Ajker Patrika

প্রথম বা দ্বিতীয় স্বাধীনতা নয়, তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ লুটপাটের স্বাধীনতা: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

প্রথম স্বাধীনতা বা দ্বিতীয় স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘তাঁদের কাছে প্রথম স্বাধীনতাও গুরুত্বপূর্ণ নয়, দ্বিতীয় স্বাধীনতাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ লুটপাটের স্বাধীনতা।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে ‘২০২১ সালের আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের তালিকা প্রকাশ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বিচারের দাবি’তে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

বিগত আওয়ামী সরকার সব সময় ভারতের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করে বলেছেন, ভারতের সহায়তা নিয়েই শেখ হাসিনা তাঁর ফ্যাসিজমকে এত দিন দীর্ঘায়িত করতে পেরেছিলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনটা ভোট ডাকাতি করে সকল বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর দমন-নিপীড়ন চালিয়েও শেখ হাসিনা যে ক্ষমতায় থাকতে পেরেছেন এবং আন্তর্জাতিকভাবে সেটার ন্যায্যতা প্রমাণ করেছে তার মূল কারিগর ছিল ভারত। ভারতের সহায়তা নিয়েই শেখ হাসিনা তাঁর ফ্যাসিজমকে এত দিন দীর্ঘায়িত করতে পেরেছিলেন। আওয়ামী ফ্যাসিজম আসলে ছিল ভারতীয় আগ্রাসনের একটা এক্সটেনশন।

তিনি আরও বলেন, ভারতকে খুশি করা, একটা নতজানু পররাষ্ট্রনীতি রাখাই শেখ হাসিনার মূল নীতি ছিল। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি রাষ্ট্রের যে জাতিগত মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, সাম্য ও ন্যায়বিচারের যে স্বপ্ন সেই স্বপ্ন বিনষ্ট হয়েছে। এ কারণে যখন মোদির আগমনকে বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছিল। সে সময় শেখ হাসিনা সরকারের পুলিশ এবং সন্ত্রাসী বাহিনী নিপীড়ন চালায়।

প্রথম ও দ্বিতীয় স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, ‘আমরা যারা গত ১৬ বছর এই ঘটনাগুলোর ভিকটিম ছিলাম, আমাদের কাছে এটা অবশ্যই স্বাধীনতা। ৫ আগস্ট আমরা আসলে নতুন করে স্বাধীন হয়েছি। কারণ, আমরা গত ১৬ বছর নির্যাতিত হয়েছি। নিপীড়িত হয়েছি। আর যাঁদের ব্যাংক ব্যালেন্স অক্ষুণ্ন ছিল, যাঁরা আপস করে বিরোধী রাজনীতি করেছেন, তাঁদের কাছে হয়তো এটা স্বাধীনতা মনে হয় না। কারণ, তাঁরা সব সময় স্বাধীন ছিল। সুতরাং, তাঁদের কাছে প্রথম স্বাধীনতাও গুরুত্বপূর্ণ নয়, দ্বিতীয় স্বাধীনতাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ লুটপাটের স্বাধীনতা।’

নাহিদ আরও বলেন, ‘মোদিবিরোধী আন্দোলন তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই আন্দোলনে ফ্যাসিবাদী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এক কাতারে নেমে এসেছিল। সেই আন্দোলনেও পুলিশসহ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ নির্বিচারে সহিংসতা এবং হত্যাকাণ্ড চালায়। সেই হত্যাকাণ্ডে কতজন মানুষ মারা গেছে, সেই সংখ্যাটা আমরা এখনো নিরূপণ করতে পারিনি। কোথাও ১৭ জন আবার কোথাও ১৪ জন এই রকম নানা সংখ্যা আমরা জানতে পারি। আমাদের সেই সংখ্যাটা শনাক্তকরণ করা প্রয়োজন। যারা শহীদ হয়েছিল তাদের যেন আমরা ভুলে না যাই।’

সভায় শহীদ হাদিস মিয়ার স্ত্রী মোসাম্মত উলমে আখতার বলেন, ‘আমার স্বামী ২০২১ সালের ২৭ মার্চ শহীদ হয়েছিলেন। আমার স্বামী শহীদ হওয়ার পর আমার দুই সন্তানকে অনেক কষ্টে মানুষ করছি। আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। গত দুই বছর আমি কিছু সহযোগিতা পেলেও বর্তমানের দুই বছর আমি কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমার থাকার জায়গা নাই।’

শহীদ রবিউল ইসলামের স্ত্রী রুহিনা আখতার বলেন, ‘আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমার সংসারে উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। কোনো বেলা খেয়ে আবার কোনো বেলা না খেয়ে আমার সন্তানকে বড় করছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হাসিনার আমলে গভর্নর হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলাম: আহসান এইচ মনসুর

আলোচনায় ড. ইউনূসকে প্রধানমন্ত্রী দেখার আকাঙ্ক্ষা, আইনি পথ কী

এক দশক পর প্রকাশ্যে গায়িকা ডাফি, শোনালেন অপহরণ ও ধর্ষণের ভয়াবহ বর্ণনা

তিস্তায় বড় প্রকল্প নিয়ে সতর্ক থাকার তাগিদ

জাতীয় ঈদগাহে যাবেন না রাষ্ট্রপতি, ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়বেন বঙ্গভবনে

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত