Ajker Patrika

আ. লীগকে নিজের দল দাবি দেওয়ানগঞ্জ ওসির, বিজয়ী করতে চাইলেন ভোট 

এম. কে. দোলন বিশ্বাস, ইসলামপুর (জামালপুর)
আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৩, ১১: ১৮
আ. লীগকে নিজের দল দাবি দেওয়ানগঞ্জ ওসির, বিজয়ী করতে চাইলেন ভোট 

আওয়ামী লীগকে আবারও সরকারে দেখতে চান জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল চন্দ্র ধর। প্রকাশ্যে মাইকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগকে ‘বিপুল ভোটে’ জয়ী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। এ ছাড়া দেওয়ানগঞ্জ পৌর মেয়রকে ‘সুযোগ্য’ এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যকে ‘নয়নের মণি’ বিশেষণে অভিহিতও করেছেন ওসি। জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় ওসির দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 
 
পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত থেকে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে প্রকাশ্যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় দেখতে চাওয়ায় ওসির পুলিশিং কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ওসির দাবি, ‘যা বলার তা তিনি বলেছেন, এতে যদি চাকরি চলে যায়, তাতেও তাঁর কোনো অসুবিধা নেই।’ 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট দুপুরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভা আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভা মাঠে অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ। এতে সভাপতিত্ব করেন দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র শেখ মোহাম্মদ নুরুন্নবী অপু। 

ওসি শ্যামল চন্দ্র ধর তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘দোয়া ও খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানের সম্মানিত সভাপতি পৌরসভার সুযোগ্য মেয়র নুরনবী অপু। উপস্থিত আছেন আমাদের নয়নের মণি, দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ থেকে বারবার নির্বাচিত প্রতিনিধি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী মহোদয় আমাদের মাটি ও মানুষের নেতা জনাব আবুল কালাম আজাদ। আরও উপস্থিত আছেন, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সেক্রেটারি, সাধারণ সদস্যবৃন্দ, উপজেলা পরিষদ, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বোনেরা আমার ভাইয়েরা আমার সবাই আমার ছালাম নেবেন। ১৫-ই আগস্ট শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে হত্যার ঘৃণিত এই দিনে ঘৃণিত খুনিদের শাস্তি হোক। সব খুনিরাই কিন্তু শাস্তি পায় নাই। সবাইকে ফাঁসি দিয়ে ঝুলাইতে পারি নাই, শুধু কুচক্রী মহলের জন্য। আমরা চেয়েছিলাম। জাতির জনকের জন্য পেয়েছি আমরা লাল সবুজের পতাকা। যাঁর জন্য পেয়েছি আমরা এই স্বাধীন বাংলাদেশ। বাংলাদেশ মানেই শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ মানেই জাতির জনকের দেশ। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ।’ 

আগের দিন ১৪ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যু ঘিরে দেশব্যাপী সাঈদীর অনুসারীদের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গের ইঙ্গিত করে ওসি শ্যামল চন্দ্র ধর বলেন, ‘গতকাল আমরা এক কুচক্রী মহলের অনেক উসকানি দেখেছি। সুতরাং এগুলো থেকে আপনারা সাবধান থাকবেন এবং সামনে আমাদের নির্বাচন আসছে, আপনারা সবাই সতর্ক দৃষ্টি রেখে আমাদের দলের কাজ করে, আগামী সরকার যাতে আমরা পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকারকে বিপুল ভোটে জয় করতে পারি। সেই প্রত্যাশা রেখে আপনাদের সবাইকে আমার দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার পক্ষ থেকে ছালাম দিয়ে শেষ করলাম আজকের এই বক্তব্য। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। জয় হোক আপনাদের সকলের।’ 

এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি শ্যামল চন্দ্র ধরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মোবাইল ফোনে বলেন, ‘হ্যাঁ আমি বক্তব্য দিয়েছি।’ 

রাজনৈতিক দলের পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য দিতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনাকে জবাব দিতে আমি বাধ্য না। আপনি ফিল্ডে কাজ করেন। আমিও ফিল্ডে কাজ করি। ঠিক আছে? উভয়ে ফিল্ডের মানুষ। অন্য বিষয়ে থাকলে বলেন।’ 

আপনাদের দল বলতে আওয়ামী লীগকে বুঝিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দাম্ভিকতার স্বরে শ্যামল চন্দ্র বলেন, ‘আমি ওসি দেওয়ানগঞ্জ ঠিক আছে। আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ করে এখানে এসেছি। আওয়ামী লীগকে বিজয় করতে ভোট চেয়েছি। এতে যদি আমার চাকরি চলে যায়, অসুবিধা নেই। এটুকুই আমার বলা। চাকরি গেলে যাকগা। আমার রিজিকে যা আছে, তাই করে খাবো। আপনি সাংবাদিক সাংবাদিকের জায়গায় থাকেন, আমি আমার জায়গায় আছি, ধন্যবাদ।’ 

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দেওয়ানগঞ্জ সার্কেল) সুমন কান্তি চৌধুরী বলেন, ‘ওসি কখন তাঁর বক্তব্যে কী বলেছে, সেটা আমি জানি না।’ 

জামালপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘ওসির বক্তব্যের বিষয়টি আমার নলেজে নেই। এটি ব্যক্তিগত দায়। তবে ইউনিফর্ম পরে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য ভোট চাওয়া, না চাওয়া একান্তই তাঁর (ওসির) ব্যক্তিগত বিষয়। এর থেকে আমার আর কিছু বলার নেই।’ 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, ‘নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে বিপুল ভোটে বিজয় করার প্রত্যাশা করাসহ ওসির পুরো বক্তব্যই বেমানান। দলকানা না হলে, এমন রাজনৈতিক বক্তব্য ওসি দিতে পারেন না। এটা আইন অবমাননা।’ 

থানা সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৮ জুলাই দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি হিসেবে যোগদান করেন শ্যামল চন্দ্র ধর। এর আগে ২০২০ সালের অক্টোবর মাস থেকে দেওয়ানগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার সোহাগপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল চন্দ্র ধর ২০০১ সালে পুলিশ বাহিনীতে এসআই পদে যোগদান করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

বাড়ির পাশের বাগানে মিলল সাবেক ইউপি সদস্যের লাশ

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

দিনাজপুরের হিলিতে বাড়ির পাশের বাগান থেকে এক সাবেক ইউপি সদস্যের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার বোয়ালদাড় ইউনিয়নের গড়িয়াল গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে আজ শনিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক।

নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর সবুর আকন্দ (৬৫)। তিনি ওই গ্রামের মৃত অকিল আকন্দের ছেলে ও বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য।

পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি নাজমুল হক বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার রাতে এশার নামাজের পর বাসা থেকে বের হোন। এরপর তিনি বাসায় ফিরে না এলে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের বাগান থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ঝিনাইদহে ছুরিকাঘাতে যুবদল কর্মীর মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
মুরাদ মণ্ডল। ছবি: সংগৃহীত
মুরাদ মণ্ডল। ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি সিটি মোড়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে ভাতিজার ছুরির আঘাতে চাচা মুরাদ মণ্ডল (৩৭) মারা গেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। মুরাদ পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং যুবদল কর্মী। সে পবহাটি এলাকার আফজাল মণ্ডলের ছেলে।

এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ভাতিজা সৌরভ মণ্ডলসহ অন্যরা পলাতক। আর ঘটনাস্থল থেকে জড়িতদের ব্যবহৃত ৩টি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত সৌরভ আলম মণ্ডলের ছেলে।

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ‘হাসপাতালে আসা মুরাদের নাভি বরাবর ছুরির আঘাতের ক্ষত পাই। শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্ষতের কারণে তাঁর মৃত্যু হতে পারে বলে আমাদের প্রাথমিক ধারণা। নিহতের মাথায়ও ক্ষত ছিল।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কয়েকজন লোক হঠাৎ করেই দোকানে আসে। তাদের সবার বয়সই আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর হবে। এর মধ্যে কয়েকজন দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে আর আমি তিনজনকে ঠেকাই। কিন্তু যারা দোকানের মধ্যে ঢুকে পড়ে তারাই মুরাদকে মেরেছে। শুধু সৌরভকে চিনতে পারছি, বাকিদের চিনতে পারিনি।’

নিহতের স্ত্রী মোছা. সাথী বলেন, ‘আমার সন্তানরা এতিম হয়ে গেল। সন্তানদের কে দেখবে। যারা আমার স্বামীকে মেরেছে, তাদের যেন আল্লাহ কঠিন শাস্তি দেন।’

নিহতের স্ত্রীর বড় ভাই ও জেলা যুবদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক দাউদ হোসেন বলেন, ‘আমার দোকানে ঢুকেই সৌরভসহ অন্যরা মিলে মুরাদকে হত্যা করেছে। মুরাদের পেটে ছুরি মারে সৌরভ। মুরাদ আমার সঙ্গেই যুবদল করত। মুরাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে আজ এতিম হয়ে গেল। আমরা চাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনে।’

ঝিনাইদহ সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সামছুজ্জোহা বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা জড়িতদের আটকের চেষ্টা করছি। থানায় এখনো কোনো মামলা করা হয়নি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত

নড়াইল প্রতিনিধি 
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে হান্নান খান (৬০) নামের এক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

হান্নান খান উপজেলার বুড়িখালি গ্রামের মৃত জরিফ খানের ছেলে। গতকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বুড়িখালি গ্রামে সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন।

নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িখালি গ্রামের বিরোধপূর্ণ একটি জমির মালিকানা নিয়ে ওই গ্রামের আয়ুব মোল্যা ও মিন্টু খানের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গতকাল সকালে বিরোধপূর্ণ ওই জমি নিয়ে দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে তাঁরা সংঘর্ষে জড়ালে মিন্টু খানপক্ষের হান্নান খান, ফারুক ভূঁইয়া, রাজিব ভূঁইয়া ও তবিবর ভূঁইয়া আহত হন। স্বজনেরা দ্রুত আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত ওই চারজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আজ ভোরে হান্নান খান মারা যান।

পরিদর্শক জামিল কবির জানান, ঘটনাস্থল অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আটকের চেষ্টা চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

ভোলায় ছাত্রদল-যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা স্বতন্ত্র প্রার্থীর

ভোলা প্রতিনিধি
ভোলায় ছাত্রদল-যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা স্বতন্ত্র প্রার্থীর

ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ খোকনের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আজ শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ সকালে মহিবুল্লাহ খোকন নিজেই বাদী হয়ে দৌলতখান থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি মো. হারুন দৌলতখান উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। এজাহারনামীয় অন্য আসামি লাভু উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং বর্তমানে তিনি যুবদলে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মামলার অভিযোগপত্রে মহিবুল্লাহ খোকন জানান, তিনি ভোলা-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার পর থেকে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হারুন তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকিসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। গত ২৯ জুন দৌলতখান থানায় হারুনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। জিডি করার জেরে গতকাল শুক্রবার রাতে দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ মাথায় সেলিম চত্বরে নির্বাচনী প্রচারণার সময় আসামিরা তার প্রাইভেটকার আটকিয়ে তাকে গালমন্দ ও মারধর করেন। এই সময় আসামিরা প্রাইভেট কারের পেছনের গ্লাস ভেঙে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করেছেন।

দৌলতখান থানার ওসি মো. জিল্লুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ভোলা-২ আসনে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট মহিবুল্লাহ খোকনের ওপর হামলার ঘটনায় দৌলতখান থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি উপজেলা ছাত্রদল নেতা হারুনের বিরুদ্ধে থানায় জিডিসহ আরও মামলা রয়েছে।

মামলার বিষয়ে ছাত্রদল নেতা হারুন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা যেহেতু রাজনীতি করি। সুতরাং, প্রতিপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা বা অভিযোগ করতেই পারে। আইন সবার জন্য সমান।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির মনোনীত চূড়ান্ত তালিকা হওয়ার আগপর্যন্ত অনেকেই নামে-বেনামে প্রার্থী ছিল। আমরা যারা দল করি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থী বা তাদের প্রতিহত করাই আমাদের কাজ। যারা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারে তারা থানায় যায়, অভিযোগ দেয় এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত