Ajker Patrika

বাসস্ট্যান্ডে নেই শৌচাগার ভোগান্তিতে যাত্রীরা

মিঠাপুকুর প্রতিনিধি
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২১, ১৬: ১৯
বাসস্ট্যান্ডে নেই শৌচাগার ভোগান্তিতে যাত্রীরা

সবার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবার গতকাল শুক্রবার পালিত হয়েছে বিশ্ব টয়লেট দিবস। তবে এখনো মিঠাপুকুরের যাত্রীদের জন্য নিশ্চিত হয়নি এই সুবিধা।

উপজেলার বাসস্ট্যান্ডগুলোতে নেই কোনো গণশৌচাগার। যার ফলে প্রাকৃতিক কর্ম সারতে গিয়ে যাত্রীদের পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকদের পড়তে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে।

মিঠাপুকুরের শঠিবাড়ি হাট, উপজেলা সদর, জায়গীর হাট, বলদীপুকুর, বৈরাগীগঞ্জ ও দমদমা এলাকায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে রয়েছে বাসস্ট্যান্ড। তবে এগুলোর কোনোটিতে শৌচাগার ব্যবহারের সুবিধা নেই। অথচ এসব স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন শত শত যাত্রী বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। তাঁদের বাধ্য হয়ে খোলা জায়গায় প্রাকৃতিক কর্ম সম্পন্ন করতে হয়। সবচেয়ে বেশি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় নারী যাত্রীদের। অনেক সময় নিরুপায় হয়ে স্ট্যান্ডের আশপাশের বাসাবাড়িতে যেতে হয়।

গতকাল উপজেলা সদর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন সড়কের পাশে প্রস্রাব করছেন। সেখানে কথা হয় পরিবহন শ্রমিক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, সরকারি শৌচাগার না থাকায় বাধ্য হয়ে এমনটি করতে হয়। এ জন্য মাঝেমধ্যে গালমন্দও শুনতে হয়।

বাসস্ট্যান্ডের পাশের জমির মালিক ওষুধ ব্যবসায়ী বুলবুল বলেন, নিষেধ করা সত্ত্বেও অনেকে তাঁর বাসার আশপাশের ফাঁকা জায়গায় প্রস্রাব করেন।

অপর পরিবহন শ্রমিক যুগল সরকার জানান, অনেক দিন আগে গণশৌচাগার নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু জায়গা না থাকায় টাকা ফেরত চলে যায়।

এ সময় পাশে থাকা বাসযাত্রী মামুন মিয়া জানান, শৌচাগার না থাকায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী যাত্রী বলেন, তিনি সপ্তাহে পাঁচ দিন রংপুর শহর থেকে অফিস করেন। গাড়ি থেকে নেমে অনেক সময় প্রাকৃতিক কর্মের প্রয়োজন হয়। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তিনি পানি পান করা থেকে বিরত থাকেন।

মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাবলু মিয়া বলেন, শৌচাগার একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। অথচ উপজেলার বাসস্ট্যান্ডগুলোর একটিতেও এগুলো নির্মাণ করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান তালুকদার বলেন, জায়গা না থাকায় শৌচাগার নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। এখন মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। এই প্রকল্পের আওতায় যাতে গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয় সেই চেষ্টা করা হবে।

এদিকে গতকাল ছিল বিশ্ব টয়লেট দিবস। দিবসটি উদ্‌যাপনে কোনো কর্মসূচি ছিল কি না জানতে চাইলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপপ্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাননি।

মহাসড়কে যাত্রীদের সুবিধার্থে শৌচাগার নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা জানান, বাসস্ট্যান্ডে শৌচাগার নির্মাণে কোনো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় না। এমনকি কোনো দিকনির্দেশনাও নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত