Ajker Patrika

রাজনৈতিক সমাবেশে পুলিশের অনুমতি সংবিধান পরিপন্থী: রিজভী 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
রাজনৈতিক সমাবেশে পুলিশের অনুমতি সংবিধান পরিপন্থী: রিজভী 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ পুলিশের অনুমতি নিয়ে হয়নি। নব্বইতে পুলিশের অনুমতি নিয়ে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন হয়নি। রাজনৈতিক সমাবেশে পুলিশের অনুমতি সংবিধান পরিপন্থী।’ 

রোববার রাতে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে পুলিশকে অবহিত করা, আর পুলিশের দায়িত্ব নিরাপত্তা দেওয়া।’ 

রিজভী বলেন, ‘সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে বিএনপির শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে রামদা হকিস্টিক নিয়ে নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা করল। সব গণমাধ্যমে ছবিসহ প্রকাশ পেয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো যাদের ওপর হামলা করা হলো তাদেরকেই আসামি করে মামলা করলো পুলিশ।’ 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ভোটবিহীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগসহ নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির এক দফার আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন দেশের বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ও শতকরা ৮০ ভাগের বেশি মানুষ। আজ শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে ‘স্টেপ ডাউন শেখ হাসিনা’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও টুইটারে ভাইরাল হয়েছে। ‘স্টেপ ডাউন শেখ হাসিনা’ লিখে পোস্ট দিয়েছেন বিশ্বে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদসহ সব শ্রেণি—পেশার মানুষ এবং বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশসহ বিশ্বদরবারে বারবার প্রমাণিত হয়েছে নিশিরাতের সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। 

নির্বাচন কমিশনারের বিষয়ে রিজভী বলেন, আজকে তথাকথিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন—আগামী অক্টোবরে তফসিল ঘোষণা এবং ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। তবে এই স্বপ্ন কখনোই বাস্তবায়িত হবে না, শেখ হাসিনা আরেকটি ভোটারবিহীন তামাশার নির্বাচন করার অপচেষ্টা করছে, জনগণ তা হতে দেবে না। 

বিএনপির এই নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে বলেন, ‘সরকার নাকি মানবতা দেখিয়েছে! এক বছরে রাজপথে ১৭ জনকে হত্যা করেছে, তখন কোথায় ছিল মানবতা? অসংখ্য নেতা-কর্মীকে পঙ্গু বানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোথায় ছিল মানবতা? গতকাল শনিবার বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করে পুরো রাজধানীকে রক্তে রঞ্জিত করেছেন, কোন মানবতা থেকে?’ 

রিজভী বলেন, গতকালের সরকারি বাহিনীর সহিংস আক্রমণের খবর বিশ্ব গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হলে উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর কৌশল নেয় আওয়ামী দুরাচার সরকার। এখন বিএনপির বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়ার জন্য নানা ফন্দি—ফিকির করলেও জনগণ এসব আমলে নেয়নি। বরং সরকারি বাহিনীর নির্যাতনের খবরই জনগণের মুখে মুখে। 

সংবাদ সম্মেলনে গতকাল রাজধানীতে পুলিশ ও সরকারি দলের হামলায় আহত ও গ্রেপ্তারকৃত নেতাদের তালিকা প্রকাশ করে আটককৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি করা হয়। 

রিজভী জানান, গতকাল ও আজকে ৫৪৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ২৫০ নেতা-কর্মীকে, আহত হয়েছেন ৬৫০ জনের অধিক।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত