Ajker Patrika

ধীরে হাঁটলে মস্তিষ্ক ছোট হয়, আয়ু কমে: গবেষণা

বিবিসি
আপডেট : ১১ জুন ২০২৫, ১৭: ৪৭
গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ধীরে হাঁটেন, তাঁদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে ছোট হয়। ছবি: আজকে পত্রিকা
গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ধীরে হাঁটেন, তাঁদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে ছোট হয়। ছবি: আজকে পত্রিকা

আপনি প্রতিদিন কতটা দ্রুত হাঁটেন—এই সাধারণ অভ্যাস জানাতে পারে আপনার মস্তিষ্ক কতটা দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ধীরে হাঁটেন, তাঁদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে ছোট হয় এবং মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোয় ভিন্নতা থাকে।

দৃশ্যত সাধারণ মনে হলেও আপনি যখন দোকানে যান, পার্কে হাঁটেন বা বাসস্টপেজে পৌঁছান, সেই হাঁটার গতি শরীর ও মনের ভেতরের অবস্থা জানাতে পারে। এমনকি আপনি কত বছর বাঁচবেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আশঙ্কা বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টিও ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে আপনার হাঁটার গতি। এটি ব্যবহার করে জানা যেতে পারে, আপনার কগনিটিভ বা মানসিক ক্ষমতা কোন গতিতে কমছে।

এই হাঁটার গতি পরিমাপকে বলা হয় ‘ওয়াকিং স্পিড টেস্ট’। এটি নির্ধারণ করে, একজন ব্যক্তি দৈনন্দিন কাজকর্ম কতটা স্বচ্ছন্দে করতে পারছেন। এটি দুর্বলতা শনাক্তের পাশাপাশি স্ট্রোকের পর মস্তিষ্কের পুনর্বাসন কেমন হবে, সেটিও অনুমান করতে পারে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটার গতি ধীর হওয়া স্বাভাবিক হলেও যদি হঠাৎ এই গতি কমে যায়, তবে তা হতে পারে শরীরে বড় ধরনের কোনো সমস্যা বা দুর্বলতার ইঙ্গিত।

‘গতি কমে গেলে বুঝতে হবে, কিছু একটা ঘটছে’

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ক্রিস্টিনা ডিয়েলি-কনরাইট বলেন, ‘যখন কারও হাঁটার গতি কমে আসে, তখন প্রায়ই দেখা যায়, তা শরীরের ভেতরের কোনো দুর্বলতার সঙ্গে সম্পর্কিত।’

‘সম্ভবত সেই ব্যক্তি কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভুগছেন, ফলে তাঁর চলাফেরা কমে গেছে বা তিনি স্থবির হয়ে পড়েছেন। এর ফলে পেশিশক্তি ও অস্থিসন্ধির সচলতা কমে যায়, যা পরে আরও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে,’ বলেন কনরাইট।

গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ধীরে হাঁটেন, তাঁদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে ছোট হয়। ছবি: আজকে পত্রিকা
গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ধীরে হাঁটেন, তাঁদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে ছোট হয়। ছবি: আজকে পত্রিকা

সহজ এক পরীক্ষা

এই হাঁটার গতি মাপতে প্রয়োজন শুধু একটি স্টপওয়াচ ও দূরত্ব মাপার একটি সরঞ্জাম। বাইরে বেশি জায়গা থাকলে ১০ মিটার হাঁটার পরীক্ষাটি করা যায়। প্রথমে ৫ মিটার পথ মেপে নিন, এরপর আরেকটি ১০ মিটার। ৫ মিটার পথ হেঁটে গতি নির্ধারণ করুন, এরপর ১০ মিটার পথ স্বাভাবিক গতিতে হাঁটুন। সময় নিয়ে গতি হিসাব করুন—১০ মিটারকে সময় দিয়ে ভাগ করুন।

আপনি যদি বাসায় থাকেন এবং জায়গা সীমিত থাকলে ৪ মিটার হাঁটার পরীক্ষাও করা যায়। ১ মিটার বাড়তি পথ রেখে ৪ মিটার হাঁটার সময় নিন। এরপর ৪ মিটারকে সময় দিয়ে ভাগ করে গতি নির্ধারণ করুন।

আপনি কোন গোষ্ঠীতে পড়েন

গড় হাঁটার গতি সাধারণত বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী ভিন্ন হয়—

৪০–৪৯ বছর: নারী–১.৩৯ মিটার/সেকেন্ড, পুরুষ–১.৪৩ মিটার/সেকেন্ড

৫০–৫৯ বছর: নারী–১.৩১ মিটার/সেকেন্ড, পুরুষ–১.৪৩ মিটার/সেকেন্ড

৬০–৬৯ বছর: নারী–১.২৪ মিটার/সেকেন্ড, পুরুষ–১.৪৩ মিটার/সেকেন্ড

৭০–৭৯ বছর: নারী–১.১৩ মিটার/সেকেন্ড, পুরুষ–১.২৬ মিটার/সেকেন্ড

৮০–৮৯ বছর: নারী–০.৯৪ মিটার/সেকেন্ড, পুরুষ–০.৯৭ মিটার/সেকেন্ড

আপনার ফোনে থাকা অ্যাপ, যেমন Walkmeter, MapMyWalk, Strava কিংবা Google Fit দিয়ে হাঁটার গতি নির্ধারণ করা যায়। এসব অ্যাপ জিপিএস ব্যবহার করে দূরত্ব ও সময় হিসাব করে গতি বের করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বয়সভিত্তিক হাঁটার গতি থেকে ভবিষ্যতের আয়ু অনুমান করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৩৪ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যাঁদের হাঁটার গতি সবচেয়ে কম, ৭৫ বছর বয়সে তাঁদের ১০ বছর বাঁচার সম্ভাবনা মাত্র ১৯ শতাংশ। অথচ যাঁরা দ্রুত হাঁটেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা ৮৭ শতাংশ।

একটা ব্যাখ্যা হতে পারে, যাঁরা আগে থেকেই অসুস্থ, তাঁরা কম চলাফেরা করেন। কিন্তু ২০০৯ সালে ফ্রান্সের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এমনকি সুস্থ ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যেও যাঁদের গতি ধীর, তাঁদের হৃদ্‌রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ছিল তিন গুণ বেশি।

গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ধীরে হাঁটেন, তাঁদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে ছোট হয়। ছবি: আজকে পত্রিকা
গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ধীরে হাঁটেন, তাঁদের মস্তিষ্ক তুলনামূলকভাবে ছোট হয়। ছবি: আজকে পত্রিকা

‘হাঁটা আসলে একসঙ্গে অনেক কিছু’

ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক লাইন রাসমুসেন বলেন, ‘হাঁটা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে তা নয়। এ ক্ষেত্রে হাড়-মাংসপেশি, চোখ, হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস ও মস্তিষ্ক—সবকিছুকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়।’

তাঁর মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের এসব কার্যকারিতা কমে যায়। তাই ধীরগতিতে হাঁটা বয়সজনিত সার্বিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত হতে পারে।

এমনকি শুধু প্রবীণদের ক্ষেত্রেই নয়, বরং মাঝবয়সীদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। ২০১৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৫ বছর বয়সেও হাঁটার গতি জানিয়ে দিতে পারে শরীর ও মস্তিষ্ক কতটা দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে।

‘তিন বছর বয়সের মেধা জানিয়ে দেয় ৪৫ বছরে হাঁটার গতি’

নিউজিল্যান্ডের ডানিডিন শহরে ১৯৭২–৭৩ সালে জন্ম নেওয়া ১ হাজারের বেশি মানুষকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণা করা হয়। এই গবেষণায় ৯০৪ জনের মধ্যে দেখা গেছে, যাঁদের হাঁটার গতি ধীর, তাঁদের ফুসফুস, দাঁত ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এমনকি উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, কম কার্ডিও ফিটনেসের মতো বার্ধক্যের বলিরেখা বেশি দেখা গেছে। তাঁদের মুষ্টিশক্তিও দুর্বল ছিল এবং চেয়ার থেকে উঠতেও সমস্যা হচ্ছিল।

ব্রেইন স্ক্যানে দেখা গেছে, ধীরগতির হাঁটার সঙ্গে ছোট মস্তিষ্ক, পাতলা নিউকোর্টেক্স এবং অতিরিক্ত হোয়াইট ম্যাটার যুক্ত। এমনকি তাঁদের মুখাবয়বও অন্যদের তুলনায় বেশি বয়সী মনে হয়েছে।

গবেষকেরা আরও দেখেছেন, এই পার্থক্য অনেক আগে থেকেই ছিল। তিন বছর বয়সে বুদ্ধিমত্তা, ভাষা এবং শরীরের গতি নিয়ে করা পরীক্ষাগুলোর ফলাফল দিয়েই ৪৫ বছরে হাঁটার গতির পূর্বাভাস দেওয়া গিয়েছিল।

রাসমুসেন বলেন, ‘সবচেয়ে অবাক হয়েছি এই দেখে যে ৪৫ বছর বয়সে একজন কীভাবে হাঁটছেন, তা জানিয়ে দিচ্ছে তাঁর শৈশবের মানসিক সক্ষমতা!’

সমাধান হাতের নাগালে

তবে নিজেরা ধীরগতিতে হাঁটাহাঁটি করেন বলে যাঁদের মনে হয়, তাঁদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। হাঁটার গতি বাড়ানো সম্ভব। ক্যানসার রোগীদের নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ডিয়েলি-কনরাইট দেখেছেন, হাঁটার সময় ও গতি প্রতি তিন-চার সপ্তাহ পর বাড়ালে ধীরে ধীরে তা উন্নত হয়।

তিনি বলেন, ‘যেকোনো সুযোগে হাঁটা দরকার। এটি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ তাঁর পরামর্শ, গন্তব্যে যাওয়ার সময় গাড়ি কিছুটা দূরে পার্ক করুন, বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটার পরিকল্পনা করুন কিংবা পোষা প্রাণী নিয়ে বের হন।

‘বিশেষ করে যাঁরা বসে কাজ করেন, তাঁদের হাঁটার বিরতি নেওয়া জরুরি। এমনকি বাথরুমে যাওয়ার জন্য হলেও পাঁচ মিনিট হাঁটুন বা আশপাশে ছোট একটি চক্কর দিন—তাতে উপকার মিলবেই,’ বলেন ডিয়েলি-কনরাইট।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

গলা ও বুক জ্বালাপোড়া সমস্যা: কেন হয় এবং প্রতিরোধে করণীয়

ডা. মো. আব্দুল হাফিজ শাফী 
গলা ও বুক জ্বালাপোড়া সমস্যা: কেন হয় এবং প্রতিরোধে করণীয়

গলা বা বুক জ্বালাপোড়া, টক কিংবা তিতা ঢেকুর, খাবার ওপরে উঠে আসা, গলায় কিছু আটকে থাকার অনুভূতি, খাবার গিলতে কষ্ট, এমনকি স্বর ভাঙা—এসব উপসর্গে হরহামেশা মানুষ ভোগে। এগুলো একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন এবং কাজের সক্ষমতা ব্যাহত করে। ইএনটি চিকিৎসায় আমরা অনেক সময় গলা পরীক্ষা করে কোনো ক্ষত, প্রদাহ বা সিরিয়াস প্যাথলজি না পেলে এসব সমস্যার মূল কারণ হিসেবে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিআরইডি) শনাক্ত করি।

১৯৯৯ সাল থেকে প্রতি নভেম্বর মাসে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ সচেতনতা সপ্তাহ। এ বছরও ২৩-২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে জিআরইডি সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৫।

এই বছরের মূল বিষয় হলো, ‘চলুন, জিআরইডি নিয়ে কথা বলি’; যা রোগীর উপসর্গ, চিকিৎসা ও ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করার গুরুত্বকে আরও জোরদার করে।

বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ১৫ জন জিআরইডিতে ভুগছেন। ইউরোপ ও আমেরিকায় এর প্রকোপ বেশি হলেও এশিয়ায়, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায় রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রতিরোধ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেক রোগী জটিলতায় পড়েন এবং দীর্ঘদিন ওষুধনির্ভর থাকতে হয়।

গলা ও বুক জ্বালাপোড়া কেন হয়

‘গ্যাস্ট্রো’ বলতে পাকস্থলী আর ‘ইসোফেগাস’ বলতে খাদ্যনালিকে বোঝায়। সাধারণত খাবার খাদ্যনালি দিয়ে নিচের দিকে পাকস্থলীতে নামে। কিন্তু কোনো কারণে এই স্বাভাবিক পথ ব্যাহত হলে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালির ওপরের দিকে উঠে আসে। এই অ্যাসিডই গলা ও বুক জ্বালাপোড়া, টক ঢেকুরসহ নানা উপসর্গ তৈরি করে।

  • যাঁদের জিআরইডি হওয়ার ঝুঁকি বেশি
  • অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভোগেন
  • ধূমপানের অভ্যাস যাঁদের আছে
  • একবারে বেশি খাবার খান
  • খাবারের পরপরই শুয়ে পড়েন
  • বেশি তেলেভাজা ও মসলাযুক্ত খাবার খান
  • কোমল পানীয় ও অনিয়মিত কফি সেবন
  • গর্ভবতী নারীদের পেটে চাপ বাড়ায় ঝুঁকি বেশি

বয়স্কদের ক্ষেত্রে সতর্কতা

বুক জ্বালাপোড়া সব সময় জিআরইডি না-ও হতে পারে। তবে হৃদ্‌রোগের কারণেও একই উপসর্গ হতে পারে। পার্থক্য বোঝার জন্য কিছু লক্ষণ জানা খুব জরুরি।

  • জিআরইডি: বুক ও গলায় জ্বালা, টক ঢেকুর
  • হৃদ্‌রোগ
  • বাঁ হাত/ঘাড়/চোয়ালে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঘাম, বমি বমি ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অস্থিরতা—এসব উপসর্গ থাকলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

প্রতিরোধে যা করবেন

  • একবারে বেশি খাবেন না, দিনে অল্প অল্প করে ভাগ করে খাবেন।
  • খাবার ভালো করে চিবিয়ে খান।
  • রাতের খাবার শোয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা আগে খাবেন।
  • মানসিক চাপ কমান, স্ট্রেস বাড়লে অ্যাসিড নিঃসরণও বাড়ে।
  • ঢিলেঢালা পোশাক পরুন, বিশেষ করে রাতে।
  • ভরা পেটে ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন।
  • ব্যথানাশকসহ কিছু ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন।
  • খাওয়ার পর শোয়ার সময় মাথার দিক সামান্য উঁচুতে রাখুন।
  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করুন।

লেখক: আবাসিক সার্জন (ইএনটি), সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

শীতে ত্বকের যত্ন ও চর্মরোগ থেকে পরিত্রাণের উপায়

ডা. মো. মোশাররফ হোসেন
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১২: ০৪
শীতে ত্বকের যত্ন ও চর্মরোগ থেকে পরিত্রাণের উপায়

শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা। এই মৌসুমে মানবদেহের ত্বকের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনি ও থাইরয়েডের রোগীদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

শীতকালে সাধারণত ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং কারণ ছাড়াই চুলকানি শুরু হতে পারে। ঠোঁট ও পায়ের চামড়া ফেটে গিয়ে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এ সময় খুশকির সমস্যা বাড়ে। স্ক্যাবিস এবং অ্যালার্জিজনিত রোগের প্রকোপও বেড়ে যায়।

পুরোনো উলের পোশাক, বিভিন্ন ক্রিম, লোশন ব্যবহারে ত্বকে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। বিশেষত ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনি রোগ ও থাইরয়েডের রোগীদের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায় এবং চুলকানির তীব্রতা বেশি থাকে।

শীতে ত্বকে যে ধরনের সমস্যা হয়

  • ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
  • কোনো কারণ ছাড়াই চুলকানো
  • ঠোঁট-পা শুষ্ক হয়ে ফেটে যাওয়া এবং ইনফেকশন হওয়া
  • খুশকি বেশি হওয়া
  • কিছু চর্মরোগ বেশি মাত্রায় দেখা দেওয়া; যেমন স্ক্যাবিস, অ্যালার্জি ইত্যাদি
  • পুরোনো জামাকাপড়, উলের পোশাক, বিভিন্ন ক্রিম, লোশন, পমেড ইত্যাদি ব্যবহারে চুলকানি ও ত্বকের প্রদাহ হওয়া।

এ ছাড়া বিভিন্ন ক্রনিক ডিজিজ; যেমন ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনি রোগ, থাইরয়েডের রোগে বেশি মাত্রায় ত্বক শুষ্ক হওয়া এবং চুলকানি হওয়া।

শীতে ত্বকের সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়

সাধারণ কিছু নিয়মকানুন মেনে চললে শীতে ত্বকের সুরক্ষা সম্ভব। বিশেষ করে যাঁরা বিভিন্ন অ্যালার্জি এবং ক্রনিক ডিজিজ; যেমন ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনি রোগ, থাইরয়েডের রোগে ভুগছে; তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকাসহ ত্বকের যত্ন নিতে হবে।

  • অতিরিক্ত শীতে প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়া
  • বেশি বেশি তরল খাবার খাওয়া
  • ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা
  • অলিভ অয়েল, নারকেল তেল, ভ্যাসলিন, গ্লিসারিন ইত্যাদি ব্যবহার করা।
  • পুরোনো ও উলের কাপড় ব্যবহারের আগে ধুয়ে নেওয়া এবং যাদের উলের কাপড়ে অ্যালার্জি আছে, তাদের ভেতরে সুতির কাপড় পরিধান করা।
  • স্ক্যাবিস হলে পুরোনো ও উলের কাপড়চোপড়, চাদর, গামছা, তোয়ালে, লেপ, কম্বল ইত্যাদি ব্যবহার না করা। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা নেওয়া।
  • ঠোঁট ও পায়ের চামড়া শুষ্ক হয়ে ফেটে গেলে, ব্যথা ও ইনফেকশন হলে; বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগীরা দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
  • যাঁদের সাধারণ নিয়মকানুন মানার পরও ত্বকের সমস্যা যাচ্ছে না, তাঁদের দ্রুত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।
  • শীতকাল আনন্দের হলেও ত্বকের জন্য এটি চ্যালেঞ্জের মৌসুম। সামান্য সচেতনতা এবং সঠিক যত্নের মাধ্যমে এ সময় ত্বককে সুস্থ, মসৃণ ও আরামদায়ক রাখা সম্ভব।

লেখক: চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

শীতকালীন বিষণ্নতা কাটাতে যা করবেন

ফিচার ডেস্ক
শীতকালীন বিষণ্নতা কাটাতে যা করবেন

কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল, ঘুম থেকে উঠেই একরাশ মন খারাপ জেঁকে বসল। কিংবা প্রতিদিনের মতো এক বিকেল বেলা। হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেল। হয় না? এমন তো প্রায়ই হয়। শীতকাল মানেই বড় রাত আর দিন ছোট। দীর্ঘ শীতের রাত যখন আপনার মন খারাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন একে বলে সিজনাল অ্যাফেকটিভ ডিজঅর্ডার বা স্যাড। এটি বিষণ্নতার একটি রূপ, যা মূলত শীতকালে আলোর অভাবের কারণে হয়। এ রহস্যময় ব্যাধিটি প্রায় ২৫ মিলিয়ন আমেরিকানকে প্রভাবিত করে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই নারী। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও এ ধরনের বিষণ্ণতা দেখা যায়।

শীতকালে মন খারাপ কেন হয়

শীতকালীন মন খারাপের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে কী করতে হবে, জানেন? তার আগে বলুন, সুখের হরমোন সম্পর্কে জানেন তো? ‘সুখের হরমোন’ বা ‘ফিল গুড কেমিক্যাল’-এর নাম হলো সেরোটোনিন। এটি মানবদেহে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাসায়নিক বা নিউরো ট্রান্সমিটার। এটি মূলত মস্তিষ্কে এবং পরিপাকতন্ত্রে তৈরি হয় এবং শরীরের বহুবিধ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শীতকালীন মন খারাপের সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়ে হরমোন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাজহারুল হক তানিম বলেন, ‘শীতকালে আলোর অভাবে মস্তিষ্কে সেরোটোনিনের উৎপাদন অনেকটা কমে যায়, যা ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভালো থাকার অনুভূতি তৈরি করে। ফলে বিষণ্নতা, অতিরিক্ত ঘুম, উদ্বেগ, বিরক্তি এবং সামান্য বিষয়ে আচ্ছন্নতার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।’ তবে সুখবর হলো, এপ্রিল কিংবা মে মাস নাগাদ দিন দীর্ঘ হলে সাধারণত এ সমস্যা পুরোপুরি সেরে যায়। চিকিৎসা হিসেবে যদিও লাইটথেরাপি ও ওষুধ রয়েছে, তবে জীবনযাত্রার কিছু পরিবর্তন এনেও আপনি সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়িয়ে নিতে পারেন।

সেরোটোনিন বুস্ট করার ৩ উপায়

সানফ্রান্সিসকোর রিকভারি সিস্টেমস ক্লিনিকের পরিচালক এবং দ্য মুড কিউর ও দ্য ডায়েট কিউরের লেখক জুলিয়া রস সেরোটোনিন বাড়ানোর তিনটি সহজ উপায় উল্লেখ করেছেন।

উজ্জ্বল কৃত্রিম আলোর ব্যবহার

নিজেকে উজ্জ্বল ইনডোর আলোর সংস্পর্শে আনুন। এটি স্যাড চিকিৎসার একটি মূল অংশ। এই আলো ৩ ফুট দূর থেকে দিনে তিনবার ২০ মিনিটের জন্য ব্যবহারে সাময়িকভাবে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নিয়মিত ব্যায়াম

স্যাডের চক্রে আটকে থাকলে ব্যায়াম করা কঠিন হতে পারে। কিন্তু নিজেকে জোর করে শুরু করতে পারলে এটি খুবই কার্যকর। মাত্র ১৫-২০ মিনিটের দ্রুত হাঁটা বা রেডিওতে নেচে নেওয়া মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা কমাতে এবং মেজাজ উন্নত করতে পারে।

বিচক্ষণ খাদ্য গ্রহণ

মিষ্টি এবং সাদা চাল বা সাদা রুটির মতো সাধারণ শর্করা এড়িয়ে চলুন। কারণ, এগুলো রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায়, ইনসুলিনের বন্যা ঘটায় এবং পরক্ষণে মেজাজ খারাপ করে। সেরোটোনিনকে দমন করে এমন ক্যাফিনের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। রস পরামর্শ দেন, ‘যদি কফি খেতেই হয়, তাহলে তা খাওয়ার পরে পান করুন।’

মেজাজ ভালো রাখতে কী খাবেন

এনওয়াইইউ মেডিকেল সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট সামান্থা হেলার এবং জুলিয়া রস আরও কিছু পুষ্টিগত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রোটিন এবং সবজি

রস দিনে তিনবার প্রোটিন খাওয়ার এবং প্রতিদিন চার কাপ উজ্জ্বল রঙের সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেন। সবজি হলো এমন শর্করা, যা আপনার সিস্টেমে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে।

স্বাস্থ্যকর শর্করা বেছে নিন

হেলার কুকিজ বা চকলেট আইসক্রিমের পরিবর্তে ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। সাধারণ শর্করা বাদ দিয়ে সবজি, ফল এবং বিনস জাতীয় স্বাস্থ্যকর শর্করা গ্রহণ করলে শক্তির মাত্রা বজায় থাকে।

সাদা, শ্বেতসারযুক্ত খাবার বাদ দিন

হেলার মানুষকে দুই সপ্তাহের জন্য সব ধরনের সাদা, শ্বেতসারযুক্ত খাবার; যেমন রুটি, ভাত, আলু খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রতি জোর দেন। তিনি বলেন, এর ফলে আপনি নিজের শরীরে আশ্চর্যজনক পার্থক্য অনুভব করবেন।

সময় মেনে খাদ্য গ্রহণ

ফ্যাশনেবল হলেও দিনে কয়েকবার অল্প খাবার খাওয়া ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। তবে দুপুরের এবং রাতের খাবারের মধ্যে যদি দীর্ঘ বিরতি থাকে, তাহলে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস নিন। জাঙ্ক ফুড খেলে দুপুরের পরই মিষ্টির জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি হবে।

সূত্র: ওয়েব মেড

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত

নাক ডাকা: কারণ, ঝুঁকি ও পরিত্রাণের উপায়

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১০: ০২
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঘুমিয়ে পড়া কি আপনাকে লোকের সামনে হাসির পাত্র বানিয়ে তুলছে? এ জন্য কি কারও সঙ্গে ঘুমাতে সংকোচ বোধ করছেন? সোজাভাবে জিজ্ঞাসা করি, ঘুমালে কি আপনার নাক ডাকে? নাক ডাকা একটি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু এটি কেবল আপনার বা আপনার সঙ্গীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় না, বরং অনেক সময় গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যেমন অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন। পুরুষের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি। পুরুষ ও নারী নাক ডাকার অনুপাত ২.৩: ১।

নাক ডাকার প্রধান কারণ স্থূলতা হলেও এক-তৃতীয়াংশ হালকা-পাতলা মানুষও নাক ডাকেন। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বাতাসের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে গলার শিথিল টিস্যুগুলো কেঁপে ওঠে এবং জোরে শব্দ সৃষ্টি হয়। শিশুবিশেষজ্ঞ আমিনুল ইসলাম শেখ বলেন, শরীরের অতিরিক্ত ওজন নাক ডাকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। বাড়তি ওজন নাকের ভেতরে বাতাস চলাচলের জায়গা সংকীর্ণ করে দেয়। এতে শ্বাসপ্রশ্বাস চলাচলের সময় শব্দের সৃষ্টি হয়। তাই ওজন কমালে এই সমস্যা থেকে অনেকটা রেহাই পাওয়া সম্ভব।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও ঘরোয়া প্রতিকার

নাক ডাকার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘুমের অভ্যাস এবং জীবনধারা।

১। এক পাশে কাত হয়ে ঘুমানো উচিত। চিত হয়ে ঘুমালে অনেক সময় জিহ্বা পেছনের দিকে চলে যায় এবং আংশিকভাবে শ্বাস পথ বন্ধ করে দেয়। এক পাশে কাত হয়ে ঘুমালে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে, যা নাক ডাকা কমাতে বা থামাতে সাহায্য করে।

২। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। একজন প্রাপ্তবয়স্কের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের ঘাটতি হলে গলার পেশি শিথিল হয়ে যায়, যা শ্বাস পথকে সংকুচিত করে এবং নাক ডাকার ঝুঁকি বাড়ায়। আমিনুল ইসলাম শেখ বলেন, দৈনিক ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে নাক ডাকা বেড়ে যেতে পারে। তা ছাড়া হঠাৎ যেকোনো সময় শুরুও হতে পারে।

৩। বিছানার মাথার দিকটি কয়েক ইঞ্চি উঁচু করে ঘুমালে শ্বাস পথ খোলা রাখতে সাহায্য করে। এর জন্য বিশেষভাবে তৈরি পিলো বা বেড রাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪। নাকের ওপর স্টিক-অন নেজাল স্ট্রিপ বা নাসারন্ধ্রের ওপর এক্সটারনাল নেজাল ডাইলেটর ব্যবহার করলে নাসারন্ধ্রের জায়গা বাড়ে, যা শ্বাস-প্রশ্বাসকে আরও কার্যকর করে তোলে এবং নাক ডাকা কমায়। ইন্টারনাল নেজাল ডাইলেটরও ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫। ঘুমানোর আগে অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে। ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে থেকে অ্যালকোহল পান থেকে বিরত থাকুন। অ্যালকোহল গলার পেশিগুলো শিথিল করে দেয়, যা নাক ডাকার সৃষ্টি করে।

৬। ঘুমের ওষুধ বা উপশমকারী এড়িয়ে চলতে হবে। যদি আপনি ঘুমের ওষুধ বা সেডেটিভ গ্রহণ করেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অ্যালকোহলের মতো এই ওষুধগুলোও গলার পেশিকে শিথিল করে নাক ডাকার সমস্যা বাড়াতে পারে।

৭। ধূমপান অভ্যাস নাক ডাকার সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। ধূমপান ত্যাগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৮। অতিরিক্ত ওজন থাকলে গলার চারপাশে চর্বি জমতে পারে, যা শ্বাস পথকে সংকুচিত করে। সুষম খাদ্য গ্রহণ, ক্যালরি বা কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে তা নাক ডাকা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

এগুলো ছাড়াও ডা. আমিনুল ইসলাম শেখ মেডিটেশনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মেডিটেশন বা ধ্যান শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন সমস্যার অনেক বড় সমাধান। মেডিটেশনের মাধ্যমে আপনার অজানা অনেক সমস্যার সমাধানও হতে পারে। এর মাধ্যমে আপনি নাক ডাকা থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।

চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান

যদি জীবনযাত্রার পরিবর্তনে কাজ না হয়, তবে নাক ডাকার অন্তর্নিহিত চিকিৎসা অবস্থার সমাধানের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।

১। দীর্ঘস্থায়ী অ্যালার্জির অ্যালার্জি নাকে বাতাসের প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে; যা মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে বাধ্য করে এবং নাক ডাকা বাড়িয়ে তোলে। অ্যান্টিহিস্টামিন, নেজাল স্প্রে বা কর্টিকোস্টেরয়েডের মতো অ্যালার্জির ওষুধ ব্যবহারের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২। নাকের কাঠামোগত ত্রুটি সংশোধন: জন্মগত বা আঘাতের কারণে সৃষ্ট ডেভিয়েটেড সেপ্টাম (নাকের ভেতরের পার্টিশনের মিসঅ্যালাইনমেন্ট) বাতাসের প্রবাহকে বাধা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সেপ্টোপ্লাস্টি নামক অস্ত্রোপচার প্রয়োজনীয় হতে পারে।

৩। অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য সিপিএপি মেশিন: অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার জন্য সিপিএপি মেশিন আদর্শ চিকিৎসা। এটি ঘুমের সময় নাক বা মুখের ওপর চাপযুক্ত বাতাসের মাস্ক ব্যবহার করে শ্বাস পথ খোলা রাখে।

৪। ওরাল অ্যাপ্লায়েন্স ব্যবহার: দন্ত চিকিৎসক কর্তৃক বিশেষভাবে তৈরি ওরাল অ্যাপ্লায়েন্স ঘুমের সময় ওপরের শ্বাস পথের আকার বাড়িয়ে নাক ডাকা কমাতে সাহায্য করে। যাঁরা কনজারভেটিভ পদ্ধতিতে উপশম পাননি, তাঁদের জন্য এটি সুপারিশ করা হয়।

৫। প্যালাটাল ইমপ্ল্যান্ট: এই অস্ত্রোপচারে নরম তালুতে ছোট ইমপ্লান্ট প্রবেশ করানো হয়, যা টিস্যুর কম্পন কমিয়ে নাক ডাকা হ্রাস করে। এটি হালকা থেকে মাঝারি স্লিপ অ্যাপনিয়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত।

৬। ইউভুলোপ্যালাটোফ্যারিঙ্গোপ্লাস্টি: এটি একটি অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়া, যেখানে গলা থেকে অতিরিক্ত টিস্যু অপসারণ করে শ্বাস পথ প্রশস্ত করা হয়, যাতে বাতাস সহজে চলাচল করতে পারে।

৭। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন: এই ন্যূনতম আক্রমণাত্মক চিকিৎসায় কম তীব্রতার রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে নরম তালুর টিস্যুকে সংকুচিত করা হয়। একে সোমনোপ্লাস্টিও বলা হয়।

চিকিৎসকের পরামর্শ কখন জরুরি

নাক ডাকা সাধারণ হলেও এটি স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে; যা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। যদি আপনার নাক ডাকা খুব জোরালো হয়, শ্বাস-প্রশ্বাসে সাময়িক বিরতি আসে, অথবা আপনি দিনের বেলায় প্রচণ্ড ক্লান্তি বা ঘুম অনুভব করেন, তবে দ্রুত একজন চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সঠিক রোগনির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা আপনার ঘুম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে পারে।

সূত্র: হেলথ লাইন, ডেইলি মেইল

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

সম্পর্কিত