Ajker Patrika

মনিরামপুরে থানায় ভাঙচুর চালিয়ে পুলিশকে মারধর, বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

যশোর ও মনিরামপুর প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৯: ০২
গ্রেপ্তার বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা রোহান। ছবি: সংগৃহীত
গ্রেপ্তার বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা রোহান। ছবি: সংগৃহীত

যশোরের মনিরামপুর থানায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে মারধর ও থানার গ্লাস ভাঙচুরের ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে রোববার বিকেলে মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গাজীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ করেন। এ সময় কনস্টেবল শেখরকে মারধর করা হয়। এদিন রাতে শেখর দত্ত বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় দুজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার রোহান মনিরামপুর পৌর এলাকার মোহনপুর ওয়ার্ড ছাত্রদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক। তিনি ওই গ্রামের মৃত আলমগীর হোসেনের ছেলে। মামলার অন্য আসামি কামরুল ইসলাম পৌর এলাকার দুর্গাপুর গ্রামের আবু তালেবের ছেলে। তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী।

থানা ঘেরাওয়ের সময় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, মনিরামপুর থানার ওসি নূর মোহাম্মদ গাজী সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের ধরে আনছেন ঠিকই, কিন্তু রহস্যজনক কারণে তিনি তাঁদের আদালতে সোপর্দ না করে থানা থেকেই ছেড়ে দিচ্ছেন।

তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপিসহ বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের ধরে এনে সাজানো মামলায় হাজতে পাঠানো হতো। চালানো হতো নির্যাতন। ওই সময় পুলিশের নির্বিচার চাঁদাবাজির ভয়ে অসংখ্য নেতা-কর্মী বাড়ি তো দূরের কথা আশপাশের এলাকায়ও থাকতে পারেননি। এখন দাগি অপরাধী হওয়ার পরও তাঁদের ছেড়ে দেওয়া ‘ফ্যাসিস্টদের’ সহযোগিতার নামান্তর।

এদিকে বিক্ষোভের সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা থানার ফটকে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য শেখর দত্ত মারধর করাসহ থানার ফটকের একটি কক্ষের গ্লাস ভাঙচুর করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

থানা-পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আসাদুজ্জামান মিন্টুর নেতৃত্বে বিএনপির কিছু অনুসারী থানার সামনে এসে বন্ধ ফটক ঠেলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। ফটকে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য শেখর চন্দ্র তাঁদের থামাতে চাইলে তিনি মারধরের শিকার হন। এ সময় ফটকের সামনে অবস্থান করা কয়েকজন জানালার গ্লাস ভাঙচুর করেন।

বিক্ষোভের সময় বিএনপির কর্মীরা থানার গ্লাস ভাঙচুর করে। ছবি: সংগৃহীত
বিক্ষোভের সময় বিএনপির কর্মীরা থানার গ্লাস ভাঙচুর করে। ছবি: সংগৃহীত

এ বিষয়ে জানতে আজকের পত্রিকার পক্ষ থেকে থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হয়। তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূর মোহাম্মদ গাজী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত