অনলাইন ডেস্ক
ছবিতে যে নারীকে দেখা যাচ্ছে তিনি এপ্রিল হাবার্ড। যেখানে বসে আছেন, সেটি একটি নাট্যমঞ্চ। এই মঞ্চে বহুবার পারফর্ম করেছেন। এখানেই স্বেচ্ছা মরণের পরিকল্পনা করছেন ৩৯ বছর বয়সী এই নারী। মৃত্যুকে তিনি রীতিমতো উদ্যাপন করতে চান। শেষ নিশ্বাস ত্যাগের মুহূর্তটি কেমন হবে তার সব পরিকল্পনা তিনি করে রেখেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এপ্রিল জানিয়েছেন সেই পরিকল্পনার কথা।
এপ্রিল বলেন, ‘একটি বড় আরামদায়ক বিছানায় শুয়ে থাকব। সব বন্ধুবান্ধব আর ভালোবাসার মানুষেরা আমাকে ঘিরে ধরে রাখবে। চিকিৎসক যখন আমার শরীরে লিথাল ডোজ (প্রাণঘাতী ইনজেকশন) প্রবেশ করাবেন তখন ভালোবাসা আর সহমর্মিতার আবহে থাকতে চাই আমি।’
কানাডার ক্রমশ উদার হয়ে ওঠা আইনের অধীনে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডায়িং (মেইড) প্রক্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করবেন তিনি। দুই বছর আগে ২০২৩ সালের মার্চে মেইডের জন্য আবেদন করেছিলেন এপ্রিল। জন্ম থেকেই মেরুদণ্ডের জটিল রোগ ‘স্পাইনা বিফিডা’য় আক্রান্ত এপ্রিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও জটিলতা বেড়েছে। মেরুদণ্ডের গোড়ায় ধরা পড়েছে টিউমার। যে কারণে দুর্বিষহ যন্ত্রণা নিয়ে দিনাতিপাত করতে হয় তাঁকে।
এপ্রিল বলেন, ‘দিন দিন আমার শারীরিক যন্ত্রণা বাড়ছে। নড়াচড়া করলেই মেরুদণ্ডের গোড়া এবং পায়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। এমনকি শ্বাস নিতে গেলেও ব্যথা পাই। সুখী ও পরিপূর্ণ হয়ে ওঠার আশা নেই। আমি হয়তো আরও ৩০ বছর বাঁচতে পারতাম। কিন্তু আমি মরতে চাই।’ আর এ কারণেই স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিয়েছেন এই নারী।
এদিকে, এপ্রিলের এক বন্ধু কানাডীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ‘কানাডায় বাঁচার জন্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া সহজ!’ অ্যান্ড্রু গুরজা নামের এই ব্যক্তি প্রতিবন্ধী সচেতনতা বিষয়ক পরামর্শদাতা। তিনি নিজেও সেরিব্রাল পালসি রোগে আক্রান্ত। হুইলচেয়ারে বন্দী তাঁর জীবন।
অ্যান্ড্রু গুরজা আরও বলেন, ‘আমি এপ্রিলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু এই আইন নিয়ে আমার কিছু উদ্বেগ আছে। আমার যে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, তা যদি আরও খারাপ হয় এবং যদি অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়ে তারপরও আমি বাঁচতে চাই। কিন্তু আমাদের দেশে এমন একটি আইন আছে যা জীবন শেষ করে দেওয়াকে খুবই সহজ করে দিয়েছে—এটা কি ভীতিকর নয়!’
২০১৬ সালে নিরাময়যোগ্য নয় এমন শারীরিক ব্যাধি বা মরণব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির অসুস্থতা গুরুতর পর্যায়ে গেলে যন্ত্রণা থেকে মুক্তির সুযোগ দিতে পাস হয় এই আইন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার শর্ত তুলে নেওয়া হয়। বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতা না থাকলেও কেবল মানসিক অসুস্থতা, যেমন—বিষণ্নতা ইত্যাদি আছে, তাঁদেরও স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধ করার পরিকল্পনা করছে কানাডা সরকার।
মেইড বিরোধীরা বলছেন, এখন শারীরিক প্রতিবন্ধী ও জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য মৃত্যুকে একটি সাধারণ ‘বিকল্প’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভিকি হুইলেন নামের অবসরপ্রাপ্ত এক নার্স বিবিসিকে জানান, দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগে ২০২৩ সালের এপ্রিলে তাঁর মা মারা যান। হুইলেন বলেন, ‘মাকে স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালে ভর্তি রেখেছিলাম আমরা। মায়ের অবস্থার যখন অবনতি হচ্ছিল, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বারবার আমাদের মেইড প্রস্তাব করছিলেন। ব্যাপারটা একটা বিক্রয় কৌশল বা “সেলস পিচ” বলে মনে হচ্ছিল। মায়ের যাতে শান্তিপূর্ণ মৃত্যু হয় এ জন্য আমরা তাঁকে বাড়িতে আনতে বাধ্য হই।’
মেইড বিরোধী এক চিকিৎসক বলেন, ‘এই আইন যেভাবে মৃত্যুকে সহজ করছে, তা আশঙ্কাজনক! কেউ আত্মহত্যার চিন্তা করলে আমরা আগে তাঁকে কাউন্সেলিং করতাম, ওই চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করতাম। মরণব্যাধিতে যারা ভুগছেন তাঁদের জীবনকে কীভাবে একটু কম বেদনার করা যায় সেই চেষ্টা করতাম। আর এখন সবাইকে জীবন শেষ করে দিতে উৎসাহ দিচ্ছি আমরা। আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মিলে যায় অনুমতি!’
বিবিসির তথ্যমতে, কানাডায় ২০২৩ সালে মেইড–এর মাধ্যমে ১৫ হাজার ৩৪৩ জন স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিয়েছেন। অর্থাৎ, দেশটিতে প্রতি ২০টি মৃত্যুর মধ্যে একটিই মেইডের মাধ্যমে ঘটছে। মৃত্যুর জন্য এই পদ্ধতি বেছে নেওয়াদের গড় বয়স ৭৭ বছর।
ছবিতে যে নারীকে দেখা যাচ্ছে তিনি এপ্রিল হাবার্ড। যেখানে বসে আছেন, সেটি একটি নাট্যমঞ্চ। এই মঞ্চে বহুবার পারফর্ম করেছেন। এখানেই স্বেচ্ছা মরণের পরিকল্পনা করছেন ৩৯ বছর বয়সী এই নারী। মৃত্যুকে তিনি রীতিমতো উদ্যাপন করতে চান। শেষ নিশ্বাস ত্যাগের মুহূর্তটি কেমন হবে তার সব পরিকল্পনা তিনি করে রেখেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এপ্রিল জানিয়েছেন সেই পরিকল্পনার কথা।
এপ্রিল বলেন, ‘একটি বড় আরামদায়ক বিছানায় শুয়ে থাকব। সব বন্ধুবান্ধব আর ভালোবাসার মানুষেরা আমাকে ঘিরে ধরে রাখবে। চিকিৎসক যখন আমার শরীরে লিথাল ডোজ (প্রাণঘাতী ইনজেকশন) প্রবেশ করাবেন তখন ভালোবাসা আর সহমর্মিতার আবহে থাকতে চাই আমি।’
কানাডার ক্রমশ উদার হয়ে ওঠা আইনের অধীনে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ডায়িং (মেইড) প্রক্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করবেন তিনি। দুই বছর আগে ২০২৩ সালের মার্চে মেইডের জন্য আবেদন করেছিলেন এপ্রিল। জন্ম থেকেই মেরুদণ্ডের জটিল রোগ ‘স্পাইনা বিফিডা’য় আক্রান্ত এপ্রিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও জটিলতা বেড়েছে। মেরুদণ্ডের গোড়ায় ধরা পড়েছে টিউমার। যে কারণে দুর্বিষহ যন্ত্রণা নিয়ে দিনাতিপাত করতে হয় তাঁকে।
এপ্রিল বলেন, ‘দিন দিন আমার শারীরিক যন্ত্রণা বাড়ছে। নড়াচড়া করলেই মেরুদণ্ডের গোড়া এবং পায়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হয়। এমনকি শ্বাস নিতে গেলেও ব্যথা পাই। সুখী ও পরিপূর্ণ হয়ে ওঠার আশা নেই। আমি হয়তো আরও ৩০ বছর বাঁচতে পারতাম। কিন্তু আমি মরতে চাই।’ আর এ কারণেই স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিয়েছেন এই নারী।
এদিকে, এপ্রিলের এক বন্ধু কানাডীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, ‘কানাডায় বাঁচার জন্য সরকারি সহায়তা পাওয়ার চেয়ে মরে যাওয়া সহজ!’ অ্যান্ড্রু গুরজা নামের এই ব্যক্তি প্রতিবন্ধী সচেতনতা বিষয়ক পরামর্শদাতা। তিনি নিজেও সেরিব্রাল পালসি রোগে আক্রান্ত। হুইলচেয়ারে বন্দী তাঁর জীবন।
অ্যান্ড্রু গুরজা আরও বলেন, ‘আমি এপ্রিলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু এই আইন নিয়ে আমার কিছু উদ্বেগ আছে। আমার যে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, তা যদি আরও খারাপ হয় এবং যদি অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা আরও বাড়ে তারপরও আমি বাঁচতে চাই। কিন্তু আমাদের দেশে এমন একটি আইন আছে যা জীবন শেষ করে দেওয়াকে খুবই সহজ করে দিয়েছে—এটা কি ভীতিকর নয়!’
২০১৬ সালে নিরাময়যোগ্য নয় এমন শারীরিক ব্যাধি বা মরণব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির অসুস্থতা গুরুতর পর্যায়ে গেলে যন্ত্রণা থেকে মুক্তির সুযোগ দিতে পাস হয় এই আইন। পরবর্তীতে ২০২১ সালে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার শর্ত তুলে নেওয়া হয়। বর্তমানে শারীরিক অসুস্থতা না থাকলেও কেবল মানসিক অসুস্থতা, যেমন—বিষণ্নতা ইত্যাদি আছে, তাঁদেরও স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধ করার পরিকল্পনা করছে কানাডা সরকার।
মেইড বিরোধীরা বলছেন, এখন শারীরিক প্রতিবন্ধী ও জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য মৃত্যুকে একটি সাধারণ ‘বিকল্প’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভিকি হুইলেন নামের অবসরপ্রাপ্ত এক নার্স বিবিসিকে জানান, দীর্ঘদিন ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগে ২০২৩ সালের এপ্রিলে তাঁর মা মারা যান। হুইলেন বলেন, ‘মাকে স্বাভাবিকভাবেই হাসপাতালে ভর্তি রেখেছিলাম আমরা। মায়ের অবস্থার যখন অবনতি হচ্ছিল, তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বারবার আমাদের মেইড প্রস্তাব করছিলেন। ব্যাপারটা একটা বিক্রয় কৌশল বা “সেলস পিচ” বলে মনে হচ্ছিল। মায়ের যাতে শান্তিপূর্ণ মৃত্যু হয় এ জন্য আমরা তাঁকে বাড়িতে আনতে বাধ্য হই।’
মেইড বিরোধী এক চিকিৎসক বলেন, ‘এই আইন যেভাবে মৃত্যুকে সহজ করছে, তা আশঙ্কাজনক! কেউ আত্মহত্যার চিন্তা করলে আমরা আগে তাঁকে কাউন্সেলিং করতাম, ওই চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করতাম। মরণব্যাধিতে যারা ভুগছেন তাঁদের জীবনকে কীভাবে একটু কম বেদনার করা যায় সেই চেষ্টা করতাম। আর এখন সবাইকে জীবন শেষ করে দিতে উৎসাহ দিচ্ছি আমরা। আবেদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মিলে যায় অনুমতি!’
বিবিসির তথ্যমতে, কানাডায় ২০২৩ সালে মেইড–এর মাধ্যমে ১৫ হাজার ৩৪৩ জন স্বেচ্ছামৃত্যু বেছে নিয়েছেন। অর্থাৎ, দেশটিতে প্রতি ২০টি মৃত্যুর মধ্যে একটিই মেইডের মাধ্যমে ঘটছে। মৃত্যুর জন্য এই পদ্ধতি বেছে নেওয়াদের গড় বয়স ৭৭ বছর।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্কের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশে আমদানি করা সব পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণা বিশ্বকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যযুদ্ধের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। আজ শুক্রবার চীনের এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে পতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগেভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি গঠনমূলক ও জনকেন্দ্রিক সম্পর্ক চায়। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এক বৈঠকের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ শুক্রবার নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা এক পোস্টে এ কথা বলেন।
১৩ ঘণ্টা আগেকংগ্রেসের এমপি এবং দলের সাধারণ সম্পাদক (যোগাযোগ) জয়রাম রমেশ বলেছেন, বিজেপি সরকারের নেতৃত্বে ভারতীয় পার্লামেন্টে যে ওয়াক্ফ বিল পাস হয়েছে তা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করবে তাঁর দল। তিনি বলেন, স্থানীয় আজ শুক্রবার ভোরে পার্লামেন্টে পাস হওয়া ওয়াক্ফ (সংশোধনী) বিল সংবিধান সম্মত কি না তা জানতে সুপ্রিম...
১৭ ঘণ্টা আগেতুরস্কের দিয়ারবাকির বিমানবন্দরে দুই দিন ধরে আটকে আছেন লন্ডন থেকে ভার্জিন আটলান্টিকের একটি ফ্লাইটের আড়াই শতাধিক যাত্রী। এই যাত্রীদের বেশির ভাগই ভারতীয়। আজ শুক্রবার, এক প্রতিবেদনে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে এ তথ্য।
১৭ ঘণ্টা আগে