Ajker Patrika

হিলিতে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৫ টাকা

হিলি স্থলবন্দর প্রতিনিধি
আপডেট : ১৭ মে ২০২২, ১৭: ০৪
Thumbnail image

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি বেড়েছে ১৪-১৫ টাকা। গত এক সপ্তাহ আগেও বন্দরে আমদানি করা পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ১৪-১৫ টাকায়। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২৯ থেকে ৩০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলে বাজারে সরবরাহ কমে, ফলে দাম বাড়তে থাকে। যার প্রভাব পড়া শুরু হয়েছে। প্রতিদিন লাফিয়ে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। আমদানিকারকের গুদামে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ থাকার পরও বেড়েছে দাম।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরে আলম জানান, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন বাজার মনিটরিং এবং পাশাপাশি অভিযান পরিচালনা করছেন। কয়েক দিন ধরে ব্যবসায়ীদের কোনো জরিমানা না করে শুধু সতর্ক করে আসছেন। তারপরও যদি ব্যবসায়ীরা অনৈতিকভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায়, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, সারা দেশের কৃষকেরা যাতে তাঁদের উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্য দাম পান এবং এর চাষাবাদে আগ্রহ থাকেন, এ জন্য সরকার ভারত থেকে আমদানির জন্য আইপি (অনুমতি প্রদান) বন্ধ রেখেছে। এতে ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে পারছেন না। এর আগে গত এপ্রিল মাসে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ভারত থেকে। পাশাপাশি ট্রেনযোগে হয়েছে আরও প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন। সব মিলিয়ে প্রায় সাত হাজার মেট্রিক টনের মতো পেঁয়াজ আমদানি হয়।

হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ সংস্থার উপসহকারী ইউসুফ আলী জানান, সরকার কৃষকদের পেঁয়াজের ন্যায্য দাম দেওয়ার জন্য গত ২৯ মার্চ পর্যন্ত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অনুমতি দেয়, পরে রমজান শুরু হওয়াই নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখার জন্য আইপির মেয়াদ বা (ইমপোর্ট পারমিট) বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত বাড়ায়। সেই মেয়াদ শেষ হওয়াই নতুন করে অনুমতি না দেওয়াই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে।

হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা রবিউল ইসলাম জানান, ‘ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না সরকার, সিন্ডিকেট করার কারণে অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে পেঁয়াজের বাজার। রাত পোহালে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। দুদিন আগে যে পেঁয়াজ ১৫ টাকা কেজি দরে কিনেছি; এখন তা কিনতে হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দিন আনা মানুষদের চরম বেকায়দায় পড়তে হবে।’

বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মামনুল ইসলাম বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম বাড়ার জন্য সবাই সাধারণ বিক্রেতাদের দুষছেন, আসলে সিন্ডিকেট তাঁরা করছেন না, করছেন আমদানিকারকেরা। তাঁদের গুদামে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ থাকার পরও তাঁরা দাম বাড়িয়ে দেওয়ার কারণে খোলাবাজারে দাম বাড়ছে। আমদানিকারকেরা বেশি দাম পাওয়ার জন্য স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ না করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে পেঁয়াজ পাঠাচ্ছেন, তাঁদের দেখার বা বলার কেউ নেই। অথচ দোষারোপ করা হচ্ছে খুচরা দোকানিদের।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত