Ajker Patrika

আদর্শ বিচারকের যেসব বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত

ইসলাম ডেস্ক 
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

ন্যায়পরায়ণ বিচারককে অনন্য মর্যাদা দিয়েছে ইসলাম। পবিত্র কোরআনে বিচারকাজকে নবী-রাসুলদের কাজ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা নিজেই ন্যায়পরায়ণ বিচারকদের ভালোবাসার কথা ঘোষণা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তুমি বিচার করো, তখন তাদের মধ্যে ন্যায়ের সঙ্গে ফয়সালা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়পরায়ণদের ভালোবাসেন।’ (সুরা মায়িদা: ৫)

ন্যায়বিচারের সুফল যাতে মানুষ ভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে ইসলাম বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। বিচারকের প্রধান বৈশিষ্ট্য হবে বিচারপ্রার্থীকে তাঁর কাছে পৌঁছাতে কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হবে না। (তিরমিজি)

এ ছাড়া ইসলামি আইনগ্রন্থ ফতোয়ায়ে শামিতে ইসলামের দৃষ্টিতে আদর্শ বিচারকের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে। যথা:

  • বিচারক যেখানেই বিচার করুন না কেন, সেখানে সর্বসাধারণের প্রবেশের অনুমতি থাকতে হবে।
  • কারও কাছ থেকে কোনো ধরনের উপহার নিতে পারবেন না।
  • কারও বিশেষ দাওয়াতে অংশ নিতে পারবেন না।
  • সব বিষয়ে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের প্রতি সমতা নিশ্চিত করতে হবে।
  • কোনো এক পক্ষের সঙ্গে গোপন আলাপ, উচ্চ স্বরে কথাবার্তা বলা, মুখোমুখি হাসা, তাদের সম্মানার্থে দাঁড়ানো ইত্যাদি আচরণ থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • বিচারের মঞ্চে বসে ঠাট্টা-মশকরা করা যাবে না।
  • আদালতে বিচারকের সামনে কোনো পক্ষই এমন কথা বলতে পারবে না, যা অন্য পক্ষ বুঝতে অপারগ। (দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম; পৃ.৫৭১-৫৭২)

বিচারকাজে পক্ষপাতদুষ্ট হওয়া এবং অন্যায় ফয়সালা করা পরকালে কঠিন শাস্তির কারণ। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘বিচারকেরা তিন দলে বিভক্ত। একদল জান্নাতি এবং দুই দল জাহান্নামি। যে বিচারক সত্য জেনে সে মোতাবেক ফয়সালা করে, সে জান্নাতি। আর যে সত্য জানা সত্ত্বেও রায় প্রদানে অন্যায়ের আশ্রয় নেয়, সে জাহান্নামি। আর যে ব্যক্তি অজ্ঞ অবস্থায় বিচারকাজ সম্পাদন করে, সেও জাহান্নামি।’ (আবু দাউদ)

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত