Ajker Patrika

কাঁটাতারের বেড়ায় বন্ধ স্কুলমাঠের খেলা

  • গত দুই বছর ধরে গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা পাবলিক মাঠে ফুটবল খেলা বন্ধ রয়েছে
  • ‘খেলায় প্রধান অতিথি না করায়’ এমন কাজ করেন যুবলীগের এক নেতা
  • কাঁটাতারে আটকে বল ফুটো হয়, ফলে ওই মাঠে ফুটবল খেলা বন্ধ হয়ে যায়
গনেশ দাস, বগুড়া 
বিদ্যালয় মাঠে সীমানাপ্রাচীরের ওপর কাঁটাতারের বেড়া। ছবি: আজকের পত্রিকা
বিদ্যালয় মাঠে সীমানাপ্রাচীরের ওপর কাঁটাতারের বেড়া। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ার গাবতলীতে একটি বিদ্যালয়ের মাঠে সীমানাপ্রাচীরের ওপর কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ফুটবল খেলা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, খেলায় প্রধান অতিথি না করায় এমন কাজ করেন যুবলীগের ওই নেতা। এতে দুই বছর ধরে গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা পাবলিক মাঠে ফুটবল খেলা বন্ধ রয়েছে।

অভিযুক্ত ওই যুবলীগ নেতার নাম আলহাজ শেখ। তিনি বগুড়া জেলা যুবলীগের সহসভাপতি। বগুড়া শহরের সূত্রাপুরের বাসিন্দা হলেও শ্বশুরবাড়ি এলাকায় সমাজসেবক হিসেবে তিনি ২০১৯ সাল থেকে গাবতলী উপজেলার দুর্গাহাটা উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতির পদে ছিলেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গাহাটা উচ্চবিদ্যালয়সংলগ্ন সরকারি একটি বিশাল মাঠ রয়েছে। এলাকায় পাবলিক মাঠ হিসেবে পরিচিত ওই মাঠে শিক্ষার্থীরা ছাড়াও গ্রামের যুবকেরা সারা বছর ফুটবল খেলার আয়োজন করে থাকেন। ২০২৩ সালে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টে দুর্গাহাটা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি যুবলীগ নেতা আলহাজ শেখকে প্রধান অতিথি না করায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। ওই বছরই তিনি বিদ্যালয়ের পূর্ব দিকে সীমানাপ্রাচীরের ওপর লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে তিন ফুট উঁচু করে কাঁটাতারের বেড়া দেন। গোলপোস্ট ওই সীমানাপ্রাচীরসংলগ্ন হওয়ায় খেলার সময় ফুটবল কাঁটাতারে আটকে ফুটো হয়ে যায়। ফলে ওই মাঠে ফুটবল খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

তবে দুর্গাহাটা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থে সীমানাপ্রাচীরের ওপর কাঁটাতার দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফুটবল খেলা বন্ধ করতেই শুধু পূর্ব পাশের সীমানাপ্রাচীরের ওপর কাঁটাতার দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁরা বলেন, প্রতিষ্ঠানের পশ্চিম পাশে দুই বছর ধরে টিনের অরক্ষিত বেড়া দেওয়া ছিল। অথচ পূর্ব পাশের ১০ ফুট উচ্চতার প্রাচীরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দুর্গাহাটা উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, এক পাশের সীমানাপ্রচীরের ওপর কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া। পশ্চিম পাশের টিনের বেড়া অপসারণ করে দুই মাস আগে ছয় ফুট উচ্চতার সীমানাপ্রাচীর দেওয়া হয়েছে।

দুর্গাহাটা ইউনিয়নের শিলদহর গ্রামের আমিনুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থী সোহেল রানা, মামুন মিয়া ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সাজেদুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি যুবলীগ নেতা আলহাজ শেখকে ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি না করায় দুই বছর আগে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়। এতে মাঠে ফুটবল খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে মাঠটি এখন ভ্যান-রিকশার স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। পাশাপাশি খেলাধুলা না থাকায় মাঠ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাঁরা বলেন, ‘১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত দুর্গাহাটা উচ্চবিদ্যালয়ের নামে এখনো ২৭ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠান ছাড়াও মার্কেট, দোকান, বাজার, বাগান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আয় বেশি থাকায় যুবলীগ নেতা আলহাজ শেখ বগুড়া শহর থেকে এসে সভাপতির পদ বাগিয়ে নেন। তাঁর দাপটে কেউ কোনো কথা বলার সাহস দেখায়নি।’

দুর্গাহাটা উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র আইয়ুব আলী বলেন, ‘আলহাজ শেখ পাঁচ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে কয়েক কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন। ২০২৩ সালে গ্রামের ফুটবল টুর্নামেন্টে আলহাজ শেখকে প্রধান অতিথি না করায় ক্ষমতার দাপটে সীমানাপ্রাচীরের ওপর কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে এলাকার শিক্ষার্থী ও যুবকদের ফুটবল খেলা বন্ধ করে দিয়েছেন। গত ৫ আগস্টের পর কাঁটাতার অপসারণের দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বন্যার সঙ্গে দেখা করেছি কয়েকবার। তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এর মধ্যে তিনি বদলি হয়ে যান।’

দুর্গাহাটা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীন বলেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে সীমানাপ্রাচীরের ওপর কাঁটাতারের বেড়া হয় নিরাপত্তার জন্য। স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীরা কাঁটাতারের বেড়া অপসারণের দাবি করেছেন। নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হলে আলোচনা করে কাঁটাতারের বেড়া অপসারণ করা হবে।

দুর্গাহাটা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নাই। আমি নতুন এসেছি। বিদ্যালয় পরিদর্শন করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত