Ajker Patrika

১৫ বছর ধরে পাঠাগার দখল করে পুলিশ ফাঁড়ি

মো. নাজিম উদ্দিন ইমন, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)
আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০: ৪২
১৫ বছর ধরে পাঠাগার দখল করে পুলিশ ফাঁড়ি

কেরানীগঞ্জ উপজেলা চত্বরে অবস্থিত কবি সিরাজুল ইসলাম পাবলিক লাইব্রেরি। একসময় এই পাঠাগারে মরমি কবি সিরাজুলের রচিত অনেক গানের সংকলন, বই এবং তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন বই রাখা হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণির পাঠকের জন্য বই ও জাতীয় পত্রিকা রাখা হতো নিয়মিত। কিন্তু ১৫ বছর ধরে ব্যবহার করা হচ্ছে পুলিশ ফাঁড়ি হিসেবে।

‘আল্লাহু তুমি জাল্লেজালালুহ’—এ রকম অসংখ্য বিখ্যাত গীতিকবিতার রচয়িতা মরমি কবি সিরাজুল ইসলাম। ১৯৩০ সালের ২ সেপ্টেম্বর দেশের প্রখ্যাত এই গুণী মানুষের জন্ম হয় কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা ইউনিয়নের গোকুলচর গ্রামে। ২০০২ সালের ৯ জুন নিজ বাড়িতেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তাঁর লেখা বিখ্যাত গানগুলো এখনো রয়েছে মানুষের মুখে মুখে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৪৮ সাল থেকে সংগীতচর্চা শুরু করেন কবি সিরাজুল ইসলাম। পরে ১৯৫৪ সালে তিনি রেডিওর গীতিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৬৪ সালে ঢাকায় টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপিত হলে তিনি সেখানেও গীতিকার হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। কবির লেখা গানে কণ্ঠ দিয়েছেন অনেক খ্যাতনামা কণ্ঠশিল্পীরা। তিনি ছিলেন বাংলা একাডেমির আজীবন সদস্য। পরে তিনি নিজ বাড়িতে এলাকার মানুষের জ্ঞানচর্চার জন্য স্থাপন করেন একটি পাঠাগার, যার নাম ‘বই বাগান’।

জানা যায়, মৃত্যুর পরে কবির প্রিয় বই বাগানের একটি কক্ষেই দাফন করা হয় কবির মরদেহ। পরে কবির স্মরণে ২০০২ সালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চত্বরে কবি সিরাজুল ইসলাম পাবলিক লাইব্রেরি নামে একটি পাঠাগার স্থাপন করা হয়। এই পাঠাগারে মরমি কবি সিরাজুলের রচিত অনেক গানের সংকলন, বই এবং তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন বই রাখা হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণির পাঠকের জন্য বই ও জাতীয় পত্রিকা রাখা হতো নিয়মিত। কিন্তু ২০০৭ সালের শেষের দিকে জরুরি প্রয়োজনে পাঠাগারটি বন্ধ করে দিয়ে সেখানে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। সরিয়ে নেওয়া হয় বইপত্র। পাঠাগারে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের ১৫ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কেউই।

কবি সিরাজুল ইসলামের পুত্রবধূ খালেদা আক্তার সিমা বলেন, সরকার কবির স্মৃতি ধরে রাখতে কবি মারা যাওয়ার পর উপজেলা চত্বরে নির্মাণ করেন কবি সিরাজুল ইসলাম পাবলিক লাইব্রেরি। কিন্তু লাইব্রেরি চালু করার পাঁচ বছর অতিবাহিত হতেই সেটি বন্ধ করে দিয়ে স্থাপন করা হয় পুলিশ ফাঁড়ি।

খালেদা আক্তার আরও বলেন, কবি জীবদ্দশায় মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। এখন সরকারের উচিত কবির ইতিহাস ও বইগুলো সংরক্ষণ করা। ১৫ বছর ধরে একটি পাঠাগারে পুলিশ ফাঁড়ি, অথচ কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।

কোনাখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফজলুল হক বলেন, ‘অনেক বছর ধরে পাঠাগারেই রয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি। পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মকর্তা ছাড়াও ১৯ জনের ফোর্স রয়েছে। আধুনিক পুলিশ ফাঁড়ির কোনো সুযোগ-সুবিধাই নেই এখানে। অনেকটা গাদাগাদি করে এখানে কাজ করতে হয়। আমরাও চাই না পাঠাগারে পুলিশ ফাঁড়ি থাকুক। আমাদের নিজস্ব একটি ভবন হলেই আমরা পাঠাগারটি ছেড়ে দেব।’

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, ‘কোনাখোলা পুলিশ ফাঁড়িটির অবস্থা অত্যন্ত অবর্ণনীয়। ফাঁড়ির ভবনটির অবস্থাও জীর্ণশীর্ণ। যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে ভবনটি। এ বিষয়ে আমরা একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি, কিন্তু তারা ঠিকমতো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

শাহাবুদ্দিন কবির আরও বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের নিরাপত্তার জন্য ফাঁড়িটি জরুরি। আমাদের জায়গা দিলে আমরা ভবন নির্মাণ করে নেব। এ বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি।’

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, ‘পাঠাগারে পুলিশ ফাঁড়িটি আসলে অনেক বছর আগেই স্থাপিত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। পুলিশের পক্ষ থেকেও একাধিকবার আমাদের কাছে আবেদন করেছে। তবে প্রয়োজনীয় জমি পেলেই আমরা ফাঁড়িটি স্থানান্তর করতে পারব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

১০০ বছর পর জানা গেল, ‘অপ্রয়োজনীয়’ প্রত্যঙ্গটি নারীর প্রজননের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

‘এই টাকা দিয়ে কী হয়, আমি এত চাপ নিচ্ছি, লাখ পাঁচেক দিতে বলো’, ওসির অডিও ফাঁস

কিশোরগঞ্জে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের এপিএস মোয়াজ্জেমকে অব্যাহতি

ঘন ঘন নাক খুঁটিয়ে স্মৃতিভ্রংশ ডেকে আনছেন না তো!

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত