ইশতিয়াক হাসান
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুহার দেখা পেতে হলে আপনাকে যেতে হবে ভিয়েতনামের গহিন অরণ্যে। সং ডুং নামের গুহাটি ১০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ। কোথাও কোথাও এর ছাদ ৬৫০ ফুটের বেশি উঁচু। বুঝতেই পারছেন, একটা চল্লিশতলা দালানও অনায়াসে পুরে দেওয়া যাবে এর ভেতরে।
ধারণা করা হয়, সং ডুং বা হাং সং ডুং গুহার বয়স ২০ থেকে ৫০ লাখ বছর। এটি পড়েছে ভিয়েতনামের কুয়াং বিন প্রদেশে। জায়গাটিতে এত এত গুহা আছে যে এটি ভিয়েতনামের গুহার রাজধানী হিসেবে পরিচিত। আরও নির্দিষ্ট করে বললে সং ডং গুহার অবস্থান ফোং নহা কে বেং ন্যাশনাল পার্কে। এখানকার গভীর জঙ্গলের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া বিশাল এক নদীর প্রবাহের সময় এই গুহার জন্ম।
একটা সময় পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুহা হিসেবে বিবেচনা করা হতো মালয়েশিয়ার ডিয়ার পার্কের। সেটার তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বড় সং ডুং গুহা। বুঝতেই পারছেন কত্ত বড় গুহাটি।
তবে মজার ঘটনা, এত বিশাল আকারের পরও এটির প্রবেশপথ প্রথম খুঁজে পাওয়া যায় ১৯৯১ সালে। এটি পান হো কানহ নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি। তবে দুর্গমতা আর গভীর অরণ্যের কারণে এর সন্ধান পাওয়া যায়নি পরের ১৮ বছর। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ কেভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের একটি দল ২০০৯ সালে স্থানীয় এক কৃষকের সহায়তায় খুঁজে পান গুহামুখ। ভেতরে ঢুকে এর বিশাল আকার দেখে চমকে ওঠেন তাঁরা।
‘গুহাটি এত বড় হওয়ার কারণ এখানকার চুনাপাথর।’ বলেন জায়গাটি নিয়ে গবেষণা করা হাওয়ার্ড লিমবার্ট, ‘এগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে পুরোনো পাথর। এগুলো খুব ভালো মানের চুনাপাথর, যা ক্রমেই আরও বড় হচ্ছে। প্রতিবছর তাই গুহাটিও আরও বড় হয়ে উঠছে।’
গুহাটি যে ফোং নহা কে বেং ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত, সেখানে ১৫০টির বেশি চুনাপাথরের গুহা আছে। এগুলোর অনেকগুলোতে মানুষের পা পড়েনি। পার্কের বেশির ভাগ গুহার একটির সঙ্গে আরেকটির সংযোগ আছে। মোটের ওপর, এই গুহারাজ্যের দৈর্ঘ্য ১২৪ মাইল বা ২০০ কিলোমিটারের মতো।
গুহাটির অনেক জায়গাই ১৯৮ মিটার বা ৬৫০ ফুটের মতো চওড়া। এর ভেতর দিয়ে অনায়াসে একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান উড়ে যেতে পারবে। এমনকি এর প্রবেশপথও ৫০ মিটার বা ১৬৪ ফুট উঁচু।
গুহার ভেতর দিয়ে চলে গেছে দ্রুতগতিতে প্রবাহিত এক নদী। হাজারো বছরে গুহাটি তৈরি করতে ভূমিকা রাখে নদীটি। বর্ষার সময় নদীটি প্লাবিত হলে গুহাটি জলে ভরে যায়। তখন এর অনেক জায়গাতেই আর প্রবেশ করা সম্ভব হয় না।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় গুহাটি চমৎকার সব স্ট্যালাগমাইটেরও বাসস্থান। এই স্ট্যালাগমাইট হলো চুনাপাথরের তৈরি প্রাকৃতিক স্তম্ভের মতো। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্ট্যালাগমাইটটিও ধারণা করা হয় এই গুহায়। ৭০ মিটার বা ২২৯ ফুট দীর্ঘ এটি।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ ২০০৯ সালেই একে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় একক গুহার স্বীকৃতি দেয়। গুহাটির মধ্যে বিশাল ও গভীর দুটি গর্তও আছে। মজার ঘটনা, শুরুতে যতটা বড় মনে হয়েছিল, ২০১৮ সালে গবেষকদের আরেকটি বড় অভিযানের পর জানা যায় সং ডং গুহা আসলে তার চেয়েও বড়।
এদিকে গুহার বিশাল গর্ত দুটির মুখ খোলা থাকায় এবং আলো-বাতাস চলাচল করায় জঙ্গল গুহার গভীরেও ছড়াতে পেরেছে। গর্ত দুটির মধ্যে ছোটটি অত্যধিক গাছপালার ওজনের কারণে জঙ্গলের সমতল বিধ্বস্ত হওয়ায় সৃষ্টি। গত ৫ লাখ বছরের মধ্যে এটি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এদিকে বড় গর্তটি ছড়িয়েছে ১৬৩ মিটার বা ৫৩৪ ফুট। এখানকার কোনো কোনো গাছ ৯০ ফুট পর্যন্ত উঠে গেছে। গুহাটিতে আসা কেউ কেউ এখানকার গাছপালার ঠাসবুনোটে পথ হারান।
গর্তের ভেতরের অরণ্যে পাখি, বানর ও সাপের বাস। গবেষকেরা আশা করছেন, এখন পর্যন্ত অনাবিষ্কৃত নতুন কোনো প্রাণীর সন্ধানও মিলে যেতে পারে।
স্বাভাবিকভাবেই পর্যটক ও অভিযাত্রীদের কাছে বড় আকর্ষণ পৃথিবীর বৃহত্তম এই গুহা। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে রোমাঞ্চপিয়াসীরা ছুটে আসেন এখানকার নানা গুহা অভিযানে। ২০১৩ সালে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় সং ডুং গুহা। তবে জায়গাটির পরিবেশের যেন ক্ষতি না হয়, সে জন্য খুব সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এখানকার পর্যটনকে।
‘প্রতিটি অভিযানের সদস্যদের সঙ্গে থাকেন পার্কের রেঞ্জার, গুহা বিশেষজ্ঞ এবং পোর্টার বা কুলিরা।’ বলেন অক্সালিস অ্যাডভেঞ্চারের পরিচালক নাগুয়েন চাও এ । এই প্রতিষ্ঠানকেই কেবল পর্যটক ও অভিযাত্রীদের গুহাটি ঘুরিয়ে দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কী, পৃথিবীর বৃহত্তম গুহায় অভিযানে যেতে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন? তাহলে জেনে রাখুন, প্রতি মৌসুমে কেবল ১ হাজার রোমাঞ্চপ্রেমী অনুমতি পান গুহা ভ্রমণের। আর এর জন্য খরচ গুনতে হয় কত শুনবেন? জনপ্রতি ২ হাজার ৬০০ ডলার বা প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
সূত্র: ইউরো নিউজ, আইএফএল সায়েন্স ডট কম
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুহার দেখা পেতে হলে আপনাকে যেতে হবে ভিয়েতনামের গহিন অরণ্যে। সং ডুং নামের গুহাটি ১০ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ। কোথাও কোথাও এর ছাদ ৬৫০ ফুটের বেশি উঁচু। বুঝতেই পারছেন, একটা চল্লিশতলা দালানও অনায়াসে পুরে দেওয়া যাবে এর ভেতরে।
ধারণা করা হয়, সং ডুং বা হাং সং ডুং গুহার বয়স ২০ থেকে ৫০ লাখ বছর। এটি পড়েছে ভিয়েতনামের কুয়াং বিন প্রদেশে। জায়গাটিতে এত এত গুহা আছে যে এটি ভিয়েতনামের গুহার রাজধানী হিসেবে পরিচিত। আরও নির্দিষ্ট করে বললে সং ডং গুহার অবস্থান ফোং নহা কে বেং ন্যাশনাল পার্কে। এখানকার গভীর জঙ্গলের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া বিশাল এক নদীর প্রবাহের সময় এই গুহার জন্ম।
একটা সময় পর্যন্ত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুহা হিসেবে বিবেচনা করা হতো মালয়েশিয়ার ডিয়ার পার্কের। সেটার তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বড় সং ডুং গুহা। বুঝতেই পারছেন কত্ত বড় গুহাটি।
তবে মজার ঘটনা, এত বিশাল আকারের পরও এটির প্রবেশপথ প্রথম খুঁজে পাওয়া যায় ১৯৯১ সালে। এটি পান হো কানহ নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি। তবে দুর্গমতা আর গভীর অরণ্যের কারণে এর সন্ধান পাওয়া যায়নি পরের ১৮ বছর। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ কেভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের একটি দল ২০০৯ সালে স্থানীয় এক কৃষকের সহায়তায় খুঁজে পান গুহামুখ। ভেতরে ঢুকে এর বিশাল আকার দেখে চমকে ওঠেন তাঁরা।
‘গুহাটি এত বড় হওয়ার কারণ এখানকার চুনাপাথর।’ বলেন জায়গাটি নিয়ে গবেষণা করা হাওয়ার্ড লিমবার্ট, ‘এগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে পুরোনো পাথর। এগুলো খুব ভালো মানের চুনাপাথর, যা ক্রমেই আরও বড় হচ্ছে। প্রতিবছর তাই গুহাটিও আরও বড় হয়ে উঠছে।’
গুহাটি যে ফোং নহা কে বেং ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত, সেখানে ১৫০টির বেশি চুনাপাথরের গুহা আছে। এগুলোর অনেকগুলোতে মানুষের পা পড়েনি। পার্কের বেশির ভাগ গুহার একটির সঙ্গে আরেকটির সংযোগ আছে। মোটের ওপর, এই গুহারাজ্যের দৈর্ঘ্য ১২৪ মাইল বা ২০০ কিলোমিটারের মতো।
গুহাটির অনেক জায়গাই ১৯৮ মিটার বা ৬৫০ ফুটের মতো চওড়া। এর ভেতর দিয়ে অনায়াসে একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান উড়ে যেতে পারবে। এমনকি এর প্রবেশপথও ৫০ মিটার বা ১৬৪ ফুট উঁচু।
গুহার ভেতর দিয়ে চলে গেছে দ্রুতগতিতে প্রবাহিত এক নদী। হাজারো বছরে গুহাটি তৈরি করতে ভূমিকা রাখে নদীটি। বর্ষার সময় নদীটি প্লাবিত হলে গুহাটি জলে ভরে যায়। তখন এর অনেক জায়গাতেই আর প্রবেশ করা সম্ভব হয় না।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় গুহাটি চমৎকার সব স্ট্যালাগমাইটেরও বাসস্থান। এই স্ট্যালাগমাইট হলো চুনাপাথরের তৈরি প্রাকৃতিক স্তম্ভের মতো। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্ট্যালাগমাইটটিও ধারণা করা হয় এই গুহায়। ৭০ মিটার বা ২২৯ ফুট দীর্ঘ এটি।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ ২০০৯ সালেই একে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় একক গুহার স্বীকৃতি দেয়। গুহাটির মধ্যে বিশাল ও গভীর দুটি গর্তও আছে। মজার ঘটনা, শুরুতে যতটা বড় মনে হয়েছিল, ২০১৮ সালে গবেষকদের আরেকটি বড় অভিযানের পর জানা যায় সং ডং গুহা আসলে তার চেয়েও বড়।
এদিকে গুহার বিশাল গর্ত দুটির মুখ খোলা থাকায় এবং আলো-বাতাস চলাচল করায় জঙ্গল গুহার গভীরেও ছড়াতে পেরেছে। গর্ত দুটির মধ্যে ছোটটি অত্যধিক গাছপালার ওজনের কারণে জঙ্গলের সমতল বিধ্বস্ত হওয়ায় সৃষ্টি। গত ৫ লাখ বছরের মধ্যে এটি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এদিকে বড় গর্তটি ছড়িয়েছে ১৬৩ মিটার বা ৫৩৪ ফুট। এখানকার কোনো কোনো গাছ ৯০ ফুট পর্যন্ত উঠে গেছে। গুহাটিতে আসা কেউ কেউ এখানকার গাছপালার ঠাসবুনোটে পথ হারান।
গর্তের ভেতরের অরণ্যে পাখি, বানর ও সাপের বাস। গবেষকেরা আশা করছেন, এখন পর্যন্ত অনাবিষ্কৃত নতুন কোনো প্রাণীর সন্ধানও মিলে যেতে পারে।
স্বাভাবিকভাবেই পর্যটক ও অভিযাত্রীদের কাছে বড় আকর্ষণ পৃথিবীর বৃহত্তম এই গুহা। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে রোমাঞ্চপিয়াসীরা ছুটে আসেন এখানকার নানা গুহা অভিযানে। ২০১৩ সালে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয় সং ডুং গুহা। তবে জায়গাটির পরিবেশের যেন ক্ষতি না হয়, সে জন্য খুব সতর্কতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এখানকার পর্যটনকে।
‘প্রতিটি অভিযানের সদস্যদের সঙ্গে থাকেন পার্কের রেঞ্জার, গুহা বিশেষজ্ঞ এবং পোর্টার বা কুলিরা।’ বলেন অক্সালিস অ্যাডভেঞ্চারের পরিচালক নাগুয়েন চাও এ । এই প্রতিষ্ঠানকেই কেবল পর্যটক ও অভিযাত্রীদের গুহাটি ঘুরিয়ে দেখানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
কী, পৃথিবীর বৃহত্তম গুহায় অভিযানে যেতে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন? তাহলে জেনে রাখুন, প্রতি মৌসুমে কেবল ১ হাজার রোমাঞ্চপ্রেমী অনুমতি পান গুহা ভ্রমণের। আর এর জন্য খরচ গুনতে হয় কত শুনবেন? জনপ্রতি ২ হাজার ৬০০ ডলার বা প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
সূত্র: ইউরো নিউজ, আইএফএল সায়েন্স ডট কম
আজ ফোর টুয়েন্টি (৪২০) দিবস। সংখ্যাটা পড়েই ভাবছেন প্রতারকদের দিবস আজ? না না। এই ফোর টুয়েন্টি সেই ফোর টুয়েন্টি নয়। পশ্চিমা বিশ্বে এই সংখ্যা গাঁজা সংস্কৃতির কোড ভাষা।
২১ ঘণ্টা আগেসাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় বিপুল পরিমাণে পাচার হচ্ছে বড় আকারের লাখ লাখ পিঁপড়া। ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে এসব পিঁপড়া পোষা প্রাণী হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। আফ্রিকার দেশ কেনিয়া থেকে সম্প্রতি হাজার হাজার জীবন্ত পিঁপড়া পাচারকালে ৪ চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে।
৫ দিন আগেগত বছর একটি রাতের অনুষ্ঠানে এক ভ্লগারের ক্যামেরায় অপ্রত্যাশিত এবং অশালীন মন্তব্য করে রাতারাতি ভাইরাল হন হেইলি ওয়েলচ। দ্রুতই ‘হক তুয়াহ’ নামে খ্যাতি পান তিনি। সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন এই তরুণী। তিনি জানিয়েছেন, নিজের নামে চালু করা বিতর্কিত ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করে...
৭ দিন আগেরাজনীতি তো বটেই, একের পর এক উদ্ভট কথা আর কাণ্ডের জন্যও আলোচনায় থাকেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বুধবার (২ এপ্রিল) বিশ্বজুড়ে শতাধিক দেশের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। এরপর থেকেই এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা গুরুগম্ভীর আলোচনা, বিশ্লেষণ চলছে। আবার সামাজিক মাধ্যমে চলছে
১৭ দিন আগে