Ajker Patrika

কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রকল্পে এত অনিয়ম?

আল মামুন জীবন, বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও)
Thumbnail image

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের শিক্ষক নিয়োগে মানা হয়নি নিয়ম। আবার টাকা তোলার দুই বছরেও ক্লাবের সব সদস্য পাননি সরঞ্জাম ও পোশাক। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করা নারী ইউপি সদস্যরাও পাননি তাঁদের মাসিক সম্মানী ভাতা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৯ সালে সারা দেশের মতো ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে শুরু হয় কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের কাজ। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আট ইউনিয়নের একজন সংগীতশিক্ষক এবং একজন আবৃত্তিশিক্ষক নিয়োগের জন্য বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২০২০ সালের ১৩ মার্চ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ  হয়। বিজ্ঞপ্তির ২ নম্বর শর্ত অনুযায়ী বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের নিয়োগ দেওয়ার কথা স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও মানা হয়নি শর্ত।

শর্ত ভেঙে নিজ অফিসের কর্মচারীদের আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগ দিয়েছেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিক। তবে ওই সব প্রার্থীর অনেকেরই বিজ্ঞপ্তি অনুসারে যোগ্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে বড় পলাশবাড়ী ইউনিয়নের আবৃত্তিশিক্ষক হিসেবে মণি আক্তারকে নিয়োগ দেখিয়ে তাঁর নামে বেতন-ভাতা তুলেছেন বেলাল ছিদ্দিক। মণি আক্তার নিজেও জানেন না, তিনি চাকরি পেয়েছেন। মণি বলেন, ‘চাকরি আমার হয়েছে, আপনাদের কাছে শুনলাম। এর বেশি কিছু জানি না।’ আবার সংগীতশিক্ষক সুমনা রানী ও রুবা আক্তারকে মৌখিকভাবে অব্যাহতি দিলেও তাঁদের বেতন-ভাতা তোলা হচ্ছে নিয়মিত।

প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী আট ইউনিয়নের কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ২৪০ জন সদস্যের জন্য পোশাক ও যাবতীয় সরঞ্জাম কেনার টাকা তোলার দুই বছর পর পাঁচটি ইউনিয়নের ক্লাবে সরঞ্জাম পৌঁছানো হয়েছে কয়েক মাস আগে। বাকি তিনটি ইউনিয়নের ক্লাবের সদস্যরা এখনো সরঞ্জাম পায়নি। পোশাক দেওয়া হয়নি কোনো সদস্যকেও।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করেছেন আট ইউনিয়নের আটজন সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে তাঁদের দুই হাজার টাকা করে সম্মানী দেওয়ার কথা থাকলেও আটজনের মধ্যে দুজন কোনো টাকা পাননি। অন্য ছয়জন পেয়েছেন মাত্র দুই হাজার টাকা করে। অথচ দুই বছর প্রত্যেকের প্রায় ৪৮ হাজার টাকার বেশি সম্মানী পাওয়ার কথা।

দুওসুও ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মিনা বেগম বলেন, ‘দুবার ১৬ হাজার টাকা করে ৩২ হাজার টাকার বিল ভাউচারে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা। অথচ দিয়েছেন দুই হাজার টাকা। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও বরাবর অভিযোগ করব।’

একইভাবে সম্মানীর টাকা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ধনতলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মাকসুদা বেগম, চাড়োল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য রাহেনা বেগম ও বর্তমান ইউপি সদস্য সীতা রানী, আমজানখোর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য লিপি বেগম।

একটি সূত্রে জানা গেছে, ক্লাবগুলোতে ক্লাসের দিন শিক্ষকদের দৈনিক হাজিরা ৫০০ টাকা এবং সদস্যপ্রতি নাশতা বরাদ্দ ৩০ টাকা থাকলেও অনুপস্থিত সদস্য ও শিক্ষকদের দৈনিক হাজিরা ও নাশতার বরাদ্দ খরচের হিসাবের কোনো মিল নেই। শতভাগ উপস্থিতি দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়োগ পাওয়া অধিকাংশ শিক্ষক গান ও আবৃত্তি সম্পর্কে পারদর্শী নন। এর ফলে সদস্যরা ক্লাবে আসা-যাওয়া করলেও শিক্ষার্থীরা কিছু শিখতে পারছেন না।

অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিক বলেন, ‘আমি তো এখানে চুরি করতে আসিনি যে যা ইচ্ছে তাই করব। প্রকল্পটির সভাপতি ইউএনও। তাঁর হুকুমের বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। ইউপি সদস্যদের টাকা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁদের টাকা দেওয়া হবে। অফিসে জনবলসংকটের কারণে সব সামলানো সম্ভব হচ্ছে না।’

এ বিষয়ে জানতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল কুমারের মোবাইল ফোনে কয়েকবার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত