মন্টি বৈষ্ণব, ঢাকা

প্রত্যকের জীবনেই থাকে হাজারটা স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে মানুষ। এই স্বপ্ন একেকজনের কাছে ধরা দেয় একেকভাবে, একেক সময়ে। ক্ষেত্র বিশেষে স্বপ্ন মানুষকে নিয়ে যায় অনেক দূর।
কর্মী মানুষের কাছে যেমন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারাটা অনেক বড় বিষয়। অনেকেই এই স্বাধীন কাজের সন্ধানে থাকেন; কিন্তু গুটিকয় তার দেখা পান। এই ভাগ্যবানদের একটা বড় অংশই উদ্যোক্তা।
বর্তমানে দেশে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে। উদ্যোক্তা নারীরা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। ব্যবসার জন্য এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঘুরে ঘুরে পণ্য সংগ্রহ করছেন। সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন নিজেরাই। কিন্তু এ পথ সহজ নয়। অনেক বাধা টপকে তাদের সামনে আসতে হয়, যার প্রতিটি বাঁকে আছে গল্প। এমনই একজন উদ্যোক্তা মিদ্দুলা মেঘ। মিদ্দুলার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষ করে নিজে কিছু করার। মানে চাকরি না করে স্বাধীনভাবে কিছু একটা করার। কিন্তু এই সমাজে নারীদের নিজে নিজে কিছু করা তো আর খুব একটা সহজ বিষয় নয়। অনেক ঝড়ঝঞ্ঝা পার হয়ে কিছু করতে হয়। তাই মিদ্দুলাকেও অপেক্ষা করতে হয়েছিল অনেক দিন।
মিদ্দুলার কাছে তাঁর উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পটা শুনতে চাইলে বলেন, ‘আমার মেয়ে যখন স্কুলে ভর্তি হলো, তখন প্রতিদিন তাকে নিয়ে আমি স্কুলে যেতাম। আর অন্য অভিভাবকদের মতো স্কুল শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাকে সেখানেই অপেক্ষা করতে হতো। এই অপেক্ষার সময়গুলোতে আমি অন্যদের মতো খোশগল্পে মশগুল না হয়ে স্কুলের আশপাশের মার্কেটের দোকানগুলোতে কীভাবে জিনিসপত্র কেনা-বেচা হয়, তা দেখতাম। দেখতে দেখতেই মাথার ভেতর চেপে বসল ব্যবসার ভূত। সেখানেই শুরু উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা।’
অন্য দশজন মানুষের মতো মিদ্দুলা কখনো ভাবেননি পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করবেন। কাজের নেশায় চাকরির পরীক্ষার জন্য সময় দেননি তিনি। কারণ অন্যের অধীনে নয়টা-পাঁচটা চাকরি করা ছিল মিদ্দুলার জন্য কঠিন। নিজে কিছু একটা করার তাগিদ থেকে একপর্যায়ে মন স্থির করেন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার বিষয়টি।
অনেক পরিকল্পনার পর মিদ্দুলা ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সোনাই বুটিক’-এর যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে একটি দোকান দেন। গ্রহণ করেন নানা পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শো-রুমের শুরু। তারপর অনলাইনে ব্যবসা এবং ধীরে ধীরে নিজের প্রোডাকশনের কাজ শুরু। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০২০ সালের মাঝামাঝিতে দেশীয় পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের কাজে মনোনিবেশ করেন। ‘সোনাই বুটিক’-এর কাজ মিদ্দুলা একা শুরু করলেও বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
মিদ্দুলা মেঘের অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটিরও নাম ‘সোনাই বুটিক’। প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন নিজের একমাত্র মেয়ের নামে। সোনাই শব্দের আভিধানিক অর্থ স্নেহের যোগ্য। তা এই দু বছরের পথ চলায় ‘সোনাই বুটিক’ মানুষের কাছ থেকে আদর পেয়েছে বলতে হবে। না হলে এত দ্রুত এতটা এগোতে পারত না তা।
মিদ্দুলার উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে তাঁর মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি। মায়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে মূল প্রেরণা ছিল আমার মা। মাকে ছোটবেলা থেকেই দেখেছি নিজের এবং আমাদের বোনেদের কাপড়গুলো সেলাই করতেন। নিজের পোশাক সেলাই করতে গিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ছোট একটি ব্যবসা। সেই ব্যবসাতে সেলাইকর্মী হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন আরও দুই নারী। মা বাড়িতে বসেই অন্য কাজের পাশাপাশি নিজের এই ব্যবসার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছিলেন। এ ছাড়া আমার পরিবার ও বন্ধুরা সব সময় আমার পাশে ছিল।’
‘সোনাই বুটিক’-এ নারীদের পোশাক তৈরি এবং বিপণন করা হয়। এখানে মূলত বুটিক এবং বাটিক থ্রিপিস, শাড়ি, টু-পিছ এবং ওয়ান পিছ তৈরি এবং বিক্রি করা হয়। সাধারণত দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করে পণ্য তৈরি করেন তাঁরা। শতভাগ সুতির পোশাকের পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জামদানিও বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি।
এই যে বেড়ে ওঠা এর জন্য কিন্তু কম বাধা পোহাতে হয়নি মিদ্দুলাকে। নারী উদ্যোক্তাদের পুরো জীবনই চ্যালেঞ্জিং। এখানে প্রতিনিয়ত প্রতি পদে একজন নারীকে সমাজের বাধার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে যারা অনলাইনে ব্যবসা করেন তাদের জন্য চ্যালেঞ্জের মাত্রাটা আরও বেশি।
ব্যবসার ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে মিদ্দুলা বলেন, ‘অনলাইনে প্রতিদিন বুলিংয়ের শিকার হতে হয়। মনের ভেতর দুঃখ আসে, ক্ষোভ আসে, আবার নিজেকে সামলে নিই। ভাবি, পাছে লোকের কথায় নিজেকে বিসর্জন দেওয়ার কোনো মানে নেই। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটি মানুষকে সংগ্রাম করতে হয়। আমাকেও লড়াই করতে হবে। এই পথে বাধা আসবে, বিপত্তি থাকবে। তাতে পিছপা হলে সে দায় আর কেউ নিবে না। প্রতিটি নারীরই কিছু না কিছু করা উচিত। যারা চাকরি করছেন না, তাঁরা তাঁদের সক্ষমতা অনুযায়ী ঘরে বসেই কিছু না কিছু করতে পারেন। বাধা-বিপত্তি থাকবেই। প্রতিটি বাধাকে টপকে যেতে হবে। নিজেকে চিনুন, নিজেকে আবিষ্কার করুন প্রতিনিয়ত। পরিকল্পনা করুন, উদ্যোগ নিন। সফলতা আসবে আশা করি।’
‘সোনাই বুটিক’-এর পণ্য উৎপাদনের কারখানায় বর্তমানে ২৫ জন শ্রমিক যুক্ত। আর বিপণন ও বিক্রির কাজে আরও প্রায় ১০ জন যুক্ত। মিদ্দুলা মেঘ শুরুতে প্রায় ১৪ লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে ‘সোনাই বুটিক’ থেকে প্রতি মাসে তাঁর আয় হয় সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা।
মিদ্দুলা চান অনেক দূর এগিয়ে যেতে। বললেন, ‘বর্তমানে পশ্চিমা সংস্কৃতি যেভাবে আমাদের গ্রাস করছে, তার বিপরীতে সোনাই বুটিক বাঙালি সংস্কৃতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে যদি সামান্য অবদানও রাখতে পারে, তাহলেই আমি মনে করব এই উদ্যোগ সফল। সোনাই বুটিক নিয়ে আমি অনেক দূর যেতে চাই। দেশীয় পণ্যের প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে আমি দেশটাকে পরিচিত করে তুলতে চাই। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে, বিশেষত গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের কাছে সোনাই বুটিককে নিয়ে যেতে চাই।’
নারী উদ্যোক্তা সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

প্রত্যকের জীবনেই থাকে হাজারটা স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে মানুষ। এই স্বপ্ন একেকজনের কাছে ধরা দেয় একেকভাবে, একেক সময়ে। ক্ষেত্র বিশেষে স্বপ্ন মানুষকে নিয়ে যায় অনেক দূর।
কর্মী মানুষের কাছে যেমন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারাটা অনেক বড় বিষয়। অনেকেই এই স্বাধীন কাজের সন্ধানে থাকেন; কিন্তু গুটিকয় তার দেখা পান। এই ভাগ্যবানদের একটা বড় অংশই উদ্যোক্তা।
বর্তমানে দেশে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে। উদ্যোক্তা নারীরা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। ব্যবসার জন্য এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঘুরে ঘুরে পণ্য সংগ্রহ করছেন। সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন নিজেরাই। কিন্তু এ পথ সহজ নয়। অনেক বাধা টপকে তাদের সামনে আসতে হয়, যার প্রতিটি বাঁকে আছে গল্প। এমনই একজন উদ্যোক্তা মিদ্দুলা মেঘ। মিদ্দুলার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষ করে নিজে কিছু করার। মানে চাকরি না করে স্বাধীনভাবে কিছু একটা করার। কিন্তু এই সমাজে নারীদের নিজে নিজে কিছু করা তো আর খুব একটা সহজ বিষয় নয়। অনেক ঝড়ঝঞ্ঝা পার হয়ে কিছু করতে হয়। তাই মিদ্দুলাকেও অপেক্ষা করতে হয়েছিল অনেক দিন।
মিদ্দুলার কাছে তাঁর উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পটা শুনতে চাইলে বলেন, ‘আমার মেয়ে যখন স্কুলে ভর্তি হলো, তখন প্রতিদিন তাকে নিয়ে আমি স্কুলে যেতাম। আর অন্য অভিভাবকদের মতো স্কুল শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাকে সেখানেই অপেক্ষা করতে হতো। এই অপেক্ষার সময়গুলোতে আমি অন্যদের মতো খোশগল্পে মশগুল না হয়ে স্কুলের আশপাশের মার্কেটের দোকানগুলোতে কীভাবে জিনিসপত্র কেনা-বেচা হয়, তা দেখতাম। দেখতে দেখতেই মাথার ভেতর চেপে বসল ব্যবসার ভূত। সেখানেই শুরু উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা।’
অন্য দশজন মানুষের মতো মিদ্দুলা কখনো ভাবেননি পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করবেন। কাজের নেশায় চাকরির পরীক্ষার জন্য সময় দেননি তিনি। কারণ অন্যের অধীনে নয়টা-পাঁচটা চাকরি করা ছিল মিদ্দুলার জন্য কঠিন। নিজে কিছু একটা করার তাগিদ থেকে একপর্যায়ে মন স্থির করেন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার বিষয়টি।
অনেক পরিকল্পনার পর মিদ্দুলা ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সোনাই বুটিক’-এর যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে একটি দোকান দেন। গ্রহণ করেন নানা পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শো-রুমের শুরু। তারপর অনলাইনে ব্যবসা এবং ধীরে ধীরে নিজের প্রোডাকশনের কাজ শুরু। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০২০ সালের মাঝামাঝিতে দেশীয় পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের কাজে মনোনিবেশ করেন। ‘সোনাই বুটিক’-এর কাজ মিদ্দুলা একা শুরু করলেও বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
মিদ্দুলা মেঘের অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটিরও নাম ‘সোনাই বুটিক’। প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন নিজের একমাত্র মেয়ের নামে। সোনাই শব্দের আভিধানিক অর্থ স্নেহের যোগ্য। তা এই দু বছরের পথ চলায় ‘সোনাই বুটিক’ মানুষের কাছ থেকে আদর পেয়েছে বলতে হবে। না হলে এত দ্রুত এতটা এগোতে পারত না তা।
মিদ্দুলার উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে তাঁর মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি। মায়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে মূল প্রেরণা ছিল আমার মা। মাকে ছোটবেলা থেকেই দেখেছি নিজের এবং আমাদের বোনেদের কাপড়গুলো সেলাই করতেন। নিজের পোশাক সেলাই করতে গিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ছোট একটি ব্যবসা। সেই ব্যবসাতে সেলাইকর্মী হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন আরও দুই নারী। মা বাড়িতে বসেই অন্য কাজের পাশাপাশি নিজের এই ব্যবসার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছিলেন। এ ছাড়া আমার পরিবার ও বন্ধুরা সব সময় আমার পাশে ছিল।’
‘সোনাই বুটিক’-এ নারীদের পোশাক তৈরি এবং বিপণন করা হয়। এখানে মূলত বুটিক এবং বাটিক থ্রিপিস, শাড়ি, টু-পিছ এবং ওয়ান পিছ তৈরি এবং বিক্রি করা হয়। সাধারণত দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করে পণ্য তৈরি করেন তাঁরা। শতভাগ সুতির পোশাকের পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জামদানিও বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি।
এই যে বেড়ে ওঠা এর জন্য কিন্তু কম বাধা পোহাতে হয়নি মিদ্দুলাকে। নারী উদ্যোক্তাদের পুরো জীবনই চ্যালেঞ্জিং। এখানে প্রতিনিয়ত প্রতি পদে একজন নারীকে সমাজের বাধার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে যারা অনলাইনে ব্যবসা করেন তাদের জন্য চ্যালেঞ্জের মাত্রাটা আরও বেশি।
ব্যবসার ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে মিদ্দুলা বলেন, ‘অনলাইনে প্রতিদিন বুলিংয়ের শিকার হতে হয়। মনের ভেতর দুঃখ আসে, ক্ষোভ আসে, আবার নিজেকে সামলে নিই। ভাবি, পাছে লোকের কথায় নিজেকে বিসর্জন দেওয়ার কোনো মানে নেই। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটি মানুষকে সংগ্রাম করতে হয়। আমাকেও লড়াই করতে হবে। এই পথে বাধা আসবে, বিপত্তি থাকবে। তাতে পিছপা হলে সে দায় আর কেউ নিবে না। প্রতিটি নারীরই কিছু না কিছু করা উচিত। যারা চাকরি করছেন না, তাঁরা তাঁদের সক্ষমতা অনুযায়ী ঘরে বসেই কিছু না কিছু করতে পারেন। বাধা-বিপত্তি থাকবেই। প্রতিটি বাধাকে টপকে যেতে হবে। নিজেকে চিনুন, নিজেকে আবিষ্কার করুন প্রতিনিয়ত। পরিকল্পনা করুন, উদ্যোগ নিন। সফলতা আসবে আশা করি।’
‘সোনাই বুটিক’-এর পণ্য উৎপাদনের কারখানায় বর্তমানে ২৫ জন শ্রমিক যুক্ত। আর বিপণন ও বিক্রির কাজে আরও প্রায় ১০ জন যুক্ত। মিদ্দুলা মেঘ শুরুতে প্রায় ১৪ লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে ‘সোনাই বুটিক’ থেকে প্রতি মাসে তাঁর আয় হয় সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা।
মিদ্দুলা চান অনেক দূর এগিয়ে যেতে। বললেন, ‘বর্তমানে পশ্চিমা সংস্কৃতি যেভাবে আমাদের গ্রাস করছে, তার বিপরীতে সোনাই বুটিক বাঙালি সংস্কৃতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে যদি সামান্য অবদানও রাখতে পারে, তাহলেই আমি মনে করব এই উদ্যোগ সফল। সোনাই বুটিক নিয়ে আমি অনেক দূর যেতে চাই। দেশীয় পণ্যের প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে আমি দেশটাকে পরিচিত করে তুলতে চাই। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে, বিশেষত গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের কাছে সোনাই বুটিককে নিয়ে যেতে চাই।’
নারী উদ্যোক্তা সম্পর্কিত আরও পড়ুন:
মন্টি বৈষ্ণব, ঢাকা

প্রত্যকের জীবনেই থাকে হাজারটা স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে মানুষ। এই স্বপ্ন একেকজনের কাছে ধরা দেয় একেকভাবে, একেক সময়ে। ক্ষেত্র বিশেষে স্বপ্ন মানুষকে নিয়ে যায় অনেক দূর।
কর্মী মানুষের কাছে যেমন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারাটা অনেক বড় বিষয়। অনেকেই এই স্বাধীন কাজের সন্ধানে থাকেন; কিন্তু গুটিকয় তার দেখা পান। এই ভাগ্যবানদের একটা বড় অংশই উদ্যোক্তা।
বর্তমানে দেশে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে। উদ্যোক্তা নারীরা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। ব্যবসার জন্য এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঘুরে ঘুরে পণ্য সংগ্রহ করছেন। সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন নিজেরাই। কিন্তু এ পথ সহজ নয়। অনেক বাধা টপকে তাদের সামনে আসতে হয়, যার প্রতিটি বাঁকে আছে গল্প। এমনই একজন উদ্যোক্তা মিদ্দুলা মেঘ। মিদ্দুলার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষ করে নিজে কিছু করার। মানে চাকরি না করে স্বাধীনভাবে কিছু একটা করার। কিন্তু এই সমাজে নারীদের নিজে নিজে কিছু করা তো আর খুব একটা সহজ বিষয় নয়। অনেক ঝড়ঝঞ্ঝা পার হয়ে কিছু করতে হয়। তাই মিদ্দুলাকেও অপেক্ষা করতে হয়েছিল অনেক দিন।
মিদ্দুলার কাছে তাঁর উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পটা শুনতে চাইলে বলেন, ‘আমার মেয়ে যখন স্কুলে ভর্তি হলো, তখন প্রতিদিন তাকে নিয়ে আমি স্কুলে যেতাম। আর অন্য অভিভাবকদের মতো স্কুল শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাকে সেখানেই অপেক্ষা করতে হতো। এই অপেক্ষার সময়গুলোতে আমি অন্যদের মতো খোশগল্পে মশগুল না হয়ে স্কুলের আশপাশের মার্কেটের দোকানগুলোতে কীভাবে জিনিসপত্র কেনা-বেচা হয়, তা দেখতাম। দেখতে দেখতেই মাথার ভেতর চেপে বসল ব্যবসার ভূত। সেখানেই শুরু উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা।’
অন্য দশজন মানুষের মতো মিদ্দুলা কখনো ভাবেননি পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করবেন। কাজের নেশায় চাকরির পরীক্ষার জন্য সময় দেননি তিনি। কারণ অন্যের অধীনে নয়টা-পাঁচটা চাকরি করা ছিল মিদ্দুলার জন্য কঠিন। নিজে কিছু একটা করার তাগিদ থেকে একপর্যায়ে মন স্থির করেন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার বিষয়টি।
অনেক পরিকল্পনার পর মিদ্দুলা ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সোনাই বুটিক’-এর যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে একটি দোকান দেন। গ্রহণ করেন নানা পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শো-রুমের শুরু। তারপর অনলাইনে ব্যবসা এবং ধীরে ধীরে নিজের প্রোডাকশনের কাজ শুরু। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০২০ সালের মাঝামাঝিতে দেশীয় পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের কাজে মনোনিবেশ করেন। ‘সোনাই বুটিক’-এর কাজ মিদ্দুলা একা শুরু করলেও বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
মিদ্দুলা মেঘের অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটিরও নাম ‘সোনাই বুটিক’। প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন নিজের একমাত্র মেয়ের নামে। সোনাই শব্দের আভিধানিক অর্থ স্নেহের যোগ্য। তা এই দু বছরের পথ চলায় ‘সোনাই বুটিক’ মানুষের কাছ থেকে আদর পেয়েছে বলতে হবে। না হলে এত দ্রুত এতটা এগোতে পারত না তা।
মিদ্দুলার উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে তাঁর মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি। মায়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে মূল প্রেরণা ছিল আমার মা। মাকে ছোটবেলা থেকেই দেখেছি নিজের এবং আমাদের বোনেদের কাপড়গুলো সেলাই করতেন। নিজের পোশাক সেলাই করতে গিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ছোট একটি ব্যবসা। সেই ব্যবসাতে সেলাইকর্মী হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন আরও দুই নারী। মা বাড়িতে বসেই অন্য কাজের পাশাপাশি নিজের এই ব্যবসার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছিলেন। এ ছাড়া আমার পরিবার ও বন্ধুরা সব সময় আমার পাশে ছিল।’
‘সোনাই বুটিক’-এ নারীদের পোশাক তৈরি এবং বিপণন করা হয়। এখানে মূলত বুটিক এবং বাটিক থ্রিপিস, শাড়ি, টু-পিছ এবং ওয়ান পিছ তৈরি এবং বিক্রি করা হয়। সাধারণত দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করে পণ্য তৈরি করেন তাঁরা। শতভাগ সুতির পোশাকের পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জামদানিও বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি।
এই যে বেড়ে ওঠা এর জন্য কিন্তু কম বাধা পোহাতে হয়নি মিদ্দুলাকে। নারী উদ্যোক্তাদের পুরো জীবনই চ্যালেঞ্জিং। এখানে প্রতিনিয়ত প্রতি পদে একজন নারীকে সমাজের বাধার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে যারা অনলাইনে ব্যবসা করেন তাদের জন্য চ্যালেঞ্জের মাত্রাটা আরও বেশি।
ব্যবসার ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে মিদ্দুলা বলেন, ‘অনলাইনে প্রতিদিন বুলিংয়ের শিকার হতে হয়। মনের ভেতর দুঃখ আসে, ক্ষোভ আসে, আবার নিজেকে সামলে নিই। ভাবি, পাছে লোকের কথায় নিজেকে বিসর্জন দেওয়ার কোনো মানে নেই। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটি মানুষকে সংগ্রাম করতে হয়। আমাকেও লড়াই করতে হবে। এই পথে বাধা আসবে, বিপত্তি থাকবে। তাতে পিছপা হলে সে দায় আর কেউ নিবে না। প্রতিটি নারীরই কিছু না কিছু করা উচিত। যারা চাকরি করছেন না, তাঁরা তাঁদের সক্ষমতা অনুযায়ী ঘরে বসেই কিছু না কিছু করতে পারেন। বাধা-বিপত্তি থাকবেই। প্রতিটি বাধাকে টপকে যেতে হবে। নিজেকে চিনুন, নিজেকে আবিষ্কার করুন প্রতিনিয়ত। পরিকল্পনা করুন, উদ্যোগ নিন। সফলতা আসবে আশা করি।’
‘সোনাই বুটিক’-এর পণ্য উৎপাদনের কারখানায় বর্তমানে ২৫ জন শ্রমিক যুক্ত। আর বিপণন ও বিক্রির কাজে আরও প্রায় ১০ জন যুক্ত। মিদ্দুলা মেঘ শুরুতে প্রায় ১৪ লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে ‘সোনাই বুটিক’ থেকে প্রতি মাসে তাঁর আয় হয় সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা।
মিদ্দুলা চান অনেক দূর এগিয়ে যেতে। বললেন, ‘বর্তমানে পশ্চিমা সংস্কৃতি যেভাবে আমাদের গ্রাস করছে, তার বিপরীতে সোনাই বুটিক বাঙালি সংস্কৃতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে যদি সামান্য অবদানও রাখতে পারে, তাহলেই আমি মনে করব এই উদ্যোগ সফল। সোনাই বুটিক নিয়ে আমি অনেক দূর যেতে চাই। দেশীয় পণ্যের প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে আমি দেশটাকে পরিচিত করে তুলতে চাই। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে, বিশেষত গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের কাছে সোনাই বুটিককে নিয়ে যেতে চাই।’
নারী উদ্যোক্তা সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

প্রত্যকের জীবনেই থাকে হাজারটা স্বপ্ন। স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে মানুষ। এই স্বপ্ন একেকজনের কাছে ধরা দেয় একেকভাবে, একেক সময়ে। ক্ষেত্র বিশেষে স্বপ্ন মানুষকে নিয়ে যায় অনেক দূর।
কর্মী মানুষের কাছে যেমন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারাটা অনেক বড় বিষয়। অনেকেই এই স্বাধীন কাজের সন্ধানে থাকেন; কিন্তু গুটিকয় তার দেখা পান। এই ভাগ্যবানদের একটা বড় অংশই উদ্যোক্তা।
বর্তমানে দেশে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে। উদ্যোক্তা নারীরা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। ব্যবসার জন্য এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ঘুরে ঘুরে পণ্য সংগ্রহ করছেন। সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন নিজেরাই। কিন্তু এ পথ সহজ নয়। অনেক বাধা টপকে তাদের সামনে আসতে হয়, যার প্রতিটি বাঁকে আছে গল্প। এমনই একজন উদ্যোক্তা মিদ্দুলা মেঘ। মিদ্দুলার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষ করে নিজে কিছু করার। মানে চাকরি না করে স্বাধীনভাবে কিছু একটা করার। কিন্তু এই সমাজে নারীদের নিজে নিজে কিছু করা তো আর খুব একটা সহজ বিষয় নয়। অনেক ঝড়ঝঞ্ঝা পার হয়ে কিছু করতে হয়। তাই মিদ্দুলাকেও অপেক্ষা করতে হয়েছিল অনেক দিন।
মিদ্দুলার কাছে তাঁর উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পটা শুনতে চাইলে বলেন, ‘আমার মেয়ে যখন স্কুলে ভর্তি হলো, তখন প্রতিদিন তাকে নিয়ে আমি স্কুলে যেতাম। আর অন্য অভিভাবকদের মতো স্কুল শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাকে সেখানেই অপেক্ষা করতে হতো। এই অপেক্ষার সময়গুলোতে আমি অন্যদের মতো খোশগল্পে মশগুল না হয়ে স্কুলের আশপাশের মার্কেটের দোকানগুলোতে কীভাবে জিনিসপত্র কেনা-বেচা হয়, তা দেখতাম। দেখতে দেখতেই মাথার ভেতর চেপে বসল ব্যবসার ভূত। সেখানেই শুরু উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা।’
অন্য দশজন মানুষের মতো মিদ্দুলা কখনো ভাবেননি পড়ালেখা শেষ করে চাকরি করবেন। কাজের নেশায় চাকরির পরীক্ষার জন্য সময় দেননি তিনি। কারণ অন্যের অধীনে নয়টা-পাঁচটা চাকরি করা ছিল মিদ্দুলার জন্য কঠিন। নিজে কিছু একটা করার তাগিদ থেকে একপর্যায়ে মন স্থির করেন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠার বিষয়টি।
অনেক পরিকল্পনার পর মিদ্দুলা ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সোনাই বুটিক’-এর যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে একটি দোকান দেন। গ্রহণ করেন নানা পরিকল্পনা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শো-রুমের শুরু। তারপর অনলাইনে ব্যবসা এবং ধীরে ধীরে নিজের প্রোডাকশনের কাজ শুরু। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০২০ সালের মাঝামাঝিতে দেশীয় পণ্য উৎপাদন ও বিপণনের কাজে মনোনিবেশ করেন। ‘সোনাই বুটিক’-এর কাজ মিদ্দুলা একা শুরু করলেও বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে।
মিদ্দুলা মেঘের অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটিরও নাম ‘সোনাই বুটিক’। প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছেন নিজের একমাত্র মেয়ের নামে। সোনাই শব্দের আভিধানিক অর্থ স্নেহের যোগ্য। তা এই দু বছরের পথ চলায় ‘সোনাই বুটিক’ মানুষের কাছ থেকে আদর পেয়েছে বলতে হবে। না হলে এত দ্রুত এতটা এগোতে পারত না তা।
মিদ্দুলার উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে তাঁর মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি। মায়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে মূল প্রেরণা ছিল আমার মা। মাকে ছোটবেলা থেকেই দেখেছি নিজের এবং আমাদের বোনেদের কাপড়গুলো সেলাই করতেন। নিজের পোশাক সেলাই করতে গিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ছোট একটি ব্যবসা। সেই ব্যবসাতে সেলাইকর্মী হিসেবে যুক্ত হয়েছিলেন আরও দুই নারী। মা বাড়িতে বসেই অন্য কাজের পাশাপাশি নিজের এই ব্যবসার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছিলেন। এ ছাড়া আমার পরিবার ও বন্ধুরা সব সময় আমার পাশে ছিল।’
‘সোনাই বুটিক’-এ নারীদের পোশাক তৈরি এবং বিপণন করা হয়। এখানে মূলত বুটিক এবং বাটিক থ্রিপিস, শাড়ি, টু-পিছ এবং ওয়ান পিছ তৈরি এবং বিক্রি করা হয়। সাধারণত দেশীয় উপকরণ ব্যবহার করে পণ্য তৈরি করেন তাঁরা। শতভাগ সুতির পোশাকের পাশাপাশি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী জামদানিও বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি।
এই যে বেড়ে ওঠা এর জন্য কিন্তু কম বাধা পোহাতে হয়নি মিদ্দুলাকে। নারী উদ্যোক্তাদের পুরো জীবনই চ্যালেঞ্জিং। এখানে প্রতিনিয়ত প্রতি পদে একজন নারীকে সমাজের বাধার মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে যারা অনলাইনে ব্যবসা করেন তাদের জন্য চ্যালেঞ্জের মাত্রাটা আরও বেশি।
ব্যবসার ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে মিদ্দুলা বলেন, ‘অনলাইনে প্রতিদিন বুলিংয়ের শিকার হতে হয়। মনের ভেতর দুঃখ আসে, ক্ষোভ আসে, আবার নিজেকে সামলে নিই। ভাবি, পাছে লোকের কথায় নিজেকে বিসর্জন দেওয়ার কোনো মানে নেই। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটি মানুষকে সংগ্রাম করতে হয়। আমাকেও লড়াই করতে হবে। এই পথে বাধা আসবে, বিপত্তি থাকবে। তাতে পিছপা হলে সে দায় আর কেউ নিবে না। প্রতিটি নারীরই কিছু না কিছু করা উচিত। যারা চাকরি করছেন না, তাঁরা তাঁদের সক্ষমতা অনুযায়ী ঘরে বসেই কিছু না কিছু করতে পারেন। বাধা-বিপত্তি থাকবেই। প্রতিটি বাধাকে টপকে যেতে হবে। নিজেকে চিনুন, নিজেকে আবিষ্কার করুন প্রতিনিয়ত। পরিকল্পনা করুন, উদ্যোগ নিন। সফলতা আসবে আশা করি।’
‘সোনাই বুটিক’-এর পণ্য উৎপাদনের কারখানায় বর্তমানে ২৫ জন শ্রমিক যুক্ত। আর বিপণন ও বিক্রির কাজে আরও প্রায় ১০ জন যুক্ত। মিদ্দুলা মেঘ শুরুতে প্রায় ১৪ লাখ টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে ‘সোনাই বুটিক’ থেকে প্রতি মাসে তাঁর আয় হয় সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা।
মিদ্দুলা চান অনেক দূর এগিয়ে যেতে। বললেন, ‘বর্তমানে পশ্চিমা সংস্কৃতি যেভাবে আমাদের গ্রাস করছে, তার বিপরীতে সোনাই বুটিক বাঙালি সংস্কৃতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে যদি সামান্য অবদানও রাখতে পারে, তাহলেই আমি মনে করব এই উদ্যোগ সফল। সোনাই বুটিক নিয়ে আমি অনেক দূর যেতে চাই। দেশীয় পণ্যের প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে আমি দেশটাকে পরিচিত করে তুলতে চাই। সারা বিশ্বের মানুষের কাছে, বিশেষত গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিদের কাছে সোনাই বুটিককে নিয়ে যেতে চাই।’
নারী উদ্যোক্তা সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর
২ ঘণ্টা আগে
অ্যামাজনের উদীয়মান বাজারের পেমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র নেরুরকার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা ভারতে ক্রেডিট সম্প্রসারণের জন্য বিপুল সুযোগ দেখছি; বিশেষ করে, ডিজিটালি সংযুক্ত গ্রাহকদের এবং ছোট ব্যবসার মধ্যে, যারা প্রধান শহরগুলোর বাইরে রয়েছে।’
১ দিন আগে
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি থমকে আছে। সরকার বিভ্রান্ত, কিন্তু বাস্তবতা খুব স্পষ্ট, নির্মম। দেশজুড়ে পাইকারি দামে ধস নামলেও রপ্তানি ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং পাকিস্তান ও চীনের মতো নতুন উৎসে ঝুঁকে পড়া। আর এই সময়ে ভারত বরং রপ্তানি থামিয়ে ঘরোয়া বাজারে মূল্য
১ দিন আগে
নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেন। একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক...
১ দিন আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। করদাতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ই-রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।
আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই তথ্য জানিয়েছে।
গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।
২০২৫-২৬ কর বছরে বেশ কয়েক শ্রেণির করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তাঁরা ইচ্ছা পোষণ করলে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
অন্যদিকে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে সমর্থ না হলে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতাসহ আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত/যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে তিনি পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এ বছর করদাতার পক্ষে তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও তাঁর পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল ইত্যাদি তথ্য [email protected] ই-মেইলে প্রেরণপূর্বক আবেদন করলে আবেদনকারীর ই-মেইলে OTP এবং Registration Link প্রেরণ করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতারাও ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করে সহজে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
কোনো কাগজপত্র বা দলিলাদি আপলোড না করে করদাতারা তাঁদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে ঝামেলাহীনভাবে ঘরে বসে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করে ই-রিটার্ন দাখিল করে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্ন দাখিলের অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখপূর্বক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর সনদ প্রিন্ট নিতে পারেন বিধায় দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি করদাতার কাছে ই-রিটার্ন দাখিল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এনবিআর জানায়, ই-রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া সহজবোধ্য করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত বছরের মতো এ বছরও করদাতাদের অনলাইন রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে। করদাতা ছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ বছর করদাতার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি তথা আয়কর আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস এবং চার্টার্ড সেক্রেটারিদেরকেও ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়ার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় করদাতাদের সহায়তা প্রদানের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি কল সেন্টার স্থাপন করেছে। ওই কল সেন্টারের ০৯৬৪৩৭১৭১৭১ নম্বরে ফোন করে করদাতারা e-Return সংক্রান্ত প্রশ্নের তাৎক্ষণিক টেলিফোনিক সমাধান পাচ্ছেন।
এ ছাড়া www.etaxnbr.gov.bd-এর eTax Service অপশন থেকে করদাতারা e-Return সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা লিখিতভাবে জানালে তার সমাধান পাচ্ছেন।
অধিকন্তু সারা দেশের সব কর অঞ্চলে স্থাপিত ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক থেকে অফিস চলাকালে ই-রিটার্ন দাখিলবিষয়ক সব সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। সম্মানিত করদাতারা নিজ নিজ কর অঞ্চলে সশরীর উপস্থিত হয়ে অথবা টেলিফোনের মাধ্যমে ই-রিটার্ন দাখিলের যাবতীয় সেবা গ্রহণ করছেন।
এনবিআর জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সব করদাতাকে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য বিনীত অনুরোধ করছে।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। করদাতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ই-রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।
আজ শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই তথ্য জানিয়েছে।
গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।
২০২৫-২৬ কর বছরে বেশ কয়েক শ্রেণির করদাতাকে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তাঁরা ইচ্ছা পোষণ করলে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
অন্যদিকে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কোনো করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে সমর্থ না হলে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট যৌক্তিকতাসহ আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত/যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে তিনি পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। এ বছর করদাতার পক্ষে তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
এ ছাড়া বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের ক্ষেত্রে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও তাঁর পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল ইত্যাদি তথ্য [email protected] ই-মেইলে প্রেরণপূর্বক আবেদন করলে আবেদনকারীর ই-মেইলে OTP এবং Registration Link প্রেরণ করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতারাও ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করে সহজে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
কোনো কাগজপত্র বা দলিলাদি আপলোড না করে করদাতারা তাঁদের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত তথ্য ই-রিটার্ন সিস্টেমে এন্ট্রি করে সহজে ঝামেলাহীনভাবে ঘরে বসে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করে ই-রিটার্ন দাখিল করে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্ন দাখিলের অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখপূর্বক স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর সনদ প্রিন্ট নিতে পারেন বিধায় দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি করদাতার কাছে ই-রিটার্ন দাখিল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
এনবিআর জানায়, ই-রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া সহজবোধ্য করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গত বছরের মতো এ বছরও করদাতাদের অনলাইন রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে। করদাতা ছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ বছর করদাতার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি তথা আয়কর আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস এবং চার্টার্ড সেক্রেটারিদেরকেও ই-রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়ার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
ই-রিটার্ন সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় করদাতাদের সহায়তা প্রদানের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড একটি কল সেন্টার স্থাপন করেছে। ওই কল সেন্টারের ০৯৬৪৩৭১৭১৭১ নম্বরে ফোন করে করদাতারা e-Return সংক্রান্ত প্রশ্নের তাৎক্ষণিক টেলিফোনিক সমাধান পাচ্ছেন।
এ ছাড়া www.etaxnbr.gov.bd-এর eTax Service অপশন থেকে করদাতারা e-Return সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা লিখিতভাবে জানালে তার সমাধান পাচ্ছেন।
অধিকন্তু সারা দেশের সব কর অঞ্চলে স্থাপিত ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক থেকে অফিস চলাকালে ই-রিটার্ন দাখিলবিষয়ক সব সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। সম্মানিত করদাতারা নিজ নিজ কর অঞ্চলে সশরীর উপস্থিত হয়ে অথবা টেলিফোনের মাধ্যমে ই-রিটার্ন দাখিলের যাবতীয় সেবা গ্রহণ করছেন।
এনবিআর জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সব করদাতাকে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য বিনীত অনুরোধ করছে।

একমাত্র মেয়ের নামে নিজের ব্যবসা উদ্যোগের নাম রাখেন ‘সোনাই বুটিক’। বর্তমানে ‘সোনাই বুটিক’-এর পণ্য উৎপাদনের কারখানায় বর্তমানে ২৫ জন শ্রমিক যুক্ত। আর বিপণন ও বিক্রির কাজে আরও প্রায় ১০ জন যুক্ত। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রতি মাসে তাঁর আয় হয় সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা।
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
অ্যামাজনের উদীয়মান বাজারের পেমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র নেরুরকার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা ভারতে ক্রেডিট সম্প্রসারণের জন্য বিপুল সুযোগ দেখছি; বিশেষ করে, ডিজিটালি সংযুক্ত গ্রাহকদের এবং ছোট ব্যবসার মধ্যে, যারা প্রধান শহরগুলোর বাইরে রয়েছে।’
১ দিন আগে
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি থমকে আছে। সরকার বিভ্রান্ত, কিন্তু বাস্তবতা খুব স্পষ্ট, নির্মম। দেশজুড়ে পাইকারি দামে ধস নামলেও রপ্তানি ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং পাকিস্তান ও চীনের মতো নতুন উৎসে ঝুঁকে পড়া। আর এই সময়ে ভারত বরং রপ্তানি থামিয়ে ঘরোয়া বাজারে মূল্য
১ দিন আগে
নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেন। একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক...
১ দিন আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

অ্যামাজন ভারতে ছোট ব্যবসার জন্য ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন ফ্লিপকার্ট নজর দিচ্ছে ‘বাই নাউ, পে লেটার (বিএনপিএল)’ সেবার দিকে। আর্থিক পণ্যের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই ই-কমার্স জায়ান্ট ভারতের ব্যাংকগুলোর বাজারে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চাচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুতে অ্যামাজন বেঙ্গালুরুভিত্তিক নন–ব্যাংক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সিওকে অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিএনপিএল ও ব্যক্তিগত ঋণ পরিষেবার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। শিগগির তারা আবারও ছোট ব্যবসার জন্য ঋণ দেওয়া শুরু করবে এবং নগদপ্রবাহ ব্যবস্থাপনার সমাধানও চালু করবে।
অ্যামাজনের উদীয়মান বাজারের পেমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র নেরুরকার বার্তা সংস্থা রয়টার্সেক বলেন, ‘আমরা ভারতে ক্রেডিট সম্প্রসারণের জন্য বিপুল সুযোগ দেখছি; বিশেষ করে, ডিজিটালি সংযুক্ত গ্রাহকদের এবং ছোট ব্যবসার মধ্যে, যারা প্রধান শহরগুলোর বাইরে রয়েছে।’
মহেন্দ্র নেরুরকার আরও বলেন, কোম্পানি ব্যবসায়ীদের নগদপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা ও মূলধন উন্মুক্ত করতে ‘প্রয়োজনভিত্তিক ঋণ প্যাকেজ’ তৈরি করবে।
অ্যামাজনের পরিকল্পনার বিস্তারিত আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি।
এদিকে ওয়ালমার্টের প্রায় ৮০ শতাংশ মালিকানাধীন ফ্লিপকার্ট গত মার্চে তাদের নন–ব্যাংক ঋণদাতা শাখা ‘ফ্লিপকার্ট ফাইন্যান্স’ নিবন্ধন করেছে এবং ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
কোম্পানির নথিতে পরিকল্পিত দুটি ‘পে লেটার’ পণ্যের কথা উল্লেখ আছে—অনলাইন ক্রেতাদের জন্য ৩ থেকে ২৪ মাস মেয়াদি নো-কস্ট মাসিক কিস্তি ঋণ এবং টেকসই ভোক্তা পণ্য কেনার জন্য বার্ষিক ১৮ থেকে ২৬ শতাংশ সুদে ঋণ।
ভোক্তা পণ্য কেনার জন্য প্রচলিত ঋণদাতারা সাধারণত বছরে ১২ থেকে ২২ শতাংশ হারে সুদ নেন।
ফ্লিপকার্ট আগামী বছর থেকে এসব আর্থিক পণ্য চালু করতে চায় বলে কোম্পানির পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রটি সংবাদমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় পরিচয় প্রকাশে রাজি হয়নি। ফ্লিপকার্ট ও আরবিআই রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

অ্যামাজন ভারতে ছোট ব্যবসার জন্য ঋণ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন ফ্লিপকার্ট নজর দিচ্ছে ‘বাই নাউ, পে লেটার (বিএনপিএল)’ সেবার দিকে। আর্থিক পণ্যের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই ই-কমার্স জায়ান্ট ভারতের ব্যাংকগুলোর বাজারে নিজেদের অবস্থান মজবুত করতে চাচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুতে অ্যামাজন বেঙ্গালুরুভিত্তিক নন–ব্যাংক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাক্সিওকে অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি বিএনপিএল ও ব্যক্তিগত ঋণ পরিষেবার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। শিগগির তারা আবারও ছোট ব্যবসার জন্য ঋণ দেওয়া শুরু করবে এবং নগদপ্রবাহ ব্যবস্থাপনার সমাধানও চালু করবে।
অ্যামাজনের উদীয়মান বাজারের পেমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র নেরুরকার বার্তা সংস্থা রয়টার্সেক বলেন, ‘আমরা ভারতে ক্রেডিট সম্প্রসারণের জন্য বিপুল সুযোগ দেখছি; বিশেষ করে, ডিজিটালি সংযুক্ত গ্রাহকদের এবং ছোট ব্যবসার মধ্যে, যারা প্রধান শহরগুলোর বাইরে রয়েছে।’
মহেন্দ্র নেরুরকার আরও বলেন, কোম্পানি ব্যবসায়ীদের নগদপ্রবাহ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা ও মূলধন উন্মুক্ত করতে ‘প্রয়োজনভিত্তিক ঋণ প্যাকেজ’ তৈরি করবে।
অ্যামাজনের পরিকল্পনার বিস্তারিত আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি।
এদিকে ওয়ালমার্টের প্রায় ৮০ শতাংশ মালিকানাধীন ফ্লিপকার্ট গত মার্চে তাদের নন–ব্যাংক ঋণদাতা শাখা ‘ফ্লিপকার্ট ফাইন্যান্স’ নিবন্ধন করেছে এবং ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
কোম্পানির নথিতে পরিকল্পিত দুটি ‘পে লেটার’ পণ্যের কথা উল্লেখ আছে—অনলাইন ক্রেতাদের জন্য ৩ থেকে ২৪ মাস মেয়াদি নো-কস্ট মাসিক কিস্তি ঋণ এবং টেকসই ভোক্তা পণ্য কেনার জন্য বার্ষিক ১৮ থেকে ২৬ শতাংশ সুদে ঋণ।
ভোক্তা পণ্য কেনার জন্য প্রচলিত ঋণদাতারা সাধারণত বছরে ১২ থেকে ২২ শতাংশ হারে সুদ নেন।
ফ্লিপকার্ট আগামী বছর থেকে এসব আর্থিক পণ্য চালু করতে চায় বলে কোম্পানির পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রটি সংবাদমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় পরিচয় প্রকাশে রাজি হয়নি। ফ্লিপকার্ট ও আরবিআই রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

একমাত্র মেয়ের নামে নিজের ব্যবসা উদ্যোগের নাম রাখেন ‘সোনাই বুটিক’। বর্তমানে ‘সোনাই বুটিক’-এর পণ্য উৎপাদনের কারখানায় বর্তমানে ২৫ জন শ্রমিক যুক্ত। আর বিপণন ও বিক্রির কাজে আরও প্রায় ১০ জন যুক্ত। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রতি মাসে তাঁর আয় হয় সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা।
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর
২ ঘণ্টা আগে
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি থমকে আছে। সরকার বিভ্রান্ত, কিন্তু বাস্তবতা খুব স্পষ্ট, নির্মম। দেশজুড়ে পাইকারি দামে ধস নামলেও রপ্তানি ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং পাকিস্তান ও চীনের মতো নতুন উৎসে ঝুঁকে পড়া। আর এই সময়ে ভারত বরং রপ্তানি থামিয়ে ঘরোয়া বাজারে মূল্য
১ দিন আগে
নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেন। একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক...
১ দিন আগেআজকের পত্রিকা ডেস্ক

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি থমকে আছে। সরকার বিভ্রান্ত, কিন্তু বাস্তবতা খুব স্পষ্ট, নির্মম। দেশজুড়ে পাইকারি দামে ধস নামলেও রপ্তানি ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং পাকিস্তান ও চীনের মতো নতুন উৎসে ঝুঁকে পড়া। আর এই সময়ে ভারত বরং রপ্তানি থামিয়ে ঘরোয়া বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত ছিল।
বিশেষজ্ঞরা জানান, একসময় ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কিনত বাংলাদেশ। কিন্তু গত আট মাসে ঢাকা প্রায় কিছুই নেয়নি, অথচ বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ভারতের তুলনায় তিন গুণ বেশি। সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে খুব কম পেঁয়াজ কিনেছে।
রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, ভারতে উৎপাদিত পেঁয়াজের বীজ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাইরে চলে যাচ্ছে। সেই বীজেই ভারতের প্রাচীন বাজারগুলো নিজেদের উৎপাদন বাড়িয়ে এখন প্রায় আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে পেঁয়াজের আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের বহু বছরের আধিপত্য ভেঙে পড়ছে।
ভারতের হর্টিকালচার প্রডিউস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এইচপিইএ) সাবেক প্রধান ও অভিজ্ঞ রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেন, ‘আমরা মানের জন্য প্রিমিয়াম দাম নিতাম। কিন্তু আমরা এত দিন বাজারে না থাকায় সবাই বিকল্প উৎস খুঁজে নিয়েছে। এখন আর মানের তুলনা হয় না, দামই সব।’
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর আগে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ছয় মাস এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ মাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ফলে যেসব দেশ ভারতের পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করত, সেসব বাজারে দাম দ্রুত বেড়ে যায়। ২০২০ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের বারবার নীতিমালা পাল্টানোর বিষয়ে একটি কূটনৈতিক নোটও পাঠানো হয়েছিল।
এখন বাংলাদেশের সরকার স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭ দশমিক ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল, যা ভারতের মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫-২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ধারণা, ঢাকার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ভারতীয় পেঁয়াজ নেওয়ার অনীহায় ভূমিকা রাখছে।
কিন্তু রপ্তানিকারকদের মতে, ভারতের ঘরোয়া দামের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বারবার নীতি বদল করায় পুরোনো বাজারগুলো নতুন উৎস খুঁজে নেওয়া ছাড়া উপায় দেখেনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের সদস্য পাশা প্যাটেল বলেন, ‘আমরা শুধু বাজার হারাইনি, তারা এখন ভারতীয় বীজ দিয়ে নিজেদের উৎপাদনও বাড়িয়ে তুলছে।’
রপ্তানিকারকদের দাবি, সৌদি আরব প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে। সরকার যখন কারণ জানতে চাইছে, তখন বলা হচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষ ভারতীয় রপ্তানিকারকদের আমদানি অনুমতি দিচ্ছে না। তাদের মতে, ইয়েমেন ও ইরান থেকে কমদামে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনও যথেষ্ট।
এইচপিইএ সরকারের কাছে জানিয়েছে, ‘সৌদি বাজারে এখন সস্তায় পেঁয়াজ মিলছে ইয়েমেন ও ইরান থেকে। নিজেদের উৎপাদনও বাড়ছে।’ ট্রেডাররা বলছেন, ফিলিপাইনও ভারতীয় পেঁয়াজ কেনে তখনই, যখন চীনা সরবরাহ পাওয়া যায় না। ২০২০-২১ সালে ভারত সৌদি আরবে ৫৭ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল। এরপর প্রতিবছর কমতে কমতে ২০২৫-২৬ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ২২৩ টনে।
আরেকটি বিষয় হলো—প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতীয় বীজ ব্যবহার করেই এখন আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। রপ্তানিকারকেরা হর্টিকালচার কমিশনারের কাছে প্রতিযোগী দেশগুলোর উদ্দেশে পেঁয়াজের বীজ রপ্তানি বন্ধ করার দাবি তুলেছেন। এইচপিইএর সহসভাপতি বিকাশ সিং বলেন, ‘বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আশপাশের দেশগুলো ভারতীয় বীজ দিয়ে চাষ করছে। এতে ভারতীয় কৃষকেরা বিপদে পড়ছে। চীন, পাকিস্তানেও ভারতীয় বীজের চাহিদা ভয়ংকরভাবে বাড়ছে।’
তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি থমকে আছে। সরকার বিভ্রান্ত, কিন্তু বাস্তবতা খুব স্পষ্ট, নির্মম। দেশজুড়ে পাইকারি দামে ধস নামলেও রপ্তানি ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং পাকিস্তান ও চীনের মতো নতুন উৎসে ঝুঁকে পড়া। আর এই সময়ে ভারত বরং রপ্তানি থামিয়ে ঘরোয়া বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত ছিল।
বিশেষজ্ঞরা জানান, একসময় ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কিনত বাংলাদেশ। কিন্তু গত আট মাসে ঢাকা প্রায় কিছুই নেয়নি, অথচ বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ভারতের তুলনায় তিন গুণ বেশি। সৌদি আরবও প্রায় এক বছর ধরে খুব কম পেঁয়াজ কিনেছে।
রপ্তানিকারকদের অভিযোগ, ভারতে উৎপাদিত পেঁয়াজের বীজ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বাইরে চলে যাচ্ছে। সেই বীজেই ভারতের প্রাচীন বাজারগুলো নিজেদের উৎপাদন বাড়িয়ে এখন প্রায় আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে পেঁয়াজের আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের বহু বছরের আধিপত্য ভেঙে পড়ছে।
ভারতের হর্টিকালচার প্রডিউস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এইচপিইএ) সাবেক প্রধান ও অভিজ্ঞ রপ্তানিকারক অজিত শাহ বলেন, ‘আমরা মানের জন্য প্রিমিয়াম দাম নিতাম। কিন্তু আমরা এত দিন বাজারে না থাকায় সবাই বিকল্প উৎস খুঁজে নিয়েছে। এখন আর মানের তুলনা হয় না, দামই সব।’
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর আগে, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ছয় মাস এবং ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পাঁচ মাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ফলে যেসব দেশ ভারতের পেঁয়াজের ওপর নির্ভর করত, সেসব বাজারে দাম দ্রুত বেড়ে যায়। ২০২০ সালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের বারবার নীতিমালা পাল্টানোর বিষয়ে একটি কূটনৈতিক নোটও পাঠানো হয়েছিল।
এখন বাংলাদেশের সরকার স্থানীয় কৃষকদের সুরক্ষা এবং উৎপাদন বাড়াতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারত বাংলাদেশে ৭ দশমিক ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল, যা ভারতের মোট রপ্তানির ৪২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫-২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১২ হাজার ৯০০ টন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ধারণা, ঢাকার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ভারতীয় পেঁয়াজ নেওয়ার অনীহায় ভূমিকা রাখছে।
কিন্তু রপ্তানিকারকদের মতে, ভারতের ঘরোয়া দামের ওঠানামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বারবার নীতি বদল করায় পুরোনো বাজারগুলো নতুন উৎস খুঁজে নেওয়া ছাড়া উপায় দেখেনি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বোর্ড অব ট্রেডের সদস্য পাশা প্যাটেল বলেন, ‘আমরা শুধু বাজার হারাইনি, তারা এখন ভারতীয় বীজ দিয়ে নিজেদের উৎপাদনও বাড়িয়ে তুলছে।’
রপ্তানিকারকদের দাবি, সৌদি আরব প্রায় এক বছর ধরে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে। সরকার যখন কারণ জানতে চাইছে, তখন বলা হচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষ ভারতীয় রপ্তানিকারকদের আমদানি অনুমতি দিচ্ছে না। তাদের মতে, ইয়েমেন ও ইরান থেকে কমদামে পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনও যথেষ্ট।
এইচপিইএ সরকারের কাছে জানিয়েছে, ‘সৌদি বাজারে এখন সস্তায় পেঁয়াজ মিলছে ইয়েমেন ও ইরান থেকে। নিজেদের উৎপাদনও বাড়ছে।’ ট্রেডাররা বলছেন, ফিলিপাইনও ভারতীয় পেঁয়াজ কেনে তখনই, যখন চীনা সরবরাহ পাওয়া যায় না। ২০২০-২১ সালে ভারত সৌদি আরবে ৫৭ হাজার টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল। এরপর প্রতিবছর কমতে কমতে ২০২৫-২৬ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ২২৩ টনে।
আরেকটি বিষয় হলো—প্রতিবেশী দেশগুলো ভারতীয় বীজ ব্যবহার করেই এখন আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। রপ্তানিকারকেরা হর্টিকালচার কমিশনারের কাছে প্রতিযোগী দেশগুলোর উদ্দেশে পেঁয়াজের বীজ রপ্তানি বন্ধ করার দাবি তুলেছেন। এইচপিইএর সহসভাপতি বিকাশ সিং বলেন, ‘বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও আশপাশের দেশগুলো ভারতীয় বীজ দিয়ে চাষ করছে। এতে ভারতীয় কৃষকেরা বিপদে পড়ছে। চীন, পাকিস্তানেও ভারতীয় বীজের চাহিদা ভয়ংকরভাবে বাড়ছে।’
তথ্যসূত্র: ইকোনমিক টাইমস

একমাত্র মেয়ের নামে নিজের ব্যবসা উদ্যোগের নাম রাখেন ‘সোনাই বুটিক’। বর্তমানে ‘সোনাই বুটিক’-এর পণ্য উৎপাদনের কারখানায় বর্তমানে ২৫ জন শ্রমিক যুক্ত। আর বিপণন ও বিক্রির কাজে আরও প্রায় ১০ জন যুক্ত। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রতি মাসে তাঁর আয় হয় সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা।
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর
২ ঘণ্টা আগে
অ্যামাজনের উদীয়মান বাজারের পেমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র নেরুরকার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা ভারতে ক্রেডিট সম্প্রসারণের জন্য বিপুল সুযোগ দেখছি; বিশেষ করে, ডিজিটালি সংযুক্ত গ্রাহকদের এবং ছোট ব্যবসার মধ্যে, যারা প্রধান শহরগুলোর বাইরে রয়েছে।’
১ দিন আগে
নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেন। একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক...
১ দিন আগেনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফতসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন—নাফিস সরাফতের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ, ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর ও নাফিস সরাফতের সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশান থানায় মামলাটি করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
আজ শুক্রবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান। সিআইডি জানিয়েছে, শুধু রাহীব সরাফতের নামেই বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকে ৭৬টি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।
জসীম উদ্দিন জানান, সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রেইস ম্যানেজমেন্ট পিএসিএল নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ফান্ডের অর্থ ব্যক্তিগত ও অবৈধ স্বার্থে ব্যবহার করেন চৌধুরী নাফিস সরাফত ও তার সহযোগীরা। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি গঠনের পর ২০১৩ সালের মধ্যেই ১০টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পায় এবং বর্তমানে ১৩টি ফান্ড পরিচালনা করছে।
নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেন। একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক পদে বসান নাফিস সরাফত।
অভিযুক্তরা মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করে মাল্টি সিকিউরিটিজ নামের একটি ব্রোকারেজ হাউসও অধিগ্রহণ করেন বলে জানায় সিআইডি। ওই প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
এ ছাড়া পদ্মা ব্যাংকের অর্থ ব্যবহার করে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ ও স্ট্র্যাটেজিক ইকুইটি ফান্ডেও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যাংকে নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী ও ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর নামে মোট ৭৮টি ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়েছে। এসব হিসাবে প্রায় ১,৮০৯ কোটি টাকা জমা এবং ১,৮০৫ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব হিসাবে স্থিতি রয়েছে মাত্র ২৯.২১ লাখ টাকা।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান আরও জানান, বিদেশে কানাডা, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে নাফিস সরাফত পরিবার ও সহযোগীদের নামে বিপুল সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর নামেই বিদেশি ব্যাংকে ৭৬টি হিসাব পরিচালনার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।
নাফিস সরাফত ও তার সহযোগীদের নামে দুবাইতে ৩ রুমের একটি ফ্ল্যাট ও ৫ রুমের ১টি ভিলা রয়েছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত একাধিক কোম্পানি এবং সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন ফান্ড পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশেও তাদের নামে বিপুল অস্থাবর-স্থাবর সম্পদের তথ্য মিলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বেস্ট হোল্ডিংসের বন্ডে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে চাপ প্রয়োগ, বিদেশে অর্থ পাচার, বাড়ি–ফ্ল্যাট কেনাসহ নানা অভিযোগ প্রকাশের পর সিআইডি এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।
সিআইডি জানায়, ‘প্রতারণা’, ‘জালিয়াতি’ এবং ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের’ মাধ্যমে মোট ১৬১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ অবৈধভাবে অর্জিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই নাফিস সরাফতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলাটি করা হয়েছে।

পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফতসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার অর্থপাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মামলার অন্য তিন আসামি হলেন—নাফিস সরাফতের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ, ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর ও নাফিস সরাফতের সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম।
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গতকাল বৃহস্পতিবার গুলশান থানায় মামলাটি করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
আজ শুক্রবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান। সিআইডি জানিয়েছে, শুধু রাহীব সরাফতের নামেই বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকে ৭৬টি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।
জসীম উদ্দিন জানান, সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রেইস ম্যানেজমেন্ট পিএসিএল নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে ফান্ডের অর্থ ব্যক্তিগত ও অবৈধ স্বার্থে ব্যবহার করেন চৌধুরী নাফিস সরাফত ও তার সহযোগীরা। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি গঠনের পর ২০১৩ সালের মধ্যেই ১০টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পায় এবং বর্তমানে ১৩টি ফান্ড পরিচালনা করছে।
নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম মিলে মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেন। একইভাবে কৌশলে আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকের পরিচালক পদে বসান নাফিস সরাফত।
অভিযুক্তরা মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ ব্যবহার করে মাল্টি সিকিউরিটিজ নামের একটি ব্রোকারেজ হাউসও অধিগ্রহণ করেন বলে জানায় সিআইডি। ওই প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
এ ছাড়া পদ্মা ব্যাংকের অর্থ ব্যবহার করে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজ ও স্ট্র্যাটেজিক ইকুইটি ফান্ডেও বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যাংকে নাফিস সরাফত, তার স্ত্রী ও ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর নামে মোট ৭৮টি ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হয়েছে। এসব হিসাবে প্রায় ১,৮০৯ কোটি টাকা জমা এবং ১,৮০৫ কোটি টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। বর্তমানে এসব হিসাবে স্থিতি রয়েছে মাত্র ২৯.২১ লাখ টাকা।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান আরও জানান, বিদেশে কানাডা, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে নাফিস সরাফত পরিবার ও সহযোগীদের নামে বিপুল সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু রাহীব সাফওয়ান সরাফত চৌধুরীর নামেই বিদেশি ব্যাংকে ৭৬টি হিসাব পরিচালনার তথ্য পেয়েছে সিআইডি।
নাফিস সরাফত ও তার সহযোগীদের নামে দুবাইতে ৩ রুমের একটি ফ্ল্যাট ও ৫ রুমের ১টি ভিলা রয়েছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত একাধিক কোম্পানি এবং সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন ফান্ড পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশেও তাদের নামে বিপুল অস্থাবর-স্থাবর সম্পদের তথ্য মিলেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে বেস্ট হোল্ডিংসের বন্ডে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে চাপ প্রয়োগ, বিদেশে অর্থ পাচার, বাড়ি–ফ্ল্যাট কেনাসহ নানা অভিযোগ প্রকাশের পর সিআইডি এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।
সিআইডি জানায়, ‘প্রতারণা’, ‘জালিয়াতি’ এবং ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের’ মাধ্যমে মোট ১৬১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি অর্থ অবৈধভাবে অর্জিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই নাফিস সরাফতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের মামলাটি করা হয়েছে।

একমাত্র মেয়ের নামে নিজের ব্যবসা উদ্যোগের নাম রাখেন ‘সোনাই বুটিক’। বর্তমানে ‘সোনাই বুটিক’-এর পণ্য উৎপাদনের কারখানায় বর্তমানে ২৫ জন শ্রমিক যুক্ত। আর বিপণন ও বিক্রির কাজে আরও প্রায় ১০ জন যুক্ত। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রতি মাসে তাঁর আয় হয় সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা।
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব শ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর
২ ঘণ্টা আগে
অ্যামাজনের উদীয়মান বাজারের পেমেন্ট বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহেন্দ্র নেরুরকার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা ভারতে ক্রেডিট সম্প্রসারণের জন্য বিপুল সুযোগ দেখছি; বিশেষ করে, ডিজিটালি সংযুক্ত গ্রাহকদের এবং ছোট ব্যবসার মধ্যে, যারা প্রধান শহরগুলোর বাইরে রয়েছে।’
১ দিন আগে
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি থমকে আছে। সরকার বিভ্রান্ত, কিন্তু বাস্তবতা খুব স্পষ্ট, নির্মম। দেশজুড়ে পাইকারি দামে ধস নামলেও রপ্তানি ব্যর্থতার পেছনে মূল কারণ বাংলাদেশের আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টা এবং পাকিস্তান ও চীনের মতো নতুন উৎসে ঝুঁকে পড়া। আর এই সময়ে ভারত বরং রপ্তানি থামিয়ে ঘরোয়া বাজারে মূল্য
১ দিন আগে