Ajker Patrika

ঢাকা-৩: দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই

নাজিম উদ্দিন ইমন, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)
ঢাকা-৩: দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সারা দেশের মতো ঢাকার কেরানীগঞ্জেও (ঢাকা-৩) বইছে ভোটের হাওয়া। তবে অন্যগুলোর মতো এই আসনে কোনো দলেই প্রার্থীর ছড়াছড়ি নেই। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে যাচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) নসরুল হামিদ বিপু এবং বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। দুজনই জাতীয় রাজনীতির ‘হেভিওয়েট’ নেতা হিসেবে পরিচিত। নসরুল হামিদ বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী; অন্যদিকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হচ্ছেন দলটির ঢাকা জেলা দক্ষিণের সহসভাপতি সুলতান আহমেদ খান। 

কেরানীগঞ্জের জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঢাকা-৩ আসন। মোট ভোটার ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৪৭ জন। রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আসনটি ছিল বিএনপির দখলে। এর আগেও এই আসন ভাগাভাগি হয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। ২০০১ সালে এই আসনে প্রথমবারের মতো নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থী আমান উল্লাহ আমানের কাছে প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন নসরুল হামিদ বিপু। আসনটি পুনর্বিন্যাস হওয়ার পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে প্রায় ৪২ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে এমপি হন বিপু। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তিনি ক্ষমতায় আছেন।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন মেয়াদের উন্নয়নকে পুঁজি করে চতুর্থ দফায় এমপি হতে চান বিপু। অন্যদিকে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে কখনোই এই আসনের এমপি হতে পারেননি। ২০০৮-এর নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাস করে কেরানীগঞ্জ উপজেলাকে ভেঙে দুটি সংসদীয় আসন করা হলে গয়েশ্বর ঢাকা-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পান। ২০১৪ সালের নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে অংশ নেননি। ২০১৮ সালেও নির্বাচনে পরাজিত হন। স্থানীয়দের দাবি, এই আসন জাতীয় সংসদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন। তাই আসনটিতে হেভিওয়েট নেতাদেরই মনোনয়ন দেবে দলগুলো। 

তবে নির্বাচনের আর কয়েক মাস বাকি থাকলেও এ নিয়ে ভাবছে না বিএনপি। নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। নসরুল হামিদ সুযোগ পেলেই এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছেন। অসুস্থ হয়ে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী সুলতান আহমেদ খান। এলাকায় তাঁর অনুসারীদেরও তেমন তৎপরতা নেই।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘নির্বাচন নয়, আমরা ভাবছি জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে। আমি জিতলে জনগণের ভোটে জিততে চাই, হারলেও জনগণের ভোটেই হারতে চাই।’ কেরানীগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নৌকার ভরাডুবি হবে বলেও মন্তব্য করেন গয়েশ্বর চন্দ্র।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নসরুল হামিদ বিপুর একান্ত সহকারী সচিব (এপিএস) মুজাহিদুল ইসলাম মামুন বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই কেরানীগঞ্জের জনগণ নৌকায় ভোট দেবেন। আর এলাকায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে তাঁর (নসরুল হামিদ) বিকল্প নেই। 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা জেলা দক্ষিণ শাখার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সাংগঠনিকভাবে শতভাগ প্রস্তুতি রয়েছে। সংগঠন সেভাবেই ঢেলে সাজানো হয়েছে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় থাকলে তাঁর দলেরই জয় হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত