Ajker Patrika

খুলছে পর্যটনের দ্বার

নুরুল আমীন রবীন, শরীয়তপুর
আপডেট : ১৬ জুন ২০২২, ১৫: ৩৮
Thumbnail image

পদ্মা সেতু ঘিরে তৈরি হয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। স্বপ্নের এই সেতু দেখতে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ভিড় করেছে হাজারো দর্শনার্থী। সেতু চালুর আগেই সেতু ঘিরে তৈরি করা আন্তর্জাতিক মানের এক্সপ্রেসওয়ে, টোল প্লাজা, সার্ভিস এরিয়া, কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডসহ দৃষ্টিনন্দন সব স্থাপনা দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন অসংখ্য মানুষ।

গত সোমবার বিকেলে সরেজমিন পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে দেখা যায়, টোল প্লাজার কিছুটা সামনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার পরিজন নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা সেতু ও সেতুকে ঘিরে নির্মাণ হওয়া আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন স্থাপনা দেখছেন। অনেকে আবার এসব স্থাপনার সঙ্গে সেলফি তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে নিরাপত্তার কারণে আগত দর্শনার্থীদের আটকে যেতে হয় টোলপ্লাজার ৩০০ মিটার সামনে থাকা এক্সপ্রেসওয়েতে। সেতুর এত কাছে এসেও সেতুতে উঠতে না পারা বা কাছ থেকে সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে না পারার আক্ষেপও ছিল অনেকের মুখে। তবে আতিথেয়তার সবটুকু দরদ দিয়েই পর্যটকদের সেবা দেন স্থানীয়রা। আদি পেশা বদল করে জাজিরার অনেকেই এখন পর্যটনকেন্দ্রিক নতুন ব্যবসা কিংবা অন্য পেশায় আত্মনিয়োগ করছেন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের পর্যটনের উদ্যোক্তারাও নতুন সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন।

শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতু এলাকায় পর্যটকদের ভিড়। গত সোমবার তোলা ছবিসরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন মাসেই চালু হতে যাচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সেতুটি চালু হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি পর্যটন ও শিল্প-বাণিজ্যেও অনেক দূর এগিয়ে যাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের তালিকায় স্থান করে নেবে পদ্মা সেতু এলাকা।

খুলনার সোনাডাঙ্গা থেকে বিজয় দিবসের আনন্দ উপভোগ করতে পরিবার নিয়ে পদ্মা সেতু এলাকায় ঘুরতে আসেন আব্দুল মান্নান। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে বেড়ান এক্সপ্রেসওয়ে ও সার্ভিস এরিয়া ২ এলাকায়। মান্নান বলেন, ‘বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে পরিবারকে পদ্মা জয়ের চিত্র দেখাতে নিয়ে এসেছি। এলাকার উন্নয়ন চোখে পরার মতো। তবে নিরাপত্তার কারণে সেতুর কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। তাতে কষ্ট নেই। আমাদের ঘুরে বেড়ানোর চেয়ে সেতুর নিরাপত্তা বেশি জরুরি।’

বাইকে করে জাজিরা থেকে ঘুরতে আসা পলাশ বলেন, ‘আমাদের এলাকা এতটা উন্নত হবে স্বপ্নেও ভাবিনি। সবই সম্ভব হয়েছে পদ্মা সেতুর কারণে। এলাকায় প্রতিদিন দূর-দুরান্ত থেকে হাজারো মানুষ আসছে সেতুটি এক নজর দেখতে। আমরা সকল পর্যটকদের যথাসাধ্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। ইতিমধ্যে পর্যটকদের জন্য স্থানীয় উদ্যোগে বেশ কিছু ভালো মানের রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেছে।’

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮৯ শতাংশ। আর মূল সেতুর কাজ এগিয়েছে ৯৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শেষে চলছে সেতুর লাইট ফিটিংসের কাজ। ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যানের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটারের পদ্মা সেতু।’

স্বপ্নের পদ্মা সেতু সম্পর্কে সবশেষ খবর পেতে - এখানে ক্লিক করুন

শরীয়তপুর-১ আসনের সাংসদ ইকবাল হোসেন অপু বলেন, ‘দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পদ্মা সেতু আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উৎসবের সঙ্গে সঙ্গে পদ্মা বিজয়ের উৎসব করছে শরীয়তপুরবাসী। সেতুটি উদ্বোধনের পর জাজিরা প্রান্তকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

পদ্মা সেতু সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত