Ajker Patrika

পর্নসাইটে নিজেকে দেখে বিরক্ত মেলোনি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০১: ৪০
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: সংগৃহীত
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ছবি: সংগৃহীত

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সম্প্রতি এক পর্নো সাইটে নিজের ও অন্যান্য প্রভাবশালী নারীর বিকৃত ছবি প্রকাশ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটটির নাম ছিল ‘ফিকা’—যা ইতালীয় ভাষার অশ্লীল শব্দ ‘ফিগা’ থেকে নেওয়া। গত বৃহস্পতিবার ব্যাপক সমালোচনার মুখে সাইটটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে এই সাইটের কর্তৃপক্ষ দায় এড়িয়ে ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তোলে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সিএনএন জানিয়েছে, অভিযুক্ত সাইটটির কয়েক লাখ সাবস্ক্রাইবার ছিল। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত উৎস থেকে নারীদের ছবি সংগ্রহ করে তা বিকৃতভাবে সম্পাদনা করে যৌন বৈষম্যমূলক ভাষা ও অশ্লীল মন্তব্যসহ পোস্ট করতেন। সাইটটিতে যেসব নারীর অশ্লীল ছবি রয়েছে, তাঁদের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী মেলোনি ছাড়াও তাঁর বোন আরিয়ানা মেলোনিও রয়েছেন।

আরিয়ানা ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’ দলের একজন প্রভাবশালী নেত্রী। তিনি এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ‘আমাদের সমাজে এক ধরনের ভয়াবহ প্রবণতা তৈরি হয়েছে—ক্লিক পাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ, হেনস্তা, চরিত্রহনন এবং নারীর অর্জনকে তুচ্ছ করে দেখা হচ্ছে।’

এ ছাড়াও সাইটটিতে আরও অনেক ইতালীয় রাজনীতিক ও সেলিব্রিটি নারীর ছবি দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে মেলোনি ‘কোরিয়েরে দেলা সেরা’ পত্রিকাকে বলেছেন, ‘ঘটনাটি আমার মাঝে গভীর ঘৃণার জন্ম দিয়েছে। যেসব নারীকে এভাবে অপমান ও হেনস্তা করা হয়েছে, আমি তাঁদের পাশে আছি। ২০২৫ সালেও যদি নারীর মর্যাদা পায়ের তলায় মাড়ানো স্বাভাবিক মনে হয়, তবে তা হতাশাজনক।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তা সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

২০১৯ সালে ইতালিতে ‘রিভেঞ্জ পর্নো আইন’ পাস হয়। এই আইন অনুযায়ী, কারও সম্মতি ছাড়া যৌন স্পষ্ট ছবি প্রচার করলে সর্বোচ্চ ছয় বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

মেলোনি এর আগেও ডিপফেক ও অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। ২০২৪ সালে তিনি এক বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে ডিপফেক ভিডিও তৈরি করার অভিযোগে মামলা করেছিলেন এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় এক লাখ ইউরো দাবি করেন। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছিলেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো অন্যান্য ভুক্তভোগী নারীদের সাহস জোগানো, যাতে তাঁরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারেন।

‘ফিকা’ কেলেঙ্কারি ইতালিতে নতুন করে নারীর অধিকার ও অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক জাগিয়েছে। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে, আরেকটি ফেসবুক পেজ বন্ধ করা হয় যেখানে হাজার হাজার পুরুষ গোপনে নারীদের ব্যক্তিগত ছবি প্রকাশ করছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত