Ajker Patrika

অভ্যুত্থানে ৮৮১ নিহতের মধ্যে মাত্র ৩০০ জনের স্বজনের মামলা: এমএসএফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা            
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন প্রকাশ করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন। ছবি: আজকের পত্রিকা
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন প্রকাশ করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন। ছবি: আজকের পত্রিকা

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৮৮১ নিহতের মধ্যে মাত্র ৩০০ শহীদের স্বজন মামলা করেছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৬৮ জন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে তৈরি শ্রমজীবী এবং শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তৈরি করা ‘হিউম্যান রাইটস ভায়োলেশনস স্টাডি রিপোর্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিরূপণের জন্য এমএসএফ দেশব্যাপী একটি জরিপ পরিচালনা করে। সেই জরিপে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৬৫ জন কলেজ, ১৩৬ জন প্রাথমিক ও উচ্চবিদ্যালয়, ১০৬ জন মাদ্রাসা এবং ৬১ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

এমএসএফের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট মো. সাইদুর রহমান এ সময় বলেন, নিহত ৮৮১ জনের মধ্যে মাত্র ৩০০ জনের স্বজনেরা মামলা করেছেন। মামলা না করার কারণ সম্পর্কে স্বজনেরা জানিয়েছেন, অজানা ভয়ে বা হুমকির কারণে তাঁরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। মামলা করার ক্ষেত্রে অতীতের অসংগতি ও সমস্যাগুলো এখনো বিরাজমান।

এমএসএফের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনে হতাহত এবং নির্যাতন, হুমকি, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাট, সনাতন ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, নিখোঁজ, মন্দির ও মাজারে আক্রমণের শিকার হন ১১ হাজার ৩৪৮ জন। সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে নিহত ৮৮১, আহত ৭ হাজার ৮৭৩, হুমকির শিকার ৯৩৩, নির্যাতনের শিকার ৭৩১ এবং নিখোঁজ ৫৪ জন। তবে নিখোঁজ কয়েকজন পরে ফিরে এসেছেন।

অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৮৭৬টি। এর মধ্যে অগ্নিসংযোগ ৩৩৩, ভাঙচুর ও লুটপাট ৩০০, সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়িতে আক্রমণ ২২৩, মন্দির ও মাজারে আক্রমণের ঘটনা ২০টি।

বিশেষ অতিথি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, জুলাই-আগস্টের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের জন্য সহায়তা কর্মসূচির ব্যবস্থা করতে হবে। পুলিশ বাহিনীতে সংস্কার করে একে নারীবান্ধব করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজধানীর বনশ্রীতে শহীদ হওয়া নাজমুলের মা নাজমা আক্তার, আজিমপুর এলাকার শহীদ খালিদ হাসান সাইফুল্লার বাবা খাইরুল হাসান এবং চানখাঁরপুলে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত রকিবুল হাসান। তাঁরা সবাই সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত