Ajker Patrika

সেতুর মাঝে বড় গর্ত, এর ওপর দিয়েই চলছে যান

এনামুল হক, ফুলপুর
আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২২, ১৩: ৪৪
Thumbnail image

ফুলপুর, তারাকান্দা, ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট উপজেলার অসংখ্য মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন প্রতিদিন তালদিঘি-মুন্সিরহাট সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক। তবে সড়কের ফুলপুর উপজেলার শালজান ও শিমুলিয়া গ্রামের মাঝে অবস্থিত একটি সেতুর মাঝ বরাবর ভেঙে গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেতুটি নির্মাণ করা হয় প্রায় ৩০ বছর আগে। কয়েক সপ্তাহ আগে এর মাঝ বরাবর ভেঙে রড বেরিয়ে যায়। ফলে এখন আর ভারী যানবাহন সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। তবে ভাঙা অংশের ওপর দিয়ে যাত্রী নামিয়ে কোনো রকমে চলছে রিকশা, অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহন। এলাকাবাসী সেতুর ভাঙা অংশের পাশে রেলিংয়ে বাঁশের মাথায় লাল কাপড় বেঁধে ও সাইনবোর্ড দিয়ে চলাচল করতে নিষেধ করলেও তা মানছেন না কেউ।

শিমুলিয়া গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ইকরামুল হক বলেন, ‘দিনের বেলায় একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে পারলেও রাতের চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই লোকজন গর্তে পড়ে আহত হচ্ছেন। অথচ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যে কোনো মুহূর্তে সেতুটি ভেঙে পড়ে প্রাণহানি ঘটতে পারে। এমন আশঙ্কার মধ্যেই ছোট ছোট যানের চালক ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন। অথচ সেতু মাঝের অংশ ভেঙে বড় ধরনের গর্ত হয়েছে। ফলে পুরো সেতুই এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

অটোচালক ইদ্রিস আলী, তাইজুদ্দিন সহ কয়েকজন বলেন, ‘দিনে কোনো রকমের যাত্রী নামিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও রাতে চলা যায় না।’

জুবায়ের হোসেন নামে আরেক চালক বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের পণ্যসামগ্রী নিয়ে পাশের কাইচাপুর বাজারে যাওয়া যায় না এ সেতু দিয়ে। ফলে মইশাকান্দা দিয়ে তিন কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। এতে আমাদের সময় ও খরচ বেশি হয়।’

বওলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী নীরা বেগমসহ কয়েকজন বলেন, ‘কলেজে এ সেতু দিয়ে যেতে হয়। তখন আমাদের ভয় হয়।’

কাইচাপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, সেতু ভাঙা থাকায় এ পথে কোনো যানবাহনের চালক আসেন না। ফলে তিন কিলোমিটার পথে ঘুরে আসতে হয়। এতে পরিবহন খরচ বেশি হচ্ছে। সময়ও বেশি প্রয়োজন হচ্ছে।

বালিয়া ইউনিয়নের সদ্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আজাহারুল মুজাহিদ বলেন, ‘সেতুটির ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। এটি ভেঙে পড়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পুরোপুরি ভেঙে পড়লে চার উপজেলার মানুষের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হবে। এখানে একটি সেতু নির্মাণ ­করা জরুরি।’

এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলার প্রকৌশলী রাকিবুল হাফিজ বলেন, ‘নতুন সেতু তৈরির জন্য সরেজমিনে গিয়ে ভাঙা অংশের ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত