Ajker Patrika

বাগেরহাটবাসীর জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলেনি আগাম সংকেত

বাগেরহাট প্রতিনিধি
আপডেট : ১২ মে ২০২৩, ১৭: ২৪
Thumbnail image

ঘূর্ণিঝড় মোখা নিয়ে উপকূলবাসী আতঙ্কিত হলেও বাগেরহাটে এর কোনো প্রভাব নেই। আজ শুক্রবার সকাল থেকে প্রচণ্ড গরমের সঙ্গে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া বিরাজ করছে। পশুর, বলেশ্বর, ভৈরবসহ জেলার বেশির ভাগ নদ-নদীর অবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে। মানুষের জীবনযাত্রায়ও ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সংকেত কোনো প্রভাব ফেলেনি।

বাগেরহাট শহরের রিকশাচালক আলমগীর মোল্লা বলেন, ‘খবর শোনার পর খুব চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু সকাল থেকে আবহাওয়া ভালো হওয়ায় রিকশা নিয়ে বের হয়েছি। আল্লাহ যেন কোনো বড় বিপদ না দেয়।’ 

শরণখোলা উপজেলার নজরুল ইসলাম আকন বলেন, বলেশ্বর ও ভোলা নদের পানি স্বাভাবিক রয়েছে। আবহাওয়াও অনেক ভালো। আকাশে কোনো মেঘ নেই। তবে রাতে কিছু একটা হতে পারে। 

শরণখোলার উত্তর সাউথখালী গ্রামের নাজমুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে এলাকায় খুব রোদ। বলেশ্বর নদও স্বাভাবিক রয়েছে। আল্লাহই জানে কখন কী হবে। 

সুন্দরবনের করমজল বন্য প্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, সকাল থেকে সুন্দরবনের আবহাওয়া স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো তেমন কোনো পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। 

আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলেও মোখা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ৪৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত শুকনা খাবার, নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা মোকাবিলায় জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলা সদর ও প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। ৯ উপজেলায় ৮৪টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কয়েক শ স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় মোখা মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। বাগেরহাটের মোংলা বন্দর থেকে এর দূরত্ব ৯৬৫ কিলোমিটার। মোংলা, পায়রা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে চার নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত