মন্টি বৈষ্ণব, ঢাকা

মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। তবে স্বপ্নের জায়গাটা আবার একেকজনের একেকরকম। কেউ আট ঘণ্টার চাকরি করতে পছন্দ করেন। আবার কেউ হয়তো ১০ টা-৫টা অফিস করতে করতেই বিরক্ত হয়ে পড়েন। তেমনি একজন ম্যাগডিলিনা মৃ। স্বাধীনচেতা এই নারী শুরু থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার লড়াই করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত থিতু হয়েছেন জিবে জল আনা আচার নিয়ে তাঁর উদ্যোগ ‘মৃ আচার’-এ এসে।
ম্যাগডিলিনা মৃ বেড়ে উঠেছেন মধুপুরের ইদিলপুর গ্রামে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের পড়াশোনা করেছেন মধুপুরেই। এর পর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। ২০০৭ সাল থেকে বাস করছেন মহানগরী ঢাকায়।
ছোটবেলা থেকেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাইলেও চাকরিজীবী পরিচয় নিয়েই প্রবেশ করেন পেশাজীবনে। প্রতিদিন ১০ টা-৫টা অফিস করে কাটিয়ে দেন ২০১৯ সাল পর্যন্ত। কিন্তু স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। হাঁপিয়ে ওঠেন রীতিমতো। এই বন্দীজীবন থেকে মুক্তি পেতে চিন্তা করেন, এমন কোনো কাজ করা যায় কি-না, যেখানে আনন্দ থাকবে, সৃজনশীলতা থাকবে, যা দিয়ে ভাঙা যাবে চাকরিজীবনের অনিঃশেষ বৃত্ত।

এই চিন্তা থেকেই অফিসের পাশাপাশি স্বামীর সহযোগিতায় শুরু করেন নিরাপদ (কীটনাশক মুক্ত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করা) কৃষিপণ্য নিয়ে টুকটাক কাজ। শুরুতে তাঁর কৃষি উদ্যোগটি ‘কৃষ্টি’ নামে আত্মপ্রকাশ করলেও পরে নাম দেন ‘নাঙ্গল’। নাঙ্গল থেকে দেশি বিভিন্ন জাতের লাল চাল থেকে শুরু করে ঘি, মসলা, সরিষা তেলের পাশাপাশি কিছু কাঁচা সবজি বিপণন শুরু করেন। এর মধ্যে আবার অনেক ক্রেতার ঘরোয়া আচারের চাহিদার কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেন ঘরে তৈরি আচার বিক্রি করবেন। পরে আচারে ক্রেতাদের চাহিদা বাড়তে থাকায় স্বতন্ত্রভাবে শুরু করেন আচারের ব্যবসা। অনলাইনে শুরু করা এই উদ্যোগের নাম দেন ‘মৃ-আচার’।
আচারের সঙ্গে ‘মৃ’ নামটি যুক্ত করার কারণ জানতে চাইলে ম্যাগডিলিনা মৃ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি মূলত একজন আদিবাসী গারো নারী। আমাদের মধ্যে প্রায় অনেকগুলো মাহারি (গোত্র) রয়েছে, যাদের নামের শেষের অংশ সেই গোত্রগুলোর পরিচয় বহন করে। তো মৃ হলো আমার সেই গোত্রের পদবি। আচারের সঙ্গে মৃ নামটি যুক্ত করার মূল কারণ হলো আমার জাতিগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করা।’

শুধু আচার নিয়েই কাজ শুরুর কারণ হিসেবে ম্যাগডিলিনা মৃ বলেন, ‘আচার নিয়ে কাজ করার একটা অন্যতম কারণ হলো, বিভিন্ন কোম্পানির প্রস্তুত করা আচারের নিম্নমান। এগুলোর কারণে আমাদের ছোটবেলায় নানি-দাদিদের হাতে তৈরি আচারের যে ঐতিহ্য ও স্বাদ, সেটি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। আচারের পুরোনো সেই স্বাদ এবং ঐতিহ্যকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আচার নিয়ে কাজ করার একটা বড় কারণ।’
গারো সম্প্রদায়ের সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। ম্যাগডিলিনার মৃ পদবিও এসেছে মাতৃকুল থেকেই। এ নিয়ে ম্যাগডিলিনা বলেন, ‘মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার কারণে আমাদের বেড়ে ওঠা মায়ের বাড়িতেই। আমার দিদিমা ছিলেন ইদিলপুর গ্রামের একজন বিদুষী নারী। তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে আমার মা সবার বড়। আমার একজন মাসি ও তাঁর একটা ছেলে সন্তান রয়েছেন। আমরা তিন বোন ও দুই-ভাই। ভাইবোনদের সবাই শিক্ষাজীবন শেষ করে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত।’

ম্যাগডিলিনা মৃর সঙ্গে আলাপে উঠে এল দেশের উচ্চফলনশীল ধানের বিভিন্ন জাতের কথা। এসব জাতের কারণে উৎপাদন বেশি হচ্ছে, বহু মানুষের খাবারের জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে সত্য; কিন্তু এর প্রভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বহু দেশীয় জাত। শুধু ধান নয়, হারিয়ে যাচ্ছে অন্যান্য ফসলের জাতও। উচ্চফলনশীল হাইব্রিড বীজের ভিড়ে নিরাপদ খাদ্যের দেখা মিলছে খুব কম। তাই নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করা অনেক বেশি জরুরি বলে মনে করেন ম্যাগডিলিনা মৃ। এ লক্ষ্যে নিজের উদ্যোগ ‘মৃ আচার’ থেকে তিনি দেশীয় ফলের আচার বিক্রি শুরু করেন। তবে কাজটা সহজ ছিল না।
ম্যাগডিলিনা বলেন, ‘শুরুতেই কীটনাশক, ফরমালিনমুক্ত দেশি ফল সংগ্রহের একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। ধীরে ধীরে গ্রামের কৃষক, গৃহস্থ নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করি।’ শুরুতেই সাফল্য আসেনি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে প্রথম কয়েকবার আচার তৈরি করে গ্রাহকদের খুব একটা সন্তুষ্ট করতে না পারলেও ক্রমাগত চেষ্টায় আচারের স্বাদ এবং গুণগত মান বাড়ে। গ্রাহকদের সাড়া পেতেও শুরু করেছিলাম, যা এখনো চলমান।’

নিরাপদ (বিষমুক্ত) দেশি ফলের আচার ‘মৃ আচার’ উল্লেখ করে ম্যাগডিলিনা জানান, প্রাকৃতিক কৃষি আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘মৃ আচার’-এর প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হলো নিরাপদ (বিষমুক্ত) বিভিন্ন দেশি ফল দিয়ে ঘরোয়াভাবে বিশুদ্ধ উপকরণ (মসলা এবং ঘানি ভাঙা সরিষার তেল) সহযোগে আচার প্রস্তুত করা এবং ন্যায্য মূল্যে ভোক্তাদের কাছে তা পৌঁছানো। আচারের উপকরণগুলো কেনা থেকে শুরু করে আচার প্রস্তুত করা পর্যন্ত অনেক পরিশ্রম করতে হয়। এ পুরো প্রক্রিয়া নিজেই তত্ত্বাবধান করেন। বললেন, ‘আচারের মসলা তৈরি থেকে শুরু করে আচারটা বরাবর আমি নিজ হাতেই তৈরি করি। দু-একজন সহযোগী রয়েছেন, যারা অনেক সময় বিভিন্ন দেশি ফল ধুয়ে, বাছাই করে খোসা ছাড়িয়ে, কেটে সহযোগিতা করেন। তা ছাড়া আমি মধুপুরকেন্দ্রিক কিছু আদিবাসী গৃহস্থ নারীর সহযোগিতা পাই। তাঁরা বিভিন্ন মৌসুমে আমাকে নানান রকম দেশি ফল সরবরাহ করে সহযোগিতা করেন। বর্তমানে আমার সঙ্গে ৪-৫ জনের একটি দল কাজ করছে। এ ছাড়া ঢাকার বাইরের কয়েকজন গৃহিণী এবং কৃষক রয়েছেন, যারা নিয়মিত আমাকে দেশি ফল পাঠিয়ে সহযোগিতা করেন।’
নিজের তৈরি আচার সম্পর্কে ম্যাগডিলিনা মৃ বলেন, ‘বারো মাসই “মৃ আচারে” নানা পদের আচার থাকে। যেহেতু মৌসুমি ফলের আচার তৈরি করি, সেহেতু নির্দিষ্ট মৌসুমের পর সংশ্লিষ্ট আচার স্টকে থাকে না বললেই চলে। শীত, বর্ষা, গরম—প্রতিটি মৌসুমে পাওয়া যায়—এমন আচারই বেশি তৈরি করা হয়।’

মৃ আচার-এ সারা বছর পাওয়া যায় যেসব আচার—দেশি রসুন, এককোষী রসুন, তেঁতুল, পেঁয়াজ, আদা-মরিচ কুচি আচার, নাগা মরিচের আচার, পাহাড়ি ধানি মরিচের আচার ইত্যাদি। এ ছাড়া আরও থাকে চালতার আচার, আমড়ার আচার, মিক্সড আচার (তেঁতুল, চালতা, বরই), জলপাইয়ের আচার, জলপাইয়ের গোল্লা, তেঁতুল-বরই নাড়ু, কদবেলের আচার, জলপাই, রসুন, মরিচের কুচি আচার, কাঁচা হলুদের আচার, আমের আচার, আমসত্ত্ব, তেঁতুল সত্ত্ব, আনারসের আচার এবং দেশি পেয়ারা ও আপেলের জেলি।
ম্যাগডিলিনা মৃ চাকরিজীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিলেন। এতটাই যে, মাত্র ১ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসা। এখন ‘মৃ আচার’ থেকে প্রতি মাসে আয় সর্বনিম্ন ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্যবসার কাজে নিজের জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন পুরোদমে। বললেন, ‘সবদিক থেকে বেশি সহযোগিতা পেয়েছি আমার স্বামীর কাছ থেকে। এ জীবনে ওর সহযোগিতা না পেলে হয়তো সার্বিক দিক দিয়ে এত দূর পর্যন্ত আসা সম্ভব হতো না।’
ম্যাগডিলিনা মৃ উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে যেমন অনেকের সহযোগিতা পেয়েছেন। আবার অনেকের কাছে থেকে তিরস্কারও শুনেছেন। ব্যবসার ক্ষেত্রে তিক্ত অভিজ্ঞতা বিষয়ে মৃ বলেন, ‘আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের কাজের প্রতিবন্ধকতা প্রতি পদেই রয়েছে। এই সমাজে একজন নারী নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে শুরু থেকে অনেকের নাক সিটকানো ভাব থাকে। থাকে একটা বাঁকা দৃষ্টিভঙ্গি। অনেকেই সহযোগিতা করার ভান করে। কিন্তু কাজের সময় খুব অল্প কয়েকজন ছাড়া, আর কেউ তেমন সহযোগিতা করেন না। আবার একটু সফল হয়ে গেলে, যারা বাঁকা দৃষ্টিতে দেখেছিল, তাঁরাও প্রশংসা করতে শুরু করেন।’

সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই ম্যাগডিলিনা মৃ চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। চাকরির একঘেয়ে কিন্তু নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা ছেড়ে শুরু করেছেন নিজের উদ্যোগ। এটা সহজ ছিল না মোটেই। বললেন, ‘ঢাকার মতো একটি ব্যয়বহুল প্রতিযোগিতামূলক শহরে চাকরি না করে ব্যবসা করাটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আমি সাহসের সঙ্গে এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। তবে আমার মতো ভাবনা এই সমাজের অনেক নারীর মধ্যে নেই। এ দেশের চাকরিজীবী নারীদের অনেকে চাকরি চলে গেলে পুরোপুরি হতাশাগ্রস্ত এবং অনিশ্চিত হয়ে পড়েন। আমি চাকরিজীবী নারী কিংবা চাকরিতে যুক্ত হবেন—এমন নারীদের ক্ষেত্রে বলতে চাই, নিজের কর্মদক্ষতা, মেধা, সৃজনশীলতা দিয়ে এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করুন, যেটা একান্তই আপনার আয়ের মাধ্যম না হয়ে আরও দশজনকে যুক্ত করতে পারবে। এতে আপনার কাজের স্বাধীনতা, প্যাশন—দুটোই বজায় থাকবে।’
স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন ম্যাগডিলিনা মৃ। নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মৃ আচার-এর গ্রাহকের সংখ্যা নিয়মিতই বাড়ছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি। ঢাকায় শুধু আচারের একটি আউটলেটের স্বপ্ন তো আছেই। পাশাপাশি সারা দেশে দেশি ফল ও বীজ সংরক্ষণের একটি মাধ্যমও হয়ে উঠবে “মৃ আচার”। আমার বিশ্বাস, আচার মুনাফালোভীদের আগ্রাসন থেকে বের হয়ে নিজস্ব ঐতিহ্য এবং স্বাদ ধরে রাখতে সক্ষম হবে “মৃ আচার”।’

মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। তবে স্বপ্নের জায়গাটা আবার একেকজনের একেকরকম। কেউ আট ঘণ্টার চাকরি করতে পছন্দ করেন। আবার কেউ হয়তো ১০ টা-৫টা অফিস করতে করতেই বিরক্ত হয়ে পড়েন। তেমনি একজন ম্যাগডিলিনা মৃ। স্বাধীনচেতা এই নারী শুরু থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার লড়াই করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত থিতু হয়েছেন জিবে জল আনা আচার নিয়ে তাঁর উদ্যোগ ‘মৃ আচার’-এ এসে।
ম্যাগডিলিনা মৃ বেড়ে উঠেছেন মধুপুরের ইদিলপুর গ্রামে। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের পড়াশোনা করেছেন মধুপুরেই। এর পর বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। ২০০৭ সাল থেকে বাস করছেন মহানগরী ঢাকায়।
ছোটবেলা থেকেই স্বাধীনভাবে কাজ করতে চাইলেও চাকরিজীবী পরিচয় নিয়েই প্রবেশ করেন পেশাজীবনে। প্রতিদিন ১০ টা-৫টা অফিস করে কাটিয়ে দেন ২০১৯ সাল পর্যন্ত। কিন্তু স্বস্তি পাচ্ছিলেন না। হাঁপিয়ে ওঠেন রীতিমতো। এই বন্দীজীবন থেকে মুক্তি পেতে চিন্তা করেন, এমন কোনো কাজ করা যায় কি-না, যেখানে আনন্দ থাকবে, সৃজনশীলতা থাকবে, যা দিয়ে ভাঙা যাবে চাকরিজীবনের অনিঃশেষ বৃত্ত।

এই চিন্তা থেকেই অফিসের পাশাপাশি স্বামীর সহযোগিতায় শুরু করেন নিরাপদ (কীটনাশক মুক্ত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে চাষ করা) কৃষিপণ্য নিয়ে টুকটাক কাজ। শুরুতে তাঁর কৃষি উদ্যোগটি ‘কৃষ্টি’ নামে আত্মপ্রকাশ করলেও পরে নাম দেন ‘নাঙ্গল’। নাঙ্গল থেকে দেশি বিভিন্ন জাতের লাল চাল থেকে শুরু করে ঘি, মসলা, সরিষা তেলের পাশাপাশি কিছু কাঁচা সবজি বিপণন শুরু করেন। এর মধ্যে আবার অনেক ক্রেতার ঘরোয়া আচারের চাহিদার কথা শুনে সিদ্ধান্ত নেন ঘরে তৈরি আচার বিক্রি করবেন। পরে আচারে ক্রেতাদের চাহিদা বাড়তে থাকায় স্বতন্ত্রভাবে শুরু করেন আচারের ব্যবসা। অনলাইনে শুরু করা এই উদ্যোগের নাম দেন ‘মৃ-আচার’।
আচারের সঙ্গে ‘মৃ’ নামটি যুক্ত করার কারণ জানতে চাইলে ম্যাগডিলিনা মৃ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি মূলত একজন আদিবাসী গারো নারী। আমাদের মধ্যে প্রায় অনেকগুলো মাহারি (গোত্র) রয়েছে, যাদের নামের শেষের অংশ সেই গোত্রগুলোর পরিচয় বহন করে। তো মৃ হলো আমার সেই গোত্রের পদবি। আচারের সঙ্গে মৃ নামটি যুক্ত করার মূল কারণ হলো আমার জাতিগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করা।’

শুধু আচার নিয়েই কাজ শুরুর কারণ হিসেবে ম্যাগডিলিনা মৃ বলেন, ‘আচার নিয়ে কাজ করার একটা অন্যতম কারণ হলো, বিভিন্ন কোম্পানির প্রস্তুত করা আচারের নিম্নমান। এগুলোর কারণে আমাদের ছোটবেলায় নানি-দাদিদের হাতে তৈরি আচারের যে ঐতিহ্য ও স্বাদ, সেটি এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। আচারের পুরোনো সেই স্বাদ এবং ঐতিহ্যকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আচার নিয়ে কাজ করার একটা বড় কারণ।’
গারো সম্প্রদায়ের সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। ম্যাগডিলিনার মৃ পদবিও এসেছে মাতৃকুল থেকেই। এ নিয়ে ম্যাগডিলিনা বলেন, ‘মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার কারণে আমাদের বেড়ে ওঠা মায়ের বাড়িতেই। আমার দিদিমা ছিলেন ইদিলপুর গ্রামের একজন বিদুষী নারী। তাঁর দুই সন্তানের মধ্যে আমার মা সবার বড়। আমার একজন মাসি ও তাঁর একটা ছেলে সন্তান রয়েছেন। আমরা তিন বোন ও দুই-ভাই। ভাইবোনদের সবাই শিক্ষাজীবন শেষ করে বিভিন্ন পেশায় কর্মরত।’

ম্যাগডিলিনা মৃর সঙ্গে আলাপে উঠে এল দেশের উচ্চফলনশীল ধানের বিভিন্ন জাতের কথা। এসব জাতের কারণে উৎপাদন বেশি হচ্ছে, বহু মানুষের খাবারের জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে সত্য; কিন্তু এর প্রভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বহু দেশীয় জাত। শুধু ধান নয়, হারিয়ে যাচ্ছে অন্যান্য ফসলের জাতও। উচ্চফলনশীল হাইব্রিড বীজের ভিড়ে নিরাপদ খাদ্যের দেখা মিলছে খুব কম। তাই নিরাপদ খাদ্য নিয়ে কাজ করা অনেক বেশি জরুরি বলে মনে করেন ম্যাগডিলিনা মৃ। এ লক্ষ্যে নিজের উদ্যোগ ‘মৃ আচার’ থেকে তিনি দেশীয় ফলের আচার বিক্রি শুরু করেন। তবে কাজটা সহজ ছিল না।
ম্যাগডিলিনা বলেন, ‘শুরুতেই কীটনাশক, ফরমালিনমুক্ত দেশি ফল সংগ্রহের একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। ধীরে ধীরে গ্রামের কৃষক, গৃহস্থ নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করি।’ শুরুতেই সাফল্য আসেনি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবে প্রথম কয়েকবার আচার তৈরি করে গ্রাহকদের খুব একটা সন্তুষ্ট করতে না পারলেও ক্রমাগত চেষ্টায় আচারের স্বাদ এবং গুণগত মান বাড়ে। গ্রাহকদের সাড়া পেতেও শুরু করেছিলাম, যা এখনো চলমান।’

নিরাপদ (বিষমুক্ত) দেশি ফলের আচার ‘মৃ আচার’ উল্লেখ করে ম্যাগডিলিনা জানান, প্রাকৃতিক কৃষি আন্দোলনের অংশ হিসেবে ‘মৃ আচার’-এর প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হলো নিরাপদ (বিষমুক্ত) বিভিন্ন দেশি ফল দিয়ে ঘরোয়াভাবে বিশুদ্ধ উপকরণ (মসলা এবং ঘানি ভাঙা সরিষার তেল) সহযোগে আচার প্রস্তুত করা এবং ন্যায্য মূল্যে ভোক্তাদের কাছে তা পৌঁছানো। আচারের উপকরণগুলো কেনা থেকে শুরু করে আচার প্রস্তুত করা পর্যন্ত অনেক পরিশ্রম করতে হয়। এ পুরো প্রক্রিয়া নিজেই তত্ত্বাবধান করেন। বললেন, ‘আচারের মসলা তৈরি থেকে শুরু করে আচারটা বরাবর আমি নিজ হাতেই তৈরি করি। দু-একজন সহযোগী রয়েছেন, যারা অনেক সময় বিভিন্ন দেশি ফল ধুয়ে, বাছাই করে খোসা ছাড়িয়ে, কেটে সহযোগিতা করেন। তা ছাড়া আমি মধুপুরকেন্দ্রিক কিছু আদিবাসী গৃহস্থ নারীর সহযোগিতা পাই। তাঁরা বিভিন্ন মৌসুমে আমাকে নানান রকম দেশি ফল সরবরাহ করে সহযোগিতা করেন। বর্তমানে আমার সঙ্গে ৪-৫ জনের একটি দল কাজ করছে। এ ছাড়া ঢাকার বাইরের কয়েকজন গৃহিণী এবং কৃষক রয়েছেন, যারা নিয়মিত আমাকে দেশি ফল পাঠিয়ে সহযোগিতা করেন।’
নিজের তৈরি আচার সম্পর্কে ম্যাগডিলিনা মৃ বলেন, ‘বারো মাসই “মৃ আচারে” নানা পদের আচার থাকে। যেহেতু মৌসুমি ফলের আচার তৈরি করি, সেহেতু নির্দিষ্ট মৌসুমের পর সংশ্লিষ্ট আচার স্টকে থাকে না বললেই চলে। শীত, বর্ষা, গরম—প্রতিটি মৌসুমে পাওয়া যায়—এমন আচারই বেশি তৈরি করা হয়।’

মৃ আচার-এ সারা বছর পাওয়া যায় যেসব আচার—দেশি রসুন, এককোষী রসুন, তেঁতুল, পেঁয়াজ, আদা-মরিচ কুচি আচার, নাগা মরিচের আচার, পাহাড়ি ধানি মরিচের আচার ইত্যাদি। এ ছাড়া আরও থাকে চালতার আচার, আমড়ার আচার, মিক্সড আচার (তেঁতুল, চালতা, বরই), জলপাইয়ের আচার, জলপাইয়ের গোল্লা, তেঁতুল-বরই নাড়ু, কদবেলের আচার, জলপাই, রসুন, মরিচের কুচি আচার, কাঁচা হলুদের আচার, আমের আচার, আমসত্ত্ব, তেঁতুল সত্ত্ব, আনারসের আচার এবং দেশি পেয়ারা ও আপেলের জেলি।
ম্যাগডিলিনা মৃ চাকরিজীবনের একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিলেন। এতটাই যে, মাত্র ১ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসা। এখন ‘মৃ আচার’ থেকে প্রতি মাসে আয় সর্বনিম্ন ১৫ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ব্যবসার কাজে নিজের জীবনসঙ্গীর কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন পুরোদমে। বললেন, ‘সবদিক থেকে বেশি সহযোগিতা পেয়েছি আমার স্বামীর কাছ থেকে। এ জীবনে ওর সহযোগিতা না পেলে হয়তো সার্বিক দিক দিয়ে এত দূর পর্যন্ত আসা সম্ভব হতো না।’
ম্যাগডিলিনা মৃ উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে যেমন অনেকের সহযোগিতা পেয়েছেন। আবার অনেকের কাছে থেকে তিরস্কারও শুনেছেন। ব্যবসার ক্ষেত্রে তিক্ত অভিজ্ঞতা বিষয়ে মৃ বলেন, ‘আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের কাজের প্রতিবন্ধকতা প্রতি পদেই রয়েছে। এই সমাজে একজন নারী নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলে শুরু থেকে অনেকের নাক সিটকানো ভাব থাকে। থাকে একটা বাঁকা দৃষ্টিভঙ্গি। অনেকেই সহযোগিতা করার ভান করে। কিন্তু কাজের সময় খুব অল্প কয়েকজন ছাড়া, আর কেউ তেমন সহযোগিতা করেন না। আবার একটু সফল হয়ে গেলে, যারা বাঁকা দৃষ্টিতে দেখেছিল, তাঁরাও প্রশংসা করতে শুরু করেন।’

সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই ম্যাগডিলিনা মৃ চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। চাকরির একঘেয়ে কিন্তু নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা ছেড়ে শুরু করেছেন নিজের উদ্যোগ। এটা সহজ ছিল না মোটেই। বললেন, ‘ঢাকার মতো একটি ব্যয়বহুল প্রতিযোগিতামূলক শহরে চাকরি না করে ব্যবসা করাটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আমি সাহসের সঙ্গে এ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছি। তবে আমার মতো ভাবনা এই সমাজের অনেক নারীর মধ্যে নেই। এ দেশের চাকরিজীবী নারীদের অনেকে চাকরি চলে গেলে পুরোপুরি হতাশাগ্রস্ত এবং অনিশ্চিত হয়ে পড়েন। আমি চাকরিজীবী নারী কিংবা চাকরিতে যুক্ত হবেন—এমন নারীদের ক্ষেত্রে বলতে চাই, নিজের কর্মদক্ষতা, মেধা, সৃজনশীলতা দিয়ে এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করুন, যেটা একান্তই আপনার আয়ের মাধ্যম না হয়ে আরও দশজনকে যুক্ত করতে পারবে। এতে আপনার কাজের স্বাধীনতা, প্যাশন—দুটোই বজায় থাকবে।’
স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন ম্যাগডিলিনা মৃ। নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মৃ আচার-এর গ্রাহকের সংখ্যা নিয়মিতই বাড়ছে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি। ঢাকায় শুধু আচারের একটি আউটলেটের স্বপ্ন তো আছেই। পাশাপাশি সারা দেশে দেশি ফল ও বীজ সংরক্ষণের একটি মাধ্যমও হয়ে উঠবে “মৃ আচার”। আমার বিশ্বাস, আচার মুনাফালোভীদের আগ্রাসন থেকে বের হয়ে নিজস্ব ঐতিহ্য এবং স্বাদ ধরে রাখতে সক্ষম হবে “মৃ আচার”।’

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর
২ ঘণ্টা আগে
অ্যামাজনের উদীয়মান বাজারের পেমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র নেরুরকার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা ভারতে ক্রেডিট সম্প্রসারণের জন্য বিপুল সুযোগ দেখছি; বিশেষ করে, ডিজিটালি সংযুক্ত গ্রাহকদের এবং ছোট ব্যবসার মধ্যে, যারা প্রধান শহরগুলোর বাইরে রয়েছে।’
১ দিন আগে
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি থমকে আছে। সরকার বিভ্রান্ত, কিন্তু বাস্তবতা খুব স্পষ্ট, নির্মম। দেশজুড়ে পাইকারি দামে ধস নামলেও রপ্তানি ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং পাকিস্তান ও চীনের মতো নতুন উৎসে ঝুঁকে পড়া। আর এই সময়ে ভারত বরং রপ্তানি থামিয়ে ঘরোয়া বাজারে মূল্য
১ দিন আগে
নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেন। একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক...
১ দিন আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। করদাতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ই-রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।
আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই তথ্য জানিয়েছে।
গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।
২০২৫-২৬ কর বছরে বেশ কয়েক শ্রেণির করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তাঁরা ইচ্ছা পোষণ করলে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
অন্যদিকে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে সমর্থ না হলে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতাসহ আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত/যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে তিনি পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এ বছর করদাতার পক্ষে তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও তাঁর পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল ইত্যাদি তথ্য [email protected] ই-মেইলে প্রেরণপূর্বক আবেদন করলে আবেদনকারীর ই-মেইলে OTP এবং Registration Link প্রেরণ করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতারাও ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করে সহজে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
কোনো কাগজপত্র বা দলিলাদি আপলোড না করে করদাতারা তাঁদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে ঝামেলাহীনভাবে ঘরে বসে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করে ই-রিটার্ন দাখিল করে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্ন দাখিলের অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখপূর্বক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর সনদ প্রিন্ট নিতে পারেন বিধায় দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি করদাতার কাছে ই-রিটার্ন দাখিল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এনবিআর জানায়, ই-রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া সহজবোধ্য করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত বছরের মতো এ বছরও করদাতাদের অনলাইন রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে। করদাতা ছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ বছর করদাতার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি তথা আয়কর আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস এবং চার্টার্ড সেক্রেটারিদেরকেও ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়ার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় করদাতাদের সহায়তা প্রদানের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি কল সেন্টার স্থাপন করেছে। ওই কল সেন্টারের ০৯৬৪৩৭১৭১৭১ নম্বরে ফোন করে করদাতারা e-Return সংক্রান্ত প্রশ্নের তাৎক্ষণিক টেলিফোনিক সমাধান পাচ্ছেন।
এ ছাড়া www.etaxnbr.gov.bd-এর eTax Service অপশন থেকে করদাতারা e-Return সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা লিখিতভাবে জানালে তার সমাধান পাচ্ছেন।
অধিকন্তু সারা দেশের সব কর অঞ্চলে স্থাপিত ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক থেকে অফিস চলাকালে ই-রিটার্ন দাখিলবিষয়ক সব সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। সম্মানিত করদাতারা নিজ নিজ কর অঞ্চলে সশরীর উপস্থিত হয়ে অথবা টেলিফোনের মাধ্যমে ই-রিটার্ন দাখিলের যাবতীয় সেবা গ্রহণ করছেন।
এনবিআর জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সব করদাতাকে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য বিনীত অনুরোধ করছে।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। করদাতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ই-রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।
আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই তথ্য জানিয়েছে।
গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।
২০২৫-২৬ কর বছরে বেশ কয়েক শ্রেণির করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তাঁরা ইচ্ছা পোষণ করলে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
অন্যদিকে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে সমর্থ না হলে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতাসহ আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত/যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে তিনি পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এ বছর করদাতার পক্ষে তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও তাঁর পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল ইত্যাদি তথ্য [email protected] ই-মেইলে প্রেরণপূর্বক আবেদন করলে আবেদনকারীর ই-মেইলে OTP এবং Registration Link প্রেরণ করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতারাও ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করে সহজে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
কোনো কাগজপত্র বা দলিলাদি আপলোড না করে করদাতারা তাঁদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে ঝামেলাহীনভাবে ঘরে বসে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করে ই-রিটার্ন দাখিল করে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্ন দাখিলের অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখপূর্বক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর সনদ প্রিন্ট নিতে পারেন বিধায় দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি করদাতার কাছে ই-রিটার্ন দাখিল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এনবিআর জানায়, ই-রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া সহজবোধ্য করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত বছরের মতো এ বছরও করদাতাদের অনলাইন রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে। করদাতা ছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ বছর করদাতার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি তথা আয়কর আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস এবং চার্টার্ড সেক্রেটারিদেরকেও ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়ার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় করদাতাদের সহায়তা প্রদানের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি কল সেন্টার স্থাপন করেছে। ওই কল সেন্টারের ০৯৬৪৩৭১৭১৭১ নম্বরে ফোন করে করদাতারা e-Return সংক্রান্ত প্রশ্নের তাৎক্ষণিক টেলিফোনিক সমাধান পাচ্ছেন।
এ ছাড়া www.etaxnbr.gov.bd-এর eTax Service অপশন থেকে করদাতারা e-Return সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা লিখিতভাবে জানালে তার সমাধান পাচ্ছেন।
অধিকন্তু সারা দেশের সব কর অঞ্চলে স্থাপিত ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক থেকে অফিস চলাকালে ই-রিটার্ন দাখিলবিষয়ক সব সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। সম্মানিত করদাতারা নিজ নিজ কর অঞ্চলে সশরীর উপস্থিত হয়ে অথবা টেলিফোনের মাধ্যমে ই-রিটার্ন দাখিলের যাবতীয় সেবা গ্রহণ করছেন।
এনবিআর জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সব করদাতাকে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য বিনীত অনুরোধ করছে।

মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। তবে স্বপ্নের জায়গাটা আবার একেকজনের একেকরকম। কেউ আট ঘণ্টার চাকরি করতে পছন্দ করেন। আবার কেউ হয়তো ১০ টা-৫টা অফিস করতে করতেই বিরক্ত হয়ে পড়েন। তেমনি একজন ম্যাগডিলিনা মৃ। স্বাধীনচেতা এই নারী শুরু থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার লড়াই করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত থিতু হয়েছেন জিবে জল আনা আচার নি
২১ মার্চ ২০২২
অ্যামাজনের উদীয়মান বাজারের পেমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র নেরুরকার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা ভারতে ক্রেডিট সম্প্রসারণের জন্য বিপুল সুযোগ দেখছি; বিশেষ করে, ডিজিটালি সংযুক্ত গ্রাহকদের এবং ছোট ব্যবসার মধ্যে, যারা প্রধান শহরগুলোর বাইরে রয়েছে।’
১ দিন আগে
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি থমকে আছে। সরকার বিভ্রান্ত, কিন্তু বাস্তবতা খুব স্পষ্ট, নির্মম। দেশজুড়ে পাইকারি দামে ধস নামলেও রপ্তানি ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং পাকিস্তান ও চীনের মতো নতুন উৎসে ঝুঁকে পড়া। আর এই সময়ে ভারত বরং রপ্তানি থামিয়ে ঘরোয়া বাজারে মূল্য
১ দিন আগে
নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেন। একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক...
১ দিন আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

অ্যামাজন ভারতে ছোট ব্যবসার জন্য ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন ফ্লিপকার্ট নজর দিচ্ছে ‘বাই নাউ, পে লেটার (বিএনপিএল)’ সেবার দিকে। আর্থিক পণ্যের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই ই-কমার্স জায়ান্ট ভারতের ব্যাংকগুলোর বাজারে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চাচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুতে অ্যামাজন বেঙ্গালুরুভিত্তিক নন–ব্যাংক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সিওকে অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিএনপিএল ও ব্যক্তিগত ঋণ পরিষেবার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। শিগগির তারা আবারও ছোট ব্যবসার জন্য ঋণ দেওয়া শুরু করবে এবং নগদপ্রবাহ ব্যবস্থাপনার সমাধানও চালু করবে।
অ্যামাজনের উদীয়মান বাজারের পেমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র নেরুরকার বার্তা সংস্থা রয়টার্সেক বলেন, ‘আমরা ভারতে ক্রেডিট সম্প্রসারণের জন্য বিপুল সুযোগ দেখছি; বিশেষ করে, ডিজিটালি সংযুক্ত গ্রাহকদের এবং ছোট ব্যবসার মধ্যে, যারা প্রধান শহরগুলোর বাইরে রয়েছে।’
মহেন্দ্র নেরুরকার আরও বলেন, কোম্পানি ব্যবসায়ীদের নগদপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা ও মূলধন উন্মুক্ত করতে ‘প্রয়োজনভিত্তিক ঋণ প্যাকেজ’ তৈরি করবে।
অ্যামাজনের পরিকল্পনার বিস্তারিত আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি।
এদিকে ওয়ালমার্টের প্রায় ৮০ শতাংশ মালিকানাধীন ফ্লিপকার্ট গত মার্চে তাদের নন–ব্যাংক ঋণদাতা শাখা ‘ফ্লিপকার্ট ফাইন্যান্স’ নিবন্ধন করেছে এবং ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
কোম্পানির নথিতে পরিকল্পিত দুটি ‘পে লেটার’ পণ্যের কথা উল্লেখ আছে—অনলাইন ক্রেতাদের জন্য ৩ থেকে ২৪ মাস মেয়াদি নো-কস্ট মাসিক কিস্তি ঋণ এবং টেকসই ভোক্তা পণ্য কেনার জন্য বার্ষিক ১৮ থেকে ২৬ শতাংশ সুদে ঋণ।
ভোক্তা পণ্য কেনার জন্য প্রচলিত ঋণদাতারা সাধারণত বছরে ১২ থেকে ২২ শতাংশ হারে সুদ নেন।
ফ্লিপকার্ট আগামী বছর থেকে এসব আর্থিক পণ্য চালু করতে চায় বলে কোম্পানির পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রটি সংবাদমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় পরিচয় প্রকাশে রাজি হয়নি। ফ্লিপকার্ট ও আরবিআই রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

অ্যামাজন ভারতে ছোট ব্যবসার জন্য ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন ফ্লিপকার্ট নজর দিচ্ছে ‘বাই নাউ, পে লেটার (বিএনপিএল)’ সেবার দিকে। আর্থিক পণ্যের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই ই-কমার্স জায়ান্ট ভারতের ব্যাংকগুলোর বাজারে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চাচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুতে অ্যামাজন বেঙ্গালুরুভিত্তিক নন–ব্যাংক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সিওকে অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিএনপিএল ও ব্যক্তিগত ঋণ পরিষেবার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। শিগগির তারা আবারও ছোট ব্যবসার জন্য ঋণ দেওয়া শুরু করবে এবং নগদপ্রবাহ ব্যবস্থাপনার সমাধানও চালু করবে।
অ্যামাজনের উদীয়মান বাজারের পেমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র নেরুরকার বার্তা সংস্থা রয়টার্সেক বলেন, ‘আমরা ভারতে ক্রেডিট সম্প্রসারণের জন্য বিপুল সুযোগ দেখছি; বিশেষ করে, ডিজিটালি সংযুক্ত গ্রাহকদের এবং ছোট ব্যবসার মধ্যে, যারা প্রধান শহরগুলোর বাইরে রয়েছে।’
মহেন্দ্র নেরুরকার আরও বলেন, কোম্পানি ব্যবসায়ীদের নগদপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা ও মূলধন উন্মুক্ত করতে ‘প্রয়োজনভিত্তিক ঋণ প্যাকেজ’ তৈরি করবে।
অ্যামাজনের পরিকল্পনার বিস্তারিত আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি।
এদিকে ওয়ালমার্টের প্রায় ৮০ শতাংশ মালিকানাধীন ফ্লিপকার্ট গত মার্চে তাদের নন–ব্যাংক ঋণদাতা শাখা ‘ফ্লিপকার্ট ফাইন্যান্স’ নিবন্ধন করেছে এবং ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
কোম্পানির নথিতে পরিকল্পিত দুটি ‘পে লেটার’ পণ্যের কথা উল্লেখ আছে—অনলাইন ক্রেতাদের জন্য ৩ থেকে ২৪ মাস মেয়াদি নো-কস্ট মাসিক কিস্তি ঋণ এবং টেকসই ভোক্তা পণ্য কেনার জন্য বার্ষিক ১৮ থেকে ২৬ শতাংশ সুদে ঋণ।
ভোক্তা পণ্য কেনার জন্য প্রচলিত ঋণদাতারা সাধারণত বছরে ১২ থেকে ২২ শতাংশ হারে সুদ নেন।
ফ্লিপকার্ট আগামী বছর থেকে এসব আর্থিক পণ্য চালু করতে চায় বলে কোম্পানির পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রটি সংবাদমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় পরিচয় প্রকাশে রাজি হয়নি। ফ্লিপকার্ট ও আরবিআই রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। তবে স্বপ্নের জায়গাটা আবার একেকজনের একেকরকম। কেউ আট ঘণ্টার চাকরি করতে পছন্দ করেন। আবার কেউ হয়তো ১০ টা-৫টা অফিস করতে করতেই বিরক্ত হয়ে পড়েন। তেমনি একজন ম্যাগডিলিনা মৃ। স্বাধীনচেতা এই নারী শুরু থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার লড়াই করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত থিতু হয়েছেন জিবে জল আনা আচার নি
২১ মার্চ ২০২২
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি থমকে আছে। সরকার বিভ্রান্ত, কিন্তু বাস্তবতা খুব স্পষ্ট, নির্মম। দেশজুড়ে পাইকারি দামে ধস নামলেও রপ্তানি ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং পাকিস্তান ও চীনের মতো নতুন উৎসে ঝুঁকে পড়া। আর এই সময়ে ভারত বরং রপ্তানি থামিয়ে ঘরোয়া বাজারে মূল্য
১ দিন আগে
নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেন। একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক...
১ দিন আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি থমকে আছে। সরকার বিভ্রান্ত, কিন্তু বাস্তবতা খুব স্পষ্ট, নির্মম। দেশজুড়ে পাইকারি দামে ধস নামলেও রপ্তানি ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং পাকিস্তান ও চীনের মতো নতুন উৎসে ঝুঁকে পড়া। আর এই সময়ে ভারত বরং রপ্তানি থামিয়ে ঘরোয়া বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত ছিল।
বিশেষজ্ঞরা জানান, একসময় ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কিনত বাংলাদেশ। কিন্তু গত আট মাসে ঢাকা প্রায় কিছুই নেয়নি, অথচ বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ভারতের তুলনায় তিন গুণ বেশি। সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে খুব কম পেঁয়াজ কিনেছে।
রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, ভারতে উৎপাদিত পেঁয়াজের বীজ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাইরে চলে যাচ্ছে। সেই বীজেই ভারতের প্রাচীন বাজারগুলো নিজেদের উৎপাদন বাড়িয়ে এখন প্রায় আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে পেঁয়াজের আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের বহু বছরের আধিপত্য ভেঙে পড়ছে।
ভারতের হর্টিকালচার প্রডিউস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এইচপিইএ) সাবেক প্রধান ও অভিজ্ঞ রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেন, ‘আমরা মানের জন্য প্রিমিয়াম দাম নিতাম। কিন্তু আমরা এত দিন বাজারে না থাকায় সবাই বিকল্প উৎস খুঁজে নিয়েছে। এখন আর মানের তুলনা হয় না, দামই সব।’
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর আগে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ছয় মাস এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ মাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ফলে যেসব দেশ ভারতের পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করত, সেসব বাজারে দাম দ্রুত বেড়ে যায়। ২০২০ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের বারবার নীতিমালা পাল্টানোর বিষয়ে একটি কূটনৈতিক নোটও পাঠানো হয়েছিল।
এখন বাংলাদেশের সরকার স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭ দশমিক ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল, যা ভারতের মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫-২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ধারণা, ঢাকার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ভারতীয় পেঁয়াজ নেওয়ার অনীহায় ভূমিকা রাখছে।
কিন্তু রপ্তানিকারকদের মতে, ভারতের ঘরোয়া দামের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বারবার নীতি বদল করায় পুরোনো বাজারগুলো নতুন উৎস খুঁজে নেওয়া ছাড়া উপায় দেখেনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের সদস্য পাশা প্যাটেল বলেন, ‘আমরা শুধু বাজার হারাইনি, তারা এখন ভারতীয় বীজ দিয়ে নিজেদের উৎপাদনও বাড়িয়ে তুলছে।’
রপ্তানিকারকদের দাবি, সৌদি আরব প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে। সরকার যখন কারণ জানতে চাইছে, তখন বলা হচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষ ভারতীয় রপ্তানিকারকদের আমদানি অনুমতি দিচ্ছে না। তাদের মতে, ইয়েমেন ও ইরান থেকে কমদামে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনও যথেষ্ট।
এইচপিইএ সরকারের কাছে জানিয়েছে, ‘সৌদি বাজারে এখন সস্তায় পেঁয়াজ মিলছে ইয়েমেন ও ইরান থেকে। নিজেদের উৎপাদনও বাড়ছে।’ ট্রেডাররা বলছেন, ফিলিপাইনও ভারতীয় পেঁয়াজ কেনে তখনই, যখন চীনা সরবরাহ পাওয়া যায় না। ২০২০-২১ সালে ভারত সৌদি আরবে ৫৭ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল। এরপর প্রতিবছর কমতে কমতে ২০২৫-২৬ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ২২৩ টনে।
আরেকটি বিষয় হলো—প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতীয় বীজ ব্যবহার করেই এখন আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। রপ্তানিকারকেরা হর্টিকালচার কমিশনারের কাছে প্রতিযোগী দেশগুলোর উদ্দেশে পেঁয়াজের বীজ রপ্তানি বন্ধ করার দাবি তুলেছেন। এইচপিইএর সহসভাপতি বিকাশ সিং বলেন, ‘বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আশপাশের দেশগুলো ভারতীয় বীজ দিয়ে চাষ করছে। এতে ভারতীয় কৃষকেরা বিপদে পড়ছে। চীন, পাকিস্তানেও ভারতীয় বীজের চাহিদা ভয়ংকরভাবে বাড়ছে।’
তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি থমকে আছে। সরকার বিভ্রান্ত, কিন্তু বাস্তবতা খুব স্পষ্ট, নির্মম। দেশজুড়ে পাইকারি দামে ধস নামলেও রপ্তানি ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং পাকিস্তান ও চীনের মতো নতুন উৎসে ঝুঁকে পড়া। আর এই সময়ে ভারত বরং রপ্তানি থামিয়ে ঘরোয়া বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত ছিল।
বিশেষজ্ঞরা জানান, একসময় ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কিনত বাংলাদেশ। কিন্তু গত আট মাসে ঢাকা প্রায় কিছুই নেয়নি, অথচ বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ভারতের তুলনায় তিন গুণ বেশি। সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে খুব কম পেঁয়াজ কিনেছে।
রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, ভারতে উৎপাদিত পেঁয়াজের বীজ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাইরে চলে যাচ্ছে। সেই বীজেই ভারতের প্রাচীন বাজারগুলো নিজেদের উৎপাদন বাড়িয়ে এখন প্রায় আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে পেঁয়াজের আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের বহু বছরের আধিপত্য ভেঙে পড়ছে।
ভারতের হর্টিকালচার প্রডিউস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এইচপিইএ) সাবেক প্রধান ও অভিজ্ঞ রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেন, ‘আমরা মানের জন্য প্রিমিয়াম দাম নিতাম। কিন্তু আমরা এত দিন বাজারে না থাকায় সবাই বিকল্প উৎস খুঁজে নিয়েছে। এখন আর মানের তুলনা হয় না, দামই সব।’
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর আগে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ছয় মাস এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ মাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ফলে যেসব দেশ ভারতের পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করত, সেসব বাজারে দাম দ্রুত বেড়ে যায়। ২০২০ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের বারবার নীতিমালা পাল্টানোর বিষয়ে একটি কূটনৈতিক নোটও পাঠানো হয়েছিল।
এখন বাংলাদেশের সরকার স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭ দশমিক ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল, যা ভারতের মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫-২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ধারণা, ঢাকার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ভারতীয় পেঁয়াজ নেওয়ার অনীহায় ভূমিকা রাখছে।
কিন্তু রপ্তানিকারকদের মতে, ভারতের ঘরোয়া দামের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বারবার নীতি বদল করায় পুরোনো বাজারগুলো নতুন উৎস খুঁজে নেওয়া ছাড়া উপায় দেখেনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের সদস্য পাশা প্যাটেল বলেন, ‘আমরা শুধু বাজার হারাইনি, তারা এখন ভারতীয় বীজ দিয়ে নিজেদের উৎপাদনও বাড়িয়ে তুলছে।’
রপ্তানিকারকদের দাবি, সৌদি আরব প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে। সরকার যখন কারণ জানতে চাইছে, তখন বলা হচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষ ভারতীয় রপ্তানিকারকদের আমদানি অনুমতি দিচ্ছে না। তাদের মতে, ইয়েমেন ও ইরান থেকে কমদামে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনও যথেষ্ট।
এইচপিইএ সরকারের কাছে জানিয়েছে, ‘সৌদি বাজারে এখন সস্তায় পেঁয়াজ মিলছে ইয়েমেন ও ইরান থেকে। নিজেদের উৎপাদনও বাড়ছে।’ ট্রেডাররা বলছেন, ফিলিপাইনও ভারতীয় পেঁয়াজ কেনে তখনই, যখন চীনা সরবরাহ পাওয়া যায় না। ২০২০-২১ সালে ভারত সৌদি আরবে ৫৭ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল। এরপর প্রতিবছর কমতে কমতে ২০২৫-২৬ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ২২৩ টনে।
আরেকটি বিষয় হলো—প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতীয় বীজ ব্যবহার করেই এখন আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। রপ্তানিকারকেরা হর্টিকালচার কমিশনারের কাছে প্রতিযোগী দেশগুলোর উদ্দেশে পেঁয়াজের বীজ রপ্তানি বন্ধ করার দাবি তুলেছেন। এইচপিইএর সহসভাপতি বিকাশ সিং বলেন, ‘বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আশপাশের দেশগুলো ভারতীয় বীজ দিয়ে চাষ করছে। এতে ভারতীয় কৃষকেরা বিপদে পড়ছে। চীন, পাকিস্তানেও ভারতীয় বীজের চাহিদা ভয়ংকরভাবে বাড়ছে।’
তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস

মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। তবে স্বপ্নের জায়গাটা আবার একেকজনের একেকরকম। কেউ আট ঘণ্টার চাকরি করতে পছন্দ করেন। আবার কেউ হয়তো ১০ টা-৫টা অফিস করতে করতেই বিরক্ত হয়ে পড়েন। তেমনি একজন ম্যাগডিলিনা মৃ। স্বাধীনচেতা এই নারী শুরু থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার লড়াই করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত থিতু হয়েছেন জিবে জল আনা আচার নি
২১ মার্চ ২০২২
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর
২ ঘণ্টা আগে
অ্যামাজনের উদীয়মান বাজারের পেমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র নেরুরকার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা ভারতে ক্রেডিট সম্প্রসারণের জন্য বিপুল সুযোগ দেখছি; বিশেষ করে, ডিজিটালি সংযুক্ত গ্রাহকদের এবং ছোট ব্যবসার মধ্যে, যারা প্রধান শহরগুলোর বাইরে রয়েছে।’
১ দিন আগে
নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেন। একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক...
১ দিন আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফতসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন—নাফিস সরাফতের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ, ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর ও নাফিস সরাফতের সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশান থানায় মামলাটি করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
আজ শুক্রবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান। সিআইডি জানিয়েছে, শুধু রাহীব সরাফতের নামেই বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকে ৭৬টি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।
জসীম উদ্দিন জানান, সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রেইস ম্যানেজমেন্ট পিএসিএল নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ফান্ডের অর্থ ব্যক্তিগত ও অবৈধ স্বার্থে ব্যবহার করেন চৌধুরী নাফিস সরাফত ও তার সহযোগীরা। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি গঠনের পর ২০১৩ সালের মধ্যেই ১০টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পায় এবং বর্তমানে ১৩টি ফান্ড পরিচালনা করছে।
নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেন। একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক পদে বসান নাফিস সরাফত।
অভিযুক্তরা মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করে মাল্টি সিকিউরিটিজ নামের একটি ব্রোকারেজ হাউসও অধিগ্রহণ করেন বলে জানায় সিআইডি। ওই প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
এ ছাড়া পদ্মা ব্যাংকের অর্থ ব্যবহার করে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ ও স্ট্র্যাটেজিক ইকুইটি ফান্ডেও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যাংকে নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী ও ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর নামে মোট ৭৮টি ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়েছে। এসব হিসাবে প্রায় ১,৮০৯ কোটি টাকা জমা এবং ১,৮০৫ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব হিসাবে স্থিতি রয়েছে মাত্র ২৯.২১ লাখ টাকা।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান আরও জানান, বিদেশে কানাডা, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে নাফিস সরাফত পরিবার ও সহযোগীদের নামে বিপুল সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর নামেই বিদেশি ব্যাংকে ৭৬টি হিসাব পরিচালনার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।
নাফিস সরাফত ও তার সহযোগীদের নামে দুবাইতে ৩ রুমের একটি ফ্ল্যাট ও ৫ রুমের ১টি ভিলা রয়েছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত একাধিক কোম্পানি এবং সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন ফান্ড পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশেও তাদের নামে বিপুল অস্থাবর-স্থাবর সম্পদের তথ্য মিলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বেস্ট হোল্ডিংসের বন্ডে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে চাপ প্রয়োগ, বিদেশে অর্থ পাচার, বাড়ি–ফ্ল্যাট কেনাসহ নানা অভিযোগ প্রকাশের পর সিআইডি এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।
সিআইডি জানায়, ‘প্রতারণা’, ‘জালিয়াতি’ এবং ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের’ মাধ্যমে মোট ১৬১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ অবৈধভাবে অর্জিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই নাফিস সরাফতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলাটি করা হয়েছে।

পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফতসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন—নাফিস সরাফতের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ, ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর ও নাফিস সরাফতের সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশান থানায় মামলাটি করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
আজ শুক্রবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান। সিআইডি জানিয়েছে, শুধু রাহীব সরাফতের নামেই বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকে ৭৬টি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।
জসীম উদ্দিন জানান, সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রেইস ম্যানেজমেন্ট পিএসিএল নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ফান্ডের অর্থ ব্যক্তিগত ও অবৈধ স্বার্থে ব্যবহার করেন চৌধুরী নাফিস সরাফত ও তার সহযোগীরা। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি গঠনের পর ২০১৩ সালের মধ্যেই ১০টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পায় এবং বর্তমানে ১৩টি ফান্ড পরিচালনা করছে।
নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেন। একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক পদে বসান নাফিস সরাফত।
অভিযুক্তরা মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করে মাল্টি সিকিউরিটিজ নামের একটি ব্রোকারেজ হাউসও অধিগ্রহণ করেন বলে জানায় সিআইডি। ওই প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
এ ছাড়া পদ্মা ব্যাংকের অর্থ ব্যবহার করে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ ও স্ট্র্যাটেজিক ইকুইটি ফান্ডেও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যাংকে নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী ও ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর নামে মোট ৭৮টি ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়েছে। এসব হিসাবে প্রায় ১,৮০৯ কোটি টাকা জমা এবং ১,৮০৫ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব হিসাবে স্থিতি রয়েছে মাত্র ২৯.২১ লাখ টাকা।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান আরও জানান, বিদেশে কানাডা, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে নাফিস সরাফত পরিবার ও সহযোগীদের নামে বিপুল সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর নামেই বিদেশি ব্যাংকে ৭৬টি হিসাব পরিচালনার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।
নাফিস সরাফত ও তার সহযোগীদের নামে দুবাইতে ৩ রুমের একটি ফ্ল্যাট ও ৫ রুমের ১টি ভিলা রয়েছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত একাধিক কোম্পানি এবং সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন ফান্ড পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশেও তাদের নামে বিপুল অস্থাবর-স্থাবর সম্পদের তথ্য মিলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বেস্ট হোল্ডিংসের বন্ডে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে চাপ প্রয়োগ, বিদেশে অর্থ পাচার, বাড়ি–ফ্ল্যাট কেনাসহ নানা অভিযোগ প্রকাশের পর সিআইডি এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।
সিআইডি জানায়, ‘প্রতারণা’, ‘জালিয়াতি’ এবং ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের’ মাধ্যমে মোট ১৬১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ অবৈধভাবে অর্জিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই নাফিস সরাফতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলাটি করা হয়েছে।

মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। তবে স্বপ্নের জায়গাটা আবার একেকজনের একেকরকম। কেউ আট ঘণ্টার চাকরি করতে পছন্দ করেন। আবার কেউ হয়তো ১০ টা-৫টা অফিস করতে করতেই বিরক্ত হয়ে পড়েন। তেমনি একজন ম্যাগডিলিনা মৃ। স্বাধীনচেতা এই নারী শুরু থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার লড়াই করে গেছেন। শেষ পর্যন্ত থিতু হয়েছেন জিবে জল আনা আচার নি
২১ মার্চ ২০২২
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর
২ ঘণ্টা আগে
অ্যামাজনের উদীয়মান বাজারের পেমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র নেরুরকার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা ভারতে ক্রেডিট সম্প্রসারণের জন্য বিপুল সুযোগ দেখছি; বিশেষ করে, ডিজিটালি সংযুক্ত গ্রাহকদের এবং ছোট ব্যবসার মধ্যে, যারা প্রধান শহরগুলোর বাইরে রয়েছে।’
১ দিন আগে
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি থমকে আছে। সরকার বিভ্রান্ত, কিন্তু বাস্তবতা খুব স্পষ্ট, নির্মম। দেশজুড়ে পাইকারি দামে ধস নামলেও রপ্তানি ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং পাকিস্তান ও চীনের মতো নতুন উৎসে ঝুঁকে পড়া। আর এই সময়ে ভারত বরং রপ্তানি থামিয়ে ঘরোয়া বাজারে মূল্য
১ দিন আগে