Ajker Patrika

৭৮০ টন গুড় অবিক্রীত বেতন নেই শ্রমিকদের

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২২, ১৫: ৪২
Thumbnail image

পঞ্চগড় চিনিকলের আখমাড়াই দুই বছর ধরে স্থগিত থাকলেও উৎপাদিত ৭৮০ মেট্রিক টন চিটাগুড় এখনো বিক্রি হয়নি। এতে গুড়ের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে এ চিনিকলের কর্মচারী ও শ্রমিকেরা তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না।

২০১৯-২০ মাড়াই মৌসুমে উৎপাদিত হওয়া ১ হাজার ৪০২ মেট্রিক টন চিটাগুড়ের মধ্যে ৭৮০ টন গুড় সরকার নির্ধারিত দাম না পাওয়ায় অবিক্রীত রয়েছে। ওই গুড় চিনিকলটির তিনটি স্টিল ট্যাংকে মজুত রয়েছে।

এদিকে চিনি মজুত না থাকা, চিটাগুড় বিক্রি করতে না পারাসহ চিনিকলের আয়ের তেমন কোনো উৎস নেই। কর্মকর্তা, শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন ও অবসরপ্রাপ্তদের বিশেষ ভাতার টাকা পরিশোধ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। এমনকি চিনিকলটির নিজস্ব ২২৪ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে প্রতিবছর সুদ গুনতে হচ্ছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

পঞ্চগড় চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫-৬৯ সালে তৎকালীন সরকারের সময় পঞ্চগড়ের ধাক্কামারা এলাকায় ১৯৮ দশমিক ৪৬ একর জমির ওপর স্থাপন করা হয় চিনিকলটি। এটিতে সাড়ে ৩ শতাংশ চিটাগুড় উৎপাদন হতো। সরকার নির্ধারিত দাম অনুয়ায়ী দরপত্রের মাধ্যমে প্রতি মেট্রিক টন চিটাগুড় ৩২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করত। তবে সর্বশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাড়াই মৌসুমে উৎপাদন হওয়া ১ হাজার ৪০২ টন চিটাগুড়ের মধ্যে এখনো অবিক্রীত আছে ৭৮০ টন। সঠিক দামের ক্রেতাসংকটে সময়মতো এই চিটাগুড় বিক্রি করা না গেলে গুণগত মান হারাবে বলে বলছেন চিনিকলের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চিনিকলের মাড়াই স্থগিত হওয়ায় মৌসুমি শ্রমিকদের ছাঁটাই এবং স্থায়ী কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের বেশির ভাগকে দেশের বিভিন্ন চিনিকলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে চিনিকলটিতে ৬২ জন স্থায়ী কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক রয়েছেন। এ ছাড়া নিরাপত্তাপ্রহরী হিসেবে ৩২ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী রয়েছেন। চিনিকলটির আওতায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও চলে। এতে বর্তমানে চিনিকলটির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে ২৮ লাখ টাকা প্রয়োজন।

এ ছাড়া চিনিকলটির কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের তিন মাস ধরে বেতন বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া অবসর নেওয়া ২৯১ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকের ১২ কোটি ৪৫ লাখ বিশেষ ভাতার টাকা বকেয়া রয়েছে।

পঞ্চগড় চিনিকলের কর্মচারী আবুল বাসার বলেন, ‘এই চিনিকলটি পঞ্চগড়ের একমাত্র ভারী শিল্প ছিল। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার কারণে এখানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। আমরা শ্রমিক-কর্মচারীরা তিন মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না।’

পঞ্চগড় চিনিকলের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘দুই বছর আগে মাড়াই স্থগিত থাকা এই চিনিকলের আবাদি জমি নিয়ম অনুযায়ী লিজ দেওয়া এবং মজুত করা চিটাগুড় বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো আয়ের উৎস নেই। কিন্তু চিটাগুড় বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করেও সরকার নির্ধারিত দাম না পাওয়ায় বিক্রি করতে পারছি না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত