ছে।
আকরামের চোখে সময়ের সেরা ব্যাটার
বর্তমান সময়ে সেটা বলা কঠিন। আমি যদি টেস্ট ক্রিকেটের কথা বলি তাহলে জো রুট শীর্ষে থাকবে। স্টিভ স্মিথ, বিরাট কোহলিও আছে। আমার মনে হয় বর্তমানে এরা বড় নাম। তারপর কেন উইলিয়ামসন এবং অবশ্যই পাকিস্তানের বাবর আজমের নাম নিতে হয়। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে আমার মনে হয় ইদানীং অভিষেক শর্মা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার ব্যাটিংয়ে আসলে সবাই মুগ্ধ। এবারের এশিয়া কাপে সে যেভাবে ব্যাটিং করছে। লাল বলের ক্রিকেটেও সে সমান ভালো খেলোয়াড়। তার টেকনিক ভালো। সে শট খেলতে পারে। সে ব্লক করতে পারে। তার হাতে সব শটই আছে। সে দারুণ একটি প্রতিভা।

বয়স ‘৫৯’ যেন তাঁর কাছে শুধুই সংখ্যা! তারুণ্যের আভা চোখেমুখে, ভারী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে নায়কোচিত চলনবলন। এই এশিয়া কাপেও তিনি ছিলেন ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায়। দুবাইয়ের হোটেল তাজে ওয়াসিম আকরাম সময় দিলেন ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের সকালে। আজকের পত্রিকা'র হেড অব স্পোর্টস রানা আব্বাস'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার আকরামের আলাপচারিতা শুধু ভারত-পাকিস্তানের দ্বৈরথে সীমাবদ্ধ থাকেনি, সেখানে এল বাংলাদেশও।
রানা আব্বাস, দুবাই থেকে

প্রশ্ন: নব্বইয়ের দশকে ভারত-পাকিস্তানের লড়াইটা ছিল অন্য রকম। এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ কমে গেছে। আপনি নিজেই বলছিলেন, ফাইনালে পাকিস্তান আন্ডারডগ। একজন পাকিস্তানি কিংবদন্তি হয়ে নিজের দলকে আন্ডারডগ হিসেবে ভাবতে কতটা খারাপ লাগে?
ওয়াসিম আকরাম: ফ্যাক্ট লুকাতে পারবেন না। ভারত দারুণ খেলছে। টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ ফাইনালে তারা হেরেছে। আমি বলতে চাচ্ছি, তারা বেশ ধারাবাহিক। ক্রিকেটার তৈরি করছে। এমনকি তাদের ‘এ’ দল দারুণ। ‘সি’ দলও দারুণ। বিসিসিআইকে কৃতিত্ব দিতে হবে, যেভাবে তারা আইপিএল থেকে টাকা আয় করছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কাঠামো ভালো। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তরুণ ক্রিকেটাররা ভালোমতো গড়ে ওঠার সুযোগ পায়। টি-টোয়েন্টিতে টেকনিক ভালো না থাকলে ভালো ক্রিকেটার পাবেন না। তাই লাল বল থেকে সাদা বলের ক্রিকেটে এলে খেলার ধরন পরিবর্তন করতে হবে। তবে সাদা বল থেকে লাল বলের ভালো ক্রিকেটার হওয়াটা প্রায় অসম্ভব।
প্রশ্ন: এখানেই কি ভারতের সঙ্গে উপমহাদেশের বাকিদের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে?
আকরাম: সম্ভবত এটাই। তারা ক্রিকেটারের ওপর ফোকাস করে। (শুবমান) গিলের কথাই কল্পনা করুন। সে টি-টোয়েন্টি দারুণ খেলে। সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজে দেখুন তার টেকনিক। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তার খেলার ধরন বদলে যায়। কোচ তাকে বলে দেয় না। সে (গিল) নিজের কাজ নিজে করে। আমাদের ক্রিকেটারদের এগুলো শিখতে হবে। তাদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস করতে হবে। আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। বড় মঞ্চে ঘাবড়ানো যাবে না।
প্রশ্ন: বড় মঞ্চে বাংলাদেশে বড় কোনো সাফল্য নেই। বড় মঞ্চে কেন খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ?
আকরাম: এখানে ক্রিকেট বোর্ডের করার কিছু নেই। বাংলাদেশের মানুষেরও এখানে কিছু করার নেই। এটা করতে হবে ক্রিকেটারদের। তাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী সচেতন থাকতে হবে। সেটা তো কোচ আপনাকে শেখাতে পারবে না। আপনার নিজেকেই শিখতে হবে। এই অবস্থায় আমি এভাবে ব্যাটিং করব। এই অবস্থায় আমাকে এভাবে বোলিং করতে হবে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে একটা ইতিবাচক ব্যাপার খুঁজে পাওয়া গেছে এবং সেটা হলো তাদের অসাধারণ ফিল্ডিং। দুই-তিনটা ক্যাচ মিস বাদ দিলে সব ঠিক আছে। এমনটা হতেই পারে। নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যদি প্রস্তাব দেয়, কাজ করতে আগ্রহী হবেন?
আকরাম: আমি কিছুদিনের জন্য কাজ করতে পারি। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করব কি না সেটা এখন বলা কঠিন। বাংলাদেশ দলে মুশতাক আহমেদের (স্পিন পরামর্শক) মতো একজন খুব ভালো কোচ আছেন। ফিল সিমন্স, শন টেইট আছেন। তাঁরা ভালো কাজ করছেন। তাসকিন আহমেদের কথা যদি বলি; চার-পাঁচ বছর ধরে তার বোলিং দেখে আমি খুবই মুগ্ধ। আমি ভেবেছিলাম সে সম্ভবত পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে (লিটন দাস ছিটকে যাওয়ায়) অধিনায়ক হবে। আমাকে বলা হয়েছে যে তাসকিন খুব একটা সুশৃঙ্খল নয়। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, ফাস্ট বোলাররা সুশৃঙ্খল হয় না। কারণ, তারা ফাস্ট বোলার। তাদের ভেতরে আগুন আছে। তারা ভালো নেতা হতে পারে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের অধিনায়কের মধ্যে কাকে আপনার বেশি ভালো লেগেছে?
আকরাম: অবশ্যই মাশরাফি। আরেকজন উইকেটরক্ষক—মুশফিকুর রহিম। মাশরাফি রাজনীতিতে জড়িয়ে গেল। সাকিব (আল হাসান) কিছুদিনের জন্য ছিল। এখন লিটন দাস। আমি গত এক বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট সেভাবে দেখিনি। লিটন দাসের অধীনে দল খুব ভালো খেলছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে রান তাড়ার সময় বাংলাদেশ তাকে মিস করেছে। যখন আপনি ১৩৩ (১৩৬) রানের মতো অল্প লক্ষ্য তাড়া করবেন ভালো আক্রমণের বিপক্ষে, তখন ২০ ওভার খেলতে হবে। প্রথম ৬ ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে আক্রমণ করতে পারবেন না। আগে তার বোলিংটা দেখুন। তারপর ৪০ রানের একটা জুটি গড়লেই পাকিস্তানকে চাপে ফেলা যেত। কিন্তু সেটা তো হয়নি। তারা বাজে শট খেলেছে। কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এমনটা করেছে। তবে আমি আবারও বলছি, ছন্দে থাকা অধিনায়ককে তারা হারিয়েছে। আশা করি সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।
প্রশ্ন: আপনি নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে খেলেছেন। সেখানে আপনার সবচেয়ে ভালো স্মৃতি কোনটা?
আকরাম: বাংলাদেশে আমার অনেক অসাধারণ স্মৃতি আছে। সেখানকার মানুষ, খাবার—সবই দারুণ। সেখানে আমার অনেক বন্ধু আছে। আমি গত ১০-১২ বছর বাংলাদেশে যাইনি। তবে আগামী জানুয়ারিতে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। আমার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যাব। আমি খুব খুশি যে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো। ঢাকা-করাচি অথবা করাচি থেকে ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এটা একটা ভালো লক্ষণ। আমি বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট, বগুড়া; প্রতিটি শহরের কথা আমার মনে আছে। সেখানকার মানুষ এখনো আমাকে ভালোবাসে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সব সময় আমার ভালোবাসা।
প্রশ্ন: পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে অনেক পাকিস্তানি কিংবদন্তিই কাজ করেছেন। কিন্তু আপনাকে খুব একটা দেখা যায়নি কখনো। কারণটা কী?
উত্তর: দেখুন আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এই কাজটা অনেক কঠিন। আমি শুধু লাহোরভিত্তিক কাজ করতে পারব না। কারণ, কোচিং অনেক কঠিন কাজ। আপনাকে সব সময় সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। পরিবার থেকে দূরে থাকা অনেক কঠিন। কিন্তু পাকিস্তানের জন্য আমি আছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা জিনিস প্রায়ই দেখা যায়, গিল ও অভিষেককে প্রস্তুত করেছে যুবরাজ সিং। এই দুই ছেলে (গিল-অভিষেক) যুবরাজ সিংয়ের কাছে যেত। কেউ আমার কাছে আসেনি। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের কেউ এলে আমি তাকে টিপস, সহায়তা করতে প্রস্তুত। তাদের সময় দিতেও রাজি। কিন্তু এটা হচ্ছে না। আমি এটা বিনা মূল্যে করতে পারব। আমার টাকা নিয়ে অহংকার নেই। তবে কোনো তরুণ ক্রিকেটার এলে আমি তাকে সময় দিতে রাজি। কিন্তু এখনো কেউ আমাকে ডাকেনি।
প্রশ্ন: আপনার আত্মজীবনী ‘সুলতান অব সুইং’ বইয়ে খেলোয়াড়ি জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক, মাদকাসক্ত হয়ে পড়া নিয়ে অনেক স্পর্শকাতর কথা খোলামেলা তুলে ধরেছেন। আপনার প্রয়াত স্ত্রীর শেষ মুহূর্তগুলো এত হৃদয়স্পর্শী, চোখে পানি এসে যায়। আপনার খেলোয়াড়ি জীবন এত বর্ণাঢ্য, চাইলে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় এড়িয়েও যেতে পারতেন। কিন্তু কীভাবে তুলে ধরা?
আকরাম: এটা লেখা আমার জন্য কঠিন ছিল। আমার স্ত্রী শানিরা (শানিয়ারা থম্পসন) আমাকে এই বই লিখতে রাজি করিয়েছিল। আমি বিরক্ত হইনি। এটা নিয়ে পাকিস্তানের অনেক ক্রিকেটার চিন্তিত ছিল। কারণ, তারা ভেবেছিল যে আমি তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলব। কিন্তু সেই বইটি পুরোপুরি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লেখা। আমার সংগ্রাম, ট্র্যাজেডি, জয়, সুখ-দুঃখ—এসব নিয়ে লেখা। এই বইটি লেখা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। এটা লেখার জন্য প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছে। বই নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান লেখক গিডিয়ন হেইগ দুর্দান্ত কাজ করেছেন। আমার সন্তানেরাও আমাকে সমর্থন করেছে। এই বইটি আসলে তাদের জন্য। যখন তারা বড় হবে, তখন তারা বুঝতে পারবে মাঠে এবং মাঠের বাইরে তারা কী কী অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। আমার জীবনে একটা ট্র্যাজেডি আছে। আমার প্রথম স্ত্রী হুমাকে আমি এখনো মিস করি। সে মারা যাওয়ার পর শানিরাকে বিয়ে করেছি। আমার ভাগ্য ভালো ছিল বলে আমি এমন দুজন জীবনসঙ্গী পেয়েছি। আয়লা নামে আমাদের ১১ বছরের একটি মেয়ে আছে। সে আমাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। জীবন চলতেই থাকবে। এটা বলা সহজ। এরপরও জীবনকে চলতেই হবে।
প্রশ্ন: ধারাভাষ্য ও ক্রিকেটীয় কার্যক্রমের বাইরে সময় কাটে কীভাবে?
উত্তর: অনেক ব্যস্ত। আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। পাকিস্তানে অনেক টেলিভিশনে কাজ করতে হয়। পরিবার থাকে মেলবোর্নে। পাকিস্তান-মেলবোর্নে তাই অহরহ যাতায়াত করতে হয়। অনেক লম্বা যাত্রা। কিন্তু কাজ তো করতে হবে। এটা কঠিন। ১১ বছর বয়সী মেয়ে আছে। ছেলেরাও বড় হয়েছে। তৈমুরের বয়স ২৭ বছর, আকবরের বয়স ২৪ বছর ও ইসার বয়স ১১ হয়েছে। আমার সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারকে মিস করি। অনেক কঠিন। কিন্তু এভাবেই হচ্ছে।
আকরামের চোখে সময়ের সেরা ব্যাটার
বর্তমান সময়ে সেটা বলা কঠিন। আমি যদি টেস্ট ক্রিকেটের কথা বলি তাহলে জো রুট শীর্ষে থাকবে। স্টিভ স্মিথ, বিরাট কোহলিও আছে। আমার মনে হয় বর্তমানে এরা বড় নাম। তারপর কেন উইলিয়ামসন এবং অবশ্যই পাকিস্তানের বাবর আজমের নাম নিতে হয়। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে আমার মনে হয় ইদানীং অভিষেক শর্মা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার ব্যাটিংয়ে আসলে সবাই মুগ্ধ। এবারের এশিয়া কাপে সে যেভাবে ব্যাটিং করছে। লাল বলের ক্রিকেটেও সে সমান ভালো খেলোয়াড়। তার টেকনিক ভালো। সে শট খেলতে পারে। সে ব্লক করতে পারে। তার হাতে সব শটই আছে। সে দারুণ একটি প্রতিভা।
প্রশ্ন: নব্বইয়ের দশকে ভারত-পাকিস্তানের লড়াইটা ছিল অন্য রকম। এখন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ কমে গেছে। আপনি নিজেই বলছিলেন, ফাইনালে পাকিস্তান আন্ডারডগ। একজন পাকিস্তানি কিংবদন্তি হয়ে নিজের দলকে আন্ডারডগ হিসেবে ভাবতে কতটা খারাপ লাগে?
ওয়াসিম আকরাম: ফ্যাক্ট লুকাতে পারবেন না। ভারত দারুণ খেলছে। টি-টোয়েন্টিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ ফাইনালে তারা হেরেছে। আমি বলতে চাচ্ছি, তারা বেশ ধারাবাহিক। ক্রিকেটার তৈরি করছে। এমনকি তাদের ‘এ’ দল দারুণ। ‘সি’ দলও দারুণ। বিসিসিআইকে কৃতিত্ব দিতে হবে, যেভাবে তারা আইপিএল থেকে টাকা আয় করছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট কাঠামো ভালো। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তরুণ ক্রিকেটাররা ভালোমতো গড়ে ওঠার সুযোগ পায়। টি-টোয়েন্টিতে টেকনিক ভালো না থাকলে ভালো ক্রিকেটার পাবেন না। তাই লাল বল থেকে সাদা বলের ক্রিকেটে এলে খেলার ধরন পরিবর্তন করতে হবে। তবে সাদা বল থেকে লাল বলের ভালো ক্রিকেটার হওয়াটা প্রায় অসম্ভব।
প্রশ্ন: এখানেই কি ভারতের সঙ্গে উপমহাদেশের বাকিদের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে?
আকরাম: সম্ভবত এটাই। তারা ক্রিকেটারের ওপর ফোকাস করে। (শুবমান) গিলের কথাই কল্পনা করুন। সে টি-টোয়েন্টি দারুণ খেলে। সাম্প্রতিক টেস্ট সিরিজে দেখুন তার টেকনিক। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী তার খেলার ধরন বদলে যায়। কোচ তাকে বলে দেয় না। সে (গিল) নিজের কাজ নিজে করে। আমাদের ক্রিকেটারদের এগুলো শিখতে হবে। তাদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস করতে হবে। আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। বড় মঞ্চে ঘাবড়ানো যাবে না।
প্রশ্ন: বড় মঞ্চে বাংলাদেশে বড় কোনো সাফল্য নেই। বড় মঞ্চে কেন খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ?
আকরাম: এখানে ক্রিকেট বোর্ডের করার কিছু নেই। বাংলাদেশের মানুষেরও এখানে কিছু করার নেই। এটা করতে হবে ক্রিকেটারদের। তাদের নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী সচেতন থাকতে হবে। সেটা তো কোচ আপনাকে শেখাতে পারবে না। আপনার নিজেকেই শিখতে হবে। এই অবস্থায় আমি এভাবে ব্যাটিং করব। এই অবস্থায় আমাকে এভাবে বোলিং করতে হবে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট থেকে একটা ইতিবাচক ব্যাপার খুঁজে পাওয়া গেছে এবং সেটা হলো তাদের অসাধারণ ফিল্ডিং। দুই-তিনটা ক্যাচ মিস বাদ দিলে সব ঠিক আছে। এমনটা হতেই পারে। নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যদি প্রস্তাব দেয়, কাজ করতে আগ্রহী হবেন?
আকরাম: আমি কিছুদিনের জন্য কাজ করতে পারি। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করব কি না সেটা এখন বলা কঠিন। বাংলাদেশ দলে মুশতাক আহমেদের (স্পিন পরামর্শক) মতো একজন খুব ভালো কোচ আছেন। ফিল সিমন্স, শন টেইট আছেন। তাঁরা ভালো কাজ করছেন। তাসকিন আহমেদের কথা যদি বলি; চার-পাঁচ বছর ধরে তার বোলিং দেখে আমি খুবই মুগ্ধ। আমি ভেবেছিলাম সে সম্ভবত পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে (লিটন দাস ছিটকে যাওয়ায়) অধিনায়ক হবে। আমাকে বলা হয়েছে যে তাসকিন খুব একটা সুশৃঙ্খল নয়। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, ফাস্ট বোলাররা সুশৃঙ্খল হয় না। কারণ, তারা ফাস্ট বোলার। তাদের ভেতরে আগুন আছে। তারা ভালো নেতা হতে পারে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের অধিনায়কের মধ্যে কাকে আপনার বেশি ভালো লেগেছে?
আকরাম: অবশ্যই মাশরাফি। আরেকজন উইকেটরক্ষক—মুশফিকুর রহিম। মাশরাফি রাজনীতিতে জড়িয়ে গেল। সাকিব (আল হাসান) কিছুদিনের জন্য ছিল। এখন লিটন দাস। আমি গত এক বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট সেভাবে দেখিনি। লিটন দাসের অধীনে দল খুব ভালো খেলছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে রান তাড়ার সময় বাংলাদেশ তাকে মিস করেছে। যখন আপনি ১৩৩ (১৩৬) রানের মতো অল্প লক্ষ্য তাড়া করবেন ভালো আক্রমণের বিপক্ষে, তখন ২০ ওভার খেলতে হবে। প্রথম ৬ ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে আক্রমণ করতে পারবেন না। আগে তার বোলিংটা দেখুন। তারপর ৪০ রানের একটা জুটি গড়লেই পাকিস্তানকে চাপে ফেলা যেত। কিন্তু সেটা তো হয়নি। তারা বাজে শট খেলেছে। কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এমনটা করেছে। তবে আমি আবারও বলছি, ছন্দে থাকা অধিনায়ককে তারা হারিয়েছে। আশা করি সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।
প্রশ্ন: আপনি নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে খেলেছেন। সেখানে আপনার সবচেয়ে ভালো স্মৃতি কোনটা?
আকরাম: বাংলাদেশে আমার অনেক অসাধারণ স্মৃতি আছে। সেখানকার মানুষ, খাবার—সবই দারুণ। সেখানে আমার অনেক বন্ধু আছে। আমি গত ১০-১২ বছর বাংলাদেশে যাইনি। তবে আগামী জানুয়ারিতে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। আমার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যাব। আমি খুব খুশি যে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো। ঢাকা-করাচি অথবা করাচি থেকে ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট শুরু হয়েছে। এটা একটা ভালো লক্ষণ। আমি বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। চট্টগ্রাম, ঢাকা, সিলেট, বগুড়া; প্রতিটি শহরের কথা আমার মনে আছে। সেখানকার মানুষ এখনো আমাকে ভালোবাসে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সব সময় আমার ভালোবাসা।
প্রশ্ন: পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে অনেক পাকিস্তানি কিংবদন্তিই কাজ করেছেন। কিন্তু আপনাকে খুব একটা দেখা যায়নি কখনো। কারণটা কী?
উত্তর: দেখুন আমার বয়স প্রায় ৬০ বছর। এই কাজটা অনেক কঠিন। আমি শুধু লাহোরভিত্তিক কাজ করতে পারব না। কারণ, কোচিং অনেক কঠিন কাজ। আপনাকে সব সময় সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। পরিবার থেকে দূরে থাকা অনেক কঠিন। কিন্তু পাকিস্তানের জন্য আমি আছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটা জিনিস প্রায়ই দেখা যায়, গিল ও অভিষেককে প্রস্তুত করেছে যুবরাজ সিং। এই দুই ছেলে (গিল-অভিষেক) যুবরাজ সিংয়ের কাছে যেত। কেউ আমার কাছে আসেনি। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের কেউ এলে আমি তাকে টিপস, সহায়তা করতে প্রস্তুত। তাদের সময় দিতেও রাজি। কিন্তু এটা হচ্ছে না। আমি এটা বিনা মূল্যে করতে পারব। আমার টাকা নিয়ে অহংকার নেই। তবে কোনো তরুণ ক্রিকেটার এলে আমি তাকে সময় দিতে রাজি। কিন্তু এখনো কেউ আমাকে ডাকেনি।
প্রশ্ন: আপনার আত্মজীবনী ‘সুলতান অব সুইং’ বইয়ে খেলোয়াড়ি জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক, মাদকাসক্ত হয়ে পড়া নিয়ে অনেক স্পর্শকাতর কথা খোলামেলা তুলে ধরেছেন। আপনার প্রয়াত স্ত্রীর শেষ মুহূর্তগুলো এত হৃদয়স্পর্শী, চোখে পানি এসে যায়। আপনার খেলোয়াড়ি জীবন এত বর্ণাঢ্য, চাইলে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় এড়িয়েও যেতে পারতেন। কিন্তু কীভাবে তুলে ধরা?
আকরাম: এটা লেখা আমার জন্য কঠিন ছিল। আমার স্ত্রী শানিরা (শানিয়ারা থম্পসন) আমাকে এই বই লিখতে রাজি করিয়েছিল। আমি বিরক্ত হইনি। এটা নিয়ে পাকিস্তানের অনেক ক্রিকেটার চিন্তিত ছিল। কারণ, তারা ভেবেছিল যে আমি তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলব। কিন্তু সেই বইটি পুরোপুরি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে লেখা। আমার সংগ্রাম, ট্র্যাজেডি, জয়, সুখ-দুঃখ—এসব নিয়ে লেখা। এই বইটি লেখা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। এটা লেখার জন্য প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছে। বই নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান লেখক গিডিয়ন হেইগ দুর্দান্ত কাজ করেছেন। আমার সন্তানেরাও আমাকে সমর্থন করেছে। এই বইটি আসলে তাদের জন্য। যখন তারা বড় হবে, তখন তারা বুঝতে পারবে মাঠে এবং মাঠের বাইরে তারা কী কী অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। আমার জীবনে একটা ট্র্যাজেডি আছে। আমার প্রথম স্ত্রী হুমাকে আমি এখনো মিস করি। সে মারা যাওয়ার পর শানিরাকে বিয়ে করেছি। আমার ভাগ্য ভালো ছিল বলে আমি এমন দুজন জীবনসঙ্গী পেয়েছি। আয়লা নামে আমাদের ১১ বছরের একটি মেয়ে আছে। সে আমাদের বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। জীবন চলতেই থাকবে। এটা বলা সহজ। এরপরও জীবনকে চলতেই হবে।
প্রশ্ন: ধারাভাষ্য ও ক্রিকেটীয় কার্যক্রমের বাইরে সময় কাটে কীভাবে?
উত্তর: অনেক ব্যস্ত। আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। পাকিস্তানে অনেক টেলিভিশনে কাজ করতে হয়। পরিবার থাকে মেলবোর্নে। পাকিস্তান-মেলবোর্নে তাই অহরহ যাতায়াত করতে হয়। অনেক লম্বা যাত্রা। কিন্তু কাজ তো করতে হবে। এটা কঠিন। ১১ বছর বয়সী মেয়ে আছে। ছেলেরাও বড় হয়েছে। তৈমুরের বয়স ২৭ বছর, আকবরের বয়স ২৪ বছর ও ইসার বয়স ১১ হয়েছে। আমার সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারকে মিস করি। অনেক কঠিন। কিন্তু এভাবেই হচ্ছে।
আকরামের চোখে সময়ের সেরা ব্যাটার
বর্তমান সময়ে সেটা বলা কঠিন। আমি যদি টেস্ট ক্রিকেটের কথা বলি তাহলে জো রুট শীর্ষে থাকবে। স্টিভ স্মিথ, বিরাট কোহলিও আছে। আমার মনে হয় বর্তমানে এরা বড় নাম। তারপর কেন উইলিয়ামসন এবং অবশ্যই পাকিস্তানের বাবর আজমের নাম নিতে হয়। কিন্তু সাদা বলের ক্রিকেটে আমার মনে হয় ইদানীং অভিষেক শর্মা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তার ব্যাটিংয়ে আসলে সবাই মুগ্ধ। এবারের এশিয়া কাপে সে যেভাবে ব্যাটিং করছে। লাল বলের ক্রিকেটেও সে সমান ভালো খেলোয়াড়। তার টেকনিক ভালো। সে শট খেলতে পারে। সে ব্লক করতে পারে। তার হাতে সব শটই আছে। সে দারুণ একটি প্রতিভা।

বিপিএলের নিলামের জন্য চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকায় নাম নেই এনামুল হক বিজয়ের। কেন এনামুল নেই, সে ব্যাখ্যা বিসিবি দেয়নি। তবে বিসিবি আগেই জানিয়েছিল, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠা ক্রিকেটারদের নিলামে রাখা হবে না। তাই এনামুলের বাদ পড়ার কারণটাও আর বুঝে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কারও।
১৬ মিনিট আগে
বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২ তম আসরের নিলাম হবে আগামীকাল। তার আগেরদিন আলোচনার রসদ হয়ে সামনে এসেছে দেশি ক্রিকেটারদের নামের তালিকা। বিপিএলের পরবর্তী আসরকে সামনে রেখে খসড়া থেকে আজ দেশি ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত নামের তালিকা তৈরি করেছে গভর্নিং কাউন্সিল।
২ ঘণ্টা আগে
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের কাছে ৩৯ রানে হেরে যায় লিটন দাসের দল। সিরিজে টিকে থাকতে আজ জিততেই হবে বাংলাদেশকে। বাঁচা মরার মিশনে সন্ধ্যা ছয়টায় আইরিশদের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। হারলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের...
৩ ঘণ্টা আগে
চেন্নাইয়ের মেয়র রাধাকৃষ্ণণ স্টেডিয়ামে বসে গতকাল সুইজারল্যান্ড-ওমানের ম্যাচ দেখছিলেন বাংলাদেশের কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যান। তখনই মজা করে বললেন, ‘আমাদের এই গ্রুপে খেলা উচিত ছিল।’ যদিও এ গ্রুপে স্বাগতিক ভারত রয়েছে। তবু বাংলাদেশের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার ভালো একটা সম্ভাবনা থাকত।
৪ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বিপিএলের নিলামের জন্য চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকায় নাম নেই এনামুল হক বিজয়ের। কেন এনামুল নেই, সে ব্যাখ্যা বিসিবি দেয়নি। তবে বিসিবি আগেই জানিয়েছিল, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠা ক্রিকেটারদের নিলামে রাখা হবে না। তাই এনামুলের বাদ পড়ার কারণটাও আর বুঝে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কারও।
বাদ বিপিএলের খেলোয়াড় তালিকায় থেকে বাদ পক্ষে চটেছেন এনামুল। তাঁর দাবি, বিসিবি প্রমাণ না দিয়ে দোষী সাব্যস্ত করছে তাঁদের। আজকের পত্রিকাকে এনামুল বললেন, ‘এ নিয়ে আমি বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। মিঠু ভাই, ফাহিম ভাই, লিপু ভাই, সিইও কিংবা বুলবুল ভাই, সবার সঙ্গেই কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কারও সাড়া পাইনি। তাঁরা রেসপন্স করলে জানতে চাইতাম আমার অপরাধটা কী? কী প্রমাণের ভিত্তিতে আমাকে বাইরে রাখা হলো সেটা জানতে চাইতাম।’ কোনো কিছু প্রমাণ না করেই তাকে চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকায় না রেখে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে বলেও দাবি তোলেন এনামুল, ‘এভাবে আমাকে সমাজের মধ্যে অপমান, অসম্মান করা হচ্ছে। আমার যদি কোনো দোষ থাকে, ত্রুটি থাকে, তাহলে সেটা প্রমাণ করে শাস্তি দিক। কিন্তু সেটা প্রমাণ না করে এক বছর ধরে আমাকে অসম্মান করা হচ্ছে, এটা আমি মেনে নেব না।’
ফিক্সিং সম্পর্কিত কোনো জিজ্ঞাসাবাদে তাঁকে ডাকা হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে এনামুল বলেন, ‘হ্যাঁ’, জানিয়ে এনামুল বলেন,‘ শুধু আমাকে কেন, তাদের মনে হলে পৃথিবী যে কাউকেই ডাকতে পারে। তারা যা যা জানতে চেয়েছি আমি তার উত্তর দিয়েছি। কিন্তু (শাস্তি হিসেবে যদি) আমাকে যদি খেলোয়াড় তালিকার বাইরে রাখা হয়, তাহলে বিসিবি প্রমাণ দিক, আমার অপরাধটা কী। কোনো প্রমাণ ছাড়া আমি শাস্তি মেনে নেব না।’
শুধু এনামুল হক বিজয়ই নন, চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও আলাউদ্দিন বাবুও।

বিপিএলের নিলামের জন্য চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকায় নাম নেই এনামুল হক বিজয়ের। কেন এনামুল নেই, সে ব্যাখ্যা বিসিবি দেয়নি। তবে বিসিবি আগেই জানিয়েছিল, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠা ক্রিকেটারদের নিলামে রাখা হবে না। তাই এনামুলের বাদ পড়ার কারণটাও আর বুঝে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কারও।
বাদ বিপিএলের খেলোয়াড় তালিকায় থেকে বাদ পক্ষে চটেছেন এনামুল। তাঁর দাবি, বিসিবি প্রমাণ না দিয়ে দোষী সাব্যস্ত করছে তাঁদের। আজকের পত্রিকাকে এনামুল বললেন, ‘এ নিয়ে আমি বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। মিঠু ভাই, ফাহিম ভাই, লিপু ভাই, সিইও কিংবা বুলবুল ভাই, সবার সঙ্গেই কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কারও সাড়া পাইনি। তাঁরা রেসপন্স করলে জানতে চাইতাম আমার অপরাধটা কী? কী প্রমাণের ভিত্তিতে আমাকে বাইরে রাখা হলো সেটা জানতে চাইতাম।’ কোনো কিছু প্রমাণ না করেই তাকে চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকায় না রেখে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে বলেও দাবি তোলেন এনামুল, ‘এভাবে আমাকে সমাজের মধ্যে অপমান, অসম্মান করা হচ্ছে। আমার যদি কোনো দোষ থাকে, ত্রুটি থাকে, তাহলে সেটা প্রমাণ করে শাস্তি দিক। কিন্তু সেটা প্রমাণ না করে এক বছর ধরে আমাকে অসম্মান করা হচ্ছে, এটা আমি মেনে নেব না।’
ফিক্সিং সম্পর্কিত কোনো জিজ্ঞাসাবাদে তাঁকে ডাকা হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে এনামুল বলেন, ‘হ্যাঁ’, জানিয়ে এনামুল বলেন,‘ শুধু আমাকে কেন, তাদের মনে হলে পৃথিবী যে কাউকেই ডাকতে পারে। তারা যা যা জানতে চেয়েছি আমি তার উত্তর দিয়েছি। কিন্তু (শাস্তি হিসেবে যদি) আমাকে যদি খেলোয়াড় তালিকার বাইরে রাখা হয়, তাহলে বিসিবি প্রমাণ দিক, আমার অপরাধটা কী। কোনো প্রমাণ ছাড়া আমি শাস্তি মেনে নেব না।’
শুধু এনামুল হক বিজয়ই নন, চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও আলাউদ্দিন বাবুও।

বয়স ‘৫৯’ যেন তাঁর কাছে শুধুই সংখ্যা! তারুণ্যের আভা চোখেমুখে, ভারী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে নায়কোচিত চলনবলন। এই এশিয়া কাপেও তিনি ছিলেন ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায়। দুবাইয়ের হোটেল তাজে ওয়াসিম আকরাম সময় দিলেন ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের সকালে।
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২ তম আসরের নিলাম হবে আগামীকাল। তার আগেরদিন আলোচনার রসদ হয়ে সামনে এসেছে দেশি ক্রিকেটারদের নামের তালিকা। বিপিএলের পরবর্তী আসরকে সামনে রেখে খসড়া থেকে আজ দেশি ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত নামের তালিকা তৈরি করেছে গভর্নিং কাউন্সিল।
২ ঘণ্টা আগে
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের কাছে ৩৯ রানে হেরে যায় লিটন দাসের দল। সিরিজে টিকে থাকতে আজ জিততেই হবে বাংলাদেশকে। বাঁচা মরার মিশনে সন্ধ্যা ছয়টায় আইরিশদের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। হারলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের...
৩ ঘণ্টা আগে
চেন্নাইয়ের মেয়র রাধাকৃষ্ণণ স্টেডিয়ামে বসে গতকাল সুইজারল্যান্ড-ওমানের ম্যাচ দেখছিলেন বাংলাদেশের কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যান। তখনই মজা করে বললেন, ‘আমাদের এই গ্রুপে খেলা উচিত ছিল।’ যদিও এ গ্রুপে স্বাগতিক ভারত রয়েছে। তবু বাংলাদেশের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার ভালো একটা সম্ভাবনা থাকত।
৪ ঘণ্টা আগেক্রীড়া ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২ তম আসরের নিলাম হবে আগামীকাল। তার আগেরদিন আলোচনার রসদ হয়ে সামনে এসেছে দেশি ক্রিকেটারদের নামের তালিকা। বিপিএলের পরবর্তী আসরকে সামনে রেখে খসড়া থেকে আজ দেশি ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত নামের তালিকা তৈরি করেছে গভর্নিং কাউন্সিল।
ফ্র্যাঞ্চাইজি সূত্রে সে তালিকা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ৭ ক্রিকেটারকে। বাদ পড়া ক্রিকেটারদের তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম এনামুল হক বিজয়। জাতীয় দলে যাওয়া আসার মধ্যে আছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিয়মিত তিনি।
বিপিএলের আগের সবকটি আসরেই দেখা গেছে বিজয়কে। সবশেষ আসরে খেলেছেন দুর্বার রাজশাহীর হয়ে। পদ্মাপাড়ের ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অধিনায়কত্বের ভার সামলেছেন তিনি। এবার বাদ পড়লেন নিলাম থেকেই। বিজয় ছাড়াও বাদ পড়া অন্য বড় নামটি হলো মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এই ব্যাটিং অলরাউন্ডারও জাতীয় দলের আশেপাশেই ছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ পরিচিত মুখ তিনি। বিজয়ের মতো মোসাদ্দেকও ছিলেন ‘সি’ ক্যাটাগরিতে। এই ক্যাটাগরিতে ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য ২২ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগেই জানিয়েছিল, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠা ক্রিকেটারদের নিলামে রাখা হবে না। এই ঘোষণার পরও অভিযুক্ত ক্রিকেটাররা খসড়া তালিকায় থাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। এবার নিলামের আগের দিন চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়লেন বিজয়, সৈকতরা। চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া বাকি পাঁচজন হলেন সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও আলাউদ্দিন বাবু।
নিলামের খসড়া তালিকায় ছিল না আলিস ইসলামের নাম। চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা হয়েছে এই স্পিনারের। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে আছেন তিনি। নিলামের গ্রেডিং ভালো না হওয়ায় তোপের মুখে পড়েছিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। সমালোচনার মুখে বেশকিছু ক্রিকেটারের ক্যাটাগরি বাড়িয়েছে টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটি। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে উঠে এসেছেন শাহাদাত হোসেন দিপু, ইরফান শুক্কুর, আরিফুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, এসএম মেহরব, শেখ পারভেজ জীবন, ফজলে রাব্বি ও মুশফিক হাসানের। ‘সি’ থেকে ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছেন মুকিদুল ইসলাম।

বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২ তম আসরের নিলাম হবে আগামীকাল। তার আগেরদিন আলোচনার রসদ হয়ে সামনে এসেছে দেশি ক্রিকেটারদের নামের তালিকা। বিপিএলের পরবর্তী আসরকে সামনে রেখে খসড়া থেকে আজ দেশি ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত নামের তালিকা তৈরি করেছে গভর্নিং কাউন্সিল।
ফ্র্যাঞ্চাইজি সূত্রে সে তালিকা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ৭ ক্রিকেটারকে। বাদ পড়া ক্রিকেটারদের তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম এনামুল হক বিজয়। জাতীয় দলে যাওয়া আসার মধ্যে আছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিয়মিত তিনি।
বিপিএলের আগের সবকটি আসরেই দেখা গেছে বিজয়কে। সবশেষ আসরে খেলেছেন দুর্বার রাজশাহীর হয়ে। পদ্মাপাড়ের ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অধিনায়কত্বের ভার সামলেছেন তিনি। এবার বাদ পড়লেন নিলাম থেকেই। বিজয় ছাড়াও বাদ পড়া অন্য বড় নামটি হলো মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এই ব্যাটিং অলরাউন্ডারও জাতীয় দলের আশেপাশেই ছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ পরিচিত মুখ তিনি। বিজয়ের মতো মোসাদ্দেকও ছিলেন ‘সি’ ক্যাটাগরিতে। এই ক্যাটাগরিতে ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য ২২ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগেই জানিয়েছিল, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠা ক্রিকেটারদের নিলামে রাখা হবে না। এই ঘোষণার পরও অভিযুক্ত ক্রিকেটাররা খসড়া তালিকায় থাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। এবার নিলামের আগের দিন চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়লেন বিজয়, সৈকতরা। চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া বাকি পাঁচজন হলেন সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও আলাউদ্দিন বাবু।
নিলামের খসড়া তালিকায় ছিল না আলিস ইসলামের নাম। চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা হয়েছে এই স্পিনারের। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে আছেন তিনি। নিলামের গ্রেডিং ভালো না হওয়ায় তোপের মুখে পড়েছিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। সমালোচনার মুখে বেশকিছু ক্রিকেটারের ক্যাটাগরি বাড়িয়েছে টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটি। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে উঠে এসেছেন শাহাদাত হোসেন দিপু, ইরফান শুক্কুর, আরিফুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, এসএম মেহরব, শেখ পারভেজ জীবন, ফজলে রাব্বি ও মুশফিক হাসানের। ‘সি’ থেকে ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছেন মুকিদুল ইসলাম।

বয়স ‘৫৯’ যেন তাঁর কাছে শুধুই সংখ্যা! তারুণ্যের আভা চোখেমুখে, ভারী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে নায়কোচিত চলনবলন। এই এশিয়া কাপেও তিনি ছিলেন ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায়। দুবাইয়ের হোটেল তাজে ওয়াসিম আকরাম সময় দিলেন ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের সকালে।
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বিপিএলের নিলামের জন্য চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকায় নাম নেই এনামুল হক বিজয়ের। কেন এনামুল নেই, সে ব্যাখ্যা বিসিবি দেয়নি। তবে বিসিবি আগেই জানিয়েছিল, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠা ক্রিকেটারদের নিলামে রাখা হবে না। তাই এনামুলের বাদ পড়ার কারণটাও আর বুঝে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কারও।
১৬ মিনিট আগে
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের কাছে ৩৯ রানে হেরে যায় লিটন দাসের দল। সিরিজে টিকে থাকতে আজ জিততেই হবে বাংলাদেশকে। বাঁচা মরার মিশনে সন্ধ্যা ছয়টায় আইরিশদের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। হারলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের...
৩ ঘণ্টা আগে
চেন্নাইয়ের মেয়র রাধাকৃষ্ণণ স্টেডিয়ামে বসে গতকাল সুইজারল্যান্ড-ওমানের ম্যাচ দেখছিলেন বাংলাদেশের কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যান। তখনই মজা করে বললেন, ‘আমাদের এই গ্রুপে খেলা উচিত ছিল।’ যদিও এ গ্রুপে স্বাগতিক ভারত রয়েছে। তবু বাংলাদেশের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার ভালো একটা সম্ভাবনা থাকত।
৪ ঘণ্টা আগেক্রীড়া ডেস্ক

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের কাছে ৩৯ রানে হেরে যায় লিটন দাসের দল। সিরিজে টিকে থাকতে আজ জিততেই হবে বাংলাদেশকে। বাঁচা মরার মিশনে সন্ধ্যা ছয়টায় আইরিশদের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। হারলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের সিরিজ হাতছাড়া করবে বাংলাদেশ। বাইশ গজে আজ আরও একটি জমজমাট ম্যাচ আছে। ত্রিদেশীয় টি–টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে মাঠে নামবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাঠে নামবে ম্যানচেস্টার সিটি, টেটনহাম হটস্পার, নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মতো দল। একনজরে আজকের টিভি সূচি।
ক্রিকেট
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি
বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড
সন্ধ্যা ৬ টা, সরাসরি
টি স্পোর্টস, নাগরিক টিভি
ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি
ফাইনাল
পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা
সন্ধ্যা ৭ টা, সরাসরি
এ স্পোর্টস
ফুটবল
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
ম্যানসিটি-লিডস
রাত ৯ টা, সরাসরি
এভারটন-নিউক্যাসল
রাত ১১টা ৩০ মি. , সরাসরি
টটেনহাম-ফুলহাম
রাত ২ টা, সরাসরি
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের কাছে ৩৯ রানে হেরে যায় লিটন দাসের দল। সিরিজে টিকে থাকতে আজ জিততেই হবে বাংলাদেশকে। বাঁচা মরার মিশনে সন্ধ্যা ছয়টায় আইরিশদের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। হারলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের সিরিজ হাতছাড়া করবে বাংলাদেশ। বাইশ গজে আজ আরও একটি জমজমাট ম্যাচ আছে। ত্রিদেশীয় টি–টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে মাঠে নামবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাঠে নামবে ম্যানচেস্টার সিটি, টেটনহাম হটস্পার, নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মতো দল। একনজরে আজকের টিভি সূচি।
ক্রিকেট
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি
বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড
সন্ধ্যা ৬ টা, সরাসরি
টি স্পোর্টস, নাগরিক টিভি
ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি
ফাইনাল
পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা
সন্ধ্যা ৭ টা, সরাসরি
এ স্পোর্টস
ফুটবল
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ
ম্যানসিটি-লিডস
রাত ৯ টা, সরাসরি
এভারটন-নিউক্যাসল
রাত ১১টা ৩০ মি. , সরাসরি
টটেনহাম-ফুলহাম
রাত ২ টা, সরাসরি
স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

বয়স ‘৫৯’ যেন তাঁর কাছে শুধুই সংখ্যা! তারুণ্যের আভা চোখেমুখে, ভারী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে নায়কোচিত চলনবলন। এই এশিয়া কাপেও তিনি ছিলেন ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায়। দুবাইয়ের হোটেল তাজে ওয়াসিম আকরাম সময় দিলেন ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের সকালে।
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বিপিএলের নিলামের জন্য চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকায় নাম নেই এনামুল হক বিজয়ের। কেন এনামুল নেই, সে ব্যাখ্যা বিসিবি দেয়নি। তবে বিসিবি আগেই জানিয়েছিল, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠা ক্রিকেটারদের নিলামে রাখা হবে না। তাই এনামুলের বাদ পড়ার কারণটাও আর বুঝে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কারও।
১৬ মিনিট আগে
বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২ তম আসরের নিলাম হবে আগামীকাল। তার আগেরদিন আলোচনার রসদ হয়ে সামনে এসেছে দেশি ক্রিকেটারদের নামের তালিকা। বিপিএলের পরবর্তী আসরকে সামনে রেখে খসড়া থেকে আজ দেশি ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত নামের তালিকা তৈরি করেছে গভর্নিং কাউন্সিল।
২ ঘণ্টা আগে
চেন্নাইয়ের মেয়র রাধাকৃষ্ণণ স্টেডিয়ামে বসে গতকাল সুইজারল্যান্ড-ওমানের ম্যাচ দেখছিলেন বাংলাদেশের কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যান। তখনই মজা করে বললেন, ‘আমাদের এই গ্রুপে খেলা উচিত ছিল।’ যদিও এ গ্রুপে স্বাগতিক ভারত রয়েছে। তবু বাংলাদেশের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার ভালো একটা সম্ভাবনা থাকত।
৪ ঘণ্টা আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

চেন্নাইয়ের মেয়র রাধাকৃষ্ণণ স্টেডিয়ামে বসে গতকাল সুইজারল্যান্ড-ওমানের ম্যাচ দেখছিলেন বাংলাদেশের কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যান। তখনই মজা করে বললেন, ‘আমাদের এই গ্রুপে খেলা উচিত ছিল।’ যদিও এ গ্রুপে স্বাগতিক ভারত রয়েছে। তবু বাংলাদেশের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার ভালো একটা সম্ভাবনা থাকত। গ্রুপে থাকা সুইজারল্যান্ড ও চিলিকে প্রস্তুতি ম্যাচে উড়িয়ে দিয়েছে মেহরাব হোসেন সামিনের দল। আর ওমান গতকাল সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেছে ৪-০ গোলে। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়া।
আফসোস হোক বা রসিকতা, সেসব একপাশে রেখে জুনিয়র (অনূর্ধ্ব-২১) হকি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। রাধাকৃষ্ণণ স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় শুরু হবে ম্যাচ। হকির ইতিহাসে বিশ্বমঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আগে কখনো ছিল না। এবার যেহেতু দলের সংখ্যা (২৪) বেড়েছে, মিলেছে বাংলাদেশের খেলার সুযোগও। সেই জায়গাটা নিতে গত বছর জুনিয়র এশিয়া কাপে থাকতে হয়েছে সেরা ছয়ে।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে চার মাসের ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ। কোচ হিসেবে আনা হয়েছে অভিজ্ঞ আইকম্যানকে; যাঁর অধীনে ২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিল জাপান। বড় কোনো স্বপ্ন না দেখালেও বিশ্বকাপ থেকে ভালো স্মৃতি নিয়ে ফিরতে চান ৬৬ বছর বয়সী এই ডাচ কোচ।
ভারতে গিয়ে বাংলাদেশ যুব দল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে পেয়েছে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো জয়। মঙ্গলবার তারা চিলিকে হারায় ৩-০ ব্যবধানে। এরপর বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডকে উড়িয়ে দেয় ৫-২ গোলে। সেই আত্মবিশ্বাস কতটুকু কাজে দেবে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে? উত্তরে আজকের পত্রিকাকে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আমরা সঠিক পথেই আছি। অনুশীলন ও ম্যাচে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। তাই সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে খেলতে তৈরি। সেরাদের বিপক্ষে খেলতে আমরা উজ্জীবিত হয়ে আছি। নিজেদের সবটুকু দিয়ে খেলার চেষ্টা করব।’
একবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি দুর্দান্ত ছন্দে আছে। গত মাসে মালয়েশিয়ায় ৬ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত সুলতান জহর কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশও চায় নিজেদের ছাপ রাখতে। সে জন্য পাল্টা আক্রমণই ভরসা আইকম্যানের ছকে, ‘অস্ট্রেলিয়া দুর্দান্ত খেলে সুলতান জহর কাপ জিতেছে। আমার মনে হয়, তারা অনেক গোল করার চেষ্টা করবে। সেটাই পাল্টা আক্রমণে ওঠার ভালো সুযোগ এনে দেবে আমাদের জন্য।’
শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না অস্ট্রেলিয়া। দলটির কোচ জে স্টেসি বলেন, ‘আসলে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কে আমি খুব বেশি জানি না। তাদের খুব বেশি দেখিনি, তাই কিছুটা “অপেক্ষা করে দেখা”র বিষয় থাকবে। বাংলাদেশের কিছু ভিডিও ফুটেজ আছে এবং সব দলের মতোই তাদের বিপক্ষে প্রস্তুতি নেব।’

চেন্নাইয়ের মেয়র রাধাকৃষ্ণণ স্টেডিয়ামে বসে গতকাল সুইজারল্যান্ড-ওমানের ম্যাচ দেখছিলেন বাংলাদেশের কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যান। তখনই মজা করে বললেন, ‘আমাদের এই গ্রুপে খেলা উচিত ছিল।’ যদিও এ গ্রুপে স্বাগতিক ভারত রয়েছে। তবু বাংলাদেশের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার ভালো একটা সম্ভাবনা থাকত। গ্রুপে থাকা সুইজারল্যান্ড ও চিলিকে প্রস্তুতি ম্যাচে উড়িয়ে দিয়েছে মেহরাব হোসেন সামিনের দল। আর ওমান গতকাল সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেছে ৪-০ গোলে। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়া।
আফসোস হোক বা রসিকতা, সেসব একপাশে রেখে জুনিয়র (অনূর্ধ্ব-২১) হকি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। রাধাকৃষ্ণণ স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় শুরু হবে ম্যাচ। হকির ইতিহাসে বিশ্বমঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আগে কখনো ছিল না। এবার যেহেতু দলের সংখ্যা (২৪) বেড়েছে, মিলেছে বাংলাদেশের খেলার সুযোগও। সেই জায়গাটা নিতে গত বছর জুনিয়র এশিয়া কাপে থাকতে হয়েছে সেরা ছয়ে।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে চার মাসের ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ। কোচ হিসেবে আনা হয়েছে অভিজ্ঞ আইকম্যানকে; যাঁর অধীনে ২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিল জাপান। বড় কোনো স্বপ্ন না দেখালেও বিশ্বকাপ থেকে ভালো স্মৃতি নিয়ে ফিরতে চান ৬৬ বছর বয়সী এই ডাচ কোচ।
ভারতে গিয়ে বাংলাদেশ যুব দল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে পেয়েছে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো জয়। মঙ্গলবার তারা চিলিকে হারায় ৩-০ ব্যবধানে। এরপর বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডকে উড়িয়ে দেয় ৫-২ গোলে। সেই আত্মবিশ্বাস কতটুকু কাজে দেবে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে? উত্তরে আজকের পত্রিকাকে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আমরা সঠিক পথেই আছি। অনুশীলন ও ম্যাচে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। তাই সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে খেলতে তৈরি। সেরাদের বিপক্ষে খেলতে আমরা উজ্জীবিত হয়ে আছি। নিজেদের সবটুকু দিয়ে খেলার চেষ্টা করব।’
একবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি দুর্দান্ত ছন্দে আছে। গত মাসে মালয়েশিয়ায় ৬ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত সুলতান জহর কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশও চায় নিজেদের ছাপ রাখতে। সে জন্য পাল্টা আক্রমণই ভরসা আইকম্যানের ছকে, ‘অস্ট্রেলিয়া দুর্দান্ত খেলে সুলতান জহর কাপ জিতেছে। আমার মনে হয়, তারা অনেক গোল করার চেষ্টা করবে। সেটাই পাল্টা আক্রমণে ওঠার ভালো সুযোগ এনে দেবে আমাদের জন্য।’
শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না অস্ট্রেলিয়া। দলটির কোচ জে স্টেসি বলেন, ‘আসলে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কে আমি খুব বেশি জানি না। তাদের খুব বেশি দেখিনি, তাই কিছুটা “অপেক্ষা করে দেখা”র বিষয় থাকবে। বাংলাদেশের কিছু ভিডিও ফুটেজ আছে এবং সব দলের মতোই তাদের বিপক্ষে প্রস্তুতি নেব।’

বয়স ‘৫৯’ যেন তাঁর কাছে শুধুই সংখ্যা! তারুণ্যের আভা চোখেমুখে, ভারী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে নায়কোচিত চলনবলন। এই এশিয়া কাপেও তিনি ছিলেন ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায়। দুবাইয়ের হোটেল তাজে ওয়াসিম আকরাম সময় দিলেন ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের সকালে।
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বিপিএলের নিলামের জন্য চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকায় নাম নেই এনামুল হক বিজয়ের। কেন এনামুল নেই, সে ব্যাখ্যা বিসিবি দেয়নি। তবে বিসিবি আগেই জানিয়েছিল, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠা ক্রিকেটারদের নিলামে রাখা হবে না। তাই এনামুলের বাদ পড়ার কারণটাও আর বুঝে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কারও।
১৬ মিনিট আগে
বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২ তম আসরের নিলাম হবে আগামীকাল। তার আগেরদিন আলোচনার রসদ হয়ে সামনে এসেছে দেশি ক্রিকেটারদের নামের তালিকা। বিপিএলের পরবর্তী আসরকে সামনে রেখে খসড়া থেকে আজ দেশি ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত নামের তালিকা তৈরি করেছে গভর্নিং কাউন্সিল।
২ ঘণ্টা আগে
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের কাছে ৩৯ রানে হেরে যায় লিটন দাসের দল। সিরিজে টিকে থাকতে আজ জিততেই হবে বাংলাদেশকে। বাঁচা মরার মিশনে সন্ধ্যা ছয়টায় আইরিশদের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। হারলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের...
৩ ঘণ্টা আগে