Ajker Patrika

ঢামেকে নবজাতক চুরি: সিসি টিভি ফুটেজে নারী শনাক্ত, থানায় মামলা

ঢামেক প্রতিবেদক
আপডেট : ০৫ জুন ২০২৪, ১৬: ০৮
ঢামেকে নবজাতক চুরি: সিসি টিভি ফুটেজে নারী শনাক্ত, থানায় মামলা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে যমজ নবজাতকের একজন চুরি হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার শাহবাগ থানায় মামলা করেন শিশুর বাবা।

আজ বুধবার হাসপাতালের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, নবজাতকের মা সুখী বেগম আরেকটি বাচ্চাকে নিয়ে বেডে শুয়ে আছেন। আরেকটি বাচ্চার কথা জিজ্ঞাসা করতেই কান্না করে দেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার বাচ্চা হারিয়ে গেছে। আমার স্বামী ও স্বজনেরা আমাকে জানায়নি। ওয়ার্ডে অন্য লোকদের মুখে জানতে পারি আমার একটি বাচ্চাকে চুরি করে নিয়ে গেছে। এত কষ্ট করে দুটি বাচ্চাকে ৯ মাস পেটে রেখেছি। এখন জন্মের পর যদি একজন মা জানতে পারে একটি বাচ্চা চুরি হয়েছে, তখন তার কেমন লাগে আপনারাই বলেন। গতকাল দুপুরে বাচ্চা হারানোর কথা জানতে পেরে আমার স্বামীকে শুধু বলি কেন আমার বাচ্চাকে অন্যের কোলে দিছে। এখন আমার বুকের ধনকে কে এনে দেবে?’

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাজিরুর রহমান জানান, ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে বাচ্চা চুরির ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। সিসি টিভির ফুটেজ দেখে ওই নারীকে শনাক্ত করা গেছে। এ বিষয় নিয়ে একাধিক টিম কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ওই নারী অনেক আগে থেকেই হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন এবং গাইনি ওয়ার্ডে নবজাতকের স্বজনদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। সুযোগ বুঝে নবজাতকটিকে নিয়ে চলে যান।

সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায়, কালো রঙের বোরকা ও কমলা রঙের ওড়না পরিহিত এক নারী নবজাতকের দাদির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে। পরে ভূমিষ্ঠ হওয়া যমজ নবজাতকের একজনকে কোলে নিয়ে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের একটি কাগজ দেখিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।

নবজাতকের বাবা শরিফুল ইসলাম জানান, তাঁদের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার আদাবাড়িয়া গ্রামে। সেখানে তাঁর বড় স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। সুখী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। সুখীরও এটা দ্বিতীয় বিয়ে। আগের ঘরে এক ছেলেসন্তান রয়েছে। এই ছেলেকে নিয়ে পাঁচ–ছয় বছর আগে সুখীকে বিয়ে করেন এবং ঢাকার ধামরাই কালামপুর এলাকায় থাকেন। সেখানেই তিনি দিনমজুরের কাজ করেন।

শরিফুল আরও জানান, তাঁর স্ত্রী সুখী বেগমের (২৫) গত সোমবার রাতে প্রসব বেদনা শুরু হয়। তাঁকে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিজারের মাধ্যমে সুখী দুটি যমজ মেয়েসন্তান জন্ম দেন। নবজাতকের দাদি হাসিনা বেগম ছিলেন সঙ্গে।

শরিফুল বলেন, ‘যমজ বাচ্চা হওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, বাচ্চা দুটির এনআইসিইউয়ের প্রয়োজন। তখন থেকেই ওই নারী আমাদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে। আমার বাচ্চাকে কোলে নিয়ে পাশেই ২১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে যায়। বাচ্চার দাদি বৃদ্ধ হওয়ায় অনেক কিছুই বোঝো না। তখন ওই মহিলা বাচ্চার দাদির সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে এবং তাকে বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করে। দুপুরে আমি একটি ওষুধ আনতে নিচে যাই। সেখান থেকে ফিরে এসে দেখি ওই মহিলা ওয়ার্ডে নাই এবং আমার বাচ্চাটিও নাই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত