Ajker Patrika

কবরস্থান নেই, স্বজনদের ঠাঁই উঠানে

শিপুল ইসলাম, তারাগঞ্জ
আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২: ৩৬
Thumbnail image

তারাগঞ্জ উপজেলার দুই গ্রাম জদ্দিপাড়া ও ডাঙ্গাপাড়া। সদর ঘেঁষা গ্রাম দুটিতে প্রায় ১ হাজার পরিবারের বাস। এখানকার অধিকাংশ মানুষ দিনমজুর। তাঁদের বেশির ভাগের শুধু বসতভিটাই সম্বল। শহরের পাশের এ গ্রামগুলোর মানুষের ভাতের অভাব না থাকলেও মৃতদের নিয়ে রয়েছে দুশ্চিন্তা। লাশ কবর দেওয়া নিয়ে খুবই সমস্যায় পড়তে হয় বাসিন্দাদের।

গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁদের এখান থেকে দক্ষিণে আড়াই কিলোমিটার দূরে আদর্শপাড়া কবরস্থান ও পূর্বে দুই কিলোমিটার দূরে শিয়ালডাঙ্গা কবরস্থান অবস্থিত। এই দুই কবরস্থানে এলাকার লোকজন ছাড়া অন্য এলাকার বাসিন্দাদের মরদেহ দাফন করা হয় না।

ডাঙ্গাপাড়া ও জদ্দিপাড়া গ্রামে কেউ মারা গেলে বাড়ির উঠান, আঙিনায় কবর দেওয়া হয়। যাঁদের উঠানও নেই তাঁরা স্বজনের লাশ নিয়ে পড়ে যান বিপাকে। অনুরোধ করে ওই দুই কবরস্থানে দাফন করতে হয় তাঁদের।

দুই গ্রামের আশপাশে কয়েকটি সরকারি খাসজমি আছে। সেগুলোর একটিকে কবরস্থান করার জন্য এলাকার লোকজন কয়েকবার আবেদন করেছেন, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

কুর্শা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, খাসজমিতে কবরস্থান করার জন্য দুই গ্রামের বাসিন্দারা গত বছরের ১০ অক্টোবর রংপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিস জমি ঘুরে একটি প্রতিবেদন উপজেলা ভূমি অফিসে দাখিল করেছে।

ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের দিনমজুর সেনি মামুদ বলেন, ‘চেয়ারম্যান প্রত্যেকবারে কয় ভোট দেও, এবার তোমার কবরস্থানের ব্যবস্থা করি দিমো। ভোট দেই, চেয়ারম্যান হয়, কিন্তু কবরস্থানের ব্যবস্থা করে না। আমরা রিলিফের চাল চাই না, মরার পর যেন সাড়ে তিন হাত মাটিতে শরীরটা ঢাকতে পারি এমন একটা জায়গা চাই।’

গতকাল বৃহস্পতিবার ওই গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ঘনবসতি এলাকা। গলি ধরে যেতে হয় বিভিন্ন বাড়িতে। কেউ বাড়ির সামনে, কারও ঘরের পাশে, কেউ আঙিনায়, কেউ রাস্তার ধারে স্বজনদের কবর দিয়েছেন। প্রতিটি বাড়িই যেন একেকটি কবরস্থান।

জদ্দিপাড়ার বৃদ্ধ আতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমার বয়স ৭০ বছর। জানি না আর কত দিন বাঁচব। খাওয়া-দাওয়া, ঘুমানোর কোনো চিন্তা নেই। শুধু একটাই চিন্তা, মরার পরে কোথায় আমার লাশ দাফন হবে?’

এ বিষয়ে কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজালুল হক বলেন, ‘ওই দুই গ্রামের মানুষের জন্য একটি কবরস্থান খুবই জরুরি। জায়গার অভাবে তাঁরা ঘরের পাশে স্বজনদের কবর দিচ্ছেন। বিষয়টি আমি আগের ইউএনওকে (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) জানিয়েছিলাম। এখন নতুন ইউএনও এসেছেন। তাঁকেও বলব যেন সরকারিভাবে একটি কবরস্থান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।’

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইলোরা ইয়াসমিন জানান, আবেদন করে থাকলে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। কবরস্থানের জায়গায় না থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে গ্রামবাসী জায়গা পাওয়ার যোগ্য হলে কবরস্থানের জন্য খাসজমি পেতেও পারেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত