মো. ফজলুল আলম
বর্তমান মালির তিম্বক্তু শহর ১৩ শতকে সাহারা অঞ্চলে শাসন ও বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল। ইতিহাসের অন্যতম সেরা ধনী মালির মুসলিম শাসক মানসা মুসার হাত ধরেই তিম্বক্তু হয়ে উঠেছিল মুসলিম সভ্যতার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ১৯৮৮ সালে শহরটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘ। শিক্ষা, বিজ্ঞান, দর্শন ও বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এই গৌরবময় অধ্যায়ের কথা লিখেছেন মো. ফজলুল আলম।
নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ভুলে যাওয়াই মুসলমানদের পশ্চাৎপদতার অন্যতম কারণ। সভ্যতার নির্মাণ ও বিকাশে মুসলিম জনপদগুলো যে বিশাল অবদান রেখেছে, তার অধিকাংশই বর্তমান প্রজন্মের কাছে অজানা। কর্ডোভা, বাগদাদের মতো দু-একটি হাতে গোনা অঞ্চল ছাড়া আরও অনেক জনপদই যে সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল, তা এই প্রজন্মের অনেকের ধারণারও বাইরে। তেমনি এক হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার প্রাণকেন্দ্রের নাম তিম্বক্তু।
ইসলাম-পূর্ব ইতিহাস: বর্তমান মালিতে অবস্থিত তিম্বক্তু শহরটি গড়ে উঠেছিল আনুমানিক আড়াই হাজার বছর আগে, খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকে। শুরুর দিকে এটি শুধু বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীদের অস্থায়ী উপনিবেশ ছিল। অঞ্চলটি তখন লবণ, সোনা ও উটের বাণিজ্যের জন্য পরিচিতি লাভ করে।
ষষ্ঠ শতকের শেষ দিকে এসে তিম্বক্তু ক্রমেই সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে এবং অষ্টম শতকে এসে অঞ্চলটি স্থায়ী বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। শহরটির অনেক উপনাম ছিল; মরুভূমির মুক্তো, হস্তলিপির দেশ ও ৩৩৩ সাধুর দেশ সেগুলোর অন্যতম।
মুসলমানদের আগমন: তিম্বক্তুতে কারা প্রথম ইসলামের দাওয়াত নিয়ে আসেন, এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে যেহেতু শুরুর দিকে অঞ্চলটি কেবল বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত ছিল, তাই বলা হয়ে থাকে—এগারো শতকের শুরুর দিকে আরব ব্যবসায়ীদের হাত ধরেই এখানে ইসলামের আগমন ঘটে। অবশ্য কেউ কেউ নয় শতকেই এই অঞ্চলে ইসলামের ইতিহাসের সূচনার কথা তুলে ধরেছেন।
সমৃদ্ধের পথে তিম্বক্তু: তেরো-চৌদ্দ শতকে তিম্বক্তুর শাসক ছিলেন সুলতান মানসা মুসা। বিবিসির ভাষ্য মতে, মানসা মুসা এখনো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তাঁর সময়েই তিম্বক্তু সমৃদ্ধির চূড়ায় আরোহণ করে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও অর্থনীতির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে যায়। পরিণত হয় ইসলামি দর্শনচর্চার কেন্দ্রে। ইউরোপসহ পৃথিবী বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেখানে ভিড় জমাতে থাকেন জ্ঞানপিপাসুরা। এ সময় সেখানে ইসলাম হয়ে ওঠে সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্ম এবং আরবি ভাষা স্বীকৃতি পায় শিক্ষার প্রধান মাধ্যম হিসেবে।
আরব পণ্ডিত আবদুর রহমান আতিম্মি শিক্ষকতার উদ্দেশ্যে তিম্বক্তু ভ্রমণ করেন। সেখানকার ছাত্রদের জ্ঞানের গভীরতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্বতা দেখে তিনি নিজের জ্ঞানস্বল্পতা উপলব্ধি করেন। পরে তিনি তাঁদের ছাত্র হিসেবে নিজেকে সমৃদ্ধ করার প্রয়াস চালান। নিজের ছাত্রদের কাছে জ্ঞান আহরণ করেন দীর্ঘ সময়। সময়টিতে তিম্বক্তু গোটা পৃথিবী থেকে আসা বিভিন্ন শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞদের মিলনমেলায় পরিণত। ইবনে বতুতা, ইবনুল মুখতার ও ইবনে খালদুন প্রমুখ তাঁদের রচনায় তিম্বক্তুকে বৈশ্বিক শিক্ষাকেন্দ্র ও সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে চিত্রিত করেন। তিম্বক্তু বিশ্ববিদ্যালয় যেসব পণ্ডিতের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে মুহাম্মদ আল-জিন্নাভি ও আহমেদ বাবা সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০ লাইব্রেরি ছিল, যেখানে প্রায় সাত লাখ হাতে লেখা বইয়ের বিশাল সংগ্রহ ছিল।
বিশ্বের সঙ্গে তিম্বক্তুর যোগাযোগ: তিম্বক্তুকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করিয়ে দেয় ১৩২৪ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান মানসা মুসার ঐতিহাসিক হজযাত্রা। মিসরের কায়রো হয়ে পবিত্র মক্কায় যাওয়ার সময় তিনি সাধারণ মানুষের কাছাকাছি আসেন এবং তিম্বক্তুর সমৃদ্ধি সম্পর্কে জানান। সেকালের মিসর ছিল বৈশ্বিক ব্যবসায়ীদের আঁতুড়ঘর। ফলে তাঁদের মাধ্যমে অল্প সময়েই পৃথিবীর আনাচকানাচে তিম্বক্তুর কথা ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া সুলতান আসকিয়া মুহাম্মদের বদান্যতায় পৃথিবীব্যাপী এ সভ্যতার নাম ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ঐতিহাসিকের ধারণা, তিম্বক্তুর সুলতান মনসা আবু বকর কলম্বাসের প্রায় ১০০ বছর আগে আমেরিকা ভ্রমণ করেন। তিম্বক্তু আজও হারানো সভ্যতার অসংখ্য নিদর্শন বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে।
লেখক: মো. ফজলুল আলম
বর্তমান মালির তিম্বক্তু শহর ১৩ শতকে সাহারা অঞ্চলে শাসন ও বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল। ইতিহাসের অন্যতম সেরা ধনী মালির মুসলিম শাসক মানসা মুসার হাত ধরেই তিম্বক্তু হয়ে উঠেছিল মুসলিম সভ্যতার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ১৯৮৮ সালে শহরটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে জাতিসংঘ। শিক্ষা, বিজ্ঞান, দর্শন ও বাণিজ্যে সমৃদ্ধ এই গৌরবময় অধ্যায়ের কথা লিখেছেন মো. ফজলুল আলম।
নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ভুলে যাওয়াই মুসলমানদের পশ্চাৎপদতার অন্যতম কারণ। সভ্যতার নির্মাণ ও বিকাশে মুসলিম জনপদগুলো যে বিশাল অবদান রেখেছে, তার অধিকাংশই বর্তমান প্রজন্মের কাছে অজানা। কর্ডোভা, বাগদাদের মতো দু-একটি হাতে গোনা অঞ্চল ছাড়া আরও অনেক জনপদই যে সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল, তা এই প্রজন্মের অনেকের ধারণারও বাইরে। তেমনি এক হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার প্রাণকেন্দ্রের নাম তিম্বক্তু।
ইসলাম-পূর্ব ইতিহাস: বর্তমান মালিতে অবস্থিত তিম্বক্তু শহরটি গড়ে উঠেছিল আনুমানিক আড়াই হাজার বছর আগে, খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতকে। শুরুর দিকে এটি শুধু বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীদের অস্থায়ী উপনিবেশ ছিল। অঞ্চলটি তখন লবণ, সোনা ও উটের বাণিজ্যের জন্য পরিচিতি লাভ করে।
ষষ্ঠ শতকের শেষ দিকে এসে তিম্বক্তু ক্রমেই সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে এবং অষ্টম শতকে এসে অঞ্চলটি স্থায়ী বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। শহরটির অনেক উপনাম ছিল; মরুভূমির মুক্তো, হস্তলিপির দেশ ও ৩৩৩ সাধুর দেশ সেগুলোর অন্যতম।
মুসলমানদের আগমন: তিম্বক্তুতে কারা প্রথম ইসলামের দাওয়াত নিয়ে আসেন, এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায় না। তবে যেহেতু শুরুর দিকে অঞ্চলটি কেবল বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত ছিল, তাই বলা হয়ে থাকে—এগারো শতকের শুরুর দিকে আরব ব্যবসায়ীদের হাত ধরেই এখানে ইসলামের আগমন ঘটে। অবশ্য কেউ কেউ নয় শতকেই এই অঞ্চলে ইসলামের ইতিহাসের সূচনার কথা তুলে ধরেছেন।
সমৃদ্ধের পথে তিম্বক্তু: তেরো-চৌদ্দ শতকে তিম্বক্তুর শাসক ছিলেন সুলতান মানসা মুসা। বিবিসির ভাষ্য মতে, মানসা মুসা এখনো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তাঁর সময়েই তিম্বক্তু সমৃদ্ধির চূড়ায় আরোহণ করে। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও অর্থনীতির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে যায়। পরিণত হয় ইসলামি দর্শনচর্চার কেন্দ্রে। ইউরোপসহ পৃথিবী বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেখানে ভিড় জমাতে থাকেন জ্ঞানপিপাসুরা। এ সময় সেখানে ইসলাম হয়ে ওঠে সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্ম এবং আরবি ভাষা স্বীকৃতি পায় শিক্ষার প্রধান মাধ্যম হিসেবে।
আরব পণ্ডিত আবদুর রহমান আতিম্মি শিক্ষকতার উদ্দেশ্যে তিম্বক্তু ভ্রমণ করেন। সেখানকার ছাত্রদের জ্ঞানের গভীরতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্বতা দেখে তিনি নিজের জ্ঞানস্বল্পতা উপলব্ধি করেন। পরে তিনি তাঁদের ছাত্র হিসেবে নিজেকে সমৃদ্ধ করার প্রয়াস চালান। নিজের ছাত্রদের কাছে জ্ঞান আহরণ করেন দীর্ঘ সময়। সময়টিতে তিম্বক্তু গোটা পৃথিবী থেকে আসা বিভিন্ন শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞদের মিলনমেলায় পরিণত। ইবনে বতুতা, ইবনুল মুখতার ও ইবনে খালদুন প্রমুখ তাঁদের রচনায় তিম্বক্তুকে বৈশ্বিক শিক্ষাকেন্দ্র ও সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে চিত্রিত করেন। তিম্বক্তু বিশ্ববিদ্যালয় যেসব পণ্ডিতের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়েছে, তাঁদের মধ্যে মুহাম্মদ আল-জিন্নাভি ও আহমেদ বাবা সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০ লাইব্রেরি ছিল, যেখানে প্রায় সাত লাখ হাতে লেখা বইয়ের বিশাল সংগ্রহ ছিল।
বিশ্বের সঙ্গে তিম্বক্তুর যোগাযোগ: তিম্বক্তুকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করিয়ে দেয় ১৩২৪ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান মানসা মুসার ঐতিহাসিক হজযাত্রা। মিসরের কায়রো হয়ে পবিত্র মক্কায় যাওয়ার সময় তিনি সাধারণ মানুষের কাছাকাছি আসেন এবং তিম্বক্তুর সমৃদ্ধি সম্পর্কে জানান। সেকালের মিসর ছিল বৈশ্বিক ব্যবসায়ীদের আঁতুড়ঘর। ফলে তাঁদের মাধ্যমে অল্প সময়েই পৃথিবীর আনাচকানাচে তিম্বক্তুর কথা ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া সুলতান আসকিয়া মুহাম্মদের বদান্যতায় পৃথিবীব্যাপী এ সভ্যতার নাম ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ঐতিহাসিকের ধারণা, তিম্বক্তুর সুলতান মনসা আবু বকর কলম্বাসের প্রায় ১০০ বছর আগে আমেরিকা ভ্রমণ করেন। তিম্বক্তু আজও হারানো সভ্যতার অসংখ্য নিদর্শন বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে।
লেখক: মো. ফজলুল আলম
বিআরটিসির বাস দিয়ে চালু করা বিশেষায়িত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) লেনে অনুমতি না নিয়েই চলছে বেসরকারি কোম্পানির কিছু বাস। ঢুকে পড়ছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। উল্টো পথে চলছে মোটরসাইকেল। অন্যদিকে বিআরটিসির মাত্র ১০টি বাস চলাচল করায় সোয়া চার হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প থেকে...
১৬ জানুয়ারি ২০২৫গাজীপুর মহানগরের বোর্ডবাজার এলাকার ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা পিকনিকে যাচ্ছিলেন শ্রীপুরের মাটির মায়া ইকো রিসোর্টে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে বাসগুলো গ্রামের সরু সড়কে ঢোকার পর বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে যায় বিআরটিসির একটি দোতলা বাস...
২৪ নভেম্বর ২০২৪ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় সন্দ্বীপের ব্লক বেড়িবাঁধসহ একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৬২ কোটি টাকা। এ জন্য টেন্ডারও হয়েছে। প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শুরু করছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তাগাদায়ও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন...
২০ নভেম্বর ২০২৪দেশের পরিবহন খাতের অন্যতম নিয়ন্ত্রণকারী ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাইফুল আলমের নেতৃত্বাধীন এ কমিটিকে নিবন্ধন দেয়নি শ্রম অধিদপ্তর। তবে এটি কার্যক্রম চালাচ্ছে। কমিটির নেতারা অংশ নিচ্ছেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের...
২০ নভেম্বর ২০২৪