Ajker Patrika

‘বাড়ি বদলেছি ২১ বার, ভাঙন দেখতে দেখতে চুল সাদা হয়ে গেল’

জামালপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৪, ২০: ৩৮
‘বাড়ি বদলেছি ২১ বার, ভাঙন দেখতে দেখতে চুল সাদা হয়ে গেল’

জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। ভাঙন দেখা দিয়েছে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নে। গত এক সপ্তাহের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৩০টি বাড়ি ও ফসলি জমি। হুমকির মুখে পড়েছে মাঝিপাড়া গ্রামের দেড় হাজার পরিবার। 

ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ জানিয়েছেন, অনেকে বাড়িঘর, ফসলি জমি হারিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন ঠেকানো না গেলে মাঝিপাড়া গ্রামটিও নদীগর্ভে চলে যাবে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি ভাঙন ঠেকাতে সমীক্ষা প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ করতে পারব। 

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। উপজেলার চিকাজানী ইউনিয়নের চর ডাতাকিয়া, কাজলাপাড়া, মণ্ডল বাজার, বরখাল, হাজারীগ্রাম, খানপাড়া, পলাশপুর, জালিপাড়া ও মাঝিপাড়া গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি। ইতিমধ্যে একটি প্রাইমারি স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, ডাকাতিয়া গুচ্ছগ্রাম, আদর্শ গ্রামসহ ১০টি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ৫০ বাড়ি ভেঙে ১ হাজার ২০০ পরিবার ভিটেমাটি হারা হয়েছে। 

ভাঙনকবলিতরা জানিয়েছেন, ১০ বছর ধরে ভাঙছে। প্রায় ২০ হাজার বাড়িঘর, হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি নদীতে গেছে। একসময় এই জমিতে ইরি বোরো ধান, মরিচ, ভুট্টা, আখ, বেগুন, শাকসবজি চাষ হতো। আর পেঁয়াজের জন্য বিখ্যাত ছিল এই এলাকা। সবকিছুই নদীতে গেছে। কেউ কেউ ২১ বার বাড়ি বদল করে এখন রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে। এখন আর কেউ জায়গা দেয় না। নদীর পারের ভাঙনকবলিত মানুষের দাবি এখন জেলে সম্প্রদায়ের মাঝিপাড়া গ্রামটি হুমকির মুখে। এই গ্রামের দেড় হাজার মানুষের চোখে ঘুম নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন ঠেকানো না গেলে তাদের সবকিছু হারিয়ে আশ্রয় নিতে হবে অন্যত্র। 

চর ডাকাতিয়া গ্রামের ৬৫ বছরের হাবিব বলেন, ‘ছোটবেলায় দাদার সঙ্গে যমুনা নদী দেখার জন্য নৌকায় যেতে ৩ ঘণ্টা লাগত। এখন তো নদীই প্রতিদিন আমগরে দেখতাছে। এই জীবনে ২১ বার বাড়ি বদল করেছি। নদীভাঙন দেখতে দেখতে কালা চুল সাদা হয়ে গেল। অনেক জমিজমা ছিল। বোরো ধানের আবাদ করতাম, পেঁয়াজের আবাদে যে এলাকা বিখ্যাত ছিল; সেটা এখন নদী। মরিচ-ভুট্টা সবই করতাম এখন রাস্তায় থাকি। ১৫-২০ বছর ধরে ভাঙছে। কেউ তো আমাদের দেখে না।’ 

একই গ্রামের ৬০ বছরের হাবিব মিয়া বাঁশঝাড়ের নিচে পাঁচজন মিলে লবণ দিয়ে চিড়া খাচ্ছেন। এটাই তাঁদের দুপুরের খাবার। আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা হয় তাঁর। তিনি বলেন, ‘কী আর শুনবেন, সবই তো শেষ। গোয়ালভরা গরু, ফসলি জমি মসজিদ মাদ্রাসা, স্কুল, কবরস্থান সবকিছু নদী খাইছে। সারা রাত চোখে ঘুম নাই। কখন জানি আবার শেষ আশ্রয়ও নদীতে যায়। তিনটি আদর্শ গ্রাম ছিল। প্রায় শতাধিক গ্রাম ছিল সব শেষ। এখন মাঝিপাড়া গ্রামটা আছে। এখানে দেড় হাজার পরিবারের বসবাস। এই গ্রামটা চলে গেলে সবাইকে অন্যত্র যেতে হবে। গত বছর প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছে। সরকার যদি ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এই গ্রামটি নদীগর্ভে চলে যাবে।’ 

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পানি বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন রয়েছে। আমরা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পরিদর্শন করি। সেখানে জরুরি কাজ বাস্তবায়ন করে থাকি। বড়খাল ও খোলাবাড়িতে যে ভাঙন রয়েছে, সেখানে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য আমাদের একটি সমীক্ষা প্রকল্প যমুনার নদীর সিস্টেমে বাম তীরে চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় যে সুপারিশ আসবে, সেই মোতাবেক প্রকল্প দাখিল করতে পারব। এই এলাকায় জরুরিভাবে কাজ বাস্তবায়নের জন্য ৭০০ মিটার অংশে প্রস্তাবনা দাখিল করা আছে। অনুমোদন হলে জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করতে পারব।’ 

গত এক সপ্তাহে চর ডাকাতিয়া বড়খাল ও মাঝিপাড়া গ্রামের ৩০টি বাড়িসহ কয়েক শ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে আরও দেড় হাজার পরিবার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

বাড়ির পাশের বাগানে মিলল সাবেক ইউপি সদস্যের লাশ

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

দিনাজপুরের হিলিতে বাড়ির পাশের বাগান থেকে এক সাবেক ইউপি সদস্যের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়নের গড়িয়াল গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে আজ শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক।

নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর সবুর আকন্দ (৬৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত অকিল আকন্দের ছেলে ও বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য।

পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি নাজমুল হক বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার রাতে এশার নামাজের পর বাসা থেকে বের হোন। এরপর তিনি বাসায় ফিরে না এলে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের বাগান থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ঝিনাইদহে ছুরিকাঘাতে যুবদল কর্মীর মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
মুরাদ মণ্ডল। ছবি: সংগৃহীত
মুরাদ মণ্ডল। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি সিটি মোড়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাতিজার ছুরির আঘাতে চাচা মুরাদ মণ্ডল (৩৭) মারা গেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। মুরাদ পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং যুবদল কর্মী। সে পবহাটি এলাকার আফজাল মণ্ডলের ছেলে।

এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ভাতিজা সৌরভ মণ্ডলসহ অন্যরা পলাতক। আর ঘটনাস্থল থেকে জড়িতদের ব্যবহৃত ৩টি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত সৌরভ আলম মণ্ডলের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘হাসপাতালে আসা মুরাদের নাভি বরাবর ছুরির আঘাতের ক্ষত পাই। শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষতের কারণে তাঁর মৃত্যু হতে পারে বলে আমাদের প্রাথমিক ধারণা। নিহতের মাথায়ও ক্ষত ছিল।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কয়েকজন লোক হঠাৎ করেই দোকানে আসে। তাদের সবার বয়সই আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর হবে। এর মধ্যে কয়েকজন দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে আর আমি তিনজনকে ঠেকাই। কিন্তু যারা দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে তারাই মুরাদকে মেরেছে। শুধু সৌরভকে চিনতে পারছি, বাকিদের চিনতে পারিনি।’

নিহতের স্ত্রী মোছা. সাথী বলেন, ‘আমার সন্তানরা এতিম হয়ে গেল। সন্তানদের কে দেখবে। যারা আমার স্বামীকে মেরেছে, তাদের যেন আল্লাহ কঠিন শাস্তি দেন।’

নিহতের স্ত্রীর বড় ভাই ও জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক দাউদ হোসেন বলেন, ‘আমার দোকানে ঢুকেই সৌরভসহ অন্যরা মিলে মুরাদকে হত্যা করেছে। মুরাদের পেটে ছুরি মারে সৌরভ। মুরাদ আমার সঙ্গেই যুবদল করত। মুরাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে আজ এতিম হয়ে গেল। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনে।’

ঝিনাইদহ সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সামছুজ্জোহা বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা জড়িতদের আটকের চেষ্টা করছি। থানায় এখনো কোনো মামলা করা হয়নি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত

নড়াইল প্রতিনিধি 
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে হান্নান খান (৬০) নামের এক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

হান্নান খান উপজেলার বুড়িখালি গ্রামের মৃত জরিফ খানের ছেলে। গতকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামে সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন।

নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িখালি গ্রামের বিরোধপূর্ণ একটি জমির মালিকানা নিয়ে ওই গ্রামের আয়ুব মোল্যা ও মিন্টু খানের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গতকাল সকালে বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে তাঁরা সংঘর্ষে জড়ালে মিন্টু খানপক্ষের হান্নান খান, ফারুক ভূঁইয়া, রাজিব ভূঁইয়া ও তবিবর ভূঁইয়া আহত হন। স্বজনেরা দ্রুত আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত ওই চারজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ ভোরে হান্নান খান মারা যান।

পরিদর্শক জামিল কবির জানান, ঘটনাস্থল অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ভোলায় ছাত্রদল-যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা স্বতন্ত্র প্রার্থীর

ভোলা প্রতিনিধি
ভোলায় ছাত্রদল-যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা স্বতন্ত্র প্রার্থীর

ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ খোকনের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ সকালে মহিবুল্লাহ খোকন নিজেই বাদী হয়ে দৌলতখান থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি মো. হারুন দৌলতখান উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। এজাহারনামীয় অন্য আসামি লাভু উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং বর্তমানে তিনি যুবদলে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মামলার অভিযোগপত্রে মহিবুল্লাহ খোকন জানান, তিনি ভোলা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার পর থেকে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হারুন তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকিসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। গত ২৯ জুন দৌলতখান থানায় হারুনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। জিডি করার জেরে গতকাল শুক্রবার রাতে দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ মাথায় সেলিম চত্বরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় আসামিরা তার প্রাইভেটকার আটকিয়ে তাকে গালমন্দ ও মারধর করেন। এই সময় আসামিরা প্রাইভেট কারের পেছনের গ্লাস ভেঙে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন।

দৌলতখান থানার ওসি মো. জিল্লুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ভোলা-২ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ খোকনের ওপর হামলার ঘটনায় দৌলতখান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি উপজেলা ছাত্রদল নেতা হারুনের বিরুদ্ধে থানায় জিডিসহ আরও মামলা রয়েছে।

মামলার বিষয়ে ছাত্রদল নেতা হারুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা যেহেতু রাজনীতি করি। সুতরাং, প্রতিপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ করতেই পারে। আইন সবার জন্য সমান।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির মনোনীত চূড়ান্ত তালিকা হওয়ার আগপর্যন্ত অনেকেই নামে-বেনামে প্রার্থী ছিল। আমরা যারা দল করি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থী বা তাদের প্রতিহত করাই আমাদের কাজ। যারা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারে তারা থানায় যায়, অভিযোগ দেয় এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত