Ajker Patrika

এবার ২৮ কোটি টাকার প্রকল্প

মঞ্জুর রহমান, মানিকগঞ্জ
আপডেট : ১৭ জুন ২০২২, ১১: ০৫
এবার ২৮ কোটি টাকার প্রকল্প

মানিকগঞ্জ শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত খালটির দুই দিকের উৎসমুখ খনন না করে প্রায় এক যুগ আগে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করায় ১৮ কোটি টাকার বেশি গচ্চা যায়। আবার খালটি খনন ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। এ জন্য প্রায় ২৮ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছেন পৌর মেয়র মো. রমজান আলী। তবে এবারও খালের উৎসমুখ খনন করা হবে না।

জেলার নাগরিক সমাজ মনে করছে, খালের দুই পাশের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং খালের পানি সারা বছর ধরে রাখতে কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় খাল খননসহ সৌন্দর্যবর্ধনের সুফল পাওয়া পাওয়া যাবে না। আগের প্রকল্পের মতো এবারও ২৮ কোটি টাকা গচ্চা যাবে।

পৌরসভার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে পৌরসভার বান্দুটিয়া ও বকজুরী এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর তীরে দুটি স্লুইসগেটসহ খালটি খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ১৮ কোটি টাকার বেশি খরচ করা হয়। অথচ সেই সময় স্লুইসগেটের সামনে খালের উৎসমুখ খনন করা হয়নি। এ কারণে খালে পানির প্রবাহ রাখা সম্ভব হয়নি। উল্টো বর্ষা মৌসুমে নদী থেকে স্লুইসগেট হয়ে পানির সঙ্গে পলি ঢুকে বছর খানেকের মধ্যে খালটি ভরাট হয়ে যায়। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় খালের সিসি ব্লক ধসে পড়ে ওয়াকওয়ে ভেঙে পড়ে।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খালটি আবার খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের একটি বিদেশি প্রকল্প পাওয়া গেছে। সিটি রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট (সিআরডিপি) প্রকল্পের আওতায় এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। যৌথভাবে এ কাজ করছে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেলের মেসার্স এপেক্স এন্টারপ্রাইজ ও কামরুল ব্রাদার্স নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। প্রায় সোয়া ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি খনন ছাড়াও এখানে তিনটি সেতু নির্মাণ করা হবে। চেইনেজ ১৬৫০ থেকে ৩০৬৫ পর্যন্ত সিসি ব্লক দিয়ে খালের পাড় বাঁধাইসহ গড়ে ৫ মিটার প্রশস্ত ওয়াকওয়ে থাকবে।

পৌরসভার পরিকল্পনাবিদ রুমানা নাজনীন বলেন, ‘জেলা শহরের নাগরিক সমাজের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ২০০৭ সালের প্রজেক্টের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। আগের মতো বর্তমান প্রজেক্টের সম্ভাব্যতা যাচাই ও পরিকল্পনা করেই সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। খালের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করার পরে প্রজেক্টের সুফল পাওয়া না গেলে দায়ভার পৌর কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।’

আর সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আগের প্রকল্পের প্রায় ১৮ কোটি টাকা গচ্চা যাওয়ার কথা স্বীকার করেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বিল্লার হোসেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রকল্পে কেন খালের উৎসমুখ খনন করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। তবে খালে সারা বছর পানি থাকবে, সেই ব্যবস্থা করা হবে।’

পৌর মেয়র মো. রমজান আলী বলেন, ‘বর্তমান প্রকল্পে খালের উৎসমুখ খননের বিষয়টি না থাকলেও নদী থেকে মোটরের মাধ্যমে পরিষ্কার পানি পাইপ দিয়ে এনে খালের সৌন্দর্য রক্ষা করা হবে। প্রকল্পে পানি আনার খরচ পৌরসভা বহন করবে। শুরুতে দেড় কিলোমিটার সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হলেও, পর্যায়ক্রমে বাকিটা করা হবে। এ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত