Ajker Patrika

উদীচীর সম্মেলনে বোমা হামলা: ২৬ বছরেও বিচার পাননি নিহতদের স্বজনেরা

­যশোর প্রতিনিধি
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৫, ১১: ২৩
উদীচীর সম্মেলনে বোমা হামলা: ফাইল ছবি
উদীচীর সম্মেলনে বোমা হামলা: ফাইল ছবি

যশোরে উদীচীর সম্মেলনে বোমা হামলার ২৬ বছর পূর্তি আজ ৬ মার্চ। ১৯৯৯ সালের এই দিনে যশোর টাউন হল মাঠে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে শক্তিশালী দুটি বোমা হামলা চালানো হয়। এতে শিল্পীসহ ১০ জন নিহত এবং আড়াই শতাধিক মানুষ আহত হয়।

এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা রায়ে খালাস পেয়ে যান। এরপর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা হলেও ১৫ বছর ধরে বিচার ঝুলে আছে।

হত্যাকাণ্ডের বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে আজ দিবসটি পালনের উদ্যোগ নিয়েছেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে মামলার সুষ্ঠু বিচার হয়নি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলাসংক্রান্ত শুনানি বা কার্যক্রম হয়নি। সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু , পিপি যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালত

জানা গেছে, বোমা হামলায় নিহত ১০ জন হলেন নাজমুল হুদা তপন, সন্ধ্যা রানী ঘোষ, নূর ইসলাম, ইলিয়াস মুন্সী, বাবুল সূত্রধর, শাহ আলম মিলন, মোহাম্মদ বুলু, রতন কুমার বিশ্বাস, শাহ আলম পিন্টু ও বাবু রামকৃষ্ণ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, উদীচীর সম্মেলনে বোমা হামলার ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়। প্রথমে যশোরের কোতোয়ালি পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করে। পরে তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) ন্যস্ত করা হয়। তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৪ ডিসেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামসহ ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় সিআইডি। পরে অভিযোগ গঠনের সময় হাইকোর্টে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তরিকুল ইসলামকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চাঞ্চল্যকর এ মামলা আদালতে গড়ানোর ৭ বছর পর ২০০৬ সালের ৩০ মে সব আসামি খালাস দিয়ে মামলার রায় হয়।

উদীচী হামলায় নিহত তপনের বড় বোন নাজমুন সুলতানা বিউটি বলেন, ‘আজ ২৬ বছর হয়েছে ভাইকে হারিয়েছি। সারা বছরই কষ্ট নিয়ে দিন কাটে। আমার মা শয্যাশায়ী। আমরা এই হত্যার বিচার দেখতে চাই। প্রত্যেক বছর সাংবাদিকেরা বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন। সবাই এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের আশায় আছেন। কিন্তু জেগে ঘুমিয়ে থাকলে ঘুম ভাঙানো যায় না। আমরা চাই, ভাই হত্যার বিচার হোক। রাষ্ট্রের কাছে এই একটাই আবেদন।’

যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তৎকালীন সরকার সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামকে উদীচী হত্যা মামলায় জড়িয়েছিল। অথচ তরিকুল ইসলামই সেই সময় সর্বাগ্রে ছুটে আসেন। তৎকালীন সরকারের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে মামলার সুষ্ঠু বিচার হয়নি। তবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর উদীচী মামলাসংক্রান্ত কোনো শুনানি বা কার্যক্রম হয়নি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত