Ajker Patrika

শর্ত মেনেই আইএমএফের ঋণ

জয়নাল আবেদীন খান, ঢাকা
আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২২, ১২: ১৩
শর্ত মেনেই আইএমএফের ঋণ

করোনার পরে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও রিজার্ভে শনির দশা কাটছে না। আর ডলার-সংকট, বাজেট ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি-সংকটে চাপে সরকার। এমন সংকটময় পরিস্থিতি সামলাতে দেশি-বিদেশি ঋণের পথে হাঁটছে সরকার। তবে বৃহৎ ঋণদাতা সংস্থা আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) একগাদা শর্ত জুড়ে দিয়ে আসছে। আর সরকার বাধ্য হয়ে শর্ত মেনেই ঋণ নিতে যাচ্ছে, এমন আভাস সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র জানায়, এবার আইএমএফের কাছ থেকে মাত্র সাড়ে ৪ বিলিয়ন ঋণ পেতে রিজার্ভের গণনাপদ্ধতি প্রণয়নে আইএমএফের পূর্বের শর্ত মেনে নিতে বলা হয়েছে। আর সংস্থাটিও এই শর্তটি বাস্তবায়নে অনমনীয় রয়েছে। কিন্তু সংস্থাটির শর্তকে এতদিন বাংলাদেশ ব্যাংক পাত্তাই দেয়নি। তবে সরকারের নির্দেশে এবার নমনীয় অবস্থানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু আইএমএফের শর্ত মেনে রিজার্ভ হিসাব করলে তা বর্তমান ৩৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন থেকে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের ঋণ বাবদ প্রায় সাড়ে ৮ বিলিয়ন বাদ দিতে হবে। এতে ২৮ বিলিয়নে নেমে আসতে পারে রিজার্ভ, যা দিয়ে মাত্র সাড়ে ৪ মাসের মতো আমদানি বিল পরিশোধযোগ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক জিএম আবুল কালাম আজাদ আজকের পত্রিকা’কে বলেন, আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক মিশনের প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বুধবার ঢাকায় এসেছে। সংস্থাটির প্রতিনিধিদল ২৭ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর ঢাকায় অবস্থান করবে। এ সময় তারা অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ঋণ কর্মসূচি, আর্থিক খাতের সংস্কার ও রিজার্ভ প্রভৃতি ইস্যুতে আলোচনা করবে।

ওই সূত্র জানায়, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বেঁধে না দিয়ে তা বাজারভিত্তিক করতে ফের আলোচনায় আনতে যাচ্ছে আইএমএফ। আর আমানত ও ঋণের সুদের হারে আরোপিত সীমা যথাক্রমে ৬ শতাংশ ও ৯ শতাংশ প্রত্যাহারের তাগিদ রয়েছে সংস্থাটির। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার গত জুলাইয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে তা তুলে দেওয়ার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। পাশাপাশি মন্দ ঋণ কমাতে বলা হলেও তা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সংস্থাটি সম্ভাব্য খেলাপি ঋণ রোধে গৃহীত পদক্ষেপ জানতে চেয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে বরং খেলাপিদের ছাড় দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর আজকের পত্রিকাকে বলেন, দেশে ব্যালেন্স অব পেমেন্টে বড় ঘাটতি দেখা দেয়া ও এক্সচেঞ্জ রেট আয়ত্তে রাখতে না পারায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব রিজার্ভে পড়েছে। এই জায়গাতেই আইএমএফের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

এদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মূল্যস্ফীতি কমাতে নিত্যপণ্যে সরকারের দেওয়া ভর্তুকি কর্তনের কথা বলেছে আইএমএফ। এ ছাড়া রাজস্ব খাতে সংস্কার, কর জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সূচকের হালনাগাদ বাস্তব তথ্য চেয়েছে আইএমএফ।

ড. মনসুর বলেন, এখন দেশের অর্থনীতি যে অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, তাতে আইএমএফের সংস্কার শর্ত মানা ছাড়া সরকারের সামনে তেমন একটা বিকল্প নেই। আর আইএমএফের একটি স্টেটমেন্ট বিশ্লেষণ করে ধারণা হয়েছে, সংস্থাটির শর্তের বিষয়ে সরকারের কিছুটা সম্মতি রয়েছে। এবারের আলোচনায় তা পরিষ্কার হবে।

ইতিমধ্যে আইএমএফের ঋণ পেতে সরকার জ্বালানি তেল ও সারের দাম বাড়িয়ে ভর্তুকি কিছুটা কমিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়হার আংশিকভাবে হলেও বাজারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আইএমএফের ঋণ পেলে অন্যান্য বিদেশি সংস্থার ঋণ পাওয়ার পথ সুগম হবে। সরকারের উচিত শর্তের চেয়ে ঋণ পাওয়ায় জোর দেওয়া। এ ধরনের ঋণ রিজার্ভকে স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ডলার মার্কেটে স্বস্তি ফেরাতে সহায়ক হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত