ডা. সানজিদা শাহরিয়া

‘এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না/ শুধু সুখ চলে যায়, এমনই মায়ার ছলনা/ এরা ভুলে যায়, কারে ছেড়ে কারে চায়।’ যা বলতে চাইছি, তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গান দিয়েই বলে ফেলা যায়। প্রেম একটি মাধুর্যপূর্ণ সম্পর্ক। এই সম্পর্ক যখন একজন ব্যক্তির সঙ্গে থাকে, তখন তাতে এই মাধুর্য থাকে। কিন্তু বারবার উদ্দেশ্যহীনভাবে যদি একাধিকজনের সঙ্গে প্রেম হয়, তখন এই মাধুর্যতার জায়গাটা কিন্তু আর থাকে না। গার্ডিয়ানে একটা জরিপ করা হয়েছিল, করোনার আগে ও করোনার পরে একাধিক সম্পর্কে জড়ানোর হার কেমন, সে বিষয়ে। দেখা গেল, করোনা মহামারির আগে প্রতি পাঁচজনের একজন উদ্দেশ্যহীনভাবে এই সম্পর্কে জড়াত। কিন্তু গত দেড় বছর বা দুই বছর লকডাউন-পরবর্তী পৃথিবীতে এই সংখ্যা এখন লাফ দিয়ে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে খুব স্বাভাবিকভাবে আসবে যে এই বারবার উদ্দেশ্যহীন বা প্রতিশ্রুতিহীন প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো কেন? উদ্দেশ্যহীনভাবে বারবার প্রেমে পড়ার এই ব্যাপারটাকে দুই ভাগ করে বলতে চাই। একটা মানসিক দিক থেকে, অন্যটি নিউরোসায়েন্সের ব্যাকগ্রাউন্ডে। মানসিক দিক থেকে যদি বলি, তাহলে বারবার এই প্রেম প্রেম ব্যাপারটা কোনো বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন দিক থেকে আসছে না, তাহলে কোন দিক থেকে আসছে? নিজের মনের জানালা নির্দিষ্ট কারও মনের দিকে খুলে যাওয়া। এই প্রেম নয়, কিন্তু প্রেম প্রেম ব্যাপারটা আবার সবার সঙ্গে হয় না। নির্দিষ্ট কারও জন্য অনুভূত হয় এবং পরবর্তী সময়ে আরও অনেকের জন্য অনুভূত হতে পারে। যেমন কোনো পার্টিতে একটি ছেলের সঙ্গে একটি মেয়ের পরিচয় হলো। মুচকি হাসি দিয়ে কাছাকাছি বসে গল্প হলো। আর এই গল্পের ধরনটাও সাধারণ পরিচয়পর্ব নয়, বরং অন্য রকম। ইংরেজিতে যেটাকে আমরা অ্যাবসলিউট ফ্ল্যার্ট বলি। প্রথম ধাপে এটা চলে।
কোনো গন্তব্য়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি না দিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে এই ফ্ল্যার্টিং চলে। পরের ধাপে, বাড়ি গিয়ে ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ হতে থাকল এবং ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকল। এরপর একে অপরের সঙ্গে কোথাও দেখা করার এবং সময় কাটানোর ইচ্ছা জাগল। বলে রাখা ভালো, এই ভালো লাগা কিংবা একে অপরের প্রতি আকাঙ্ক্ষা মনের বাউন্ডারি অতিক্রম করে শরীর পর্যন্ত পৌঁছে যায় কখনো। এরপর যেটা হয়, এই প্রেম প্রেম ব্যাপারটা শরীর মন ক্রস করে গেল, কিন্তু কমিটমেন্ট তো নেই। তখন থেকে ফলাফলটা শুরু।
দুজনের একজন দেখল, বিপরীতের মানুষটি তাকে বাদ দিয়ে আরও অনেকের সঙ্গেও তো কথা বলে, ঘনিষ্ঠ হয়। তখন একধরনের দ্বন্দ্ব হয় এবং যুক্তিতর্ক চলে। এটাকে দ্বিতীয় ধাপ বলে। এরপর ওই যে কমিটমেন্ট নেই, দ্বন্দ্ব-ঝগড়া চলছে। এর মধ্যে দুজনের একজনের জীবনসঙ্গী হয়তো ব্যাপারটা জেনে গেলেন বা আঁচ করলেন। অথবা দুজনের একজন অ্যাগ্রেসিভ হয়ে উঠলেন যে এখন আমাকে বিয়ে করে ফেলো। তখন অপর পক্ষ রাজি হচ্ছে না। এখার থেকে তৃতীয় ধাপের শুরু। দুজনের একজন যদি বিবাহিত থাকেন, তাঁদের বিচ্ছেদ হতে পারে, সংসারে অশান্তি হতে পারে, একজন অন্যজনের গায়ে হাত তুলছেন এমন ঘটনাও হয়।
এবার আসি, উদ্দেশ্যহীনভাবে প্রেমে জড়ানোর পরে এই সম্পর্কে কোনো বাউন্ডারি নেই। আর বাউন্ডারি না থাকার কারণে একটা পর্যায়ের পরে যখন সম্পর্কটা ভেঙে গেল, তখন ব্যক্তি দুটি ব্যাপার অনুভব করতে পারে। নিজেকে প্রচণ্ড দোষী ভাবা এবং প্রচণ্ড হতাশাবোধ। এই দুটো বিষয় অনুভব করার আগে এটা ভাবা দরকার যে এই সম্পর্কটা আমি কেন কনটিনিউ করব, কত দিন করব এবং তার আগে ভাবা দরকার, কখন ভেঙে দিতে হবে। এককথায় কত দূর যেতে হবে, কোথায় গিয়ে থামতে হবে এবং কোথা থেকে ফেরত আসতে হবে, তা জানতে হবে। মানে, আমার ভালো লাগতেই পারে, কিন্তু ভালো লাগার বাউন্ডারিটা আমি কখন কোথায় দেব, সেটা আমাকে জানতে হবে।
যাঁরা উদ্দেশ্যহীনভাবে বারবার প্রেমে জড়িয়ে পড়েন, তাঁদের বুঝতে হবে যে প্যাটার্নটা কী। সেটা কি মানসিক চাহিদা, নাকি শারীরিক চাহিদা। সেটা যদি আমি বুঝতে পারি, তাহলে নিজেও সমস্যায় পড়ব না, সঙ্গীকেও ভালো রাখতে পারব এবং অন্যদেরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।
এবার আসি নিউরোসায়েন্সের ভিত্তিতে এ সম্পর্কের ব্যাখ্যায়। কিছুদিন আগেও কিন্তু তর্ক ছিল, মানুষ প্রাকুতিকভাবে একগামী না বহুগামী? এখন সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিচার করলে দেখা যায়, মনোগামী বা একগামীর পাল্লাটাই বেশি ভারী। এখানে বলে রাখা ভালো, একগামী ও বহুগামীদের মস্তিষ্কের গঠন আলাদা। তাদের যৌন আচরণে কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু রোমান্টিক সম্পর্কে যখন কোনো উদ্দীপনা আসে, তখন এই পার্থক্যটা দেখা যায়। আমাদের মস্তিষ্কে বিভিন্ন এলাকা রয়েছে। লিমবিক সিস্টেম ও রিওয়ার্ড এরিয়া এর অন্তর্ভুক্ত। একগামীদের লিমবিক সিস্টেম ও রিওয়ার্ড এরিয়া—দুই জায়গাতেই রোমান্টিক উদ্দীপনা বেশি হয়। বহুগামীদের সেটা হয় না। একগামীদের মস্তিষ্কের যৌন অনুভূতি ও রোমান্টিক উদ্দীপনার এরিয়া কাছাকাছি থাকে। বহুগামীদের ক্ষেত্রে তা আলাদা, বেশ দূরে। বহুগামীদের কর্টেক্সেও রোমান্টিক উদ্দীপনায় লাড্ডুর মতো ফুটতে থাকে, ফলে তারা যে সবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়াচ্ছে, তা নয়। কিন্তু তারা এই উদ্দীপনা পাওয়ার জন্য বারবার প্রেমে জড়াতে থাকে।
সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে, তারা যদি বিবাহিত হন বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে থাকেন, তাহলে তা সঙ্গীর জন্য ভয়াবহতা ডেকে আনে। এ ছাড়া বহুগামী পুরুষদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস এলাকাটা বড়। ফলে তারা এই সুখানুভূতির কথা বারবার মনে করতে পারে এবং বারবার প্রেমে জড়ায়। এখন বলি বহুগামিতা ভালো নাকি খারাপ? বহুগামিতার সঙ্গে ওসিডি, বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা, প্রতিহিংসাপরায়ণতা, ভয় ও সন্দেহবাতিকগ্রস্ততার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। সুতরাং উদ্দেশ্য়হীনভাবে প্রেম প্রেম খেলা অস্বাস্থ্যকর। শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। সেটা কেবল নিজের জন্য নয়, যার সঙ্গে খেলছে, তার জন্য ও নিজের সঙ্গীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও।
লেখক: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, বাংলাদেশ।

‘এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না/ শুধু সুখ চলে যায়, এমনই মায়ার ছলনা/ এরা ভুলে যায়, কারে ছেড়ে কারে চায়।’ যা বলতে চাইছি, তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গান দিয়েই বলে ফেলা যায়। প্রেম একটি মাধুর্যপূর্ণ সম্পর্ক। এই সম্পর্ক যখন একজন ব্যক্তির সঙ্গে থাকে, তখন তাতে এই মাধুর্য থাকে। কিন্তু বারবার উদ্দেশ্যহীনভাবে যদি একাধিকজনের সঙ্গে প্রেম হয়, তখন এই মাধুর্যতার জায়গাটা কিন্তু আর থাকে না। গার্ডিয়ানে একটা জরিপ করা হয়েছিল, করোনার আগে ও করোনার পরে একাধিক সম্পর্কে জড়ানোর হার কেমন, সে বিষয়ে। দেখা গেল, করোনা মহামারির আগে প্রতি পাঁচজনের একজন উদ্দেশ্যহীনভাবে এই সম্পর্কে জড়াত। কিন্তু গত দেড় বছর বা দুই বছর লকডাউন-পরবর্তী পৃথিবীতে এই সংখ্যা এখন লাফ দিয়ে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে খুব স্বাভাবিকভাবে আসবে যে এই বারবার উদ্দেশ্যহীন বা প্রতিশ্রুতিহীন প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো কেন? উদ্দেশ্যহীনভাবে বারবার প্রেমে পড়ার এই ব্যাপারটাকে দুই ভাগ করে বলতে চাই। একটা মানসিক দিক থেকে, অন্যটি নিউরোসায়েন্সের ব্যাকগ্রাউন্ডে। মানসিক দিক থেকে যদি বলি, তাহলে বারবার এই প্রেম প্রেম ব্যাপারটা কোনো বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন দিক থেকে আসছে না, তাহলে কোন দিক থেকে আসছে? নিজের মনের জানালা নির্দিষ্ট কারও মনের দিকে খুলে যাওয়া। এই প্রেম নয়, কিন্তু প্রেম প্রেম ব্যাপারটা আবার সবার সঙ্গে হয় না। নির্দিষ্ট কারও জন্য অনুভূত হয় এবং পরবর্তী সময়ে আরও অনেকের জন্য অনুভূত হতে পারে। যেমন কোনো পার্টিতে একটি ছেলের সঙ্গে একটি মেয়ের পরিচয় হলো। মুচকি হাসি দিয়ে কাছাকাছি বসে গল্প হলো। আর এই গল্পের ধরনটাও সাধারণ পরিচয়পর্ব নয়, বরং অন্য রকম। ইংরেজিতে যেটাকে আমরা অ্যাবসলিউট ফ্ল্যার্ট বলি। প্রথম ধাপে এটা চলে।
কোনো গন্তব্য়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি না দিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে এই ফ্ল্যার্টিং চলে। পরের ধাপে, বাড়ি গিয়ে ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ হতে থাকল এবং ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকল। এরপর একে অপরের সঙ্গে কোথাও দেখা করার এবং সময় কাটানোর ইচ্ছা জাগল। বলে রাখা ভালো, এই ভালো লাগা কিংবা একে অপরের প্রতি আকাঙ্ক্ষা মনের বাউন্ডারি অতিক্রম করে শরীর পর্যন্ত পৌঁছে যায় কখনো। এরপর যেটা হয়, এই প্রেম প্রেম ব্যাপারটা শরীর মন ক্রস করে গেল, কিন্তু কমিটমেন্ট তো নেই। তখন থেকে ফলাফলটা শুরু।
দুজনের একজন দেখল, বিপরীতের মানুষটি তাকে বাদ দিয়ে আরও অনেকের সঙ্গেও তো কথা বলে, ঘনিষ্ঠ হয়। তখন একধরনের দ্বন্দ্ব হয় এবং যুক্তিতর্ক চলে। এটাকে দ্বিতীয় ধাপ বলে। এরপর ওই যে কমিটমেন্ট নেই, দ্বন্দ্ব-ঝগড়া চলছে। এর মধ্যে দুজনের একজনের জীবনসঙ্গী হয়তো ব্যাপারটা জেনে গেলেন বা আঁচ করলেন। অথবা দুজনের একজন অ্যাগ্রেসিভ হয়ে উঠলেন যে এখন আমাকে বিয়ে করে ফেলো। তখন অপর পক্ষ রাজি হচ্ছে না। এখার থেকে তৃতীয় ধাপের শুরু। দুজনের একজন যদি বিবাহিত থাকেন, তাঁদের বিচ্ছেদ হতে পারে, সংসারে অশান্তি হতে পারে, একজন অন্যজনের গায়ে হাত তুলছেন এমন ঘটনাও হয়।
এবার আসি, উদ্দেশ্যহীনভাবে প্রেমে জড়ানোর পরে এই সম্পর্কে কোনো বাউন্ডারি নেই। আর বাউন্ডারি না থাকার কারণে একটা পর্যায়ের পরে যখন সম্পর্কটা ভেঙে গেল, তখন ব্যক্তি দুটি ব্যাপার অনুভব করতে পারে। নিজেকে প্রচণ্ড দোষী ভাবা এবং প্রচণ্ড হতাশাবোধ। এই দুটো বিষয় অনুভব করার আগে এটা ভাবা দরকার যে এই সম্পর্কটা আমি কেন কনটিনিউ করব, কত দিন করব এবং তার আগে ভাবা দরকার, কখন ভেঙে দিতে হবে। এককথায় কত দূর যেতে হবে, কোথায় গিয়ে থামতে হবে এবং কোথা থেকে ফেরত আসতে হবে, তা জানতে হবে। মানে, আমার ভালো লাগতেই পারে, কিন্তু ভালো লাগার বাউন্ডারিটা আমি কখন কোথায় দেব, সেটা আমাকে জানতে হবে।
যাঁরা উদ্দেশ্যহীনভাবে বারবার প্রেমে জড়িয়ে পড়েন, তাঁদের বুঝতে হবে যে প্যাটার্নটা কী। সেটা কি মানসিক চাহিদা, নাকি শারীরিক চাহিদা। সেটা যদি আমি বুঝতে পারি, তাহলে নিজেও সমস্যায় পড়ব না, সঙ্গীকেও ভালো রাখতে পারব এবং অন্যদেরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।
এবার আসি নিউরোসায়েন্সের ভিত্তিতে এ সম্পর্কের ব্যাখ্যায়। কিছুদিন আগেও কিন্তু তর্ক ছিল, মানুষ প্রাকুতিকভাবে একগামী না বহুগামী? এখন সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিচার করলে দেখা যায়, মনোগামী বা একগামীর পাল্লাটাই বেশি ভারী। এখানে বলে রাখা ভালো, একগামী ও বহুগামীদের মস্তিষ্কের গঠন আলাদা। তাদের যৌন আচরণে কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু রোমান্টিক সম্পর্কে যখন কোনো উদ্দীপনা আসে, তখন এই পার্থক্যটা দেখা যায়। আমাদের মস্তিষ্কে বিভিন্ন এলাকা রয়েছে। লিমবিক সিস্টেম ও রিওয়ার্ড এরিয়া এর অন্তর্ভুক্ত। একগামীদের লিমবিক সিস্টেম ও রিওয়ার্ড এরিয়া—দুই জায়গাতেই রোমান্টিক উদ্দীপনা বেশি হয়। বহুগামীদের সেটা হয় না। একগামীদের মস্তিষ্কের যৌন অনুভূতি ও রোমান্টিক উদ্দীপনার এরিয়া কাছাকাছি থাকে। বহুগামীদের ক্ষেত্রে তা আলাদা, বেশ দূরে। বহুগামীদের কর্টেক্সেও রোমান্টিক উদ্দীপনায় লাড্ডুর মতো ফুটতে থাকে, ফলে তারা যে সবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়াচ্ছে, তা নয়। কিন্তু তারা এই উদ্দীপনা পাওয়ার জন্য বারবার প্রেমে জড়াতে থাকে।
সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে, তারা যদি বিবাহিত হন বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে থাকেন, তাহলে তা সঙ্গীর জন্য ভয়াবহতা ডেকে আনে। এ ছাড়া বহুগামী পুরুষদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস এলাকাটা বড়। ফলে তারা এই সুখানুভূতির কথা বারবার মনে করতে পারে এবং বারবার প্রেমে জড়ায়। এখন বলি বহুগামিতা ভালো নাকি খারাপ? বহুগামিতার সঙ্গে ওসিডি, বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা, প্রতিহিংসাপরায়ণতা, ভয় ও সন্দেহবাতিকগ্রস্ততার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। সুতরাং উদ্দেশ্য়হীনভাবে প্রেম প্রেম খেলা অস্বাস্থ্যকর। শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। সেটা কেবল নিজের জন্য নয়, যার সঙ্গে খেলছে, তার জন্য ও নিজের সঙ্গীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও।
লেখক: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, বাংলাদেশ।
ডা. সানজিদা শাহরিয়া

‘এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না/ শুধু সুখ চলে যায়, এমনই মায়ার ছলনা/ এরা ভুলে যায়, কারে ছেড়ে কারে চায়।’ যা বলতে চাইছি, তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গান দিয়েই বলে ফেলা যায়। প্রেম একটি মাধুর্যপূর্ণ সম্পর্ক। এই সম্পর্ক যখন একজন ব্যক্তির সঙ্গে থাকে, তখন তাতে এই মাধুর্য থাকে। কিন্তু বারবার উদ্দেশ্যহীনভাবে যদি একাধিকজনের সঙ্গে প্রেম হয়, তখন এই মাধুর্যতার জায়গাটা কিন্তু আর থাকে না। গার্ডিয়ানে একটা জরিপ করা হয়েছিল, করোনার আগে ও করোনার পরে একাধিক সম্পর্কে জড়ানোর হার কেমন, সে বিষয়ে। দেখা গেল, করোনা মহামারির আগে প্রতি পাঁচজনের একজন উদ্দেশ্যহীনভাবে এই সম্পর্কে জড়াত। কিন্তু গত দেড় বছর বা দুই বছর লকডাউন-পরবর্তী পৃথিবীতে এই সংখ্যা এখন লাফ দিয়ে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে খুব স্বাভাবিকভাবে আসবে যে এই বারবার উদ্দেশ্যহীন বা প্রতিশ্রুতিহীন প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো কেন? উদ্দেশ্যহীনভাবে বারবার প্রেমে পড়ার এই ব্যাপারটাকে দুই ভাগ করে বলতে চাই। একটা মানসিক দিক থেকে, অন্যটি নিউরোসায়েন্সের ব্যাকগ্রাউন্ডে। মানসিক দিক থেকে যদি বলি, তাহলে বারবার এই প্রেম প্রেম ব্যাপারটা কোনো বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন দিক থেকে আসছে না, তাহলে কোন দিক থেকে আসছে? নিজের মনের জানালা নির্দিষ্ট কারও মনের দিকে খুলে যাওয়া। এই প্রেম নয়, কিন্তু প্রেম প্রেম ব্যাপারটা আবার সবার সঙ্গে হয় না। নির্দিষ্ট কারও জন্য অনুভূত হয় এবং পরবর্তী সময়ে আরও অনেকের জন্য অনুভূত হতে পারে। যেমন কোনো পার্টিতে একটি ছেলের সঙ্গে একটি মেয়ের পরিচয় হলো। মুচকি হাসি দিয়ে কাছাকাছি বসে গল্প হলো। আর এই গল্পের ধরনটাও সাধারণ পরিচয়পর্ব নয়, বরং অন্য রকম। ইংরেজিতে যেটাকে আমরা অ্যাবসলিউট ফ্ল্যার্ট বলি। প্রথম ধাপে এটা চলে।
কোনো গন্তব্য়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি না দিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে এই ফ্ল্যার্টিং চলে। পরের ধাপে, বাড়ি গিয়ে ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ হতে থাকল এবং ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকল। এরপর একে অপরের সঙ্গে কোথাও দেখা করার এবং সময় কাটানোর ইচ্ছা জাগল। বলে রাখা ভালো, এই ভালো লাগা কিংবা একে অপরের প্রতি আকাঙ্ক্ষা মনের বাউন্ডারি অতিক্রম করে শরীর পর্যন্ত পৌঁছে যায় কখনো। এরপর যেটা হয়, এই প্রেম প্রেম ব্যাপারটা শরীর মন ক্রস করে গেল, কিন্তু কমিটমেন্ট তো নেই। তখন থেকে ফলাফলটা শুরু।
দুজনের একজন দেখল, বিপরীতের মানুষটি তাকে বাদ দিয়ে আরও অনেকের সঙ্গেও তো কথা বলে, ঘনিষ্ঠ হয়। তখন একধরনের দ্বন্দ্ব হয় এবং যুক্তিতর্ক চলে। এটাকে দ্বিতীয় ধাপ বলে। এরপর ওই যে কমিটমেন্ট নেই, দ্বন্দ্ব-ঝগড়া চলছে। এর মধ্যে দুজনের একজনের জীবনসঙ্গী হয়তো ব্যাপারটা জেনে গেলেন বা আঁচ করলেন। অথবা দুজনের একজন অ্যাগ্রেসিভ হয়ে উঠলেন যে এখন আমাকে বিয়ে করে ফেলো। তখন অপর পক্ষ রাজি হচ্ছে না। এখার থেকে তৃতীয় ধাপের শুরু। দুজনের একজন যদি বিবাহিত থাকেন, তাঁদের বিচ্ছেদ হতে পারে, সংসারে অশান্তি হতে পারে, একজন অন্যজনের গায়ে হাত তুলছেন এমন ঘটনাও হয়।
এবার আসি, উদ্দেশ্যহীনভাবে প্রেমে জড়ানোর পরে এই সম্পর্কে কোনো বাউন্ডারি নেই। আর বাউন্ডারি না থাকার কারণে একটা পর্যায়ের পরে যখন সম্পর্কটা ভেঙে গেল, তখন ব্যক্তি দুটি ব্যাপার অনুভব করতে পারে। নিজেকে প্রচণ্ড দোষী ভাবা এবং প্রচণ্ড হতাশাবোধ। এই দুটো বিষয় অনুভব করার আগে এটা ভাবা দরকার যে এই সম্পর্কটা আমি কেন কনটিনিউ করব, কত দিন করব এবং তার আগে ভাবা দরকার, কখন ভেঙে দিতে হবে। এককথায় কত দূর যেতে হবে, কোথায় গিয়ে থামতে হবে এবং কোথা থেকে ফেরত আসতে হবে, তা জানতে হবে। মানে, আমার ভালো লাগতেই পারে, কিন্তু ভালো লাগার বাউন্ডারিটা আমি কখন কোথায় দেব, সেটা আমাকে জানতে হবে।
যাঁরা উদ্দেশ্যহীনভাবে বারবার প্রেমে জড়িয়ে পড়েন, তাঁদের বুঝতে হবে যে প্যাটার্নটা কী। সেটা কি মানসিক চাহিদা, নাকি শারীরিক চাহিদা। সেটা যদি আমি বুঝতে পারি, তাহলে নিজেও সমস্যায় পড়ব না, সঙ্গীকেও ভালো রাখতে পারব এবং অন্যদেরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।
এবার আসি নিউরোসায়েন্সের ভিত্তিতে এ সম্পর্কের ব্যাখ্যায়। কিছুদিন আগেও কিন্তু তর্ক ছিল, মানুষ প্রাকুতিকভাবে একগামী না বহুগামী? এখন সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিচার করলে দেখা যায়, মনোগামী বা একগামীর পাল্লাটাই বেশি ভারী। এখানে বলে রাখা ভালো, একগামী ও বহুগামীদের মস্তিষ্কের গঠন আলাদা। তাদের যৌন আচরণে কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু রোমান্টিক সম্পর্কে যখন কোনো উদ্দীপনা আসে, তখন এই পার্থক্যটা দেখা যায়। আমাদের মস্তিষ্কে বিভিন্ন এলাকা রয়েছে। লিমবিক সিস্টেম ও রিওয়ার্ড এরিয়া এর অন্তর্ভুক্ত। একগামীদের লিমবিক সিস্টেম ও রিওয়ার্ড এরিয়া—দুই জায়গাতেই রোমান্টিক উদ্দীপনা বেশি হয়। বহুগামীদের সেটা হয় না। একগামীদের মস্তিষ্কের যৌন অনুভূতি ও রোমান্টিক উদ্দীপনার এরিয়া কাছাকাছি থাকে। বহুগামীদের ক্ষেত্রে তা আলাদা, বেশ দূরে। বহুগামীদের কর্টেক্সেও রোমান্টিক উদ্দীপনায় লাড্ডুর মতো ফুটতে থাকে, ফলে তারা যে সবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়াচ্ছে, তা নয়। কিন্তু তারা এই উদ্দীপনা পাওয়ার জন্য বারবার প্রেমে জড়াতে থাকে।
সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে, তারা যদি বিবাহিত হন বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে থাকেন, তাহলে তা সঙ্গীর জন্য ভয়াবহতা ডেকে আনে। এ ছাড়া বহুগামী পুরুষদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস এলাকাটা বড়। ফলে তারা এই সুখানুভূতির কথা বারবার মনে করতে পারে এবং বারবার প্রেমে জড়ায়। এখন বলি বহুগামিতা ভালো নাকি খারাপ? বহুগামিতার সঙ্গে ওসিডি, বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা, প্রতিহিংসাপরায়ণতা, ভয় ও সন্দেহবাতিকগ্রস্ততার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। সুতরাং উদ্দেশ্য়হীনভাবে প্রেম প্রেম খেলা অস্বাস্থ্যকর। শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। সেটা কেবল নিজের জন্য নয়, যার সঙ্গে খেলছে, তার জন্য ও নিজের সঙ্গীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও।
লেখক: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, বাংলাদেশ।

‘এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না/ শুধু সুখ চলে যায়, এমনই মায়ার ছলনা/ এরা ভুলে যায়, কারে ছেড়ে কারে চায়।’ যা বলতে চাইছি, তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গান দিয়েই বলে ফেলা যায়। প্রেম একটি মাধুর্যপূর্ণ সম্পর্ক। এই সম্পর্ক যখন একজন ব্যক্তির সঙ্গে থাকে, তখন তাতে এই মাধুর্য থাকে। কিন্তু বারবার উদ্দেশ্যহীনভাবে যদি একাধিকজনের সঙ্গে প্রেম হয়, তখন এই মাধুর্যতার জায়গাটা কিন্তু আর থাকে না। গার্ডিয়ানে একটা জরিপ করা হয়েছিল, করোনার আগে ও করোনার পরে একাধিক সম্পর্কে জড়ানোর হার কেমন, সে বিষয়ে। দেখা গেল, করোনা মহামারির আগে প্রতি পাঁচজনের একজন উদ্দেশ্যহীনভাবে এই সম্পর্কে জড়াত। কিন্তু গত দেড় বছর বা দুই বছর লকডাউন-পরবর্তী পৃথিবীতে এই সংখ্যা এখন লাফ দিয়ে দ্বিগুণের বেশি হয়ে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে খুব স্বাভাবিকভাবে আসবে যে এই বারবার উদ্দেশ্যহীন বা প্রতিশ্রুতিহীন প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো কেন? উদ্দেশ্যহীনভাবে বারবার প্রেমে পড়ার এই ব্যাপারটাকে দুই ভাগ করে বলতে চাই। একটা মানসিক দিক থেকে, অন্যটি নিউরোসায়েন্সের ব্যাকগ্রাউন্ডে। মানসিক দিক থেকে যদি বলি, তাহলে বারবার এই প্রেম প্রেম ব্যাপারটা কোনো বাস্তবজ্ঞানসম্পন্ন দিক থেকে আসছে না, তাহলে কোন দিক থেকে আসছে? নিজের মনের জানালা নির্দিষ্ট কারও মনের দিকে খুলে যাওয়া। এই প্রেম নয়, কিন্তু প্রেম প্রেম ব্যাপারটা আবার সবার সঙ্গে হয় না। নির্দিষ্ট কারও জন্য অনুভূত হয় এবং পরবর্তী সময়ে আরও অনেকের জন্য অনুভূত হতে পারে। যেমন কোনো পার্টিতে একটি ছেলের সঙ্গে একটি মেয়ের পরিচয় হলো। মুচকি হাসি দিয়ে কাছাকাছি বসে গল্প হলো। আর এই গল্পের ধরনটাও সাধারণ পরিচয়পর্ব নয়, বরং অন্য রকম। ইংরেজিতে যেটাকে আমরা অ্যাবসলিউট ফ্ল্যার্ট বলি। প্রথম ধাপে এটা চলে।
কোনো গন্তব্য়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি না দিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে এই ফ্ল্যার্টিং চলে। পরের ধাপে, বাড়ি গিয়ে ফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ হতে থাকল এবং ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকল। এরপর একে অপরের সঙ্গে কোথাও দেখা করার এবং সময় কাটানোর ইচ্ছা জাগল। বলে রাখা ভালো, এই ভালো লাগা কিংবা একে অপরের প্রতি আকাঙ্ক্ষা মনের বাউন্ডারি অতিক্রম করে শরীর পর্যন্ত পৌঁছে যায় কখনো। এরপর যেটা হয়, এই প্রেম প্রেম ব্যাপারটা শরীর মন ক্রস করে গেল, কিন্তু কমিটমেন্ট তো নেই। তখন থেকে ফলাফলটা শুরু।
দুজনের একজন দেখল, বিপরীতের মানুষটি তাকে বাদ দিয়ে আরও অনেকের সঙ্গেও তো কথা বলে, ঘনিষ্ঠ হয়। তখন একধরনের দ্বন্দ্ব হয় এবং যুক্তিতর্ক চলে। এটাকে দ্বিতীয় ধাপ বলে। এরপর ওই যে কমিটমেন্ট নেই, দ্বন্দ্ব-ঝগড়া চলছে। এর মধ্যে দুজনের একজনের জীবনসঙ্গী হয়তো ব্যাপারটা জেনে গেলেন বা আঁচ করলেন। অথবা দুজনের একজন অ্যাগ্রেসিভ হয়ে উঠলেন যে এখন আমাকে বিয়ে করে ফেলো। তখন অপর পক্ষ রাজি হচ্ছে না। এখার থেকে তৃতীয় ধাপের শুরু। দুজনের একজন যদি বিবাহিত থাকেন, তাঁদের বিচ্ছেদ হতে পারে, সংসারে অশান্তি হতে পারে, একজন অন্যজনের গায়ে হাত তুলছেন এমন ঘটনাও হয়।
এবার আসি, উদ্দেশ্যহীনভাবে প্রেমে জড়ানোর পরে এই সম্পর্কে কোনো বাউন্ডারি নেই। আর বাউন্ডারি না থাকার কারণে একটা পর্যায়ের পরে যখন সম্পর্কটা ভেঙে গেল, তখন ব্যক্তি দুটি ব্যাপার অনুভব করতে পারে। নিজেকে প্রচণ্ড দোষী ভাবা এবং প্রচণ্ড হতাশাবোধ। এই দুটো বিষয় অনুভব করার আগে এটা ভাবা দরকার যে এই সম্পর্কটা আমি কেন কনটিনিউ করব, কত দিন করব এবং তার আগে ভাবা দরকার, কখন ভেঙে দিতে হবে। এককথায় কত দূর যেতে হবে, কোথায় গিয়ে থামতে হবে এবং কোথা থেকে ফেরত আসতে হবে, তা জানতে হবে। মানে, আমার ভালো লাগতেই পারে, কিন্তু ভালো লাগার বাউন্ডারিটা আমি কখন কোথায় দেব, সেটা আমাকে জানতে হবে।
যাঁরা উদ্দেশ্যহীনভাবে বারবার প্রেমে জড়িয়ে পড়েন, তাঁদের বুঝতে হবে যে প্যাটার্নটা কী। সেটা কি মানসিক চাহিদা, নাকি শারীরিক চাহিদা। সেটা যদি আমি বুঝতে পারি, তাহলে নিজেও সমস্যায় পড়ব না, সঙ্গীকেও ভালো রাখতে পারব এবং অন্যদেরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।
এবার আসি নিউরোসায়েন্সের ভিত্তিতে এ সম্পর্কের ব্যাখ্যায়। কিছুদিন আগেও কিন্তু তর্ক ছিল, মানুষ প্রাকুতিকভাবে একগামী না বহুগামী? এখন সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিচার করলে দেখা যায়, মনোগামী বা একগামীর পাল্লাটাই বেশি ভারী। এখানে বলে রাখা ভালো, একগামী ও বহুগামীদের মস্তিষ্কের গঠন আলাদা। তাদের যৌন আচরণে কোনো পার্থক্য নেই। কিন্তু রোমান্টিক সম্পর্কে যখন কোনো উদ্দীপনা আসে, তখন এই পার্থক্যটা দেখা যায়। আমাদের মস্তিষ্কে বিভিন্ন এলাকা রয়েছে। লিমবিক সিস্টেম ও রিওয়ার্ড এরিয়া এর অন্তর্ভুক্ত। একগামীদের লিমবিক সিস্টেম ও রিওয়ার্ড এরিয়া—দুই জায়গাতেই রোমান্টিক উদ্দীপনা বেশি হয়। বহুগামীদের সেটা হয় না। একগামীদের মস্তিষ্কের যৌন অনুভূতি ও রোমান্টিক উদ্দীপনার এরিয়া কাছাকাছি থাকে। বহুগামীদের ক্ষেত্রে তা আলাদা, বেশ দূরে। বহুগামীদের কর্টেক্সেও রোমান্টিক উদ্দীপনায় লাড্ডুর মতো ফুটতে থাকে, ফলে তারা যে সবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়াচ্ছে, তা নয়। কিন্তু তারা এই উদ্দীপনা পাওয়ার জন্য বারবার প্রেমে জড়াতে থাকে।
সবচেয়ে ভয়াবহ হচ্ছে, তারা যদি বিবাহিত হন বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে থাকেন, তাহলে তা সঙ্গীর জন্য ভয়াবহতা ডেকে আনে। এ ছাড়া বহুগামী পুরুষদের মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস এলাকাটা বড়। ফলে তারা এই সুখানুভূতির কথা বারবার মনে করতে পারে এবং বারবার প্রেমে জড়ায়। এখন বলি বহুগামিতা ভালো নাকি খারাপ? বহুগামিতার সঙ্গে ওসিডি, বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা, প্রতিহিংসাপরায়ণতা, ভয় ও সন্দেহবাতিকগ্রস্ততার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। সুতরাং উদ্দেশ্য়হীনভাবে প্রেম প্রেম খেলা অস্বাস্থ্যকর। শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। সেটা কেবল নিজের জন্য নয়, যার সঙ্গে খেলছে, তার জন্য ও নিজের সঙ্গীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও।
লেখক: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার, বাংলাদেশ।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। তবে এবার দ্বীপের নাজুক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা কঠোর ১২ দফা নির্দেশনা মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৪০ মিনিট আগে
একটি দেশের নারী জনসংখ্যা বেশি হওয়া সব সময় লৈঙ্গিক সমতার নির্দেশক নয়; বরং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর ক্ষেত্রে এটি প্রায়শই যুদ্ধ, অভিবাসন এবং পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে সৃষ্ট গুরুতর আর্থসামাজিক সমস্যার প্রতিচ্ছবি। লৈঙ্গিক ভারসাম্যের নেপথ্যে সাধারণত সংঘাত, আয়ুষ্কালের পার্থক্য এবং অভিবাসনের মতো বিভিন্ন
৪ ঘণ্টা আগে
বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের মধ্যে কখনো কখনো একাকিত্বের অনুভূতি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিন’-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সের পর একাকিত্বের অনুভূতি কমে গেলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে তা আবারও বাড়তে পারে। পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হওয়া, নতুন
৬ ঘণ্টা আগে
আজ আপনি যে গতিতে কাজ শুরু করবেন, সে গতিতে ফিনিশ করতে পারবেন না। সকাল ১০টায় শুরু করা সেই জরুরি প্রেজেন্টেশনটি সন্ধ্যা ৬টায় মনে পড়বে যে পাওয়ার পয়েন্টে সেভই করেননি। বস কিছু বললে সটান উত্তর দেবেন, ‘কাজ তো শুরু করেছিলাম, বাকিটা মহাজাগতিক শক্তির ওপর নির্ভর করে!’ সঙ্গী আপনার প্রতি বেশ আকৃষ্ট। তবে সাবধান!
৭ ঘণ্টা আগেবাসস, ঢাকা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। তবে এবার দ্বীপের নাজুক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা কঠোর ১২ দফা নির্দেশনা মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, দৈনিক ২ হাজারের বেশি পর্যটক সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন না।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম জানিয়েছেন, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ এবং কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন—এই চারটি জাহাজকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সেন্ট মার্টিন নৌপথে চলাচলের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে এবার টেকনাফের পরিবর্তে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজগুলো বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেবে। জাহাজটি প্রতিদিন সকাল ৭টায় নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং পরের দিন বেলা ৩টায় সেন্ট মার্টিন থেকে কক্সবাজারে ফিরে আসবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা দুই মাস পর্যটকেরা রাত্রিযাপনের সুযোগসহ সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন।
পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, রাত্রিযাপনের সুযোগ না থাকায় নভেম্বর মাসে পর্যটকদের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি, যে কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে ১ ডিসেম্বর থেকে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকায় পর্যটকেরা দ্বীপ ভ্রমণে যথেষ্ট আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেছেন, পর্যটক পারাপারের সময় জাহাজগুলোকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে। কোনোভাবেই দৈনিক ২ হাজারের বেশি পর্যটককে দ্বীপে যেতে দেওয়া হবে না। এই নিয়ম কার্যকর করতে নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট ও সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটে পৃথক তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে এবং তা বাতিল করা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের গত ২২ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচিও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণের অনুমতি ছিল, তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।
নতুন ১২ দফা নির্দেশনার অধীনে সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে একগুচ্ছ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দ্বীপে রাতে শব্দ সৃষ্টি বা যেকোনো ধরনের বার-বি-কিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ।
সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না।
সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
পলিথিন বহন করা যাবে না। এ ছাড়া একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক, যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ আশা করছে, এই নতুন নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অনন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকবে এবং দ্বীপটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত হবে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। তবে এবার দ্বীপের নাজুক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা কঠোর ১২ দফা নির্দেশনা মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, দৈনিক ২ হাজারের বেশি পর্যটক সেন্ট মার্টিন দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন না।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম জানিয়েছেন, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ এবং কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন—এই চারটি জাহাজকে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সেন্ট মার্টিন নৌপথে চলাচলের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে এবার টেকনাফের পরিবর্তে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে পর্যটকবাহী জাহাজগুলো বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেবে। জাহাজটি প্রতিদিন সকাল ৭টায় নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং পরের দিন বেলা ৩টায় সেন্ট মার্টিন থেকে কক্সবাজারে ফিরে আসবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা দুই মাস পর্যটকেরা রাত্রিযাপনের সুযোগসহ সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন।
পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানিয়েছেন, রাত্রিযাপনের সুযোগ না থাকায় নভেম্বর মাসে পর্যটকদের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি, যে কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে ১ ডিসেম্বর থেকে রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকায় পর্যটকেরা দ্বীপ ভ্রমণে যথেষ্ট আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেছেন, পর্যটক পারাপারের সময় জাহাজগুলোকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে। কোনোভাবেই দৈনিক ২ হাজারের বেশি পর্যটককে দ্বীপে যেতে দেওয়া হবে না। এই নিয়ম কার্যকর করতে নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট ও সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটে পৃথক তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পর্যটকদের অবশ্যই বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে এবং তা বাতিল করা হবে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের গত ২২ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচিও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণের অনুমতি ছিল, তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এরপর ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।
নতুন ১২ দফা নির্দেশনার অধীনে সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে একগুচ্ছ কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দ্বীপে রাতে শব্দ সৃষ্টি বা যেকোনো ধরনের বার-বি-কিউ পার্টি করা নিষিদ্ধ।
সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুক ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না।
সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
পলিথিন বহন করা যাবে না। এ ছাড়া একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক, যেমন চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান ও শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ৫০০ ও ১০০০ মিলিলিটারের প্লাস্টিক বোতল ইত্যাদি বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ আশা করছে, এই নতুন নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অনন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষিত থাকবে এবং দ্বীপটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত হবে।

‘এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না/ শুধু সুখ চলে যায়, এমনই মায়ার ছলনা/ এরা ভুলে যায়, কারে ছেড়ে কারে চায়।’ যা বলতে চাইছি, তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গান দিয়েই বলে ফেলা যায়। প্রেম একটি মাধুর্যপূর্ণ সম্পর্ক। এই সম্পর্ক যখন একজন ব্যক্তির সঙ্গে থাকে, তখন তাতে এই মাধুর্য থাকে।
০৫ অক্টোবর ২০২৫
একটি দেশের নারী জনসংখ্যা বেশি হওয়া সব সময় লৈঙ্গিক সমতার নির্দেশক নয়; বরং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর ক্ষেত্রে এটি প্রায়শই যুদ্ধ, অভিবাসন এবং পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে সৃষ্ট গুরুতর আর্থসামাজিক সমস্যার প্রতিচ্ছবি। লৈঙ্গিক ভারসাম্যের নেপথ্যে সাধারণত সংঘাত, আয়ুষ্কালের পার্থক্য এবং অভিবাসনের মতো বিভিন্ন
৪ ঘণ্টা আগে
বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের মধ্যে কখনো কখনো একাকিত্বের অনুভূতি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিন’-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সের পর একাকিত্বের অনুভূতি কমে গেলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে তা আবারও বাড়তে পারে। পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হওয়া, নতুন
৬ ঘণ্টা আগে
আজ আপনি যে গতিতে কাজ শুরু করবেন, সে গতিতে ফিনিশ করতে পারবেন না। সকাল ১০টায় শুরু করা সেই জরুরি প্রেজেন্টেশনটি সন্ধ্যা ৬টায় মনে পড়বে যে পাওয়ার পয়েন্টে সেভই করেননি। বস কিছু বললে সটান উত্তর দেবেন, ‘কাজ তো শুরু করেছিলাম, বাকিটা মহাজাগতিক শক্তির ওপর নির্ভর করে!’ সঙ্গী আপনার প্রতি বেশ আকৃষ্ট। তবে সাবধান!
৭ ঘণ্টা আগেফিচার ডেস্ক

একটি দেশের নারী জনসংখ্যা বেশি হওয়া সব সময় লৈঙ্গিক সমতার নির্দেশক নয়; বরং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর ক্ষেত্রে এটি প্রায়শই যুদ্ধ, অভিবাসন এবং পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে সৃষ্ট গুরুতর আর্থসামাজিক সমস্যার প্রতিচ্ছবি। লৈঙ্গিক ভারসাম্যের নেপথ্যে সাধারণত সংঘাত, আয়ুষ্কালের পার্থক্য এবং অভিবাসনের মতো বিভিন্ন কারণ কাজ করে। বিশ্বে এমন দেশের সংখ্যা খুব কম, যেখানে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি। বিশ্বজুড়ে লৈঙ্গিক অনুপাতের চিত্র বেশ অবাক করা। লক্ষণীয়, বিশ্বের যে দেশগুলোতে নারীর সংখ্যা বেশি, তার একটি বিশাল অংশ পূর্ব ইউরোপের অন্তর্গত। যে দেশগুলোতে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি, তার শীর্ষ ১০-এর তালিকায় মূলত পূর্ব ইউরোপের সাবেক সোভিয়েত ব্লকভুক্ত দেশগুলোর আধিপত্য। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সংখ্যাধিক্য থাকা সত্ত্বেও সেই অঞ্চলের নারীরা এখনো অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বৈষম্যের সম্মুখীন হন।
২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রগুলোতে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ছিল ৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, এশিয়া অঞ্চলে পুরুষের সংখ্যার অনুপাত সর্বোচ্চ। সেখানে প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে প্রায় ১০৯ জন পুরুষ আছেন। লাতিন আমেরিকায় মোট নারীর সংখ্যা সামান্য বেশি, যা মোট জনসংখ্যার ৫০.৪৭ শতাংশ। সাব-সাহারান আফ্রিকায় পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও শুধু মোজাম্বিক, অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া, লেসোথো এবং এসোয়াতিনির মতো পাঁচটি দেশে নারী জনসংখ্যা সামান্য বেশি। মধ্যপ্রাচ্যে পুরুষের অনুপাত অনেক বেশি হলেও এর প্রধান কারণ হলো উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুরুষ শ্রমিকের কাজের উদ্দেশ্যে অভিবাসন। ঐতিহাসিকভাবে এই লৈঙ্গিক অনুপাতে যুদ্ধ, সংঘাত, দীর্ঘ আয়ুষ্কাল এবং লিঙ্গ-নির্বাচনী জন্মদানের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
লৈঙ্গিক ভারসাম্যের কারণ ও সমস্যা
ইতিহাসগতভাবে, লৈঙ্গিক অনুপাতের এই পার্থক্যগুলো কিছু মূল কারণ দ্বারা চালিত হয়। যেমন যুদ্ধ ও সংঘাত। কারণ, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে পুরুষদের বলিদান বা ক্ষয়ক্ষতি লৈঙ্গিক অনুপাতে বিশাল প্রভাব ফেলে। এরপর আয়ুষ্কালের পার্থক্যও অন্যতম কারণ। বেশির ভাগ দেশে নারীদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল পুরুষের চেয়ে বেশি। পুরুষদের মধ্যে আসক্তি ও রোগের প্রবণতা এই পার্থক্য আরও বাড়িয়ে তোলে। কাজের সন্ধানে পুরুষদের অন্য দেশে অভিবাসনও লৈঙ্গিক ভারসাম্যে বড় ভূমিকা রাখে। আবার কিছু সংস্কৃতিতে সামাজিক পছন্দের কারণে কন্যাসন্তানদের গর্ভপাত করার প্রবণতাও এই অনুপাতে প্রভাব ফেলে।

১. মলদোভা: শীর্ষে নারীর আধিক্য
মলদোভা পূর্ব ইউরোপের একটি স্থলবেষ্টিত দেশ। বিশ্বে সর্বোচ্চসংখ্যক নারী আছে এমন দেশের মধ্যে প্রথম মালদোভা। দেশটিতে মোট জনসংখ্যার ৫৩.৯৮ শতাংশ নারী। তবে তালিকাভুক্ত অন্যান্য দেশের মতো মলদোভাও লৈঙ্গিক সমতার সমস্যায় জর্জরিত; বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতার ক্ষেত্রে সেখানে নারীরা পিছিয়ে।
২. লাটভিয়া: স্বাস্থ্যগত পার্থক্য
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আরেকটি সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র লাটভিয়া। সেখানে নারীর সংখ্যার অনুপাত ৫৩.৬৮ শতাংশ। এখানে ৪০ বছরের নিচে পুরুষের সংখ্যা বেশি থাকলেও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নারীর সংখ্যা পুরুষের প্রায় দ্বিগুণ। পুরুষের তুলনায় নারীর দীর্ঘ আয়ুষ্কাল এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অসচেতনতাই এই বিশাল পার্থক্যের প্রধান কারণ।
৩. আর্মেনিয়া: অভিবাসনের প্রভাব
তৃতীয় স্থানে থাকা আর্মেনিয়ায় নারী জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫৩.৬১ শতাংশ। জর্জিয়ার মতোই কঠিন অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে অসংখ্য আর্মেনিয়ান পুরুষ কাজের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমান। দেশে নারীর সংখ্যা বেশি হলেও কর্মসংস্থান বাজারে নারীরা আয়ের বৈষম্যের শিকার হন।
৪. রাশিয়া: যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি ফল
রাশিয়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে। যেখানে নারী জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫৩.৫২ শতাংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ায় নারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেশি। এখানে রাশিয়ান নারীদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল পুরুষদের তুলনায় প্রায় ১১ বছর বেশি। যুদ্ধে পুরুষের বলিদান এবং পুরুষদের মধ্যে আসক্তি ও রোগের উচ্চ প্রবণতা কম আয়ুষ্কালের কারণ, যা এই লৈঙ্গিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করেছে।
৫. ইউক্রেন: আয়ুষ্কালের বিশাল ব্যবধান
এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনীয় নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রায় এক দশক বেশি বাঁচেন। উচ্চ শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও ইউক্রেনীয় নারীরা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের আয়ের মাত্র ৮০ শতাংশ উপার্জন করেন। বিষয়টি লৈঙ্গিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে।

৬. জর্জিয়া: কাজের সন্ধানে পুরুষদের প্রস্থান
জর্জিয়া ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। সেখানে মোট জনসংখ্যার তুলনায় নারীর সংখ্যার অনুপাত ৫৩.৪ শতাংশ। সেখানে নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের পার্থক্য প্রায় ৯ বছর। বেশির ভাগ পুরুষ জনসংখ্যাই কাজের সন্ধানে অন্যান্য দেশে অভিবাসী হওয়ায় নারীর সংখ্যা বেড়েছে।
৭. বেলারুশ: একই ধরনের বৈষম্য
বেলারুশ সপ্তম স্থানে রয়েছে। সেখানে নারীর সংখ্যার অনুপাত বেলারুশের মতোই। এখানে নারী-পুরুষের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালের পার্থক্য প্রায় এক দশক। টোঙ্গার মতো বেলারুশেও লৈঙ্গিক বৈষম্য তীব্র, যেখানে একজন নারী-পুরুষের আয়ের মাত্র ৮০% উপার্জন করেন।
৮. লিথুয়ানিয়া: শরণার্থীর প্রভাব
অষ্টম স্থানে থাকা লিথুয়ানিয়ায় নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের পার্থক্য প্রায় এক দশক। আর সংখ্যার অনুপাত ৫২.৮৫ শতাংশ। সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশটি বিপুলসংখ্যক ইউক্রেনীয় শরণার্থী গ্রহণ করায় নারী জনসংখ্যা আরও বেড়েছে। কারণ, শরণার্থীদের অধিকাংশই নারী।
৯. টোঙ্গা: সংখ্যা বেশি, সমতা কম
পলিনেশন জাতি টোঙ্গায় যদিও নারীর সংখ্যা বেশি, কিন্তু দেশটি লৈঙ্গিক সমতার গুরুতর সমস্যায় ভোগে এবং বৈষম্য সূচকে ১১৫তম স্থানে রয়েছে। সেখানে নারীর সংখ্যার অনুপাত ৫২.৫৯ শতাংশ।
১০. সার্বিয়া: দীর্ঘ জীবন
এই তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে সার্বিয়া। এই দেশে নারীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫২.৫১ শতাংশ। এর প্রধান কারণ হলো, সার্বিয়ান নারীদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল তাদের পুরুষ প্রতিপক্ষের তুলনায় প্রায় ছয় বছর বেশি।
সূত্র: স্টার্স ইনসাইডার

একটি দেশের নারী জনসংখ্যা বেশি হওয়া সব সময় লৈঙ্গিক সমতার নির্দেশক নয়; বরং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর ক্ষেত্রে এটি প্রায়শই যুদ্ধ, অভিবাসন এবং পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে সৃষ্ট গুরুতর আর্থসামাজিক সমস্যার প্রতিচ্ছবি। লৈঙ্গিক ভারসাম্যের নেপথ্যে সাধারণত সংঘাত, আয়ুষ্কালের পার্থক্য এবং অভিবাসনের মতো বিভিন্ন কারণ কাজ করে। বিশ্বে এমন দেশের সংখ্যা খুব কম, যেখানে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি। বিশ্বজুড়ে লৈঙ্গিক অনুপাতের চিত্র বেশ অবাক করা। লক্ষণীয়, বিশ্বের যে দেশগুলোতে নারীর সংখ্যা বেশি, তার একটি বিশাল অংশ পূর্ব ইউরোপের অন্তর্গত। যে দেশগুলোতে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি, তার শীর্ষ ১০-এর তালিকায় মূলত পূর্ব ইউরোপের সাবেক সোভিয়েত ব্লকভুক্ত দেশগুলোর আধিপত্য। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই সংখ্যাধিক্য থাকা সত্ত্বেও সেই অঞ্চলের নারীরা এখনো অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বৈষম্যের সম্মুখীন হন।
২০২১ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রগুলোতে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা ছিল ৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, এশিয়া অঞ্চলে পুরুষের সংখ্যার অনুপাত সর্বোচ্চ। সেখানে প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে প্রায় ১০৯ জন পুরুষ আছেন। লাতিন আমেরিকায় মোট নারীর সংখ্যা সামান্য বেশি, যা মোট জনসংখ্যার ৫০.৪৭ শতাংশ। সাব-সাহারান আফ্রিকায় পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও শুধু মোজাম্বিক, অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া, লেসোথো এবং এসোয়াতিনির মতো পাঁচটি দেশে নারী জনসংখ্যা সামান্য বেশি। মধ্যপ্রাচ্যে পুরুষের অনুপাত অনেক বেশি হলেও এর প্রধান কারণ হলো উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুরুষ শ্রমিকের কাজের উদ্দেশ্যে অভিবাসন। ঐতিহাসিকভাবে এই লৈঙ্গিক অনুপাতে যুদ্ধ, সংঘাত, দীর্ঘ আয়ুষ্কাল এবং লিঙ্গ-নির্বাচনী জন্মদানের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
লৈঙ্গিক ভারসাম্যের কারণ ও সমস্যা
ইতিহাসগতভাবে, লৈঙ্গিক অনুপাতের এই পার্থক্যগুলো কিছু মূল কারণ দ্বারা চালিত হয়। যেমন যুদ্ধ ও সংঘাত। কারণ, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে পুরুষদের বলিদান বা ক্ষয়ক্ষতি লৈঙ্গিক অনুপাতে বিশাল প্রভাব ফেলে। এরপর আয়ুষ্কালের পার্থক্যও অন্যতম কারণ। বেশির ভাগ দেশে নারীদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল পুরুষের চেয়ে বেশি। পুরুষদের মধ্যে আসক্তি ও রোগের প্রবণতা এই পার্থক্য আরও বাড়িয়ে তোলে। কাজের সন্ধানে পুরুষদের অন্য দেশে অভিবাসনও লৈঙ্গিক ভারসাম্যে বড় ভূমিকা রাখে। আবার কিছু সংস্কৃতিতে সামাজিক পছন্দের কারণে কন্যাসন্তানদের গর্ভপাত করার প্রবণতাও এই অনুপাতে প্রভাব ফেলে।

১. মলদোভা: শীর্ষে নারীর আধিক্য
মলদোভা পূর্ব ইউরোপের একটি স্থলবেষ্টিত দেশ। বিশ্বে সর্বোচ্চসংখ্যক নারী আছে এমন দেশের মধ্যে প্রথম মালদোভা। দেশটিতে মোট জনসংখ্যার ৫৩.৯৮ শতাংশ নারী। তবে তালিকাভুক্ত অন্যান্য দেশের মতো মলদোভাও লৈঙ্গিক সমতার সমস্যায় জর্জরিত; বিশেষ করে কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতার ক্ষেত্রে সেখানে নারীরা পিছিয়ে।
২. লাটভিয়া: স্বাস্থ্যগত পার্থক্য
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আরেকটি সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্র লাটভিয়া। সেখানে নারীর সংখ্যার অনুপাত ৫৩.৬৮ শতাংশ। এখানে ৪০ বছরের নিচে পুরুষের সংখ্যা বেশি থাকলেও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নারীর সংখ্যা পুরুষের প্রায় দ্বিগুণ। পুরুষের তুলনায় নারীর দীর্ঘ আয়ুষ্কাল এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অসচেতনতাই এই বিশাল পার্থক্যের প্রধান কারণ।
৩. আর্মেনিয়া: অভিবাসনের প্রভাব
তৃতীয় স্থানে থাকা আর্মেনিয়ায় নারী জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫৩.৬১ শতাংশ। জর্জিয়ার মতোই কঠিন অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে অসংখ্য আর্মেনিয়ান পুরুষ কাজের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমান। দেশে নারীর সংখ্যা বেশি হলেও কর্মসংস্থান বাজারে নারীরা আয়ের বৈষম্যের শিকার হন।
৪. রাশিয়া: যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি ফল
রাশিয়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে। যেখানে নারী জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫৩.৫২ শতাংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ায় নারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেশি। এখানে রাশিয়ান নারীদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল পুরুষদের তুলনায় প্রায় ১১ বছর বেশি। যুদ্ধে পুরুষের বলিদান এবং পুরুষদের মধ্যে আসক্তি ও রোগের উচ্চ প্রবণতা কম আয়ুষ্কালের কারণ, যা এই লৈঙ্গিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করেছে।
৫. ইউক্রেন: আয়ুষ্কালের বিশাল ব্যবধান
এই তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইউক্রেন। ইউক্রেনীয় নারীরা পুরুষদের তুলনায় প্রায় এক দশক বেশি বাঁচেন। উচ্চ শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও ইউক্রেনীয় নারীরা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের আয়ের মাত্র ৮০ শতাংশ উপার্জন করেন। বিষয়টি লৈঙ্গিক বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে।

৬. জর্জিয়া: কাজের সন্ধানে পুরুষদের প্রস্থান
জর্জিয়া ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। সেখানে মোট জনসংখ্যার তুলনায় নারীর সংখ্যার অনুপাত ৫৩.৪ শতাংশ। সেখানে নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের পার্থক্য প্রায় ৯ বছর। বেশির ভাগ পুরুষ জনসংখ্যাই কাজের সন্ধানে অন্যান্য দেশে অভিবাসী হওয়ায় নারীর সংখ্যা বেড়েছে।
৭. বেলারুশ: একই ধরনের বৈষম্য
বেলারুশ সপ্তম স্থানে রয়েছে। সেখানে নারীর সংখ্যার অনুপাত বেলারুশের মতোই। এখানে নারী-পুরুষের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালের পার্থক্য প্রায় এক দশক। টোঙ্গার মতো বেলারুশেও লৈঙ্গিক বৈষম্য তীব্র, যেখানে একজন নারী-পুরুষের আয়ের মাত্র ৮০% উপার্জন করেন।
৮. লিথুয়ানিয়া: শরণার্থীর প্রভাব
অষ্টম স্থানে থাকা লিথুয়ানিয়ায় নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের পার্থক্য প্রায় এক দশক। আর সংখ্যার অনুপাত ৫২.৮৫ শতাংশ। সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দেশটি বিপুলসংখ্যক ইউক্রেনীয় শরণার্থী গ্রহণ করায় নারী জনসংখ্যা আরও বেড়েছে। কারণ, শরণার্থীদের অধিকাংশই নারী।
৯. টোঙ্গা: সংখ্যা বেশি, সমতা কম
পলিনেশন জাতি টোঙ্গায় যদিও নারীর সংখ্যা বেশি, কিন্তু দেশটি লৈঙ্গিক সমতার গুরুতর সমস্যায় ভোগে এবং বৈষম্য সূচকে ১১৫তম স্থানে রয়েছে। সেখানে নারীর সংখ্যার অনুপাত ৫২.৫৯ শতাংশ।
১০. সার্বিয়া: দীর্ঘ জীবন
এই তালিকায় দশম স্থানে রয়েছে সার্বিয়া। এই দেশে নারীর সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ৫২.৫১ শতাংশ। এর প্রধান কারণ হলো, সার্বিয়ান নারীদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল তাদের পুরুষ প্রতিপক্ষের তুলনায় প্রায় ছয় বছর বেশি।
সূত্র: স্টার্স ইনসাইডার

‘এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না/ শুধু সুখ চলে যায়, এমনই মায়ার ছলনা/ এরা ভুলে যায়, কারে ছেড়ে কারে চায়।’ যা বলতে চাইছি, তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গান দিয়েই বলে ফেলা যায়। প্রেম একটি মাধুর্যপূর্ণ সম্পর্ক। এই সম্পর্ক যখন একজন ব্যক্তির সঙ্গে থাকে, তখন তাতে এই মাধুর্য থাকে।
০৫ অক্টোবর ২০২৫
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। তবে এবার দ্বীপের নাজুক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা কঠোর ১২ দফা নির্দেশনা মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৪০ মিনিট আগে
বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের মধ্যে কখনো কখনো একাকিত্বের অনুভূতি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিন’-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সের পর একাকিত্বের অনুভূতি কমে গেলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে তা আবারও বাড়তে পারে। পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হওয়া, নতুন
৬ ঘণ্টা আগে
আজ আপনি যে গতিতে কাজ শুরু করবেন, সে গতিতে ফিনিশ করতে পারবেন না। সকাল ১০টায় শুরু করা সেই জরুরি প্রেজেন্টেশনটি সন্ধ্যা ৬টায় মনে পড়বে যে পাওয়ার পয়েন্টে সেভই করেননি। বস কিছু বললে সটান উত্তর দেবেন, ‘কাজ তো শুরু করেছিলাম, বাকিটা মহাজাগতিক শক্তির ওপর নির্ভর করে!’ সঙ্গী আপনার প্রতি বেশ আকৃষ্ট। তবে সাবধান!
৭ ঘণ্টা আগেফিচার ডেস্ক

বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের মধ্যে কখনো কখনো একাকিত্বের অনুভূতি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিন’-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সের পর একাকিত্বের অনুভূতি কমে গেলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে তা আবারও বাড়তে পারে। পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হওয়া, নতুন স্বাস্থ্য বা মানসিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই অথবা বন্ধুত্ব গড়ে তোলার অসুবিধা—এসব কারণে বয়স্কদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি একাকিত্ব দেখা যায়।
কিছু ক্ষেত্রে এই একাকিত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, মানুষ নিজেকে অজান্তেই বন্ধু ও সমাজ থেকে আলাদা করে ফেলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে যারা হঠাৎ বন্ধু ও পরিবারকে উপেক্ষা করে, এগুলোর সাধারণত অনেক কারণ থাকে।
অতিরিক্ত চাপের মুখোমুখি
যাঁরা ক্রমাগত অতিরিক্ত চাপ ও দুশ্চিন্তায় ভুগছেন, তাঁরা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়তে পারেন। নিজেদের মানসিক বিশৃঙ্খলা সামলাতে গিয়ে অন্যদের খুশি রাখার চেষ্টা করেন, এমনকি এর জন্য একাকিত্বও সহ্য করতে হয়।
অনুভূতি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন
‘অতিরিক্ত বোঝা’ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকলে কেউ নিজের অনুভূতিগুলো চাপা দিয়ে রাখে। এতে সম্পর্কের বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্ব বাড়লেও তারা সাহায্য চায় না। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এতে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সাহায্য চাইতে ভয়
যাঁরা জীবনের বেশির ভাগ সময় পরিবার ও বন্ধুদের সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত ছিলেন, তাঁরা নিজের সমস্যা সামলাতে সাহায্য চাইতে জানেন না। বয়স বাড়ার সঙ্গে তাঁরা আরও চাপ ও একাকিত্ব অনুভব করেন, কিন্তু সাহায্য চাইতে ভয় পান।

বোঝাপড়ায় ঘাটতি
চারপাশের মানুষ, বন্ধু, পরিবার বা সমাজ তার অনুভূতি, মতামত বা অবস্থাকে ঠিকমত বোঝে না, তখন সেই সম্পর্ক বা সমাজ থেকে মানুষ একটু দূরে সরে যায়। কারণ, সম্পর্কের মধ্যে বোঝাপড়া থাকলে মানুষ নিরাপদ বোধ করে। বোঝাপড়া না থাকলে তারা নিজেকে অবমূল্যায়িত মনে করতে পারে, যা তাদের আলাদা করে দেয় বা একা করে ফেলে।
সমাজে নিজেকে অদৃশ্য বোধ করা
যুবক থাকার সময় সমাজে একজনের যেমন গুরুত্ব থাকে, বয়স হলে অনেকের তা কমতে শুরু করে। এ কারণে অনেকের মনে একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি হতে পারে। ফলে অনেকের পক্ষে পুরোনো বন্ধু ও কমিউনিটি থেকে দূরে সরে যাওয়া স্বাভাবিক।
শোক কাটানোর সময়
কোনো কারণে শোকের মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষদের একাকিত্ব বেড়ে যায়, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যরা যেমন আগের মতো এগোচ্ছে, শোকগ্রস্তদের জন্য তা স্বাভাবিকভাবে হয়ে ওঠে না।
নিজের শান্তি রক্ষা করা
আমাদের আশপাশে অনেক সময় এমন মানুষ থাকে, যারা সব সময় নেতিবাচক প্রভাব ছড়ায়। বয়স হয়ে গেলে এমন মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকতে চায় বেশির ভাগ মানুষ। এতে মানসিকভাবে শান্ত থাকা যায়। এ ছাড়া অনেক সময় বন্ধু বা পরিবারের ব্যবহার থেকে ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হয়। এতেও বয়স্করা চুপ হয়ে যান। বয়স বাড়ার সঙ্গে আত্মসম্মান ও মূল্যবোধ বাড়ে। তাই তখন শান্তি রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিরোধ এড়াতে চান
অনেক সময় পরিবার বা আশপাশের মানুষ যেকোনো বিষয়ে ভুল স্বীকার বা শান্তভাবে কথা না বলে বিরোধ তৈরি করেন। বয়স্ক অবস্থায় এমন পরিবেশ সবাই এড়িয়ে চলতে চান। তাই এ ধরনের বিরোধ এড়াতে অনেকে কাছের মানুষদের কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন। বয়সের অভিজ্ঞতার কারণে মানুষ বিশ্রামের বয়সে এসে নেতিবাচক কোনো তর্কে না জড়িয়ে শান্ত হয়ে যান।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধু, পরিবার বা সমাজ থেকে দূরে সরে যাওয়া সব সময় নেতিবাচক নয়। অনেক সময় এটি নিজের মানসিক শান্তি রক্ষা, সম্পর্কের প্রতি মনোযোগ বা নিজের ব্যক্তিগত কারণ হতে পারে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের অগ্রাধিকার, মানসিক স্থিতি এবং সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। তাই যাঁরা হঠাৎ বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কম মেলামেশা করছেন, তাঁরা প্রায়ই নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্যই করছেন—স্বাভাবিকভাবে এমনটা ধরে নেওয়া যায়।
সূত্র: ইউর ট্যাঙ্গো

বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের মধ্যে কখনো কখনো একাকিত্বের অনুভূতি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিন’-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সের পর একাকিত্বের অনুভূতি কমে গেলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে তা আবারও বাড়তে পারে। পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হওয়া, নতুন স্বাস্থ্য বা মানসিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই অথবা বন্ধুত্ব গড়ে তোলার অসুবিধা—এসব কারণে বয়স্কদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি একাকিত্ব দেখা যায়।
কিছু ক্ষেত্রে এই একাকিত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, মানুষ নিজেকে অজান্তেই বন্ধু ও সমাজ থেকে আলাদা করে ফেলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে যারা হঠাৎ বন্ধু ও পরিবারকে উপেক্ষা করে, এগুলোর সাধারণত অনেক কারণ থাকে।
অতিরিক্ত চাপের মুখোমুখি
যাঁরা ক্রমাগত অতিরিক্ত চাপ ও দুশ্চিন্তায় ভুগছেন, তাঁরা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়তে পারেন। নিজেদের মানসিক বিশৃঙ্খলা সামলাতে গিয়ে অন্যদের খুশি রাখার চেষ্টা করেন, এমনকি এর জন্য একাকিত্বও সহ্য করতে হয়।
অনুভূতি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন
‘অতিরিক্ত বোঝা’ হয়ে যাওয়ার ভয় থাকলে কেউ নিজের অনুভূতিগুলো চাপা দিয়ে রাখে। এতে সম্পর্কের বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্ব বাড়লেও তারা সাহায্য চায় না। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এতে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সাহায্য চাইতে ভয়
যাঁরা জীবনের বেশির ভাগ সময় পরিবার ও বন্ধুদের সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত ছিলেন, তাঁরা নিজের সমস্যা সামলাতে সাহায্য চাইতে জানেন না। বয়স বাড়ার সঙ্গে তাঁরা আরও চাপ ও একাকিত্ব অনুভব করেন, কিন্তু সাহায্য চাইতে ভয় পান।

বোঝাপড়ায় ঘাটতি
চারপাশের মানুষ, বন্ধু, পরিবার বা সমাজ তার অনুভূতি, মতামত বা অবস্থাকে ঠিকমত বোঝে না, তখন সেই সম্পর্ক বা সমাজ থেকে মানুষ একটু দূরে সরে যায়। কারণ, সম্পর্কের মধ্যে বোঝাপড়া থাকলে মানুষ নিরাপদ বোধ করে। বোঝাপড়া না থাকলে তারা নিজেকে অবমূল্যায়িত মনে করতে পারে, যা তাদের আলাদা করে দেয় বা একা করে ফেলে।
সমাজে নিজেকে অদৃশ্য বোধ করা
যুবক থাকার সময় সমাজে একজনের যেমন গুরুত্ব থাকে, বয়স হলে অনেকের তা কমতে শুরু করে। এ কারণে অনেকের মনে একাকিত্বের অনুভূতি তৈরি হতে পারে। ফলে অনেকের পক্ষে পুরোনো বন্ধু ও কমিউনিটি থেকে দূরে সরে যাওয়া স্বাভাবিক।
শোক কাটানোর সময়
কোনো কারণে শোকের মধ্য দিয়ে যাওয়া মানুষদের একাকিত্ব বেড়ে যায়, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যরা যেমন আগের মতো এগোচ্ছে, শোকগ্রস্তদের জন্য তা স্বাভাবিকভাবে হয়ে ওঠে না।
নিজের শান্তি রক্ষা করা
আমাদের আশপাশে অনেক সময় এমন মানুষ থাকে, যারা সব সময় নেতিবাচক প্রভাব ছড়ায়। বয়স হয়ে গেলে এমন মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকতে চায় বেশির ভাগ মানুষ। এতে মানসিকভাবে শান্ত থাকা যায়। এ ছাড়া অনেক সময় বন্ধু বা পরিবারের ব্যবহার থেকে ভুল-বোঝাবুঝি তৈরি হয়। এতেও বয়স্করা চুপ হয়ে যান। বয়স বাড়ার সঙ্গে আত্মসম্মান ও মূল্যবোধ বাড়ে। তাই তখন শান্তি রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিরোধ এড়াতে চান
অনেক সময় পরিবার বা আশপাশের মানুষ যেকোনো বিষয়ে ভুল স্বীকার বা শান্তভাবে কথা না বলে বিরোধ তৈরি করেন। বয়স্ক অবস্থায় এমন পরিবেশ সবাই এড়িয়ে চলতে চান। তাই এ ধরনের বিরোধ এড়াতে অনেকে কাছের মানুষদের কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন। বয়সের অভিজ্ঞতার কারণে মানুষ বিশ্রামের বয়সে এসে নেতিবাচক কোনো তর্কে না জড়িয়ে শান্ত হয়ে যান।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধু, পরিবার বা সমাজ থেকে দূরে সরে যাওয়া সব সময় নেতিবাচক নয়। অনেক সময় এটি নিজের মানসিক শান্তি রক্ষা, সম্পর্কের প্রতি মনোযোগ বা নিজের ব্যক্তিগত কারণ হতে পারে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের অগ্রাধিকার, মানসিক স্থিতি এবং সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তা আরও ভালোভাবে বোঝা যায়। তাই যাঁরা হঠাৎ বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কম মেলামেশা করছেন, তাঁরা প্রায়ই নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্যই করছেন—স্বাভাবিকভাবে এমনটা ধরে নেওয়া যায়।
সূত্র: ইউর ট্যাঙ্গো

‘এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না/ শুধু সুখ চলে যায়, এমনই মায়ার ছলনা/ এরা ভুলে যায়, কারে ছেড়ে কারে চায়।’ যা বলতে চাইছি, তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গান দিয়েই বলে ফেলা যায়। প্রেম একটি মাধুর্যপূর্ণ সম্পর্ক। এই সম্পর্ক যখন একজন ব্যক্তির সঙ্গে থাকে, তখন তাতে এই মাধুর্য থাকে।
০৫ অক্টোবর ২০২৫
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। তবে এবার দ্বীপের নাজুক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা কঠোর ১২ দফা নির্দেশনা মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৪০ মিনিট আগে
একটি দেশের নারী জনসংখ্যা বেশি হওয়া সব সময় লৈঙ্গিক সমতার নির্দেশক নয়; বরং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর ক্ষেত্রে এটি প্রায়শই যুদ্ধ, অভিবাসন এবং পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে সৃষ্ট গুরুতর আর্থসামাজিক সমস্যার প্রতিচ্ছবি। লৈঙ্গিক ভারসাম্যের নেপথ্যে সাধারণত সংঘাত, আয়ুষ্কালের পার্থক্য এবং অভিবাসনের মতো বিভিন্ন
৪ ঘণ্টা আগে
আজ আপনি যে গতিতে কাজ শুরু করবেন, সে গতিতে ফিনিশ করতে পারবেন না। সকাল ১০টায় শুরু করা সেই জরুরি প্রেজেন্টেশনটি সন্ধ্যা ৬টায় মনে পড়বে যে পাওয়ার পয়েন্টে সেভই করেননি। বস কিছু বললে সটান উত্তর দেবেন, ‘কাজ তো শুরু করেছিলাম, বাকিটা মহাজাগতিক শক্তির ওপর নির্ভর করে!’ সঙ্গী আপনার প্রতি বেশ আকৃষ্ট। তবে সাবধান!
৭ ঘণ্টা আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

মেষ
আজ আপনি যে গতিতে কাজ শুরু করবেন, সে গতিতে ফিনিশ করতে পারবেন না। সকাল ১০টায় শুরু করা সেই জরুরি প্রেজেন্টেশনটি সন্ধ্যা ৬টায় মনে পড়বে যে পাওয়ার পয়েন্টে সেভই করেননি। বস কিছু বললে সটান উত্তর দেবেন, ‘কাজ তো শুরু করেছিলাম, বাকিটা মহাজাগতিক শক্তির ওপর নির্ভর করে!’ সঙ্গী আপনার প্রতি বেশ আকৃষ্ট। তবে সাবধান! আজ ভুল করে প্রাক্তনকে মেসেজ করে দিতে পারেন। কারণ, ভাববেন হয়তো নতুন কেউ। একটি সামান্য আর্থিক লাভ হতে পারে, যা আবার সঙ্গে সঙ্গে ফুচকা বা স্পেশাল পিৎজা খেয়ে উড়িয়ে দেবেন।
বৃষ
আপনার কাজের গতি আজ মন্থর হলেও স্থিতিশীল। তবে সহকর্মীরা ভুল করে ভাববেন আপনি বুঝি ঘুমাচ্ছেন। বসের কাছে বাহবা পেতে পারেন। কারণ, আপনি গত সপ্তাহের কাজের চাপ এখনো ধরে বসে আছেন। সঙ্গীর সঙ্গে সামান্য মনোমালিন্য হতে পারে। কারণ, আপনার প্লেটে প্রিয় খাবারটি তাকে দিতে রাজি নন। আজ অর্থভাগ্য খুবই ভালো। টাকা হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই মনে মনে একটি নতুন রেস্তোরাঁ খুলে ফেলবেন। তেল-ঝাল-মসলার দিকে টান আজ চরম শিখরে পৌঁছাবে। ডায়েট চার্ট ছিঁড়ে ফেলে ‘সান্ত্বনা স্বরূপ’ মিষ্টির বাক্স কিনতে পারেন। ফ্রিজ আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু, তালা দিয়ে রাখুন।
মিথুন
আজ একই সঙ্গে তিনটি প্রজেক্ট নিয়ে মাথা ঘামাবেন। ফলে কোনোটিই ঠিকভাবে শেষ হবে না। এক ফোনে অফিসের কল, অন্য ফোনে ইউটিউব, আর মুখে নিজের সঙ্গে নিজেই তর্ক—আজকের আপনার রুটিন এটাই। আজ কথা বলতে গিয়ে একটি নতুন ভাষার জন্ম দিতে পারেন। আপনার কথা কেউ না বুঝলেও আপনি দারুণ এনজয় করবেন। পার্টনার আপনার মেজাজ বুঝতে গিয়ে আজ সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত হবেন। একবার তিনি ভাববেন আপনি খুবই রোমান্টিক, পরের মুহূর্তেই ভাববেন আপনি বোধহয় তার সঙ্গে অন্য কারও কথা বলছেন। কারও গসিপ শুনে ভুলেও তা আরেকজনকে বলতে যাবেন না। কারণ, আপনি আসল তথ্যটির অর্ধেক ভুলে গিয়ে সম্পূর্ণ অন্য একটি গল্প তৈরি করে ফেলবেন।
কর্কট
সামান্য সমালোচনা আজ আপনার মনকে গভীরভাবে আঘাত করবে। বস যদি বলেন, ‘চা টা ভালো হয়নি,’ আপনি ধরে নেবেন গোটা জীবনই ব্যর্থ। সহকর্মীদের সহানুভূতি পেতে একটি করুণ রিলস বানিয়ে ফেলবেন। বাড়িতে ছোটদের সঙ্গে আজ দারুণ আনন্দ পাবেন, তবে রাতের দিকে পুরোনো অ্যালবাম দেখতে গিয়ে আবেগে ভাসতে পারেন। আবেগপ্রবণ হয়ে আজ কাউকে টাকা ধার দেবেন না। যদি দেনও মনে রাখবেন, সেই টাকা ফেরত চাওয়া আর শাশুড়ির কাছ থেকে তার গোপন রেসিপি চাওয়া একই ব্যাপার। বেশি চিন্তা করবেন না। মন খারাপ হলে ফ্রিজ খুলে রসগোল্লা খান। মিষ্টি আপনার দুঃখ ভোলানোর একমাত্র মহৌষধ। সন্ধ্যার পর পুরোনো কম্বল মুড়ি দিয়ে নেটফ্লিক্সে দেখুন।
সিংহ
যেখানেই যাবেন, সেখানে লাইমলাইট আপনার দিকেই থাকবে। বসকে আপনিই প্রথম সকালে গুড মর্নিং বলবেন, যাতে আপনার উপস্থিতি সবার আগে নজরে আসে। সঙ্গী আজ আপনার প্রতি খুবই মুগ্ধ। কিন্তু সাবধান! অন্য কেউ প্রশংসা করলে আপনার সঙ্গী ঈর্ষান্বিত হয়ে আপনাকে এক মিনিটও একা ছাড়বেন না। আজ সামান্য বেশি খরচ হতে পারে। কারণ, নিজের জন্য একটি ‘বিশেষ’ কিছু কিনবেন, যা আদতে দরকার ছিল না। আজ ফেসবুকে সেলফি পোস্ট করুন। গ্রহ বলছে, লাইক কম পড়বে না। তবে কমেন্টে কেউ কিছু নেগেটিভ লিখলে তার সঙ্গে ভার্চুয়াল যুদ্ধ শুরু করতে পারেন।
কন্যা
আপনার পারফেকশনিজম আজ চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে। একটি নগণ্য টাইপিং মিসটেক নিয়ে আজ অফিসের সবাইকে ফোন করতে পারেন। আজ খাবার খাওয়ার আগে তার পুষ্টিগুণ, অ্যালার্জি ফ্যাক্টর ও ক্যালরি হিসাব করে দেখবেন। তারপর ক্লান্ত হয়ে শুধুই পানি খাবেন। সঙ্গী হয়তো তার জামাকাপড় বিছানায় ফেলে রেখেছে, তা নিয়ে আপনার সঙ্গে তার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে। একটি বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আগে এত বেশি গবেষণা করবেন যে ততক্ষণে অন্য কেউ সেই সুযোগ লুফে নেবে। অতিরিক্ত বিশ্লেষণে আনন্দ নষ্ট করবেন না। মাঝে মাঝে সবকিছু যেমন আছে তেমন থাকতে দিন।
তুলা
আজ আপনাকে একাধিক সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, যার ফলে পুরো দিনটাই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ‘এটা ভালো, না ওটা ভালো’ ভেবে কাটিয়ে দিতে পারেন। শেষমেশ যা পছন্দ হবে, সেটা হয়তো ততক্ষণে অন্য কেউ নিয়ে নিয়েছে। প্রেমের ক্ষেত্রে দারুণ দিন! তবে সঙ্গী যদি জিজ্ঞেস করেন, ‘আজ কী খাবে?’, আপনি হয়তো রাতের মেনু ঠিক করতে গিয়ে পরের তিন দিনের মেনু ঠিক করে ফেলবেন, কিন্তু আজকেরটা নয়। আজ পোশাক ও স্টাইল নিয়ে খুবই সচেতন থাকবেন। গ্রহরা বলছে, আপনার হাসি আজ যেকোনো মুডি মানুষকে চাঙা করে তুলতে পারে। আজ এমনভাবে সবার সঙ্গে কথা বলবেন, যেন আপনি জাতিসংঘের দূত।
বৃশ্চিক
আজ বসের একটি সামান্য ইমোজি নিয়ে তার গোপন উদ্দেশ্য খোঁজার চেষ্টা করবেন। আপনার সন্দেহ ভরা দৃষ্টি আজ সারা দিন সহকর্মীর টেবিলের দিকে ঘোরাফেরা করবে। তীব্র আবেগ আজ আপনার সঙ্গীকে আরও কাছে আনবে, তবে আপনার অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতা মাঝে মাঝে মুড নষ্ট করতে পারে। আজ ফাটকা আয়ে লাভের যোগ আছে। তবে সেই টাকা কোথায় লুকিয়ে রাখবেন, তা নিয়ে সারা দিন প্ল্যান করবেন। আপনার ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া চলছে। হয়তো ঠিক করেছেন, আজ থেকে কার্বোহাইড্রেট খাবেন না। তবে রাতে চুপি চুপি দুটি আলুর চপ খেতে পারেন। সন্দেহ ছেড়ে আজ একটু সহজ হন, পৃথিবীটা আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে না (হয়তো)।
ধনু
আজ মনে হবে এই চাকরি আপনার জন্য নয়, আপনার জন্য দরকার অ্যাডভেঞ্চার। হুট করে বসকে বলতে পারেন যে আপনি ‘জীবনের অর্থ’ খুঁজতে হিমালয়ে যাচ্ছেন। গ্রহদের অবস্থান বলছে, আজ দূরপাল্লার ট্রেনে করে এক প্যাকেট শিঙাড়া খাওয়ার জন্য একটি ছোট ট্রিপ দিতে পারেন। সঙ্গীর সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চারপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে কেন মহাবিশ্বের বাইরেও জীবন আছে। অতিরিক্ত আশাবাদী হয়ে আজ কিছু টাকা বিনিয়োগ করে ফেলতে পারেন। গ্রহরা বলছে, ঝুঁকি নিন, তবে ‘চটজলদি ধনী হওয়ার স্কিম’ থেকে দূরে থাকুন। আজ রাস্তায় কোনো দার্শনিককে দেখলে তার কাছে গিয়ে তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল কী ছিল জানতে চাইবেন।
মকর
আজ এত বেশি কাজ করবেন যে সহকর্মীরা ভাববেন আপনি বোধহয় কোনো রোবট, যার সাপ্তাহিক ছুটি বলে কিছু নেই। অতিরিক্ত কাজের চাপে সামান্য অসুস্থতা আসতে পারে। আপনার সঞ্চয় ক্ষমতা আজ প্রশংসনীয়। আজ একটি সামান্য অফারও হাতছাড়া করবেন না, এমনকি যদি জিনিসটি অপ্রয়োজনীয়ও হয়। আজ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়ও মনে মনে পরের প্রজেক্টের প্ল্যানিং করতে থাকবেন। পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে কেন ‘সময়’ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সঙ্গীকে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন কিছু বেছে নিতে পারেন যা খুব দরকারি, যেমন একটি নতুন ওয়াশিং মেশিন বা ট্যাক্স পেপারের ফাইল। মাঝেমধ্যে হাসি-তামাশা করুন, তাতে গ্রহের চাপ কমবে।
কুম্ভ
আজ অফিসে নতুন কোনো নিয়ম বা প্রথা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। গ্রহরা বলছে, আপনার আইডিয়াগুলো হয়তো দারুণ, কিন্তু কেউ বুঝবে না। আজ সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে পারেন। রাস্তায় কোনো কুকুরকে দেখে তার সঙ্গে মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারেন। সঙ্গী হয়তো আপনার অদ্ভুত আচরণে বিরক্ত হতে পারেন। কারণ, হয়তো রাতের খাবারের সময় তাকে মহাবিশ্বের তাপীয় মৃত্যু নিয়ে লেকচার দেবেন। আজ এমন কোনো জিনিসে টাকা খরচ করতে পারেন, যা পৃথিবীর জন্য খুবই দরকারি, কিন্তু আপনার জন্য নয়; যেমন একটি বিরল প্রজাতির গাছের বীজ বা একটি অ্যান্টিক টেলিফোন। আপনার চিন্তাভাবনা আপনার সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে, একটু ধীরে চলুন।
মীন
আজ মন খুব বেশি ডানা মেলবে। মিটিং চলাকালীন অন্যমনস্ক হয়ে প্রিয় কোনো ফিকশন চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে পারেন। রোমান্টিক মন আজ কল্পনার জগতে ভাসতে পারে। সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা আজ দ্বিগুণ হবে, তবে তাকে ভুল নামে ডাকার সম্ভাবনা আছে। টাকাপয়সা সামলানোর দায়িত্ব আজ অন্য কাউকে দিন। নিজে সামলাতে গেলে ভুলে গিয়ে হয়তো দুটো ১০ টাকার নোটকে হাজার টাকার নোট ভেবে খরচ করে ফেলবেন। আজ সামান্য মাথাব্যথা হতে পারে। কারণ, আপনার অবচেতন মন অতিরিক্ত কাজ করছে। দিনে অন্তত দুবার চোখ খুলুন, আর আশপাশে দেখুন। এটি বাস্তব, কোনো ড্রিম সিকোয়েন্স নয়।

মেষ
আজ আপনি যে গতিতে কাজ শুরু করবেন, সে গতিতে ফিনিশ করতে পারবেন না। সকাল ১০টায় শুরু করা সেই জরুরি প্রেজেন্টেশনটি সন্ধ্যা ৬টায় মনে পড়বে যে পাওয়ার পয়েন্টে সেভই করেননি। বস কিছু বললে সটান উত্তর দেবেন, ‘কাজ তো শুরু করেছিলাম, বাকিটা মহাজাগতিক শক্তির ওপর নির্ভর করে!’ সঙ্গী আপনার প্রতি বেশ আকৃষ্ট। তবে সাবধান! আজ ভুল করে প্রাক্তনকে মেসেজ করে দিতে পারেন। কারণ, ভাববেন হয়তো নতুন কেউ। একটি সামান্য আর্থিক লাভ হতে পারে, যা আবার সঙ্গে সঙ্গে ফুচকা বা স্পেশাল পিৎজা খেয়ে উড়িয়ে দেবেন।
বৃষ
আপনার কাজের গতি আজ মন্থর হলেও স্থিতিশীল। তবে সহকর্মীরা ভুল করে ভাববেন আপনি বুঝি ঘুমাচ্ছেন। বসের কাছে বাহবা পেতে পারেন। কারণ, আপনি গত সপ্তাহের কাজের চাপ এখনো ধরে বসে আছেন। সঙ্গীর সঙ্গে সামান্য মনোমালিন্য হতে পারে। কারণ, আপনার প্লেটে প্রিয় খাবারটি তাকে দিতে রাজি নন। আজ অর্থভাগ্য খুবই ভালো। টাকা হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই মনে মনে একটি নতুন রেস্তোরাঁ খুলে ফেলবেন। তেল-ঝাল-মসলার দিকে টান আজ চরম শিখরে পৌঁছাবে। ডায়েট চার্ট ছিঁড়ে ফেলে ‘সান্ত্বনা স্বরূপ’ মিষ্টির বাক্স কিনতে পারেন। ফ্রিজ আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু, তালা দিয়ে রাখুন।
মিথুন
আজ একই সঙ্গে তিনটি প্রজেক্ট নিয়ে মাথা ঘামাবেন। ফলে কোনোটিই ঠিকভাবে শেষ হবে না। এক ফোনে অফিসের কল, অন্য ফোনে ইউটিউব, আর মুখে নিজের সঙ্গে নিজেই তর্ক—আজকের আপনার রুটিন এটাই। আজ কথা বলতে গিয়ে একটি নতুন ভাষার জন্ম দিতে পারেন। আপনার কথা কেউ না বুঝলেও আপনি দারুণ এনজয় করবেন। পার্টনার আপনার মেজাজ বুঝতে গিয়ে আজ সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত হবেন। একবার তিনি ভাববেন আপনি খুবই রোমান্টিক, পরের মুহূর্তেই ভাববেন আপনি বোধহয় তার সঙ্গে অন্য কারও কথা বলছেন। কারও গসিপ শুনে ভুলেও তা আরেকজনকে বলতে যাবেন না। কারণ, আপনি আসল তথ্যটির অর্ধেক ভুলে গিয়ে সম্পূর্ণ অন্য একটি গল্প তৈরি করে ফেলবেন।
কর্কট
সামান্য সমালোচনা আজ আপনার মনকে গভীরভাবে আঘাত করবে। বস যদি বলেন, ‘চা টা ভালো হয়নি,’ আপনি ধরে নেবেন গোটা জীবনই ব্যর্থ। সহকর্মীদের সহানুভূতি পেতে একটি করুণ রিলস বানিয়ে ফেলবেন। বাড়িতে ছোটদের সঙ্গে আজ দারুণ আনন্দ পাবেন, তবে রাতের দিকে পুরোনো অ্যালবাম দেখতে গিয়ে আবেগে ভাসতে পারেন। আবেগপ্রবণ হয়ে আজ কাউকে টাকা ধার দেবেন না। যদি দেনও মনে রাখবেন, সেই টাকা ফেরত চাওয়া আর শাশুড়ির কাছ থেকে তার গোপন রেসিপি চাওয়া একই ব্যাপার। বেশি চিন্তা করবেন না। মন খারাপ হলে ফ্রিজ খুলে রসগোল্লা খান। মিষ্টি আপনার দুঃখ ভোলানোর একমাত্র মহৌষধ। সন্ধ্যার পর পুরোনো কম্বল মুড়ি দিয়ে নেটফ্লিক্সে দেখুন।
সিংহ
যেখানেই যাবেন, সেখানে লাইমলাইট আপনার দিকেই থাকবে। বসকে আপনিই প্রথম সকালে গুড মর্নিং বলবেন, যাতে আপনার উপস্থিতি সবার আগে নজরে আসে। সঙ্গী আজ আপনার প্রতি খুবই মুগ্ধ। কিন্তু সাবধান! অন্য কেউ প্রশংসা করলে আপনার সঙ্গী ঈর্ষান্বিত হয়ে আপনাকে এক মিনিটও একা ছাড়বেন না। আজ সামান্য বেশি খরচ হতে পারে। কারণ, নিজের জন্য একটি ‘বিশেষ’ কিছু কিনবেন, যা আদতে দরকার ছিল না। আজ ফেসবুকে সেলফি পোস্ট করুন। গ্রহ বলছে, লাইক কম পড়বে না। তবে কমেন্টে কেউ কিছু নেগেটিভ লিখলে তার সঙ্গে ভার্চুয়াল যুদ্ধ শুরু করতে পারেন।
কন্যা
আপনার পারফেকশনিজম আজ চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে। একটি নগণ্য টাইপিং মিসটেক নিয়ে আজ অফিসের সবাইকে ফোন করতে পারেন। আজ খাবার খাওয়ার আগে তার পুষ্টিগুণ, অ্যালার্জি ফ্যাক্টর ও ক্যালরি হিসাব করে দেখবেন। তারপর ক্লান্ত হয়ে শুধুই পানি খাবেন। সঙ্গী হয়তো তার জামাকাপড় বিছানায় ফেলে রেখেছে, তা নিয়ে আপনার সঙ্গে তার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে। একটি বড় অঙ্কের বিনিয়োগের আগে এত বেশি গবেষণা করবেন যে ততক্ষণে অন্য কেউ সেই সুযোগ লুফে নেবে। অতিরিক্ত বিশ্লেষণে আনন্দ নষ্ট করবেন না। মাঝে মাঝে সবকিছু যেমন আছে তেমন থাকতে দিন।
তুলা
আজ আপনাকে একাধিক সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, যার ফলে পুরো দিনটাই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ‘এটা ভালো, না ওটা ভালো’ ভেবে কাটিয়ে দিতে পারেন। শেষমেশ যা পছন্দ হবে, সেটা হয়তো ততক্ষণে অন্য কেউ নিয়ে নিয়েছে। প্রেমের ক্ষেত্রে দারুণ দিন! তবে সঙ্গী যদি জিজ্ঞেস করেন, ‘আজ কী খাবে?’, আপনি হয়তো রাতের মেনু ঠিক করতে গিয়ে পরের তিন দিনের মেনু ঠিক করে ফেলবেন, কিন্তু আজকেরটা নয়। আজ পোশাক ও স্টাইল নিয়ে খুবই সচেতন থাকবেন। গ্রহরা বলছে, আপনার হাসি আজ যেকোনো মুডি মানুষকে চাঙা করে তুলতে পারে। আজ এমনভাবে সবার সঙ্গে কথা বলবেন, যেন আপনি জাতিসংঘের দূত।
বৃশ্চিক
আজ বসের একটি সামান্য ইমোজি নিয়ে তার গোপন উদ্দেশ্য খোঁজার চেষ্টা করবেন। আপনার সন্দেহ ভরা দৃষ্টি আজ সারা দিন সহকর্মীর টেবিলের দিকে ঘোরাফেরা করবে। তীব্র আবেগ আজ আপনার সঙ্গীকে আরও কাছে আনবে, তবে আপনার অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতা মাঝে মাঝে মুড নষ্ট করতে পারে। আজ ফাটকা আয়ে লাভের যোগ আছে। তবে সেই টাকা কোথায় লুকিয়ে রাখবেন, তা নিয়ে সারা দিন প্ল্যান করবেন। আপনার ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া চলছে। হয়তো ঠিক করেছেন, আজ থেকে কার্বোহাইড্রেট খাবেন না। তবে রাতে চুপি চুপি দুটি আলুর চপ খেতে পারেন। সন্দেহ ছেড়ে আজ একটু সহজ হন, পৃথিবীটা আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে না (হয়তো)।
ধনু
আজ মনে হবে এই চাকরি আপনার জন্য নয়, আপনার জন্য দরকার অ্যাডভেঞ্চার। হুট করে বসকে বলতে পারেন যে আপনি ‘জীবনের অর্থ’ খুঁজতে হিমালয়ে যাচ্ছেন। গ্রহদের অবস্থান বলছে, আজ দূরপাল্লার ট্রেনে করে এক প্যাকেট শিঙাড়া খাওয়ার জন্য একটি ছোট ট্রিপ দিতে পারেন। সঙ্গীর সঙ্গে অ্যাডভেঞ্চারপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে কেন মহাবিশ্বের বাইরেও জীবন আছে। অতিরিক্ত আশাবাদী হয়ে আজ কিছু টাকা বিনিয়োগ করে ফেলতে পারেন। গ্রহরা বলছে, ঝুঁকি নিন, তবে ‘চটজলদি ধনী হওয়ার স্কিম’ থেকে দূরে থাকুন। আজ রাস্তায় কোনো দার্শনিককে দেখলে তার কাছে গিয়ে তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল কী ছিল জানতে চাইবেন।
মকর
আজ এত বেশি কাজ করবেন যে সহকর্মীরা ভাববেন আপনি বোধহয় কোনো রোবট, যার সাপ্তাহিক ছুটি বলে কিছু নেই। অতিরিক্ত কাজের চাপে সামান্য অসুস্থতা আসতে পারে। আপনার সঞ্চয় ক্ষমতা আজ প্রশংসনীয়। আজ একটি সামান্য অফারও হাতছাড়া করবেন না, এমনকি যদি জিনিসটি অপ্রয়োজনীয়ও হয়। আজ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়ও মনে মনে পরের প্রজেক্টের প্ল্যানিং করতে থাকবেন। পরিবারকে বোঝানোর চেষ্টা করবেন যে কেন ‘সময়’ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। সঙ্গীকে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন কিছু বেছে নিতে পারেন যা খুব দরকারি, যেমন একটি নতুন ওয়াশিং মেশিন বা ট্যাক্স পেপারের ফাইল। মাঝেমধ্যে হাসি-তামাশা করুন, তাতে গ্রহের চাপ কমবে।
কুম্ভ
আজ অফিসে নতুন কোনো নিয়ম বা প্রথা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। গ্রহরা বলছে, আপনার আইডিয়াগুলো হয়তো দারুণ, কিন্তু কেউ বুঝবে না। আজ সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত কারও সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে পারেন। রাস্তায় কোনো কুকুরকে দেখে তার সঙ্গে মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারেন। সঙ্গী হয়তো আপনার অদ্ভুত আচরণে বিরক্ত হতে পারেন। কারণ, হয়তো রাতের খাবারের সময় তাকে মহাবিশ্বের তাপীয় মৃত্যু নিয়ে লেকচার দেবেন। আজ এমন কোনো জিনিসে টাকা খরচ করতে পারেন, যা পৃথিবীর জন্য খুবই দরকারি, কিন্তু আপনার জন্য নয়; যেমন একটি বিরল প্রজাতির গাছের বীজ বা একটি অ্যান্টিক টেলিফোন। আপনার চিন্তাভাবনা আপনার সময়ের থেকে অনেক এগিয়ে, একটু ধীরে চলুন।
মীন
আজ মন খুব বেশি ডানা মেলবে। মিটিং চলাকালীন অন্যমনস্ক হয়ে প্রিয় কোনো ফিকশন চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে পারেন। রোমান্টিক মন আজ কল্পনার জগতে ভাসতে পারে। সঙ্গীর প্রতি ভালোবাসা আজ দ্বিগুণ হবে, তবে তাকে ভুল নামে ডাকার সম্ভাবনা আছে। টাকাপয়সা সামলানোর দায়িত্ব আজ অন্য কাউকে দিন। নিজে সামলাতে গেলে ভুলে গিয়ে হয়তো দুটো ১০ টাকার নোটকে হাজার টাকার নোট ভেবে খরচ করে ফেলবেন। আজ সামান্য মাথাব্যথা হতে পারে। কারণ, আপনার অবচেতন মন অতিরিক্ত কাজ করছে। দিনে অন্তত দুবার চোখ খুলুন, আর আশপাশে দেখুন। এটি বাস্তব, কোনো ড্রিম সিকোয়েন্স নয়।

‘এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, প্রেম মেলে না/ শুধু সুখ চলে যায়, এমনই মায়ার ছলনা/ এরা ভুলে যায়, কারে ছেড়ে কারে চায়।’ যা বলতে চাইছি, তা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গান দিয়েই বলে ফেলা যায়। প্রেম একটি মাধুর্যপূর্ণ সম্পর্ক। এই সম্পর্ক যখন একজন ব্যক্তির সঙ্গে থাকে, তখন তাতে এই মাধুর্য থাকে।
০৫ অক্টোবর ২০২৫
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্ট মার্টিন রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে। তবে এবার দ্বীপের নাজুক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারি করা কঠোর ১২ দফা নির্দেশনা মানা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
৪০ মিনিট আগে
একটি দেশের নারী জনসংখ্যা বেশি হওয়া সব সময় লৈঙ্গিক সমতার নির্দেশক নয়; বরং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোর ক্ষেত্রে এটি প্রায়শই যুদ্ধ, অভিবাসন এবং পুরুষদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে সৃষ্ট গুরুতর আর্থসামাজিক সমস্যার প্রতিচ্ছবি। লৈঙ্গিক ভারসাম্যের নেপথ্যে সাধারণত সংঘাত, আয়ুষ্কালের পার্থক্য এবং অভিবাসনের মতো বিভিন্ন
৪ ঘণ্টা আগে
বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের মধ্যে কখনো কখনো একাকিত্বের অনুভূতি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিন’-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সের পর একাকিত্বের অনুভূতি কমে গেলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে তা আবারও বাড়তে পারে। পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হওয়া, নতুন
৬ ঘণ্টা আগে