Ajker Patrika

জীবিত হোক বা মৃত, আমার মানিককে ফিরিয়ে দিন

বন্দর (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৯: ৪৬
জীবিত হোক বা মৃত, আমার মানিককে ফিরিয়ে দিন

দ্বিতীয় দিনেও উদ্ধার করা যায়নি নারায়ণগঞ্জে ধলেশ্বরীতে ডুবে যাওয়া ট্রলার ও নিখোঁজ যাত্রীদের। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস, নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএ’র ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান চালায়। ট্রলার ডুবির ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলম হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সকাল থেকে নদীতে প্রচুর কুয়াশার কারণে উদ্ধার অভিযানে ব্যাঘাত ঘটছে। আমরা নদীতে কয়েটি ভাগে উদ্ধার অভিযান করছি। নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড ও বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলও নদীতে নেমেছে। তবে এখনো ডুবে যাওয়া ট্রলারের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি নিখোঁজ যাত্রীদেরও সন্ধান মেলেনি।’

উদ্ধার অভিযান চলাকালে ধলেশ্বরী নদীর উভয় পাড়ে অপেক্ষা করেছে নিখোঁজদের স্বজনেরা। দুই দিনেও কোনো মৃতদেহ খুঁজে না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। বারবার আহাজারি করে প্রিয় মানুষটিকে ফিরে পেতে চাচ্ছেন। তাদের মধ্যে কারও সন্তান, কারও ভাই এবং নিজের সহকর্মীর সন্ধানে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া ট্রলারের যাত্রীদের মধ্যে এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন সাব্বির হোসেন, আওলাদ হোসেন, জিয়াসমিন আক্তার ও তাঁর মেয়ে তাসমিন আক্তার, ছেলে তামিম এবং দুই বছরের শিশু তাসফিয়া, মোতালেব মিয়া, আব্দুল্লাহ ও শামসুদ্দিন।

নিখোঁজ সাব্বিরের বাবা বলেন, ‘আমরা কিছু চাই না জীবিত হোক বা মৃত হোক আমার বুকের মানিককে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন।’

নিখোঁজ আব্দুল্লাহর বোন জানান, ‘আমার ভাইয়ের শুক্রবার বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। আমার বিয়েতে যেতে পারে নাই বলে কী কষ্ট পাইছিল ভাই আমার। কিন্তু আর দেখা হলোনা ভাইয়ের সঙ্গে।’

ট্রলার ডুবির ঘটনায় বুধবার রাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের নৌ নিরাপত্তা বিভাগের উপপরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মেসার্স ফারহান নেভিগেশনের এমভি ফারহান-৬ লঞ্চের মাস্টার কামরুল হাসান (৪০), ইনচার্জ ড্রাইভার জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া (৪০) ও সুকানি জসিম মোল্লাকে (৩০) আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বক্তাবলীর নৌ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আব্দুল মতিন। এর আগে বুধবার ট্রলারটিকে ধাক্কা দেওয়া লঞ্চটি ও এর মাস্টার, ইনচার্জ ও সুকানিকে কেরানীগঞ্জ থেকে আটক করে নৌ পুলিশ।

মামলায় উল্লেখ্য করা হয়, বুধবার সকাল সাড়ে ৮ আটটার দিকে ফতুল্লা ধর্মগঞ্জ খেয়াঘাট কুয়াশার মধ্যে খেয়া পারাপারের সময় ফারহান-৬ বেপরোয়া গতিতে ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীসহ ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা যাত্রীরা এতে আহত হলে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। তবে এই ঘটনায় ৯ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে।

ঘন কুয়াশার সময় যাত্রীবাহী নৌ-যান চলাচল করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও নৌযানটি চলাচল করার কারণে যাত্রীবাহী ট্রলারটি দুর্ঘটনা কবলিত হয়। লঞ্চের মাস্টার, ড্রাইভার এবং সুকানির খামখেয়ালিপনা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদ আজকের পত্রিকাকে জানান, বৃহস্পতিবারের মতো উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত