Ajker Patrika

বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা-লুটপাট: ১০ মামলা, গ্রেপ্তার মোট ৭২

অনলাইন ডেস্ক
আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৫, ১৩: ৫৪
চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজারে ভাংচুরের শিকার দুটি প্রতিষ্ঠান। ছবি: আজকের পত্রিকা
চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজারে ভাংচুরের শিকার দুটি প্রতিষ্ঠান। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার প্রতিবাদে গত সোমবার বিক্ষোভের সময় বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজ বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, এ ঘটনায় ১০টি মামলা করেছে পুলিশ। ঘটনার আরও তদন্ত চলছে। যারা এই নিন্দনীয় কাজের জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন শহরে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত (৯ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তারর করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে খুলনায় ৩৩ জন, সিলেটে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন, গাজীপুরে ৪ জন, নারায়ণগঞ্জে ৪ জন, কুমিল্লায় ৩ জন এবং কক্সবাজারে ৪ জন।

এখন পর্যন্ত এসব ঘটনাসংক্রান্ত মোট ৯টি মামলা করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত সোমবার গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলাকালে সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে বিদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। গতকাল পর্যন্ত সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে কমপক্ষে ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় ৩১, সিলেটে ১৪ এবং গাজীপুরে ৪ জন রয়েছেন।

জনগণকে এ ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার অনুরোধও জানানো হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে পুলিশ গত রাতে অপরাধীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে বিক্ষোভের সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছে। এই সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী সবাইকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তদন্তে সহায়তা করতে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্তে সহায়তা করতে পারে এমন তথ্য যাদের কাছে আছে তাদের সহযোগিতার জন্য আমরা আহ্বান জানাই। এ ধরনের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা জননিরাপত্তা এবং আইনের শাসনের প্রতি অবমাননাকর। যারা সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে আমরা সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাই।

সোমবার ইসরায়েল-বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে সিলেট, খুলনা, চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি শহরে কোমল পানীয় কোকাকোলা, সেভেন আপ, কেএফসিসহ কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের চেরাগী পাহাড় মোড়, এস এস খালেদ রোড, কাজীর দেউড়ি, লালখান বাজার ও জিইসি মোড়ে ভাঙচুর করা হয়।

এ ছাড়া সিলেটে ফুটওয়্যার কোম্পানি বাটার শোরুমে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বাটা ইসরায়েলি কোম্পানি দাবি করে এ ঘটনা ঘটানো হয়। পরে বিবৃতি দিয়ে বাটা জানায়, বাটা কোনো ইসরায়েলি মালিকানাধীন কোম্পানি নয় এবং চলমান ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সঙ্গে তাদের কোনো রাজনৈতিক সংযোগ নেই। বাটা বিশ্বব্যাপী একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন পারিবারিক প্রতিষ্ঠান, যার সূচনা হয়েছিল চেক রিপাবলিকে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত