Ajker Patrika

ইরাকের তেলের জন্য ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পুতিন

অনলাইন ডেস্ক
ইরাকের একটি তেলক্ষেত্র। ছবি: এএফপি
ইরাকের একটি তেলক্ষেত্র। ছবি: এএফপি

ইরাকি তেল কিনতে দেশটিকে বাধ্য করার জন্য চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কিছুদিন আগে এমন খবর দিয়েছিল বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রের এমন অবস্থানের পর এবার ইরাকের কুর্দিস্তানে নিজেদের জ্বালানি প্রকল্প পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে রাশিয়া। এমনটাই জানিয়েছেন, রাশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী সের্গেই তসিভিলেভ।

রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরাকের ফেডারেল সরকার ও কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সরকার তাদের তেল সংক্রান্ত বিরোধ মিটিয়ে নিয়েছে। যার ফলে রুশ কোম্পানিগুলো অঞ্চলটিতে তাদের প্রকল্প পুনরায় শুরু করতে পারবে।

রাশিয়ার বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রোজেনেফট ছিল সেই কয়েকটি কোম্পানির একটি, যারা অঞ্চলটিতে কাজ স্থগিত করেছিল। সিরিয়া সীমান্তের কাছে কার্যক্রম পরিচালনার সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে এটি কিছু কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। মূলত ইরাকের ফেডারেল সরকারের সঙ্গে কুর্দিস্তান সরকারের সম্পর্কের কারণেই রুশ কোম্পানি সেখানে কাজ বন্ধ রেখেছিল।

ইরাকের তেলমন্ত্রী হায়ান আবদেল-গানি সোমবার বলেছেন, ইরাক কুর্দিস্তান অঞ্চলের তেল প্রবাহ পুনরায় চালুর জন্য তুরস্কের অনুমতির অপেক্ষা করছে, এবং তারা আশা করছে যে, এটি দুই দিনের মধ্যেই পুনরায় শুরু করা যাবে।

রাশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী তাসিভিলেভ বলেছেন, তিনি কুর্দিস্তান অঞ্চল ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমাদের কোম্পানিগুলো সেখানে কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং প্রকল্পগুলোতে প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু পরে, ফেডারেল সরকার ও (ইরাকি) কুর্দিস্তানের মধ্যে মতবিরোধের কারণে এই প্রকল্পগুলো স্থগিত হয়ে যায়।’

তাসিভিলেভ আরও বলেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি জারুবেজনেফট পুনরায় ইরাকে ফিরে আসতে চায়। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে, ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের কুয়েত আক্রমণের পর প্রতিষ্ঠানটি দেশটি ছেড়ে চলে যায়।

এর আগে, রয়টার্স নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরাকের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, যাতে বাগদাদ দেশটির কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করার অনুমতি দেয়। অন্যথায় ইরানের মতো ইরাকেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে ইরাক সরকারের যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞার হুমকি বা কোনো ধরনের চাপের বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি।

ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হলে, ইরানি তেল রপ্তানি হ্রাসের সম্ভাব্য প্রভাব কিছুটা লাঘব হবে। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেশটির তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নকে ধীর করতে চায়, এ জন্য তারা ইরানের তেল রপ্তানি রাজস্ব বন্ধ করতে চায়।

এর আগে, গত সোমবার ইরাকের তেলমন্ত্রী আকস্মিকভাবে ঘোষণা দেন, আগামী সপ্তাহ থেকে কুর্দিস্তান থেকে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হবে। বাগদাদ, ওয়াশিংটন ও ইরাকের কুর্দিস্তানের রাজধানী ইরবিলে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা আটটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন মার্কিন প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান চাপই সোমবারের ঘোষণার মূল চালিকা শক্তি।

কুর্দিস্থান থেকে প্রতিদিন ৩ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল তুরস্ক হয়ে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ করে। এর ফলে, এই অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রায় দুই বছর ধরে চলা বিরোধের অবসান ঘটাবে। ইরান তার প্রতিবেশী ও মিত্র ইরাককে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে দিয়ে নিজের অর্থনীতি সচল রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে। তবে বাগদাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আবার অন্যদিকে ইরানেরও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। এ কারণে বাগদান ট্রাম্পের তেহরানকে চাপে রাখার নীতির মাঝে পড়ে বিব্রত অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

ট্রাম্প চান, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি যেন ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করেন। গত সপ্তাহে রয়টার্স জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অনুরোধে ইরাকের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচটি বেসরকারি ব্যাংকের ডলারের লেনদেনের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে ইরাকের পক্ষ থেকে ঘোষণাটি দ্রুত দেওয়া হয়েছে এবং এতে কীভাবে কারিগরি সমস্যাগুলো সমাধান করে রপ্তানি পুনরায় শুরু করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা ছিল না বলে জানিয়েছে চারটি সূত্র।

ইরান ইরাকে শক্তিশালী শিয়া মিলিশিয়া ও বাগদাদে সমর্থিত রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে দেশটিতে ব্যাপক সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এমন সময় বাড়ানো হয়েছে যখন ইরান তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর ইসরায়েলি হামলার কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ফারহাদ আলা-আলদিন এক বিবৃতিতে বলেছেন, তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু না হলে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে, এমন কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, ইরাকি পার্লামেন্ট ইতিমধ্যেই তেলের মূল্য নির্ধারণের আইন পাস করেছে এবং এটি কার্যকর করা এখন সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় সম্পদের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তসমূহ ইরাকি সার্বভৌমত্ব বজায় রেখেই নেওয়া হয় এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য করা হয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত