Ajker Patrika

দ্রুত নির্বাচন দিন, নির্বাচিত সরকারই দেশ চালাবে: মির্জা ফখরুল

ফেনী প্রতিনিধি  
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৪, ১৯: ৩৫
Thumbnail image
ফেনীর ছাগলনাইয়া আদালত মাঠে বিএনপির জনসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা এই সরকারকে পুরোপুরি সমর্থন করব বলেছিলাম। তিন মাসে আশা করেছিলাম, সংস্কার শেষে নির্বাচনী রোডম্যাপ দেবেন। অন্তর্বর্তী সরকারকে বলব, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন দেন, যারা নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসবে, তারাই দেশ চালাবে। দেরি হলে বিভিন্ন সমস্যার উদ্ভব হবে। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে পরামর্শ নিন।’

বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার ফেনীর ছাগলনাইয়া আদালত মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনসভাকে ঘিরে এদিন দুপুর থেকে ফেনী-১ (পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া) আসনের হাজারো নেতা–কর্মী আদালত মাঠে জড়ো হন। দীর্ঘ কয়েক বছর পর একত্রিত হয়ে নেতা–কর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ভোট দেওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। মানুষ ভোট দিতে চায়। ভোটের মাধ্যমে পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচন করে বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে চায়। আওয়ামী লীগ ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এ দেশের জনগণ ফ্যাসিবাদের আধিপত্য আর মেনে নেবে না।’

আন্দোলন শেষ হয়নি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন শেষ হয়নি। জনগণের ভোটাধিকার, বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা, দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে পারলেই এই আন্দোলন শেষ হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশকে যা কিছু দিয়েছে, তা বিএনপি দিয়েছে। ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। তখন তা টিকিয়ে রাখতে পারেনি। জিয়াউর রহমান এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি নতুন করে অর্থনৈতিক ও সংবাদমাধ্যমকে মুক্ত করেছিলেন। তারপর তাঁকে হত্যা করে এরশাদ চেষ্টা করেছিল দেশকে ধ্বংস করার। কিন্তু খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের কারণে তাতেও তারা ব্যর্থ হয়েছেন।’

ফেনীর ছাগলনাইয়া আদালত মাঠে বিএনপির জনসভা। ছবি: আজকের পত্রিকা
ফেনীর ছাগলনাইয়া আদালত মাঠে বিএনপির জনসভা। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপি নেতা–কর্মীদের অবদানের কথা তুলে ধরে দলের মহাসচিব বলেন, ‘এই দেশের গণতন্ত্রের জন্য অনেক প্রাণ দিতে হয়েছে। এবারের আন্দোলনেও ফেনীতে অনেককে হত্যা করা হয়েছে। বিগত বছরে আওয়ামী লীগ আমাদের ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। ২০ হাজারের মতো নেতা–কর্মীকে হত্যা ও ৭০০ নেতা–কর্মীকে গুম করেছে।

‘এখনো সন্তান ও পিতৃহারা মানুষজন স্বজনদের ফেরার অপেক্ষা করছেন। আমরা মামলা নিয়ে কারাগারে গেছি, কিন্তু মাথা নত করিনি। এ সংগ্রামের মাধ্যমে আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ ও স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, নির্বাচনব্যবস্থা, প্রশাসনিক কাঠামো, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো ধ্বংস করেছে। নিজেরা লুটপাট করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে পরাজিত ও ধ্বংস করার জন্য এরশাদ ও আওয়ামী লীগ অনেক চেষ্টা করেছে। কিন্তু সকলের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে তাঁকে পরাজিত করতে পারেনি। তিনি অনেক বেশি অসুস্থ। আমরা তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছি।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক ও ফেনী-১ আসনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক রফিকুল ইসলাম মজনুর সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। সঞ্চালনা করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক বেলাল উদ্দিন ও সদস্য আবু তালেব।

এর আগে দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পৈতৃক বাড়ির প্রাঙ্গণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঢেউটিন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত