Ajker Patrika

যেমন হবে বার কাউন্সিল প্রিলি প্রস্তুতি

শাহ বিলিয়া জুলফিকার
যেমন হবে বার কাউন্সিল প্রিলি প্রস্তুতি

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী তালিকাভুক্তির জন্য ২৯ নভেম্বর পূর্বনির্ধারিত এনরোলমেন্ট এমসিকিউ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এ পরীক্ষার তারিখ পরবর্তী সময়ে জানানো হবে। বার কাউন্সিলের প্রিলি পরীক্ষা নতুন আইনজীবীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং পেশাগত জীবনের ভিত্তি গড়ার সুবর্ণ সুযোগ। পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন আইনগ্রন্থ প্রণেতা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মেহেদী হাসান। তাঁর কথাগুলো শুনে লিখেছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার

বার কাউন্সিল পরীক্ষার সিলেবাস

প্রিলি এবং লিখিত পরীক্ষায় ৭টি আইনের ওপর বার কাউন্সিল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সেগুলো হচ্ছে:

১. দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮।

২. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭।

৩. ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮।

৪. দণ্ডবিধি, ১৮৬০।

৫. সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২।

৬. তামাদি আইন, ১৯০৮ ও

৭. বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আদেশ ও বিধিমালা, ১৯৭২।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মানবণ্টন

বার কাউন্সিল প্রিলিমিনারি পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০ এবং পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা। মোট সাতটি বিষয়ে বণ্টিত প্রশ্ন থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ থেকে ২০টি, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ থেকে ১০টি এবং ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ থেকে ২০টি প্রশ্ন থাকে। পাশাপাশি দণ্ডবিধি, ১৮৬০ থেকে ২০টি, সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ থেকে ১৫টি এবং তামাদি আইন, ১৯০৮ থেকে ১০টি প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া পেশাগত আচরণ, বার কাউন্সিল রুলস এবং লিগ্যাল ডিসিশন থেকে আরও ৫টি প্রশ্ন নির্ধারিত রয়েছে।

প্রিলি পাস করতে লক্ষণীয় বিষয়

বার কাউন্সিল পরীক্ষার তিনটি ধাপের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক ধাপ হলো প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, যা আইন শিক্ষার্থীদের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত। এ পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০, যেখানে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রয়োজন ৫০ মার্কস, তবে বাস্তবে পাসের হার মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ, যা নির্দেশ করে যে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র। এত কমসংখ্যক পরীক্ষার্থী পাস করতে পারার পেছনে প্রধান কারণ হলো পরীক্ষার্থীদের ধারাবাহিকভাবে নিয়মিত, সঠিকভাবে এবং একটানা অধ্যয়ন না করা, মূল আইন চর্চা এড়িয়ে শর্টকাটে পাস করার চেষ্টা করা। তাই ধারাবাহিক অধ্যয়ন ছাড়া প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সফল হওয়া অত্যন্ত কঠিন।

বার কাউন্সিল পরীক্ষার জন্য ৬টি আইনের গুরুত্বপূর্ণ সাজেশন

১। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭

  • ধারা: ৫০০, ৮০, ১০, ১২, ২১, ২১ ক, ২২, ২৭ ক, ২৮, ৩১, ৩৫, ৩৯, ৪২, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৭

২। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮

  • ধারা: ৪, ৬, ৭, ৯-১২০, ১৬-১৭ ক, ২৯ ক, ৩১-৩৩ ক, ৪৬ ক, ৫৪-৫৯, ৬০০, ৬১, ৯৯০-৯৯৭, ১০০, ১০৬-১১০০, ১৪৪-১৪৬, ১৪৮, ১৫৪-১৫৮, ১৬১-১৬৪, ১৬৭, ১৬৭০, ১৭২, ১৭৩, ১৭৩ ক, ১৭৩ খ, ১৯৩৪, ২০০-২০৫ ঘ, ২২১-২৩২, ২৪১-২৫০, ৩৩৯ খ, ৪০১-৪০২ ক, ৪০৩, ৪০৪-৪৩১৯৪৪, ৪৩৫, ৪৩৯, ৪৩৯ ক, ৪৪২ ক, ৪৯১, ৪৯২, ৪৯৬, ৪৯৭, ৪৯৮, ৫০২, ৫২২, ৫২৫ ক, ৫২৬, ৫২৬ খ, ৫২৮, ৫৩৯ খ, ৫৬১ ক

দণ্ডবিধি, ১৮৬০

  • ধারা: ৩৪-৩৮, ৫৩-৫৫ ক, ৬৩৭০, ৭৬-১০৬, ১০৭-১০৯, ১২০ ক-১২০ খ, ১৪১, ১৫২, ১৯১, ২১৬ ক, ২৯৯-৩০৭, ৩১৯-৩৩৮ ক, ৩৩৯, ৩৪৪, ৩৩৯, ৩৫৫, ৩৫৯-৩৬৪ ক, ৩৭৮-৩৮২, ৩৮৩-৩৮৪, ৩৯০, ৩৯৫, ৩৯৬, ৪০৩-৪১২, ৪১৫-৪২০, ৪২৫-৪২৬, ৪৪১-৪৪৭, ৪৬৩-৪৬৯, ৪৯৭, ৪৯৯-৫০০, ৫০০, ৫০৬, ৫১১

৪। সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২

  • ধারা: ৩-১১০, ২২০, ১৭-৩১, ৩২, ৪০, ৪১, ৪৫, ৫২-৫৫, ৫৫-৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১-৬৫, ৬৭৩, ৭৪-৭৬, ৭৯-৯০০, ১০১-১১২, ১১৫, ১১৮-১২৬, ১৩৩, ১৩৪, ১৩৭-১৪৩০, ১৬৫, ১৬৭

৫। তামাদি আইন, ১৯০৮

  • ধারা: ৩৬, ৪, ৫, ৬, ৭০৬, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২২, ২৩, ২৪, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯

৬। দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮

  • ধারা: ২, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৫০, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২২, ২৩, ২৪, ২৬, ৩১, ৩২, ৪২, ৪৮, ৫৫, ৭৪, ৭৫, ৮৯ ক-৮৯ গ, ৯৬, ৯৭, ১০৪, ১০৭, ১১৩০, ১১৪০, ১১৫, ১৪৪, ১৫১, ১৫২, ১৫৩

আদেশ: ১, ২, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১২, ১৪, ১৭, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৬, ৩৮, ৩৯, ৪১

মূল আইনের পাশাপাশি যা পড়তে হবে

মূল আইন পড়লেই প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সফল হওয়া সম্ভব নয়। অনেক পরীক্ষার্থী মূল আইন পড়লেও বিগত সালের প্রশ্ন প্যাটার্ন বোঝার অভাবে বা মূল আইনের জটিল উপস্থাপনার কারণে আইনটি সঠিকভাবে বুঝতে পারেন না। তাই মূল আইনের পাশাপাশি একটি গাইডবই রাখা অত্যন্ত জরুরি। যেখানে আইনগুলোকে সহজ, সাবলীল এবং প্রাঞ্জল ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে। গাইডবইয়ে বিগত বছরের বার কাউন্সিল এবং জুডিশিয়ারির প্রশ্নও দেওয়া থাকে। এটি পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে সহায়ক।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...