Ajker Patrika
সাক্ষাৎকার

ভারতের কাছে হেরে আমরা কেউই ঘুমাতে পারিনি

ভারতের কাছে ফাইনালে হারটা এখনো ভুলতে পারছেন না মুরশেদ আলী। ছবি: বাফুফে

একবার নয়, ভারতের বিপক্ষে এ নিয়ে চারবার হারের মুখ দেখলেন মুরশেদ আলী। তাঁর কষ্ট একটু বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপে এত কাছে এসেও শিরোপা হাতছাড়া হওয়ায় তাঁর চোখে পানি চলে আসে। গতকাল আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানালেন, সেই রাতে সতীর্থরা কেউই ঘুমাতে পারেননি। মুরশেদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনোয়ার সোহাগ

আনোয়ার সোহাগ, ঢাকা
আপডেট : ২২ মে ২০২৫, ১৭: ২৩

প্রশ্ন: যুব সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হলেও আপনাদের ফুটবল মানুষের হৃদয় জিতেছে। এটা ভেবে কেমন লাগছে?

মুরশেদ আলী: সবারই আশা থাকে দেশের জন্য ভালো কিছু করার। বাইরে থেকে মানুষ যেভাবে সমর্থন দিয়েছেন, তা বেশ ভালো লেগেছে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাঁ পায়ের ফুটবলার খুব একটা দেখা যায় না। আপনি সেখানে বিরলই বলা যায়।

মুরশেদ: আমি অনেক সৌভাগ্যবান যে বাঁ পায়ে খেলে থাকি। বাংলাদেশে বাঁ পায়ের ফুটবলার থাকলেও সংখ্যায় খুব কম। নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। এটি কাজে লাগিয়ে সামনে আরও ভালো কিছু করতে চাই।

প্রশ্ন: ফুটবলে উঠে আসার গল্পটা শুনতে চাই।

মুরশেদ: আমার বাড়ি পঞ্চগড় জেলায়। ফুটবলে আমার শুরুটা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট দিয়ে। সেখানে ভালো করার পর উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্টেও অংশ নিই। এরপর বিকেএসপি থেকে বাফুফে এলিট একাডেমিতে যুক্ত হই। একসময় ঢাকায় যখন ডাক পড়ল, তখন কোচরা বলতে থাকেন ফুটবল চালিয়ে যেতে।

প্রশ্ন: ফুটবলার হওয়ার পথে পরিবার থেকে কোনো বাধা ছিল কি না।

মুরশেদ: আসলে অনেক ফুটবলারের মতো আমিও শুরুতে পরিবার থেকে তেমন সমর্থন পাইনি। বাড়ির আশপাশে অনেকে ফুটবল খেলত। কিন্তু তাঁরা সেভাবে সফল হতে পারেননি। যখন আমি খেলতাম, তখন বাবা-মা তাঁদের উদাহরণ দিতেন, তারা তো ফুটবল খেলে কিছু করতে পারেনি, তুই কী করবি! তাঁদের সেই ভাবনা বদলেছে। ফুটবলে ভালো কিছু করলে আগে আমি বাবা-মা ও কোচের (মোফাজ্জল হোসেন বিপুল) অবদানকে স্মরণ করি। মোফাজ্জল স্যার না থাকলে হয়তো আমি বাংলাদেশের জার্সি গায়ে দিতে পারতাম না। ছোটবেলা থেকেই তিনি আমার দায়িত্ব নেন। বুট থেকে শুরু করে জার্সি—সবকিছুই তিনি কিনে দিতেন। এমনকি ঢাকায় যখন ট্রায়ালের ডাক পড়ত, আমার কাছে টাকা ছিল না। পরিবার থেকেও বেশি সহযোগিতার উপায় ছিল না। আমার বাবা ভ্যানে মালপত্র বিক্রি করে খুব বেশি রোজগার করতে পারতেন না। তখন কোচই আমাকে নিজ খরচে ঢাকায় নিয়ে আসতেন, আবার ঢাকা থেকে বাড়ি নিয়ে যেতেন।

প্রশ্ন: ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে রাতটা কীভাবে কেটেছে আপনাদের?

মুরশেদ: ভারতের সঙ্গে আমি চারবার ফাইনাল খেলেছি। কিন্তু একবারও শিরোপার স্বাদ নিতে পারিনি। এবার অন্তত আশা ছিল, শিরোপার ছোঁয়া পাব। কিন্তু এত কাছে এসেও আবার চলে গেল। হারের পর চোখে পানি চলে আসে। আমরা কেউই ঘুমাতে পারিনি। সবাই মন খারাপ করে ছিল। তবে ভারতকে একদিন হারাবই ইনশা আল্লাহ।

ভারতের কাছে ফাইনালে হারটা এখনো ভুলতে পারছেন না মুরশেদ আলী। ছবি: বাফুফে
ভারতের কাছে ফাইনালে হারটা এখনো ভুলতে পারছেন না মুরশেদ আলী। ছবি: বাফুফে

প্রশ্ন: আপনার খেলা দেখে ভারতের কেউ কিছু বলেছেন?

মুরশেদ: হ্যাঁ, ভারতের কোচ (বিবিয়ানো ফার্নান্দেজ) আমার প্রশংসা করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার খেলা তাঁর ভালো লেগেছে। আমাকে বলেছেন, এই খেলাটা ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে তুমি বাংলাদেশের বড় তারকা হবে।

প্রশ্ন: এখন আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী?

মুরশেদ: বয়সভিত্তিকে সব পর্যায়েই খেলেছি। সামনে অনূর্ধ্ব-২৩ দলে খেলতে চাই। তবে মূল লক্ষ্য হলো ক্লাবের (ফর্টিস এফসি) হয়ে ভালো খেলে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া। এবারের মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগে একটি ম্যাচ খেলেছি ৷ সুযোগ পেলে ইনশা আল্লাহ নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করব। আমি প্রস্তুত আছি। বাকিটা আল্লাহ জানেন।

প্রশ্ন: আপনার প্রিয় ফুটবলার কে?

মুরশেদ: লিওনেল মেসি। তবে এখন লামিনে ইয়ামালকে ভালো লাগে। আগে আমি লেফট উইংয়ে খেলতাম। তবে ইয়ামালকে দেখে রাইট উইংয়ে খেলা শুরু করি। সে আমার মতো বাঁ পায়ে খেলে। রাইট উইংয়ে খেললে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। বল নিয়ে আমি যদি ভেতরে ঢুকে থাকি, তখন ডিফেন্স আমার পেছনে থাকে। তাই বাঁ পায়ে বল থাকার কারণে তারা আমাকে সেভাবে চার্জ করতে পারে না। বল কেড়ে নিতে হলে অনেক সংগ্রামের পাশাপাশি ফাউল করতে হয় তাদের।

প্রশ্ন: টাইব্রেকারে নাজমুলের গোল করতে না পারা আপনাকে অবাক করেছিল কি না?

মুরশেদ: আমি একেবারেই বিস্মিত হয়ে পড়ি। অনুশীলনে আমরা সব সময় পেনাল্টি নিয়ে কাজ করি। কারও না কারও মিস হয়, আমারও মিস হতো। কিন্তু ওর কোনো দিন মিস হয়নি। কোচও আমাদের বলেছিলেন, খেলার সময় যদি পেনাল্টি পেয়ে থাকি, তাহলে সেটা নাজমুল নেবে। ও পেনাল্টি বরাবরই ভালো মারে। কিন্তু ভাগ্য সেদিন পক্ষে ছিল না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

‘প্রমাণ ছাড়া শাস্তি মেনে নেব না, আমাকে অসম্মান করা হচ্ছে’

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৬: ৫৫
বিপিএলের খেলোয়াড় তালিকায় নাম না থাকায় ক্ষুদ্ধ এনামুল হক বিজয়। ফাইল ছবি
বিপিএলের খেলোয়াড় তালিকায় নাম না থাকায় ক্ষুদ্ধ এনামুল হক বিজয়। ফাইল ছবি

বিপিএলের নিলামের জন্য চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকায় নাম নেই এনামুল হক বিজয়ের। কেন এনামুল নেই, সে ব্যাখ্যা বিসিবি দেয়নি। তবে বিসিবি আগেই জানিয়েছিল, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠা ক্রিকেটারদের নিলামে রাখা হবে না। তাই এনামুলের বাদ পড়ার কারণটাও আর বুঝে নিতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কারও।

বাদ বিপিএলের খেলোয়াড় তালিকায় থেকে বাদ পক্ষে চটেছেন এনামুল। তাঁর দাবি, বিসিবি প্রমাণ না দিয়ে দোষী সাব্যস্ত করছে তাঁদের। আজকের পত্রিকাকে এনামুল বললেন, ‘এ নিয়ে আমি বিসিবির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। মিঠু ভাই, ফাহিম ভাই, লিপু ভাই, সিইও কিংবা বুলবুল ভাই, সবার সঙ্গেই কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কারও সাড়া পাইনি। তাঁরা রেসপন্স করলে জানতে চাইতাম আমার অপরাধটা কী? কী প্রমাণের ভিত্তিতে আমাকে বাইরে রাখা হলো সেটা জানতে চাইতাম।’ কোনো কিছু প্রমাণ না করেই তাকে চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকায় না রেখে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে বলেও দাবি তোলেন এনামুল, ‘এভাবে আমাকে সমাজের মধ্যে অপমান, অসম্মান করা হচ্ছে। আমার যদি কোনো দোষ থাকে, ত্রুটি থাকে, তাহলে সেটা প্রমাণ করে শাস্তি দিক। কিন্তু সেটা প্রমাণ না করে এক বছর ধরে আমাকে অসম্মান করা হচ্ছে, এটা আমি মেনে নেব না।’

ফিক্সিং সম্পর্কিত কোনো জিজ্ঞাসাবাদে তাঁকে ডাকা হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নের জবাবে এনামুল বলেন, ‘হ্যাঁ’, জানিয়ে এনামুল বলেন,‘ শুধু আমাকে কেন, তাদের মনে হলে পৃথিবী যে কাউকেই ডাকতে পারে। তারা যা যা জানতে চেয়েছি আমি তার উত্তর দিয়েছি। কিন্তু (শাস্তি হিসেবে যদি) আমাকে যদি খেলোয়াড় তালিকার বাইরে রাখা হয়, তাহলে বিসিবি প্রমাণ দিক, আমার অপরাধটা কী। কোনো প্রমাণ ছাড়া আমি শাস্তি মেনে নেব না।’

শুধু এনামুল হক বিজয়ই নন, চূড়ান্ত খেলোয়াড় তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও আলাউদ্দিন বাবুও।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

বিপিএলের নিলাম থেকে বিজয়–মোসাদ্দেকসহ বাদ পড়লেন যাঁরা

ক্রীড়া ডেস্ক    
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৬: ১৪
এনামুল হক বিজয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ছবি: সংগৃহীত
এনামুল হক বিজয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২ তম আসরের নিলাম হবে আগামীকাল। তার আগেরদিন আলোচনার রসদ হয়ে সামনে এসেছে দেশি ক্রিকেটারদের নামের তালিকা। বিপিএলের পরবর্তী আসরকে সামনে রেখে খসড়া থেকে আজ দেশি ক্রিকেটারদের চূড়ান্ত নামের তালিকা তৈরি করেছে গভর্নিং কাউন্সিল।

ফ্র্যাঞ্চাইজি সূত্রে সে তালিকা সংবাদমাধ্যমে এসেছে। চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ৭ ক্রিকেটারকে। বাদ পড়া ক্রিকেটারদের তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম এনামুল হক বিজয়। জাতীয় দলে যাওয়া আসার মধ্যে আছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিয়মিত তিনি।

বিপিএলের আগের সবকটি আসরেই দেখা গেছে বিজয়কে। সবশেষ আসরে খেলেছেন দুর্বার রাজশাহীর হয়ে। পদ্মাপাড়ের ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অধিনায়কত্বের ভার সামলেছেন তিনি। এবার বাদ পড়লেন নিলাম থেকেই। বিজয় ছাড়াও বাদ পড়া অন্য বড় নামটি হলো মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এই ব্যাটিং অলরাউন্ডারও জাতীয় দলের আশেপাশেই ছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ পরিচিত মুখ তিনি। বিজয়ের মতো মোসাদ্দেকও ছিলেন ‘সি’ ক্যাটাগরিতে। এই ক্যাটাগরিতে ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য ২২ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগেই জানিয়েছিল, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠা ক্রিকেটারদের নিলামে রাখা হবে না। এই ঘোষণার পরও অভিযুক্ত ক্রিকেটাররা খসড়া তালিকায় থাকায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। এবার নিলামের আগের দিন চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়লেন বিজয়, সৈকতরা। চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া বাকি পাঁচজন হলেন সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম, মিজানুর রহমান, নিহাদুজ্জামান ও আলাউদ্দিন বাবু।

নিলামের খসড়া তালিকায় ছিল না আলিস ইসলামের নাম। চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা হয়েছে এই স্পিনারের। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে আছেন তিনি। নিলামের গ্রেডিং ভালো না হওয়ায় তোপের মুখে পড়েছিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। সমালোচনার মুখে বেশকিছু ক্রিকেটারের ক্যাটাগরি বাড়িয়েছে টুর্নামেন্ট আয়োজক কমিটি। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে উঠে এসেছেন শাহাদাত হোসেন দিপু, ইরফান শুক্কুর, আরিফুল ইসলাম, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, এসএম মেহরব, শেখ পারভেজ জীবন, ফজলে রাব্বি ও মুশফিক হাসানের। ‘সি’ থেকে ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছেন মুকিদুল ইসলাম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

বাংলাদেশ কি সিরিজে সমতা ফেরাতে পারবে

ক্রীড়া ডেস্ক    
সন্ধ্যায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ–আয়ারল্যান্ড। ছবি: বিসিবি
সন্ধ্যায় মাঠে নামছে বাংলাদেশ–আয়ারল্যান্ড। ছবি: বিসিবি

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের কাছে ৩৯ রানে হেরে যায় লিটন দাসের দল। সিরিজে টিকে থাকতে আজ জিততেই হবে বাংলাদেশকে। বাঁচা মরার মিশনে সন্ধ্যা ছয়টায় আইরিশদের বিপক্ষে মাঠে নামবে তারা। হারলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের সিরিজ হাতছাড়া করবে বাংলাদেশ। বাইশ গজে আজ আরও একটি জমজমাট ম্যাচ আছে। ত্রিদেশীয় টি–টোয়েন্টি সিরিজের ফাইনালে মাঠে নামবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এছাড়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে মাঠে নামবে ম্যানচেস্টার সিটি, টেটনহাম হটস্পার, নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মতো দল। একনজরে আজকের টিভি সূচি।

ক্রিকেট

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি

বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড

সন্ধ্যা ৬ টা, সরাসরি

টি স্পোর্টস, নাগরিক টিভি

ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি

ফাইনাল

পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা

সন্ধ্যা ৭ টা, সরাসরি

এ স্পোর্টস

ফুটবল

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

ম্যানসিটি-লিডস

রাত ৯ টা, সরাসরি

এভারটন-নিউক্যাসল

রাত ১১টা ৩০ মি. , সরাসরি

টটেনহাম-ফুলহাম

রাত ২ টা, সরাসরি

স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ২

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

বিশ্বকাপে আজ প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, সেরাটা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
বিকেলে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ছবি: হকি ফেডারেশন
বিকেলে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ছবি: হকি ফেডারেশন

চেন্নাইয়ের মেয়র রাধাকৃষ্ণণ স্টেডিয়ামে বসে গতকাল সুইজারল্যান্ড-ওমানের ম্যাচ দেখছিলেন বাংলাদেশের কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যান। তখনই মজা করে বললেন, ‘আমাদের এই গ্রুপে খেলা উচিত ছিল।’ যদিও এ গ্রুপে স্বাগতিক ভারত রয়েছে। তবু বাংলাদেশের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার ভালো একটা সম্ভাবনা থাকত। গ্রুপে থাকা সুইজারল্যান্ড ও চিলিকে প্রস্তুতি ম্যাচে উড়িয়ে দিয়েছে মেহরাব হোসেন সামিনের দল। আর ওমান গতকাল সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেছে ৪-০ গোলে। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়া।

আফসোস হোক বা রসিকতা, সেসব একপাশে রেখে জুনিয়র (অনূর্ধ্ব-২১) হকি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। রাধাকৃষ্ণণ স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় শুরু হবে ম্যাচ। হকির ইতিহাসে বিশ্বমঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের আগে কখনো ছিল না। এবার যেহেতু দলের সংখ্যা (২৪) বেড়েছে, মিলেছে বাংলাদেশের খেলার সুযোগও। সেই জায়গাটা নিতে গত বছর জুনিয়র এশিয়া কাপে থাকতে হয়েছে সেরা ছয়ে।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে চার মাসের ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ। কোচ হিসেবে আনা হয়েছে অভিজ্ঞ আইকম্যানকে; যাঁর অধীনে ২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতেছিল জাপান। বড় কোনো স্বপ্ন না দেখালেও বিশ্বকাপ থেকে ভালো স্মৃতি নিয়ে ফিরতে চান ৬৬ বছর বয়সী এই ডাচ কোচ।

ভারতে গিয়ে বাংলাদেশ যুব দল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে পেয়েছে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো জয়। মঙ্গলবার তারা চিলিকে হারায় ৩-০ ব্যবধানে। এরপর বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডকে উড়িয়ে দেয় ৫-২ গোলে। সেই আত্মবিশ্বাস কতটুকু কাজে দেবে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে? উত্তরে আজকের পত্রিকাকে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আমরা সঠিক পথেই আছি। অনুশীলন ও ম্যাচে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। তাই সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে খেলতে তৈরি। সেরাদের বিপক্ষে খেলতে আমরা উজ্জীবিত হয়ে আছি। নিজেদের সবটুকু দিয়ে খেলার চেষ্টা করব।’

একবারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া সম্প্রতি দুর্দান্ত ছন্দে আছে। গত মাসে মালয়েশিয়ায় ৬ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত সুলতান জহর কাপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশও চায় নিজেদের ছাপ রাখতে। সে জন্য পাল্টা আক্রমণই ভরসা আইকম্যানের ছকে, ‘অস্ট্রেলিয়া দুর্দান্ত খেলে সুলতান জহর কাপ জিতেছে। আমার মনে হয়, তারা অনেক গোল করার চেষ্টা করবে। সেটাই পাল্টা আক্রমণে ওঠার ভালো সুযোগ এনে দেবে আমাদের জন্য।’

শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না অস্ট্রেলিয়া। দলটির কোচ জে স্টেসি বলেন, ‘আসলে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্কে আমি খুব বেশি জানি না। তাদের খুব বেশি দেখিনি, তাই কিছুটা “অপেক্ষা করে দেখা”র বিষয় থাকবে। বাংলাদেশের কিছু ভিডিও ফুটেজ আছে এবং সব দলের মতোই তাদের বিপক্ষে প্রস্তুতি নেব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত