Ajker Patrika

ডব্লিউসিএর প্রতিবেদন

ক্রিকেট বাঁচাতে তিন মোড়লের আয়ে লাগাম টানার প্রস্তাব

ক্রীড়া ডেস্ক    
ক্রিকেট বাঁচাতে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। ছবি: ক্রিকইনফো
ক্রিকেট বাঁচাতে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। ছবি: ক্রিকইনফো

টি-টোয়েন্টির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। সহজ একটি নমুনা—আইপিএলে খেলা নিশ্চিত করতে গিয়ে আইপিএলের সাংঘর্ষিক সূচির ক্রিকেট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তারকা ক্রিকেটাররা। এ থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজতে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ) ছয় মাসব্যাপী জস বাটলার, হিদার নাইট ও প্যাট কামিন্সের মতো ক্রিকেটার ছাড়াও ক্রিকেট প্রশাসক, মিডিয়া পার্টনার ও বিশেষজ্ঞ, ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট প্রায় সব পক্ষের সঙ্গেই কথা বলে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

‘ইতিহাস সুরক্ষা, বদলের পথে এগোনো: ঐক্যবদ্ধ, সুসংহত, বৈশ্বিক ভবিষ্যৎ’—শীর্ষক এই প্রতিবেদনে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টির প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সমাধান হিসেবে আছে সুপারিশমালাও। যার উল্লেখযোগ্য দুটি হলো দ্বিস্তরের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ প্রবর্তন ও রাজস্বের আরও ন্যায়সংগত বণ্টন।

ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর সঙ্গে জাতীয় দলের সূচির সাংঘর্ষিকতা এড়াতে ফুটবলের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ২০২৮ সাল থেকে ক্রিকেটে চারটি উইন্ডোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই চারটি উইন্ডোর বাইরে হবে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। তবে এই চারটি উইন্ডোর বাইরেও দ্বিপক্ষীয় সিরিজের খেলা চালিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই দুই বছর মেয়াদি অবনমন-উত্তরণের ব্যবস্থার প্রস্তাব রাখা হয়েছে প্রতিবেদনে। যেখানে আলাদা আলাদা সংস্করণের জন্য থাকবে আলাদা আলাদা লিগ টেবিল। এই লিগ টেবিলই আইসিসির বিভিন্ন দলগুলোর খেলার যোগ্যতা নির্ধারণ করবে।

টেস্টের আকর্ষণ ধরে রাখতে দ্বিস্তরের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালুর বিকল্প নেই। সুপারিশ করা হয়েছে, সেরা আট দল খেলবে প্রথম বিভাগে। পরের চারটি দল খেলবে দ্বিতীয় বিভাগে। প্রথম বিভাগের শীর্ষ চার দল উন্নীত হবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে। প্রথম বিভাগের তলানিতে থাকা দল এবং দ্বিতীয় বিভাগের শীর্ষ দলের মধ্যে প্লে-অফের নির্ধারিত হবে পরের চক্রের জন্য উত্তরণ-অবনমন।

আইসিসির আয়ের আরও ন্যায়সংগত বণ্টনও দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বলা হয়েছে, ভারসাম্য ও বিকাশের অভাবের কারণে ক্রিকেট তার বৈশ্বিক সম্ভাবনা পূরণ করতে পারছে না। ক্রিকেটাররা ক্রিকেট খেলে যে সম্পদ রাজস্ব তৈরি করে, তার ন্যায্য পাওনা থেকে তারা বঞ্চিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাত্র তিন মাসে ৭০ শতাংশ রাজস্ব আসে আর মোট রাজস্বের ৮৩ শতাংশই নিয়ে যায় বিশ্ব ক্রিকেটের ‘তিন মোড়ল’—ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।

প্রতিবেদনে আইসিসির রাজস্ব বণ্টনের জন্য সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডব্লিউসিএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীর্ষ ২৪টি দেশের জন্য কমপক্ষে ২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বণ্টনের সুপারিশ করা হয়েছে। আর ২৫ কিংবা তার চেয়ে নিচে থাকা দেশগুলোর জন্য সম্মিলিতভাবে ন্যূনতম ১০ শতাংশ রাজস্ব বণ্টনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে আইসিসির মোট রাজস্বের ৩৮.৫ শতাংশ পেয়ে থাকে ভারত। ডব্লিউসিএর প্রস্তাব কার্যকর হলে তা কমে ১০ শতাংশে নেমে আসবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হাসিনার আমলে গভর্নর হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলাম: আহসান এইচ মনসুর

আলোচনায় ড. ইউনূসকে প্রধানমন্ত্রী দেখার আকাঙ্ক্ষা, আইনি পথ কী

এক দশক পর প্রকাশ্যে গায়িকা ডাফি, শোনালেন অপহরণ ও ধর্ষণের ভয়াবহ বর্ণনা

তিস্তায় বড় প্রকল্প নিয়ে সতর্ক থাকার তাগিদ

জাতীয় ঈদগাহে যাবেন না রাষ্ট্রপতি, ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়বেন বঙ্গভবনে

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত