Ajker Patrika

বাড়ছে প্রভিশন ঘাটতি: মন্দ ঋণে ডুবছে ব্যাংক খাত

জয়নাল আবেদীন খান, ঢাকা 
বাড়ছে প্রভিশন ঘাটতি: মন্দ ঋণে ডুবছে ব্যাংক খাত

দীর্ঘদিন ধরে মন্দ ঋণের চাপে দেশের ব্যাংক খাত। ঋণগ্রহীতাদের সময়মতো কিস্তি ও সুদ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে ব্যাংকের ঋণ অস্বাভাবিকহারে মন্দ ঋণে পরিণত হচ্ছে। মন্দ ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংককে ঝুঁকি কমাতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন রাখার চাপ ক্রমেই বেড়ে গেছে। তবে কম মুনাফা ও ঋণের বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রভিশন ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২৩১ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে ব্যাংকগুলোকে প্রভিশন হিসেবে রাখা প্রয়োজন ছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা; কিন্তু তারা রাখতে পেরেছে মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। চলতি বছরের জুনে প্রভিশন ঘাটতি ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৬ হাজার ১৩০ কোটি টাকা, একই বছরের আগের প্রান্তি বা সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে যা ছিল ৫৫ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘মন্দ ঋণ বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকগুলোর প্রভিশন তৈরি করা বাধ্যতামূলক। অনেক ব্যাংক এমন অবস্থায় আছে যে, ন্যূনতম সঞ্চিতিও তুলতে পারছে না। সময়মতো প্রভিশন না থাকলে গ্রাহকের আমানত ঝুঁকিতে পড়ে।’

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট বিতরণ করা ঋণ ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা, যার মধ্যে খেলাপি ঋণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। এক বছর আগে একই সময়ে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৬.৯৩ শতাংশ।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ঋণ আদায় ব্যর্থ হওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। মন্দ ঋণের বৃদ্ধিই প্রভিশন ঘাটতির মূল কারণ। আর্থিক সংকট এবং কম আমানতের প্রবৃদ্ধি ব্যাংকের সক্ষমতা সীমিত করেছে।’

Capture

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ‘গত ১৫ বছরে যথাযথ তদারকি না হওয়ায় খেলাপি ঋণ বেড়েছে। ডাউন পেমেন্ট নিশ্চিত করা, লোন রিশিডিউল করা এবং আনক্ল্যাসিফাই করা জরুরি। বড় গ্রাহকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, নিয়মিত ঋণের ক্ষেত্রে ০.২৫-৫ শতাংশ এবং অনিয়মিত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ প্রভিশন বাধ্যতামূলক। মার্চের শেষে প্রভিশন কাভারেজ রেশিও মাত্র ৩৮ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক কম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকি বলেন, ‘আগামীতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ডাইনামিক প্রভিশনিং কার্যকর করা হবে। এতে ব্যাংকের শক্তি বাড়বে এবং মূলধনের ওপর চাপ কমবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ভারত অনুমতি দেয়নি, ভুটানের পণ্যের চালান আটকা বুড়িমারীতে

হল-মার্কের এমডি তানভীরের মৃত্যু

তিন দিন ধরে একই অবস্থায় খালেদা জিয়া: জাহিদ হোসেন

‘বাকসু’ হিসেবেই ববি ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র অনুমোদন, বিএম কলেজের অসন্তোষ

ঢাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করে ডাকসু নেতারা হেলিকপ্টারে নির্বাচনী জনসংযোগ করছেন: হামিম

এলাকার খবর
Loading...