Ajker Patrika

ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে হবে: সালাহউদ্দিন আহমেদ

ফেনী প্রতিনিধি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। ছবি: আজকের পত্রিকা
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে হবে। এ জন্য নির্বাচনমুখী যা যা সংস্কার প্রয়োজন তা করুন। কোনো বাহানায় নির্বাচন বিলম্বিত করবেন না। আমরা হিসাব করে দেখেছি, কোনো অবস্থাতেই এসবের জন্য মে-জুনের বেশি সময় লাগে না। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও আমরা আলোচনা করেছি। অবশ্য প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করার জন্য স ধরনের কর্মকাণ্ড করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফেনী শহরের ঐতিহাসিক মিজান ময়দানে বিএনপির জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ও পতিত ফ্যাসিবাদের নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় এ জনসভার আয়োজন করা হয়।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যারা স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে চায় তাদের উদ্দেশ্যে বলব, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করতে ৩-৪ মাস সময় লাগবে। এভাবে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য আরও অনেক বেশি সময় প্রয়োজন। সব নির্বাচন এক বছরেও শেষ হবে না। আপনারা যদি চান সেই এক বছরের বেশি সময় পর গিয়ে জাতীয় নির্বাচন করবেন, তাহলে বলব এ বিলম্বিত নির্বাচন-প্রক্রিয়ায় যাওয়ার জন্য আপনাদের মতলব কী?

সালাহউদ্দিন বলেন, কোনো কোনো দল দাবি করছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে দিতে হবে। কেউ কেউ দাবি করছেন আনুপাতিক হারে নির্বাচন করতে হবে। তাদের উদ্দেশ্য ভালো কী মন্দ, তা বলতে চাই না। কিন্তু এটুকু বলব, যাঁরা অনুপাতভিত্তিক নির্বাচন চান, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁদের অনুপাত নেই।

অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আপনারা সাংবিধানিকভাবে যে ম্যান্ডেট নিয়ে এসেছেন, জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা আছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিকভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। রাষ্ট্রে একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন এই নৈরাজ্যের পেছনে ফ্যাসিস্ট হাসিনার যেমন ষড়যন্ত্র রয়েছে, তেমনি আপনার সরকারেও হাসিনার দোসরেরা বসে আছে। উপদেষ্টা পরিষদ ও প্রশাসনের সবপর্যায় থেকে হাসিনার দোসরদের বাদ দিতে হবে। আপনারা উদাসীন থাকলে হবে না।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠিন হাতে দমন করুন। প্রশাসনের সর্বস্তর ও উপদেষ্টা পরিষদ থেকে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসরদের দমন করুন। যারা ষড়যন্ত্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে, তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসুন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আশা করেছিল এ নতুন বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থেকে নিস্তার পাবে। আমরা দেখছি কয়েকজন উপদেষ্টার অনভিজ্ঞতার কারণে ভ্যাট-ট্যাক্স বসিয়ে এ রমজানের শুরুতে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যেভাবে পারেন বাজারে সরবরাহ বাড়ান। ভ্যাট-ট্যাক্স কমাতে হবে। দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখতে হবে। মানুষ সংস্কারের চেয়ে সংসার বেশি বুঝে। মানুষকে স্বস্তি দেন। রমজানে যেন কোনো দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়সীমার বাইরে না যায়, সেজন্য আমরা সতর্ক করছি।

শেখ হাসিনার বিচার দাবি করে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, হাসিনা এখন জাতিসংঘ স্বীকৃত বিশ্ব খুনি, মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী। সারা বিশ্ব তাকে সেই সনদ দিয়েছেন। এখন দরকার শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা। ইতিমধ্যে অনেক মামলা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের নেতারা এ গণহত্যার সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন। সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ এ দায় এড়াতে পারে না। বিচারিক-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে তাঁরা রাজনীতিসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ড করতে পারবেন কি না।

ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। আরও বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য আবু তালেব, মশিউর রহমান বিপ্লব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও ফেনী-১ আসনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক রফিকুল আলম মজনু।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত