২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিসিবির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর ফিল সিমন্স তাঁর নতুন অধ্যায় শুরু করতে ঢাকায় আসছেন আগামী বুধবার। গত ছয় মাসে সাফল্য - ব্যর্থতা মিলিয়ে সিমন্সের অভিজ্ঞতা নেহাত মন্দ নয়। তাঁর কাজের ধরনে সন্তুষ্ট হয়েই লম্বা মেয়াদে চুক্তি করেছে বিসিবি। এবার তিনি কোন লক্ষ্যে এগোবেন , গতকাল ইংল্যান্ড থেকে ফোনে আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেসব বিষয় তুলে ধরলেন সিমন্স। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রানা আব্বাস।
রানা আব্বাস, ঢাকা
প্রশ্ন: সামনে জিম্বাবুয়ে সিরিজ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভালো করলে কৃতিত্ব সেভাবে মিলবে না। কিন্তু খারাপ করলেই সমালোচনার তির ছুটে যাবে। এ ধরনের সিরিজে কি ভিন্ন কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব হয়?
ফিল সিমন্স: না, এটা আরেকটা সিরিজ। আমাদের ভালো খেলতে হবে, যেটা আমরা ক্যারিবীয় সফরে (গত ডিসেম্বরে) খেলেছি। ওই পারফরম্যান্সটাই ধরে রাখতে হবে। আমি কখনোই মনে করি না প্রতিপক্ষের র্যাঙ্কিং বুঝে খেলতে হবে। আমি মনে করি, যে দল আপনার সামনে, তার বিপক্ষে একটা টেস্ট খেলুড়ে দল হিসেবে সিরিজ জেতার জন্য খেলতে হবে।
প্রশ্ন: গত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ আগের তুলনায় ভালো খেলেছে। এবার আরও ভালো করতে কতটা আশাবাদী?
সিমন্স: অনেক আশাবাদী। দেখুন, আমরা সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচটা কীভাবে খেলেছি। চেষ্টা করতে হবে। কাজ করতে হবে। যখন আমরা এবার প্রথম টেস্ট শুরু করব, তখন এটা মনে না করা যে সর্বশেষ টেস্টটা কীভাবে খেলেছিলাম। কীভাবে গত টেস্ট খেলেছি সেটাতে নয়, মনোযোগ থাকতে হবে কীভাবে আমরা নতুন একটা সিরিজ শুরু করছি।
প্রশ্ন: আগামী দুই বছরে বাংলাদেশ দুটি আইসিসির ইভেন্ট খেলবে। বাংলাদেশ বড় মঞ্চে প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেদের মেলে ধরতে পারে না। এর পেছনে কী কী কারণ থাকতে পারে?
সিমন্স: আমাদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে যে বড় মঞ্চে বড় টুর্নামেন্টে আমরা কী করতে পারি। টুর্নামেন্টের আগে ভালো প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নয়, বছরজুড়ে এমনভাবে খেলতে হবে যেন সবাই অভ্যস্ত হয়ে উঠবে যে একটা দল হিসেবে আমাদের কীভাবে খেলতে হবে। দুই বিশ্বকাপ সামনে রেখে আমাদের প্রস্তুতি শুরু এখন থেকেই।
প্রশ্ন: বড় মঞ্চে ধারাবাহিক ব্যর্থ হওয়াটা মনস্তাত্ত্বিক নাকি দক্ষতায় ঘাটতি?
সিমন্স: স্কিলে ঘাটতি নেই। আমরা দেখেছি স্কিলে কোনো ঘাটতি নেই। টুর্নামেন্টে আমরা কী মানসিকতায় যাচ্ছি, সেটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যখন আপনি বড় দলকে হারাতে থাকবেন, সিরিজ জিতবেন বড় দলের বিপক্ষে, আত্মবিশ্বাস তখন উঁচুতে উঠে যায়। ইংল্যান্ড, ভারত, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে এমন বিশ্বাস জন্মে যে এই টুর্নামেন্টেও এটা করে দেখাতে পারবেন।
প্রশ্ন: এখন তো টি-টোয়েন্টি মানে ২০০+ রান আর ওয়ানডে মানেই ৩০০+ রানের খেলা। আর দুটিতেই বাংলাদেশ যথেষ্ট পিছিয়ে। এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে কোথায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন?
সিমন্স: ঘাটতি বলতে, তাদের যে প্রতিভা আছে, সেটার যথাযথ ব্যবহার করা। অসাধারণ সব প্রতিভা আছে। এমন তরুণ খেলোয়াড় আছে, যারা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে পারে। কোনো ভয় না রেখে নামতে হবে, যে খেলাটা জানে, সেটাই খেলতে হবে। এই বিষয়গুলো পরিবর্তন করতে হবে। আমরা যেভাবে ওয়ানডে খেলছি, মাঝের ওভারগুলোয় আমাদের খেলার ধরন বদলাতে হবে। এসবই আসে ভয়ডরহীন-নিয়ামক থেকে। আমরা ভয়ডরহীন ক্রিকেটই খেলব, তাতে যে সমালোচনা হয় হবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ দলের ফাস্ট বোলিং গত দুই-তিন বছরে যতটা উন্নতি করছে, ব্যাটিং ইউনিট ততটাই সংগ্রাম করছে। অনেক অভিজ্ঞ ব্যাটার অবসরে চলে গেছেন। তরুণ ব্যাটাররা কি একটু বেশিই সময় নিচ্ছেন বাংলাদেশ দলে প্রতিষ্ঠিত হতে?
সিমন্স: ঠিক জানি না। কারণ, এই দলে আমি খুব অল্প সময়ে কাজ করেছি। আমি মনে করি তরুণ খেলোয়াড়েরা মাত্রই সুযোগ কাজে লাগাতে শুরু করেছে। দলে জায়গা নিশ্চিত করতে শুরু করেছে, দলকে জয় এনে দিতে শুরু করেছে। জানি না সময় নিচ্ছে বলতে কী বোঝাচ্ছেন। কারণ, আমরা তো তাদের খুব বেশি দিন আসতে দেখিনি।
প্রশ্ন: স্থানীয় কোচদের সঙ্গে আপনার কাজ করার ধরনে বিসিবি বেশ খুশি। সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের কোন বিষয়টি আপনাকে বেশি মুগ্ধ করেছে?
সিমন্স: সে তার কাজ জানে, কোচিং জানে। সব কোচই কোচিং জানে। তবে সালাহ উদ্দিনের যে বিষয় আমাকে মুগ্ধ করেছে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার কাজের ধরনটা। খেলোয়াড়দের সঙ্গে সে যতটা পারে, একেবারে সোজাসাপ্টা। তবে তাদের অনেক সাহস জোগায়। কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়, সে চেষ্টাই করে। তবে কঠোর হতে হলে অনেক কঠোর হতে পারে। একটা জাতীয় দলে কোচিং করাতে হলে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: আপনার আগে যিনি বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ছিলেন, তিনি কিছু বিষয় চালু করেছিলেন। খেলোয়াড়দের উৎসাহ জোগাতে বিশেষ বই যেটার নাম দ্য টাইগার্স কোড, মেরুন জ্যাকেট দেওয়ার রীতি চালু করেছিলেন। আপনি আপনার মেয়াদে দলে কী ধরনের সংস্কৃতি তৈরিতে ইচ্ছুক?
সিমন্স: আমি এ বিষয়ে খুব একটা জানি না। আমি এমন সংস্কৃতি চালু করতে চাই, যেটা হবে দলীয় সংস্কৃতি। এমন সংস্কৃতি যেখানে সবাই সবার জন্য খেলতে চায়। আমরা চাই দলের সাফল্য। দলের সাফল্যে আমরা খুশি হতে চাই। সংস্কৃতি হচ্ছে একে অন্যের জন্য খেলা। নিজের জন্য কিছু নয়।
প্রশ্ন: অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অধিনায়কত্ব নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। অধিনায়ক হিসেবে তাকে নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
সিমন্স: আমার মনে হয় শান্ত একজন নেতা। তার নেতৃত্বের ধরন দারুণ। কারণ, খেলোয়াড়েরা তাকে অনেক সম্মান করে। সতীর্থরা ওর সঙ্গে বসতে পারে, মন খুলে কথা বলতে পারে। কিছু নেতা, কিছু অধিনায়ক থাকে, যাদের কাছে খেলোয়াড়েরা খুব একটা যায় না। কিন্তু খেলোয়াড়েরা তার কাছে যেতে পারে, কথা বলতে পারে। তাকে ভরসা করতে পারে, তার নেতৃত্বের ধরনে আস্থা রাখতে পারে। সে এমন একজন নেতা, সে জানে কীভাবে তার সতীর্থদের নেতৃত্ব দিতে হবে। যতটুকু সময় ওকে দেখেছি, ভালো মনে হয়েছে। একজন অধিনায়কের কাছে এটাই তো চাইতে পারি, দলের খেলোয়াড়েরা যেন তার সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারে। অধিনায়কের মাঠের কাজটা আসলে নির্ভর করে আশপাশে থাকা সিনিয়র খেলোয়াড়দের ওপর। অধিনায়কের কাজটা তখন অনেক সহজ হয়।
প্রশ্ন: শোনা যাচ্ছে, বিসিবি টি-টোয়েন্টিতে নতুন অধিনায়ক ঠিক করবে। আপনার কি মনে হয়, বাংলাদেশ আবারও সংস্করণভেদে অধিনায়ক বেছে নিতে পারে?
সিমন্স: আমার মনে হয় না। আসলে এটা আমার একটু ভালোভাবে জানতে হবে। এটা নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে সবার আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে জাতীয় দল। দল ভালো না করতে পারলে অনেক হইচই হয়, নানা বিতর্কিত ঘটনা ঘটে। এসব হইচই-আওয়াজের মধ্যে ধারাবাহিক সাফল্য এনে দেওয়া বিরাট এক চ্যালেঞ্জিং কাজ। এই চ্যালেঞ্জটা কীভাবে দেখেন?
সিমন্স: পুরো ব্যবস্থার মধ্যে এটাই আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সব সময় সফল হব না। যখন সাফল্য পাব না, তখন খেলোয়াড়দের সমর্থন পাওয়াটা খুব দরকার। যখন সাফল্য পাবে, তখন তারা এমনি খুব ভালো অবস্থায় থাকবে। তখন কাজও সহজ। কিন্তু কয়েকবার ব্যর্থ হলে তখন সমর্থন খুব দরকার। কিছু বিষয়ের পরিবর্তনের প্রার্থনা করব। যে সমর্থন দরকার সেটা যেন আমরা পাই। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে। আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যখন খেলতে নামব, অবশ্যই পুরোটাই উজাড় করে দেব। ১৫০ পার্সেন্ট দেব। আমরা যেভাবে চেষ্টা করব, মানুষ খুশিই হব। যদি আপনি সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা না করেন, তখনই সবাই আপনার বিপক্ষে যাবে। খেলোয়াড়েরা আশা করি সংবাদমাধ্যম ভীতি, সামাজিকমাধ্যম ভীতি, সমর্থকদের নিয়ে ভয় কাটিয়ে উঠবে। সমর্থকেরা ভালোবাসবে, এমন কিছুই করতে হবে।
প্রশ্ন: সামনে জিম্বাবুয়ে সিরিজ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ভালো করলে কৃতিত্ব সেভাবে মিলবে না। কিন্তু খারাপ করলেই সমালোচনার তির ছুটে যাবে। এ ধরনের সিরিজে কি ভিন্ন কোনো চ্যালেঞ্জ অনুভব হয়?
ফিল সিমন্স: না, এটা আরেকটা সিরিজ। আমাদের ভালো খেলতে হবে, যেটা আমরা ক্যারিবীয় সফরে (গত ডিসেম্বরে) খেলেছি। ওই পারফরম্যান্সটাই ধরে রাখতে হবে। আমি কখনোই মনে করি না প্রতিপক্ষের র্যাঙ্কিং বুঝে খেলতে হবে। আমি মনে করি, যে দল আপনার সামনে, তার বিপক্ষে একটা টেস্ট খেলুড়ে দল হিসেবে সিরিজ জেতার জন্য খেলতে হবে।
প্রশ্ন: গত টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে বাংলাদেশ আগের তুলনায় ভালো খেলেছে। এবার আরও ভালো করতে কতটা আশাবাদী?
সিমন্স: অনেক আশাবাদী। দেখুন, আমরা সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচটা কীভাবে খেলেছি। চেষ্টা করতে হবে। কাজ করতে হবে। যখন আমরা এবার প্রথম টেস্ট শুরু করব, তখন এটা মনে না করা যে সর্বশেষ টেস্টটা কীভাবে খেলেছিলাম। কীভাবে গত টেস্ট খেলেছি সেটাতে নয়, মনোযোগ থাকতে হবে কীভাবে আমরা নতুন একটা সিরিজ শুরু করছি।
প্রশ্ন: আগামী দুই বছরে বাংলাদেশ দুটি আইসিসির ইভেন্ট খেলবে। বাংলাদেশ বড় মঞ্চে প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেদের মেলে ধরতে পারে না। এর পেছনে কী কী কারণ থাকতে পারে?
সিমন্স: আমাদের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে যে বড় মঞ্চে বড় টুর্নামেন্টে আমরা কী করতে পারি। টুর্নামেন্টের আগে ভালো প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নয়, বছরজুড়ে এমনভাবে খেলতে হবে যেন সবাই অভ্যস্ত হয়ে উঠবে যে একটা দল হিসেবে আমাদের কীভাবে খেলতে হবে। দুই বিশ্বকাপ সামনে রেখে আমাদের প্রস্তুতি শুরু এখন থেকেই।
প্রশ্ন: বড় মঞ্চে ধারাবাহিক ব্যর্থ হওয়াটা মনস্তাত্ত্বিক নাকি দক্ষতায় ঘাটতি?
সিমন্স: স্কিলে ঘাটতি নেই। আমরা দেখেছি স্কিলে কোনো ঘাটতি নেই। টুর্নামেন্টে আমরা কী মানসিকতায় যাচ্ছি, সেটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যখন আপনি বড় দলকে হারাতে থাকবেন, সিরিজ জিতবেন বড় দলের বিপক্ষে, আত্মবিশ্বাস তখন উঁচুতে উঠে যায়। ইংল্যান্ড, ভারত, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতলে এমন বিশ্বাস জন্মে যে এই টুর্নামেন্টেও এটা করে দেখাতে পারবেন।
প্রশ্ন: এখন তো টি-টোয়েন্টি মানে ২০০+ রান আর ওয়ানডে মানেই ৩০০+ রানের খেলা। আর দুটিতেই বাংলাদেশ যথেষ্ট পিছিয়ে। এই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে কোথায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন?
সিমন্স: ঘাটতি বলতে, তাদের যে প্রতিভা আছে, সেটার যথাযথ ব্যবহার করা। অসাধারণ সব প্রতিভা আছে। এমন তরুণ খেলোয়াড় আছে, যারা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে পারে। কোনো ভয় না রেখে নামতে হবে, যে খেলাটা জানে, সেটাই খেলতে হবে। এই বিষয়গুলো পরিবর্তন করতে হবে। আমরা যেভাবে ওয়ানডে খেলছি, মাঝের ওভারগুলোয় আমাদের খেলার ধরন বদলাতে হবে। এসবই আসে ভয়ডরহীন-নিয়ামক থেকে। আমরা ভয়ডরহীন ক্রিকেটই খেলব, তাতে যে সমালোচনা হয় হবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ দলের ফাস্ট বোলিং গত দুই-তিন বছরে যতটা উন্নতি করছে, ব্যাটিং ইউনিট ততটাই সংগ্রাম করছে। অনেক অভিজ্ঞ ব্যাটার অবসরে চলে গেছেন। তরুণ ব্যাটাররা কি একটু বেশিই সময় নিচ্ছেন বাংলাদেশ দলে প্রতিষ্ঠিত হতে?
সিমন্স: ঠিক জানি না। কারণ, এই দলে আমি খুব অল্প সময়ে কাজ করেছি। আমি মনে করি তরুণ খেলোয়াড়েরা মাত্রই সুযোগ কাজে লাগাতে শুরু করেছে। দলে জায়গা নিশ্চিত করতে শুরু করেছে, দলকে জয় এনে দিতে শুরু করেছে। জানি না সময় নিচ্ছে বলতে কী বোঝাচ্ছেন। কারণ, আমরা তো তাদের খুব বেশি দিন আসতে দেখিনি।
প্রশ্ন: স্থানীয় কোচদের সঙ্গে আপনার কাজ করার ধরনে বিসিবি বেশ খুশি। সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের কোন বিষয়টি আপনাকে বেশি মুগ্ধ করেছে?
সিমন্স: সে তার কাজ জানে, কোচিং জানে। সব কোচই কোচিং জানে। তবে সালাহ উদ্দিনের যে বিষয় আমাকে মুগ্ধ করেছে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার কাজের ধরনটা। খেলোয়াড়দের সঙ্গে সে যতটা পারে, একেবারে সোজাসাপ্টা। তবে তাদের অনেক সাহস জোগায়। কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়, সে চেষ্টাই করে। তবে কঠোর হতে হলে অনেক কঠোর হতে পারে। একটা জাতীয় দলে কোচিং করাতে হলে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: আপনার আগে যিনি বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ছিলেন, তিনি কিছু বিষয় চালু করেছিলেন। খেলোয়াড়দের উৎসাহ জোগাতে বিশেষ বই যেটার নাম দ্য টাইগার্স কোড, মেরুন জ্যাকেট দেওয়ার রীতি চালু করেছিলেন। আপনি আপনার মেয়াদে দলে কী ধরনের সংস্কৃতি তৈরিতে ইচ্ছুক?
সিমন্স: আমি এ বিষয়ে খুব একটা জানি না। আমি এমন সংস্কৃতি চালু করতে চাই, যেটা হবে দলীয় সংস্কৃতি। এমন সংস্কৃতি যেখানে সবাই সবার জন্য খেলতে চায়। আমরা চাই দলের সাফল্য। দলের সাফল্যে আমরা খুশি হতে চাই। সংস্কৃতি হচ্ছে একে অন্যের জন্য খেলা। নিজের জন্য কিছু নয়।
প্রশ্ন: অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অধিনায়কত্ব নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। অধিনায়ক হিসেবে তাকে নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
সিমন্স: আমার মনে হয় শান্ত একজন নেতা। তার নেতৃত্বের ধরন দারুণ। কারণ, খেলোয়াড়েরা তাকে অনেক সম্মান করে। সতীর্থরা ওর সঙ্গে বসতে পারে, মন খুলে কথা বলতে পারে। কিছু নেতা, কিছু অধিনায়ক থাকে, যাদের কাছে খেলোয়াড়েরা খুব একটা যায় না। কিন্তু খেলোয়াড়েরা তার কাছে যেতে পারে, কথা বলতে পারে। তাকে ভরসা করতে পারে, তার নেতৃত্বের ধরনে আস্থা রাখতে পারে। সে এমন একজন নেতা, সে জানে কীভাবে তার সতীর্থদের নেতৃত্ব দিতে হবে। যতটুকু সময় ওকে দেখেছি, ভালো মনে হয়েছে। একজন অধিনায়কের কাছে এটাই তো চাইতে পারি, দলের খেলোয়াড়েরা যেন তার সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারে। অধিনায়কের মাঠের কাজটা আসলে নির্ভর করে আশপাশে থাকা সিনিয়র খেলোয়াড়দের ওপর। অধিনায়কের কাজটা তখন অনেক সহজ হয়।
প্রশ্ন: শোনা যাচ্ছে, বিসিবি টি-টোয়েন্টিতে নতুন অধিনায়ক ঠিক করবে। আপনার কি মনে হয়, বাংলাদেশ আবারও সংস্করণভেদে অধিনায়ক বেছে নিতে পারে?
সিমন্স: আমার মনে হয় না। আসলে এটা আমার একটু ভালোভাবে জানতে হবে। এটা নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে সবার আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে জাতীয় দল। দল ভালো না করতে পারলে অনেক হইচই হয়, নানা বিতর্কিত ঘটনা ঘটে। এসব হইচই-আওয়াজের মধ্যে ধারাবাহিক সাফল্য এনে দেওয়া বিরাট এক চ্যালেঞ্জিং কাজ। এই চ্যালেঞ্জটা কীভাবে দেখেন?
সিমন্স: পুরো ব্যবস্থার মধ্যে এটাই আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সব সময় সফল হব না। যখন সাফল্য পাব না, তখন খেলোয়াড়দের সমর্থন পাওয়াটা খুব দরকার। যখন সাফল্য পাবে, তখন তারা এমনি খুব ভালো অবস্থায় থাকবে। তখন কাজও সহজ। কিন্তু কয়েকবার ব্যর্থ হলে তখন সমর্থন খুব দরকার। কিছু বিষয়ের পরিবর্তনের প্রার্থনা করব। যে সমর্থন দরকার সেটা যেন আমরা পাই। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে। আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যখন খেলতে নামব, অবশ্যই পুরোটাই উজাড় করে দেব। ১৫০ পার্সেন্ট দেব। আমরা যেভাবে চেষ্টা করব, মানুষ খুশিই হব। যদি আপনি সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা না করেন, তখনই সবাই আপনার বিপক্ষে যাবে। খেলোয়াড়েরা আশা করি সংবাদমাধ্যম ভীতি, সামাজিকমাধ্যম ভীতি, সমর্থকদের নিয়ে ভয় কাটিয়ে উঠবে। সমর্থকেরা ভালোবাসবে, এমন কিছুই করতে হবে।
আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগে রিয়াল মাদ্রিদের তিন তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে, আন্তেনিও রুদিগার ও দানি সেবায়োসকে জরিমানা করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা—উয়েফা। এমবাপ্পেকে ৩০ হাজার, রুদিগারকে ৪০ হাজার ও সেবায়োসকে ২০ হাজার ইউরো জরিমানা করেছে সংস্থাটি। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও অভিযুক্ত
৭ ঘণ্টা আগেদুঃসময়ে ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্বের সমাধান কে হবেন? জস বাটলার সাদা বলের দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকেই এই আলোচনা। তবে প্রশ্নটা এখনো ঘুরপাকের মধ্যেই আছে। হ্যারি ব্রুক, বেন স্টোকস, না জো রুট। দলের সেরা ব্যাটার রুট প্রস্তাব পাওয়ার আগেই স্পষ্ট জানালেন, নতুন করে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হতে আগ্রহী নন তিনি।
৮ ঘণ্টা আগেএক দশক ধরে ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যমণি। বয়সও হয়ে গেছে ৩৩, এবার পেপ গার্দিওলার বাজির ঘোড়া কেভিন ডি ব্রুইনে জানিয়ে দিয়েছেন, চলতি মৌসুম শেষে চুক্তি শেষ হলে সিটিকে বিদায় জানাবেন তিনি। ২০১৫ সালে ভলফসবুর্গ থেকে সিটিতে যোগ দেন এই বেলজিয়ান তারকা। সব মিলিয়ে জিতেছেন ১৬টি ট্রফি, এর মধ্যে রয়েছে ছয়টি প্রিমিয়ার লি
১০ ঘণ্টা আগেঈদের ছুটি কাটিয়ে ক্রিকেটাররা আবারও ফিরতে শুরু করেছেন মাঠে। প্রায় দেড় সপ্তাহের বিরতির পর প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে মিরপুরে শেরেবাংলা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) দলগুলো আগামীকাল থেকে শুরু করবে অনুশীলন। দলের সঙ্গে যোগ দিতে ক্রিকেটাররা ফিরছেন ঢাকায়।
১২ ঘণ্টা আগে